পর্যবেক্ষণ

'ধর্ষণ' এবং 'বিয়ে' বিতর্ক

শহীদুল্লাহ ফরায়জী

মত-মতান্তর ৫ ডিসেম্বর ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৫৩ অপরাহ্ন

ধর্ষণের পর নির্যাতিতের সাথে 'সমঝোতা'র মাধ্যমে বিয়ে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এটি ফেনীর একটি ঘটনা। দুই বছরের প্রণয়ের পর বিয়ের প্রলোভনে অভিযুক্ত জিয়াউদ্দিন ধর্ষণ করে মেয়েটিকে। বিয়ে করতে অস্বীকার করায় দায়ের হয় মামলা। ওই মামলায় কারাগার থেকে ভিকটিমকে বিয়ে করার শর্তে জামিন চান আসামী। ভিকটিমের সম্মতি থাকলে কারাফটকে বিয়ের আয়োজন করতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। আদালতের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে নারীবাদী সংগঠনগুলো। মামলার শুনানি কালে হাইকোর্ট বলেন,যে যাই সমালোচনা করুক,আমরা এ ধরনের বিয়ের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছি। হাইকোর্ট জিয়াউদ্দিনকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকাল জামিন দেয়।
আদালত বলেন, অভিযুক্ত যদি শুধু জামিন পাওয়ার জন্যই বিয়ে করে থাকে তাহলে জামিন বাতিল হবে।

আসামি জামিন চেয়েছেন বিয়ে করার শর্তে। আদালতও এই শর্ত দিয়ে জামিন দিয়েছেন। আসামির শর্ত এবং আদালতের শর্ত একটাই 'বিয়ে'। এই শর্ত পূরণ করার পর কেন তার জামিন বাতিল করা হবে তা বোধগম্য নয়। আসামি তো অন্য কোনো প্রতিশ্রুতি আদালতে দেয়নি। আর আসামি নৈতিকতার কোন স্তর থেকে বিবাহ সম্পন্ন করেছে তা নির্ধারণ করা আদালত বা কারো পক্ষে সম্ভব না।

আদালত আরো বলেছেন, আমরাতো ধর্ষকের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার মেয়ের বিয়ে দিতে বলিনি। ছেলেটি বিয়ের শর্তে জামিন চেয়েছে। এরপরই আমরা আদেশ দিয়ে বলেছি মেয়েটির সম্মতি থাকলে বিয়ে হতে পারে। পরে ছেলে ও  মেয়ের সম্মতিতে বিয়ে হয়েছে। 

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, বিয়ে যদি ছেলেটির 'ইচ্ছাধীন' হয় তাহলে কারাফটকে বিয়ে সম্পন্ন করতে আদালতের নির্দেশ কেন প্রয়োজন হলো! কারাফটকে বিয়ে করা আমাদের সমাজের রীতি নয়, এমনকি সম্মানজনক বা আনন্দপূর্ণও নয়।

শুধু বিয়ের শর্তে যদি আসামির জামিন হয়, আর কারাফটকে বিয়ে হয়, তাহলে নিকটবর্তী সময়ে কারাফটকে 'কাজী অফিসে'র শাখা খুলতে হবে। 

ধর্ষণ হলো সম্মতিবিহীন জবরদস্তি যা একটি গুরুতর অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। বিয়ে হচ্ছে নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একত্র জীবনযাপনের নৈতিক এবং আইনী অনুমোদন।  

ধর্ষণের মত বর্বরোচিত কাজ করার পর অনুকম্পা পেয়ে ধর্ষক যদি বিয়ের আসরে বর সাজার সুযোগ পায় তাহলে মানুষের চেতনার উপর 'আত্মনিয়ন্ত্রণ'  প্রতিষ্ঠার  ক্ষমতা  স্থাপনের তাগিদ বিনষ্ট হবে কিনা  তার গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন। 

এ ধরনের পদক্ষেপ ব্যক্তির নিজের, অপরের বা সমাজের উন্নতি বা মঙ্গল সাধনে আদৌ কোন  ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করে কিনা তাও পর্যালোচনা প্রয়োজন। 

আমাদের মনে রাখা দরকার, অপরাধ যেন 'গৌরবে'র কারণ হয়ে না উঠে। নিজের বা অপরের দেহ বা চিত্তকে পন্থারূপে ব্যবহার করা অনৈতিক। একটু অনুকম্পা বড় ধরনের সামাজিক দুর্দশার উৎস হয়ে  যাবে কিনা তাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।

