ফানুসের আগুন কি নেভাবে মনের আগুন?

শামীমুল হক

মত-মতান্তর ১ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার

বিকট সব শব্দ, গানের বাদ্য, সুরের ঝংকার আর লাখো কণ্ঠ কাঁপিয়ে দিল রাতের আকাশ। উড়ছে ফানুসের আগুন, ঝিলমিল ফটকা। ভবনের ছাদে ছাদে সব বয়সী মানুষের উল্লাস। হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০২১ বরণে এমন আয়োজন ছিল বৃহস্পতিবার রাতে। সঙ্গে নানা খাবারের পার্টি। হই হুল্লোড়ে মাতোয়ারা গোটা জাতি। নাচ, গানের আসর তো বাধ্যতামুলক। বাঁধভাঙ্গা আনন্দ সবার মাঝে।
কারো মনেই গত বছরের বিষময় বেদনার রেখাপাত দেখা যায়নি।
নতুন বছরে নতুন দিনের আশার বাণীও ছিলনা। সবাই ব্যস্ত আনন্দ আর উৎসবে। অথচ অন্তত গত রাতে এমনটি হওয়ার কথা ছিলনা। গোটা বিশ্ব যেখানে অদৃশ্য ভাইরাসে কাবু, বাংলাদেশ যেখানে এ ভাইরাসের সঙ্গে অসম যুদ্ধে লিপ্ত। সেখানে মানুষের মনে এ আনন্দ আসে কোথা থেকে? ফানুসের আগুন উড়িয়ে আমরা কি জানান দিয়েছি? আতশ বাজি ফাটিয়ে আমরা কাকে স্বাগত জানাচ্ছি? এসব কি আমাদের মনে, মননে, চিন্তায় একবারও আসেনি? নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সারাদেশে হাজার কোটি টাকার ফানুস আর বাজির পেছনে খরচ করে আমরা কি পেয়েছি? আনন্দ মানুষের জীবনেরই অংশ।
কিন্তু কখন আনন্দ করতে হয় সেই বোধটুকুও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। সরকারের দেয়া বিধি নিষেদকেও তোয়াক্কা না করে এমন অবিবেচক কাজ কতটুকু যৌক্তিক? এমন প্রশ্ন উঠেছে পৃথিবীর অস্বাভাবিক সময় বলেই। আমরা এসব না করে প্রত্যেকেই পারতাম মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে পানাহ চাইতে। আর্জি জানাতে পারতাম অদৃশ্য ভাইরাস থেকে যেন আমাদের তিনি রক্ষা করেন। নতুন বছরের সূর্য যেন উদিত হয় বিগত দিনের সব দূর্গতি বিনাশ করে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২১-০১-০১ ০০:৪৪:৫৫

কবি যেদিন যে সময়ে বলেছিলেন, 'ক্ষুধার পৃথিবী গদ্যময়!' সেদিনও মানুষের পেটে খিদে ছিলো। আজোও খিদের তাড়নায় মানুষ কষ্ট পায়। কিন্তু, আজকের খিদেটা আগেকার চেয়ে ভিন্ন। আজ বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর সর্বত্র। মহামারীর হানা। দাবড়ে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। কর্মহীন হয়েছে কোটি কোটি মানুষের দল। দরিদ্র পীড়িত মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। অর্থনীতি স্থবির। শিক্ষা মুখ থুবড়ে পড়েছে। ঘর বন্দী মানুষ মনোব্যধিতে আক্রান্ত। এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকা দিতে না পেরে আত্মহননের পথে পা বাড়াচ্ছে অনেকে। জাতীয় কবির ভাষায়, 'তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে।' একদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের পেট জুড়ে জ্বলছে ক্ষুধার আগুন, অন্য দিকে জ্বলছে ফানুস উৎসবের আগুন। জ্বলছে লাখ লাখ টাকা। তাতে কি! উৎসব বলে কথা! আনন্দে মাতোয়ারা! এতে পরাজিত হয়েছে মানবতা! মনুষ্যত্ব বিসর্জন দিয়েছি কি আমরা? করোনায় বিপর্যস্ত মানুষের মুখে ফানুশের টাকা তুলে দিলে কি ক্ষতি ছিলো? সমাজে বৈষম্য প্রকট। একদিকে মুক্তি যুদ্ধের চেতনা। অন্য দিকে বৈষম্য। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা থাকলে বৈষম্য থাকতে পারে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভবিষ্যতে আমরা কি বৈষম্যের পথে হাঁটবো, নাকি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথ ধরে? যদি আমরা সত্যিকার অর্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হই তাহলে ফানুশের আগুনের সাথে ক্ষুধার্ত মানুষের পেটের ভিতরে দাউদাউ করে জ্বলা ক্ষুধার আগুনও নিভিয়ে দিতে হবে। ফানুস পোড়ানোর ও ওড়ানোর অপব্যায় বন্ধ করতে হবে।

Kazi

২০২০-১২-৩১ ২৩:২৫:০৫

এই নব বর্ষ যাদের একান্ত তারা করোনার জন্য নীরবে ঘরে বসে পালন করল। তাদের কাছে জীবন মৃল্যবান। অবিবেচক নয়। তাই তারা উন্নত। বাঙালি বৈশাখ পালন করে নিজস্ব নব বর্ষ। এটা সেকেন্ডারি নব বর্ষ। তারপরও করোনার মাঝে জন সমাগম করে হৈহুল্লোড় । এটা কি বিবেকবানের পরিচায়ক ?

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

মত মতান্তর

কাশিমপুর থেকে আজিমপুর

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পর্যালোচনা

'বীরত্বসূচক পদক' বাতিল করা যায় না

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পরামর্শক সেবা বা কনসালটেন্সি

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত



হাজী সেলিমপুত্র ইরফানকাণ্ড

আল্লাহর মাইর, দুনিয়ার বাইর

ড্রাইভার মালেকের বালাখানা

দরজা আছে, দরজা নেই

আইন পেশায় বিরল এক মানুষ ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক

অ্যাটর্নি জেনারেল পদে বেতন নেননি, লড়েছেন দু'নেত্রীর মামলা নিয়ে

DMCA.com Protection Status