ছেলের সর্বোচ্চ শাস্তি চান মা

মরিয়ম চম্পা

প্রথম পাতা ১১ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৩ অপরাহ্ন

ছেলে অপরাধী প্রমাণিত হলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি চান রাজধানীর কলাবাগানে শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফারদিন ইফতেখার দিহানের মা সানজিদা সরকার। কলাবাগানের ডলফিন গলির বাসায় ঘটনার বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয় মানবজমিন-এর। আনুশকার মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচারও দাবি করেন। তিনি বলেন, আমার মনের অবস্থা খুব খারাপ। কথা বলার মতো অবস্থায় নেই আমি। ফারদিনের বাবা আব্দুর রউফ সরকার এই ঘটনার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি কলাবাগানের বাসায় আছেন। আমি যদি এখন ফারদিন সম্পর্কে ভালো কথা বলি তাহলে একটি প্রশ্ন তো থেকেই যায়।
সবাই বলবে, ফারদিন ভালোই যদি হবে তাহলে কেন এই দুর্ঘটনাটি ঘটালো। ফারদিনের সঙ্গে যদি আনুশকার একটি সম্পর্ক থেকে থাকে সেটাতো অন্যায় হিসেবে দেখছি না।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন আমার বাবা অসুস্থ ছিলেন। তাকে দেখতে সিরাজগঞ্জে যাই। ফারদিন-আনুশকার সম্পর্কের বিষয়টি আমি আগে থেকে জানতাম না। তাছাড়া আমার ছেলে ফারদিন ওভাবে বাসা থেকে কোথাও বের হতো না। আমি থাকা অবস্থায় এ রকম কখনো কোনো কিছু করতে দেখিনি। এই ঘটনার পরে আমি কল্পনাও করতে পারিনি যে আমার ছেলে এটা করতে পারে।

সে ইতিমধ্যে তার দোষ স্বীকার করেছে এবং যদি সে অন্যায় করে থাকে তাহলে তাকে আদালত যে শাস্তি দিবেন আমি মাথা পেতে নিবো।

ফারদিনের মা বলেন, এমন কিছু হবে আমি যদি ঘুর্ণাক্ষরেও জানতাম তাহলে ফারদিনকে কখনোই একা বাসায় রেখে যেতাম না। প্রথমে একজন নারী এবং পরে মা হিসেবে এ ঘটনা মেনে নেয়া খুবই কষ্টকর। পুরো ঘটনাটিকে বোঝার চেষ্টা করেছি। ফারদিনের বন্ধুদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছি ফারদিনের ধর্ষণ ও হত্যার উদ্দেশ্য ছিল কি না? একজন নারী হিসেবে কোনো মেয়ে বা কিশোরীর ধর্ষণ এবং হত্যা করার বিষয়টি কখনোই প্রত্যাশা করি না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফারদিনের পরিবার ও তার বড় ভাই সুপ্ত সরকারের বিরুদ্ধেও স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর মুখে জোর করে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছিল সুপ্ত’র বিরুদ্ধে। টাকার বিনিময়ে মামলাটি আপস করেছেন সুপ্ত’র বাবা এমন অভিযোগ রয়েছে। ফারদিনরা তিন ভাই। তাদের বাবা আবদুর রউফ সরকার রাজশাহী জেলার অবসরপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার রাতুগ্রামে তাদের বাড়ি। এ ছাড়াও জেলার বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে তাদের আরো একটি বাড়ি রয়েছে। রাজশাহী শহরেও আছে দু’টি বাড়ি। এর একটি সাগরপাড়া এলাকায়। আরেকটি বাড়ি মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায়। ঢাকার কলাবাগানে রয়েছে নিজস্ব ফ্ল্যাট। বড় ছেলে সুপ্তকে নিয়ে তার বাবা গ্রামে থাকেন। আর মা সানজিদা সরকারের সঙ্গে ঢাকার বাসায় ফারদিন ও তার মেজো ভাই নিলয় থাকেন। নিলয় একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। ২০০৯ সালে সুপ্ত’র স্ত্রী রুনা খানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল সুপ্ত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে নিহত রুনার মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছিলেন। তখন আসামিদের শাস্তির দাবিতে মরদেহ নিয়ে রাজশাহী শহরে মিছিল হয়েছিল।        
 
কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ঠাকুর দাস মালো বলেন, ধর্ষণ এবং হত্যার আগে চেতনানাশক কোনো কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা সেজন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এবং বয়স নির্ধারণের জন্যও তার নমুনা নেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়া যাবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

MD. HASAN SHAHID FER

২০২১-০১-১৪ ১০:৪৬:২৭

সাব-রেজিস্টার সাব কত টাকা বেতন পেতেন ? তিনি রাজশাহী এবং ঢাকাতে এতগুলো বাড়ি কিভাবে করলেন ? এবার মহান আল্লাহ তার ফাইলে হাত দিয়েছেন হয়তো। এখন দুদক'কে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। .... আর একটাই প্রশ্ন একজন আদর্শ স্ত্রী হিসাবে আপনি কি জানতেন না স্বামী কত টাকা মাইনে পায় ? ভালো সাজবেন না প্লিজ, ভালো হওয়ার চেষ্টা করুন ।

শাহ

২০২১-০১-১২ ০৬:৪৬:১৮

ইহকাল ও পরকাল , দুকালেই শাস্তি হবে Direct or Indirect . আল্লাহ সকল অপরাধের বিচার অবশ্যই করবেন আগে এবং পরে । মানুষের ক্ষতি করে গুনাহ করলে , আল্লাহ কক্ষনো তা মাফ করবেন না ।

Md. Toabur Rahman

২০২১-০১-১১ ২৩:২৮:৪৫

Illegal money brings darkness to this whole family.

মামুন

২০২১-০১-১১ ১২:১৭:২৯

মনের কথা নয়।

Khairul islam

২০২১-০১-১০ ২২:৩৭:৫৫

সবার আগে এই মহিলা আর ওর স্বামীর বিচারের আওতায় আনতে হবে। সামান্য সাব রেজিষ্টার হয়ে এত সম্পত্তি অন্যায় পথে গড়ে তোলার জন্য। এই সব বেহায়া বেলাজ মহিলা আর অবৈধ আয় করা এই সব পুরুষ থাকবে ততদিন রেপ শুধু বেড়েই যাবে।

Abdul Mannan

২০২১-০১-১১ ১০:৫০:৩৮

জীবনে যে সম্পদ গড়েছেন, তা কি বেতনের টাকার না অন্য উপায় ?সাবরেজিস্টার এর সম্পদ এর হিসাব নিতে হবে দুদককে

Amir

২০২১-০১-১১ ১০:২১:১১

বাবা আবদুর রউফ সরকার ....অবসরপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার। ---------------যে ৪,৫ টি বাড়ির কথা পড়লাম তা নিশ্চয়ই সরকার সাহেবের সাব রেজিস্ট্রার পদের স্বল্প বেতনের (?) টাকায় করা, আর ঐ বেতনের(?) টাকায়ইতো মাসিক সংসার খরচ চলত , ছেলেপেলেদের মানুষ করেছেন ঐ সত (?) কামাই এর টাকায়, তা হলে জীবনের ছন্দে পতন আসলো কিভাবে!

habib

২০২১-০১-১১ ১০:১৭:০৯

ফারদিনের বাবা মি. আব্দুর রউফ সাহেবকে বলছি, সারা জীবন খেয়েছেন ঘুষ, একজনের জমি টাকার বিনিময়ে অন্যজনের নামে লিখে দিয়েছেন। সেই পাপ তো আপনাকে ছাড়বে না। মহান আল্লাহ হলো সুষ্টু বিচারক।