কোন কোন 'অনুকম্পা' নৈতিকতার জন্য প্রচন্ড বিপদজ্জনক। বিদ্যমান সমাজের গতি প্রকৃতি, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মনস্তত্ত্বকে গভীর পর্যালোচনা করা দরকার।
আদালতের কাছে এক ব্যক্তির মধ্যে একটি ছেলে এবং একটি ধর্ষকের অস্তিত্ব দেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে ছেলেটিকে  ধর্ষক থেকে আলাদা করা যায় না সুতরাং জামিন এবং বিয়ে দুটোই ধর্ষকের সাথে সম্পর্কিত।  

দেশের প্রাপ্তবয়স্ক কোন যুবক বিয়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় না। সুতরাং সে আদালতে সোপর্দ হয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক যুবক হিসেবে নয় অপরাধী হিসেবে। 

প্রথমত প্রশ্ন হচ্ছে ধর্ষণের শিকার নারী তাঁর 'মানবিক মর্যাদা' হারিয়েছে। ধর্ষক ধর্ষণের মাধ্যমে বিয়ের কোন  নৈতিক দায়িত্ব কর্তব্য পালন করেনি। সুতরাং বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ 'নৈতিক বিধি'কে আমরা যদি  অনৈতিকভাবে উল্টে দেই তাহলে ফলশ্রুতি খুবই বিভ্রান্তিকর। বিয়ের জন্য ধর্ষণ কোন গ্রহণযোগ্য অনুশাসন নয়। এসব প্রশ্নে আমাদের আরও সতর্কতাপূর্ণ মনোযোগ এর প্রয়োজন।

মর্যাদা হচ্ছে পরম। মর্যাদার মূল্য শর্তনিরপেক্ষ। মর্যাদার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হতে পারে না, তুলনা করতে গেলে মর্যাদার পবিত্রতা নষ্ট হয়।
মনুষ্যজাতির মানবোচিত মর্যাদাই অন্য প্রাণীদের চেয়ে তাকে পার্থক্য  করেছে।
মানুষের বেঁচে থাকা মানে জীবনের সর্বদিককে মর্যাদাদানের নিরন্তর প্রচেষ্টা। মানুষ যুগে যুগে মর্যাদা প্রতিষ্ঠার  জন্যই আত্মদান করে থাকে, নিরন্তর লড়াই করে থাকে।

জীবনের 'মর্যাদা' বিনষ্ট করার এখতিয়ার কোন ব্যক্তির কেন রাষ্ট্রেরও নেই। রাষ্ট্র অনেক সময় ব্যক্তির মৌলিক নাগরিক অধিকার হরণ করতে পারে কিন্তু  ব্যক্তির মর্যাদা হরণ করার ক্ষমতা রাষ্ট্রের নেই। রাষ্ট্র মানবিক মর্যাদা হরণ করতে পারে এমন কোন আইন প্রণয়ন করতে পারেনা। কারণ আইনের ভিত্তি হচ্ছে 'মানবিক মর্যাদা' সুরক্ষা দেওয়া। বিশ্বের বহু  দেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে সকল আইনের ভিত্তি হবে মানবিক মর্যাদা।

এই মর্যাদা রক্ষা করতে মানুষ যদি ব্যর্থ হয় তাহলে মানুষ ক্রমাগত 'উপমানবিক স্তরে' অধঃপতিত হয়। প্রাণী সুলভ ইন্দ্রিয় ও তার ক্রিয়া-কলাপ নিয়ন্ত্রিত করার মধ্য দিয়ে মানুষ তার মানবিক সত্তা প্রতিষ্ঠা করছে।

আর্নল্ড টয়েনবি বলেছেন যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবিক মর্যাদা বজায় রাখা, আর মানুষের কার্যাবলীর এ ক্ষেত্রটিতে মর্যাদা আরোপের যা অপরিহার্য শর্ত তা হল প্রেম নামক একটা আত্মিক গুণের সাহায্যে যৌন সম্পর্ককে মানবীয় করে তোলা। প্রেম এবং মর্যাদা থেকে মানবের যৌন সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যদি কেবল পাশব ক্ষুধা তৃপ্তির উপায় মাত্র পর্যবসিত হয় তবে তার আত্মিক অধঃপতন ঘটে। মানুষের জীবনে প্রেম ও মর্যাদাহীন যৌন আচরণ এমনকি শুধু পাশবিক নয় আত্মিক ও নৈতিক দিক থেকে পশু অপেক্ষা নিম্ন পর্যায়ের।

সুতরাং ধর্ষক 'আত্মিক' ও 'নৈতিক' দিক থেকে নিম্ন পর্যায়ের। সে ধর্ষণের শিকার নারীর সমগ্র জীবনকে অভিশপ্ত করে দেয়।

