অধরা সুখ

শামীমুল হক

মত-মতান্তর ২ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

করোনা তো সুখ কেড়ে নিয়েছে গোটা বিশ্বের। লাশের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হচ্ছে। টিকা তৈরির প্রাণান্তকর চেষ্টা। ঘুম হারাম বিজ্ঞানীদের। আশার আলো দেখে যাচ্ছে মানুষ। টিকা আবিষ্কার হলেই হয়তো একটু স্বস্তি মিলবে। ওদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সুখ কেড়ে নিয়েছে নির্বাচন। পরাজিত হয়েও তিনি পরাজয় স্বীকার করে নিতে রাজি নন।
তার নানা কথায় আবার ঘুম হারাম আমেরিকাবাসীর। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে তো উত্তেজনা লেগেই আছে। ক’দিন পর পর তা গোলাবর্ষণের মাধ্যমে জানান দেয়। চীনের সুখ নেই এই ভেবে যে, কীভাবে বিশ্বে তার শক্তিমত্তার জানান দেবে তা নিয়ে। দেশে এখন উত্তেজনা চলছে ভাস্কর্য আর মূর্তি এক কিনা তা নিয়ে। এতে ঘুম হারাম দু’পক্ষের। না! সুখ নেই কোথাও।    

এই সুখ দু’টি অক্ষরের একটি শব্দ। এ সুখই বড় অধরা। জীবনে ক’জন বলতে পেরেছেন যে, আমি সুখী। এমন সুখী মানুষ মেলা ভার। কি ব্যক্তি জীবনে, কি সংসারে, কি সমাজে, কি রাষ্ট্রে সর্বত্র সুখ যেন অধরাই রয়ে যায়। আর এমন অধরার পেছনে দায়ী কে? সমাজ, রাষ্ট্র না মানুষ? উত্তর খুঁজে পাওয়াও মুশকিল। তবে আপাতদৃষ্টিতে দায়ী যেন মানুষ। আমরা কেউ সুখী হোক তা চাই না। আর চাই না বলেই কেউ সুখী নন। ব্যক্তি জীবনে কারা সুখী? কেউ কি নিজেকে সুখী বলতে পারছেন। কারও অর্থ নেই তাই তিনি অসুখী। আবার কারও এতো অর্থ যে, তা নিয়ে তিনি অসুখী। সংসারের কথাই ধরা যাক। এখানে স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, পিতা-মাতা। এ ক’জনই একসঙ্গে বসবাস করতে পারে না। সংসারে লেগে থাকে অশান্তি, ঝগড়া আর কলহ। বউ-শাশুড়ি যেন একে অন্যের বিরোধিতা করতেই জন্ম। আর তাই শাশুড়ি কোনো কথা বললে, বউ মনে করে তাকে বলেছে। বউও শুনিয়ে দেয় দু’-চার কথা। দিন-রাত এ নিয়ে ব্যস্ত বউ-শাশুড়ি। তা দেখে সংসার থেকে পালিয়ে যায় সুখ। ভর করে অসুখ আর অশান্তি। তা দেখে সংসারের কর্তা পুত্র কিংবা স্বামীরও মন থাকে খারাপ। ফলে যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। হাজার চেষ্টা করেও সুখের দেখা পান না। ঘরে ঘরে চলছে- এমন পরিস্থিতি। আর সমাজের কথাই ধরা যাক। কি দেখছি, কি শুনছি? সমাজে কেউ যদি অর্থের দিক দিয়ে কিংবা অন্য কোনো দিক দিয়ে তর তর করে এগিয়ে যেতে থাকেন তাহলেই বিপদ। সমাজের অন্য অনেকের জন্য হবে এটা ঈর্ষার কারণ। তারা লেগে পড়বেন পেছনে। তাকে ছাড়া যাবে না। অপরাধ- তিনি কেন সমাজে এগিয়ে যাচ্ছেন? কোনো খুঁত বের করে তাকে ধরতেই হবে। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বেটা আমাকে জিজ্ঞেস করেনি। সালাম দেয়নি? বেটার সাহস কত? বেটাকে ছাড়া যাবে না। কি করা যায়। কাউকে না কাউকে দিয়ে প্রথমে লাগাতে হবে ঝগড়া। এরপর মামলা- মোকদ্দমা। শুরু হলো তার অশান্তি। যাও সুখের দেখা পেতে যাচ্ছিলেন তিনি। তা আর তার নাগালে রইলো না। ছিটকে গেল হাজার মাইল দূরে। এভাবে বিতাড়িত হলো সুখ। তার সঙ্গে স্বজনদেরও সুখ উবে গেল। আর রাষ্ট্রে সে তো বড় এক ঝামেলা। সরকারকে কখনো স্বস্তিতে থাকতে দেয়া যাবে না- এ হলো বিরোধী দলের পণ। আর বিরোধী দলকে কখনোই সামনে বাড়তে দেয়া যাবে না- এ পণ সরকারের। ফলে শুরু থেকেই সৃষ্টি হয় অশান্তির। যে অশান্তিতে জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয় জনগণ। তাতে তাদের কি? যে যেভাবে পারে কায়দা করছে। নিজেকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না। পিছু টেনে ধরছে অন্যরা। ফলে সেখানেও অশান্তি। সুখ নেই কোথাও। এ থেকেই দেশে শুরু হয় অস্থিরতা। তাই সুখ যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই রয়ে গেছে। সুখ আর ধরা দিলো না জীবনে, সংসারে, সমাজে এবং রাষ্ট্রে।

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

‘মানুষ ফ্রি ইলেকশন চায়’

২৪ জানুয়ারি ২০২১

নেতা আর জনতা

১৯ জানুয়ারি ২০২১

বিপথগামী তরুণ সমাজ

হাতের মুঠোয় গোপনীয়তার ব্রাকেটে বন্দী স্মার্টফোনই?

১৫ জানুয়ারি ২০২১

বাঙালনামা

১৫ জানুয়ারি ২০২১

শ্রদ্ধা নিবেদন

সাংবিধানিক চেতনার বার্তাবাহক: মিজানুর রহমান খান

১৩ জানুয়ারি ২০২১



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status