৮ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর, সাড়া নেই মিয়ানমারের

কূটনৈতিক রিপোর্টার

প্রথম পাতা ১৩ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৮ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জোর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ মিয়ানমারকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দফায় দফায় তালিকা দিচ্ছে। সর্বশেষ অতিসম্প্রতি ২ লাখ ৩০ হাজার বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকের তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে। আগে ৫ দফায় ৬ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দেয়া হয়েছিল। ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, দু’বছরে ছয় দফায় মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর হলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের তরফে তালিকা যাচাই-বাছাইয়ে কাঙ্ক্ষিত সাড়া নেই। দীর্ঘ সময় অপচয় করে তারা তাদের বাস্তুচ্যুত ২৮ হাজার অধিবাসীকে গ্রহণে সম্মতির কথা জানিয়েছে। দু’বছরে ৪২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে জানিয়ে মিয়ানমার দাবি করেছে ওই তালিকায় তারা নাকি সন্ত্রাস বা উগ্রপন্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে অভিযুক্ত ৩শ’ ৫০ রোহিঙ্গাকে খুঁজে পেয়েছে। প্রত্যাবাসনের অবশ্য পালনীয় শর্ত হচ্ছে বাংলাদেশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্যাম্পে অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের তালিকা হস্তান্তর করবে আর মিয়ানমার যত দ্রুত সম্ভব তালিকা যাচাই-বাছাই করে তাদের নাগরিকদের গ্রহণে অনাপত্তি জ্ঞাপনপূর্বক তালিকা ফেরত পাঠাবে। হস্তান্তর আর ফিরতি তালিকায় থাকা রোহিঙ্গাদের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় ঢাকার কর্মকর্তা বলছেন, বাংলাদেশের অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের আদি নিবাস রাখাইনে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নেয়ার প্রশ্নে অং সান সুচি সরকার বরাবরই উদাসীন।
তারা একেক সময় একেক অজুহাত দেখিয়ে প্রত্যাবাসন শুরুর প্রক্রিয়া বিলম্ব করছে। তালিকা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও মিয়ানমার সরকারের গতি অত্যন্ত ধীর। তাছাড়া যে ৪২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা যাচাই করেছে তার মধ্যে ১৪ হাজার রোহিঙ্গার নাম নাকি তাদের ডাটাবেজের সঙ্গে মিলেনি- এমন দাবি করে তাদের গ্রহণের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ এর ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে আট হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা দেয়ার মধ্য দিয়ে তালিকা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশ। তার আগের বছর নভেম্বরে প্রত্যাবাসনে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং মাঠ পর্যায়ে প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট সই হয়। ২০১৭ সালের ২৫শে আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো বর্মী সেনা এবং তাদের দোসরদের গণহত্যা, গণধর্ষণসহ বর্বর আক্রমণের মুখে জীবন বাঁচাতে দলে দলে নারী, শিশু, বৃদ্ধাসহ লাখো মানুষ সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আশ্রয় প্রার্থনা করে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ওই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সীমান্ত থেকে রাখাইনের মৃত্যুকূপে ফিরিয়ে না দিয়ে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেন। বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয়ে রয়েছেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Sarwar

২০২১-০১-১৩ ০৯:০১:৫০

মিয়ানমার কি আমাদের মত অর্বাচীন নাকি? তাদের ভবিষ্যতের ভাবনা এবং দেশাত্মবোধ আছে। রহিংগাদের বিতাড়িত করা হয়েছে ফেরত নেয়ার জন্য নয়।  ওরা আসার সময় ড্রাগস, সেক্স, অস্র সবই এনেছে। একসময় এই উপমহাদেশে ওরা বর্মী ডাকাত হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিল। ওরা এই দেশ ছেড়ে কোনদিনই যাবেনা। এটা হলো আমাদের আরেক ফিলিস্তিনি সমস্যা।

Md. Mahafuzur Rahman

২০২১-০১-১২ ২১:৪৩:১০

Buddist Terrorist, suchi.

liakat

২০২১-০১-১২ ১৪:৩৬:২২

wait 2 years only rup pur nuclear then suchi magi where you?

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

এই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক বলা যায় না

১৭ জানুয়ারি ২০২১

এই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক বলা যায় না। যেকোনো নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে তা সিদ্ধ হয় না। ...

প্রথম টিকা সাফাইকর্মীর

মোদি বললেন ভ্যাকসিন নতুন যুগের সূচনা করলো

১৭ জানুয়ারি ২০২১

আয়েশার অন্যরকম লড়াই

১৭ জানুয়ারি ২০২১

ওরা কেন বিপথগামী?

১৬ জানুয়ারি ২০২১

সহিংসতার শঙ্কা, ৬০ পৌরসভায় ভোট আজ

বসুরহাটের দিকে দৃষ্টি

১৬ জানুয়ারি ২০২১

তেলের বাজারে তেলেসমাতি

১৬ জানুয়ারি ২০২১

যেভাবে মেয়েদের ফাঁদে ফেলতো দিহান

তিন বন্ধুকে নিয়ে নানা আলোচনা

১৫ জানুয়ারি ২০২১



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status