আমাদের রাষ্ট্রে আইন প্রণীত হয়েছে ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অর্থাৎ ধর্ষণের কারণে ধর্ষক আবার বেঁচে থাকার অধিকার হারায়। যদি সমঝোতার মাধ্যমে সে 'মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত না হয়ে, বিয়ের মাধ্যমে সুখভোগের জীবন লাভ করে এবং জীবনকে মহিমান্বিত করে তাহলে অপরাধ কোন অনুতাপের বিষয় হবে না, অপরাধ আনন্দলাভের উৎস হবে। অপরাধ 'তিরস্কার' যোগ্য হবে না 'পুরস্কার' যোগ্য হবে।

যার মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে ফাঁসিকাষ্ঠে যাওয়ার কথা, জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটার কথা কিন্তু ফাঁসিরকাষ্ঠের পরিবর্তে ফুলশয্যা... এতে সমাজের  মানবিক হবার অনুপ্রেরণা বাধাগ্রস্ত হবে।
পৃথিবীতে মৃত্যুদণ্ড মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ শাস্তি। এই সর্বোচ্চ শাস্তির পরিবর্তে  যদি বিয়ের ব্যবস্থা হয় তাহলে 'বিয়েও' শাস্তির নামান্তর  কিনা এটাও রসিকতার বিষয় হয়ে উঠবে।

ধর্ষণের পর বিয়ে  নারীর মানবিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে পারে না। ধর্ষণের কারণে  নির্যাতিতার  চরম মানসিক ক্ষতের জন্ম হয় যা থেকে বাকি জনম তার পরিত্রাণ মেলে না। জীবনের মর্যাদাবোধের লড়াইয়ের তাগিদ থেকে প্রতিকারের আশায় সে আইনের আশ্রয় লাভের সচেষ্ট হয় । 

ধরে নিলাম  সমঝোতায় বিয়ে হলো, বিয়ের কয়েকদিন পর চূড়ান্ত রায়ে আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলো ধর্ষক। প্রথমে 'ধর্ষণ' পরে আদালতের নির্দেশে 'বিয়ে' এবং 'বাসর' তারপর মৃত্যুদণ্ডের কারণে 'বিধবা' এতে ধর্ষিতার সামাজিক জীবন ও মানসিকভাবে কী প্রতিকার নিশ্চিত হবে?
'ধর্ষণ' যদি 'বিয়ে'কে নিশ্চিত করে তাহলে সমাজে ধর্ষণের ভয়াবহতা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে কিনা?

একজন ধর্ষক যদি বিয়ের শর্তে জামিন লাভ করে তাহলে গণধর্ষণকারীরা জামিন এবং বিয়ের প্রশ্নে তাদের অভিপ্রায়ের প্রতিকার কী ভাবে পাবে? সকলের জন্যই ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকারের সুরক্ষা দিতে হবে।

কান্টের মতে এই জগতে হোক কিংবা এই জগতের বাইরে হোক একমাত্র সদিচ্ছা (good will) ছাড়া অন্য কোন বস্তুকে বিনাশর্তে ও নিরঙ্কুশভাবে ভালো বলার উপায় নেই। 'সদিচ্ছা'ই একমাত্র বস্তু যার মূল্য পরিস্থিতি, পরিবেশ, আপেক্ষিকতা ও শর্তের ঊর্ধ্বে। অতএব সুখভোগ করার উপযুক্ত পাত্র হতে গেলেও, অবশ্য ও অপরিহার্যভাবে, সদিচ্ছা নামক গুণের প্রয়োজন।

অভিজ্ঞতাবাদ ও সংশয়বাদের প্রধান দার্শনিক ডেভিড হিউম এর লক্ষ্য ছিল মানবীয় উপলব্ধি সম্পর্কে গভীরে অনুসন্ধান পরিচালনা, নিগূঢ় অনুসন্ধানকে স্পষ্টতা দান এবং সত্যের সঙ্গে অভিনবত্ব যোগ করে বিভিন্ন ধরনের দর্শনের সীমান্তকে এক করা। 

আমাদের আইন প্রণয়নকারী এবং আইন প্রয়োগকারী সকলের আরো অধিকতর নৈতিক সমীক্ষার প্রয়োজন।