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০১-১১ ১০:০৭:৩৬

রউফ সাহেবরা সারা জীবন অসুস্হ মানসিকতা নিয়ে অসৎ রোজগারে নিবিষ্ট ছিলেন। যে সরকারি দায়িত্বে তিনি নিযুক্ত ছিলেন তাতে অবসরকালিন ভাতা দিয়ে রাজশাহীর মত শহরে বাড়ি করলে হাতে অবশিষ্ট কিছু থাকার কথা নয়। এতো বাড়ি গাড়ি, এ্যপাটমেন্ট, বখাটে ও দূশ্চরিত্র ছেলের জন্য গাড়ি কিনে দেয়া এ সব এখন পরিহাস হয়ে তাকে ভ্রুকুটি করছে। সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত অসৎ রউফদের জন্য এমন বার্তা দিহান,ঐশী হিসেবে মাঝে মাঝে প্রকাশ পায়।

Quazi M. Hassan

২০২১-০১-১১ ০৯:২৫:৩৮

take care of our child

Farhad Hossain

২০২১-০১-১০ ২০:০০:১৪

Parents are main culprits. They have earned illegal money. They have provided this money to his son to fulfil his demands.

nasiruddin

২০২১-০১-১১ ০৬:৫৯:৪৯

i dont believe that only bleeding caused her to die.there is something hidded,surely this is not first case for this guy,and also if there is true love relation between them then how she got extream discomport during their intercourse but she did not said him nothing//

Riaz

২০২১-০১-১০ ১৪:৪০:৫৪

Still i want to know how he killed her..as doctors told in post portem she died due to over bleeding and thats happened becoz they had sex. And still nobody have any clue that it was a forced sex...

ML Gani

২০২১-০১-১১ ০৩:০৬:০৫

ফারদিনের বাবা এতগুলো বাড়ির মালিক হলেন কিভাবে? তিনি না একজন সরকারি কর্মকর্তা? এ বিষয়টিও তদন্ত হওয়া দরকার।

Sujan

২০২১-০১-১০ ১৩:০২:০৩

You husband make lots of property by corruption. And that is a blessing from people who give you money. Now this blessing has to back in your family

Md Yousuf Ali Mia

২০২১-০১-১১ ০১:৫১:১০

Accused father was a sub register. This type of people make million million taka in this position as bribe. So, his son should be like that. Please, investigate Fardin,s father whole life financial activities..

Khokon

২০২১-০১-১০ ১২:৪৮:৫৭

মনের শান্তি বড় শান্তি। টাকা পয়সা দিয়ে অনেক সময় সুখ পাওয়া যায় না। তবে মনে রাখতে হবে, জীবনে যে সম্পদ গড়েছেন, তা কি বেতনের টাকার না অন্য উপায় ? মা হিসাবে একটি কথা আপনি দাবী করেছেন যে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠ বিচার, এ জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু ছেলে যে জঘন্যতম কাজ করেছে, সেটি হলো মেয়েটিকে হত্যা কোরে, এর বিচার ঠিক হওয়া উচিত।

Aftab Chowdhury

২০২১-০১-১০ ১২:০১:৫৩

সাবরেজিস্টার এর সম্পদ এর হিসাব নিতে হবে দুদককে । সে যে একজন অসৎ দুর্নীতিবাজ ধুসখোর ছিল তার সম্পদ এর বহর দেখেই বুঝা যায়।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

মশার দখলে রাজধানী

৪ মার্চ ২০২১

কিশোরের জামিন

৪ মার্চ ২০২১

৩০১ দিন কারাগারে থাকার পর অবশেষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন.কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর। ...

মুখোমুখি

৩ মার্চ ২০২১

কাল আসছেন জয়শঙ্কর

মোদির ঢাকা সফর, নানা আলোচনা

৩ মার্চ ২০২১



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



কাল আসছেন জয়শঙ্কর

মোদির ঢাকা সফর, নানা আলোচনা

স্থান পাচ্ছে রণাঙ্গন ও মুক্তিগেজেট

পরিবর্তন হচ্ছে তালিকা’র নাম

বাম জোটের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি

DMCA.com Protection Status