লেখক: শহীদুল্লাহ ফরায়জী
গীতিকার
০৫.১২.২০২০

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২০-১২-০৫ ০৬:৫৩:৫৯

অভিযুক্ত জিয়া উদ্দিনের সাথে মেয়েটির দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। বিয়ের প্রলোভনে যখন তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে তখন সেটা নিশ্চয়ই জোর জবরদস্তিতে হয়নি, হয়েছে দুজনের সম্মতিতে। আর অভিযুক্ত জিয়া উদ্দিন যদি মেয়েটিকে বিয়ে না করে তাহলে এই মেয়েটিকে অন্য কেউ কি বিয়ে করবে? সুতরাং, আদালতের ফায়সালা যুক্তিসঙ্গত এবং মানবিকও।ব্যভিচারী নারী ও পুরুষের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে তোমারা একশ'টি করে বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর দ্বীনের আদেশ প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের প্রতি কোনো রকম দয়া যেনো তোমাদের পেয়ে না বসে। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনে থাকো। মুমিনদের একটি দল যেনো এ শাস্তি প্রত্যক্ষ করার জন্য উপস্থিত থাকে। একজন ব্যভিচারী পুরুষ কোনো ব্যভিচারিণী মহিলা কিংবা কোনো মুশরিক নারী ছাড়া অন্য কোনো ভালো নারীকে বিয়ে করবে না। অপর দিকে একজন ব্যভিচারিণী মহিলা কোনো ব্যভিচারী পুরুষ কিংবা কোনো মুশরিক পুরুষ ছাড়া অন্য কোনো ভালো পুরুষকে বিয়ে করবে না। সাধারণ মুমিনগণের জন্য এদেরকে হারাম করা হয়েছে।" সূরা আন নূর। আয়াত=২-৩। আরো বলা হয়েছে, "দুশ্চরিত্রা নারীরা হচ্ছে দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষরা হচ্ছে দুশ্চরিত্রা নারীদের জন্য, ভালো নারীরা হচ্ছে ভালো পুরুষদের জন্য, ভালো পুরুষরা হচ্ছে ভালো নারীদের জন্য। মোনাফেক লোকেরা এদের সম্পর্কে যা কিছু বলে, তারা তা থেকে পাক পবিত্র। এদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও সম্মান জনক রিজিক।" সূরা আন নূর। আয়াত-২৬। যারা চায় সমাজে অশ্লীলতার প্রসার তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, "যারা মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতে মর্মন্তুদ শাস্তি। আল্লাহ জানেন তোমরা জাননা।" সূরা আন নূর। আয়াত-১৯। ব্যভিচার ও ধর্ষণ প্রতিরোধে হেদায়েত হচ্ছে, "মুমিন পুরুষদের বলে দাও তারা যেনো তাদের দৃষ্টিকে নিম্নগামী ও সংযত করে রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান সমূহকে হেফাজত করে রাখে। এটাই হচ্ছে তাদের জন্য উত্তম পন্থা। কেননা তারা (নিজেদের চোখ ও লজ্জাস্থান দিয়ে) যা করে আল্লাহ তায়ালা সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গভাবে অবহিত রয়েছেন। একইভাবে মুমিন নারীদেরও বলে দাও তারা যেনো তাদের দৃষ্টিকে নিম্নগামী করে রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান সমূহকে হেফাজত করে রাখে। তারা যেনো তাদের সৌন্দর্যকে প্রদর্শন করে না বেড়ায়, তবে এমনিতেই তাদের শরীরের যে অংশ খোলা পড়ে থাকে তা আলাদা। তারা যেনো তাদের বক্ষদেশ মাথার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখে। তারা যেনো তাদের স্বামী, তাদের পিতা, তাদের শ্বশুর, তাদের ছেলে, তাদের স্বামীর আগের ছেলে, তাদের ভাই, তাদের ভাইর ছেলে, তাদের বোনের ছেলে, তাদের সচারাচর মেলামেশার মহিলা, নিজেদের অধিকার ভুক্ত সেবিকা দাসী, নিজেদের অধিকার ভুক্ত এমন পুরুষ মহিলাদের থেকে যাদের কিছুই কামনা করার নেই, কিংবা এমন শিশু যারা এখনো মহিলাদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে কিছুই জানেনা। এদের ছাড়া তারা যেনো অন্য কারো সামনে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। জমিনের উপর এমনভাবে তারা যেনো পা না ফেলে যেনো তাদের গোপন সৌন্দর্য লোকদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে। হে ঈমানদার লোকেরা তোমারা সবাই আল্লাহ তায়ালার দরবারে তাওবা করো। আশা করা যায় তোমরা নাজাত পেয়ে যাবে।" সূরা আন নূর। আয়াত=৩০-৩১। আরো বলা হয়েছে, "হে নবী তুমি তোমার স্ত্রী, কন্যা ও সাধারণ মুমিন নারীদের বলো, তারা যেনো তাদের চাদর নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে করে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদের কোনো রকম উত্ত্যেক্ত করা হবেনা। আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" সূরা আল আহযাব। আয়াত-৫৯। ব্যভিচারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আল্লাহ বলেন, "তোমারা ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেওনা। নিসন্দেহে এটা হচ্ছে একটি অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পথ।" সূরা বনী ইসরাইল। আয়াত-৩২। এরপর উপদেশের ভঙ্গিতে বলা হচ্ছে, "যে ব্যক্তি তার মালিকের সামনে দাঁড়ানোর দিনকে ভয় করেছে এবং নিজের নফস্ কে কামনা বাসনা থেকে বিরত রেখেছে অবশ্যই জান্নাত হবে তার ঠিকানা।" সূরা আন নাযিয়াত। আয়াত= ৪০-৪১। লজ্জাস্থান ঢাকতে পোশাকের ব্যপারে বলা হয়েছে, "হে আদম সন্তানেরা, আমি তোমাদের ওপর পোশাক পাঠিয়েছি, যাতে করে তোমারা তোমাদের গোপন অঙ্গ সমূহ ঢেকে রাখতে পারো এবং সৌন্দর্যও ফুটিয়ে তুলতে পারো। তবে আসল পোশাক হচ্ছে আল্লাহর প্রতি ভয় জাগ্রতকারী তাকওয়ার পোশাক। আর এটাই হচ্ছে উত্তম এবং এটা আল্লাহর নিদর্শন সমূহেরও একটি। যেনো লোকেরা এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। হে আদমের সন্তানেরা, শয়তান যেভাবে তোমাদের পিতা মাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে, তেমনি করে সে যেনো তোমাদেরও প্রতারিত করতে না পারে। শয়তান তাদের উভয়ের শরীর থেকে তাদের পোশাক খুলে ফেলেছিলো, যাতে করে তাদের উভয়ের গোপন স্থানসমূহ তাদের উভয়ের কাছে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। সে নিজে এবং তার সঙ্গী সাথীরা তোমাদের এমন সব স্থান থেকে দেখতে পায় যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাওনা। যারা ঈমান আনেনা আমি শয়তানকে তাদের অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি। সূরা আল আ'রাফ। আয়াত-২৬-২৭।

মোঃ রবিউল ইসলাম

২০২০-১২-০৫ ১৯:৩৬:৫৫

আমি একজন সু-নাগরিক হিসাবে প্রথমে বলবো এই আইন সংশোধন করতে হবে..... ১) যদি ছেলে এবং সম্মতিক্রমে যৌনমিলন করে তাহলে সেটা দর্শন নয়....যদি মেয়ে দর্শনের মামলা করে তাহলে ছেলের 20 বছরের জেল হলে মেয়ের 10 বছরের জেল দিতে হবে....কারন উভয় ই দেষী 2। কোন মেয়েকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন মিলন করে সেক্ষেত্রে উভয় দেষী কেন মেয়েটা বিয়ে ছাড়া যৌন মিলন কললো...যদি সে মামলা করে 1 মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে এর পর মামলা করলে...তা গ্রহন যোগ্য হবে না.. 3। যদি কোন মেয়েকে জোর করে দর্শন করে আহত করে অথবা সংগহ বব্ধ ভাবে দর্শন করে....তার শাস্তি শুধু ছেলে পাবে। 4। ধর্ষনের মামলা করতে হলে একটা সময় নির্ধারন করতে হবে.....1 মাসের ভিতর মামলা করতে হবে। আমার কথা গুলো প্রচার করলে মেয়েরাও ভয় পাবে বিয়ের কথা বললে ও যৌন মিলন করবে মেয়েরা আগে বলবে আগে বিয়ে করো পরে যৌন মিলন করবো.........

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

মত মতান্তর

কাশিমপুর থেকে আজিমপুর

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পর্যালোচনা

'বীরত্বসূচক পদক' বাতিল করা যায় না

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পরামর্শক সেবা বা কনসালটেন্সি

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত



হাজী সেলিমপুত্র ইরফানকাণ্ড

আল্লাহর মাইর, দুনিয়ার বাইর

ড্রাইভার মালেকের বালাখানা

দরজা আছে, দরজা নেই

আইন পেশায় বিরল এক মানুষ ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক

অ্যাটর্নি জেনারেল পদে বেতন নেননি, লড়েছেন দু'নেত্রীর মামলা নিয়ে

DMCA.com Protection Status