দেশে চিকিৎসার বাইরে ৭ হাজার এইডস রোগী

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

শেষের পাতা ১ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

দেশে বর্তমানে এইচআইভি/ এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। এসব রোগীর মধ্যে এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়ে চিকিৎসার আওতায় এসেছে মাত্র ৭ হাজার ৩৭৪ জন। এখনো শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে প্রায় ৭ হাজার। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আছে ১০৫ জন। দেশে এই রোগে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৪২ জনের। আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৫৭২ জন, চট্টগ্রামে ২ হাজার ৮ জন, সিলেট বিভাগে ১ হাজার ১৯ জন রয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট এইডস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩৮ মিলিয়ন। এর মধ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৮ মিলিয়ন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ২৩টি জেলা বেশি এইডস ঝুঁকিতে রয়েছে।
১৯৮৯ সাল থেকে দেশে এইচআইভি রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে মাসে একজন এইডস আক্রান্ত রোগীর  পেছনে সরকারের খরচ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। যেসব জেলা এইডস-এর ঝুঁকিতে এগুলো হচ্ছে- ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিলেট, মৌলভাবাজার, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর ও সাতক্ষীরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. সামিউল ইসলাম বলেন, আট দশটা ক্রনিক ডিজিজেসের মতো একটা রোগ। এ রোগ একেবারে সেরে যাবে না। এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তবে আজকে আক্রান্ত হলে কালকেই যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে সেটা নয়। কারো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে যেকোনো ইনফেকশনেই মৃত্যু হতে পারে। আমরা যে কাজটা করি, ওষুধ দিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করি। অধ্যাপক সামিউল ইসলাম আরো বলেন, সারা দেশে ২৮টি এইচটি সেন্টার আছে। জিন এক্সপার্ট মেশিন এইচআইভি ভাইরাস শনাক্তে কাজ করা হচ্ছে। যেহেতু এ মেশিনটি ইতিমধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, তাই দ্রুত সময়ে বাকিদের শনাক্তের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এইডস আক্রান্ত জনগোষ্ঠী নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে কুসংস্কার, ভ্রান্তধারণা ও বৈষম্য আছে তা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ধারণা আছে এইচআইভি এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের জীবনযাপন ভালো না। তাদের জীবনযাপন ইসলামিক না। এ জন্য তাদের এইডস হয়েছে। তাদের প্রথমে আঙুল তুলে দেখানো হয়, সে পাপাচার ও পাপী। এ জন্য কুসংস্কার, ভ্রান্তধারণা ও বৈষম্য দূর করতে পত্রপত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে ইসলামিক প্রোগ্রামগুলোতে এইচআইভি এইডস ভাইরাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে?। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এইচআইভি এইডস ভাইরাসের অবস্থা পরিসংখ্যানগতভাবে অনেক ভালো। তবে এটা যেকোনো সময় খারাপ পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে।
এইডস কী এবং এইচআইভি কী: এইচআইভি একটি ভাইরাসের ছোট নাম। হিউমেন ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস থেকে নাম হয়েছে এইচআইভি। এই ভাইরাসটা মানুষের শরীরে সংক্রমণ হলেই রোগ হয়ে যায় না। সংক্রমণ হয়ে রোগ হতে অনেক বছর লাগে। ১০ থেকে ১৫ বছর বা ২০ বছর পর এই রোগ হয়। এজন্য যাদের এইচআইভি আছে, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে কোনো রোগ নেই। এই এইচআইভি ইনফেকশনের কারণে যখন কতগুলো লক্ষণ শরীরের মধ্যে দেখা দিতে শুরু করে-সেটা জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, ডায়রিয়া হওয়া, টিবি রোগ হওয়া। এইচআইভির কারণে যখন মানুষের মধ্যে এই রোগগুলো দেখা দেয়, তখন একে এইডস বলে। এর মানে এইচআইভি পজেটিভ কেউ হলেও তার মধ্যে এটি কেরিয়ার (বহনকারী) হিসেবে থাকছে, তখনই এটি রোগ নয়। যখন এটা রোগে পরিণত হচ্ছে, তখন একে আমরা এইডস বলি বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে রিকশাচালকদের মধ্যে একটি গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ লোক এইডস কীভাবে ছড়ায় তা জানে না।
একজন মানুষের থেকে অন্য মানুষের শরীরে এইচআইভি কীভাবে ছড়ায়: এর তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। এই তিনটির বাইরে কোনো পদ্ধতি নেই। একটি হলো, দুজন মানুষের শারীরিক মিলনের মাধ্যমে হচ্ছে। দ্বিতীয়, ইনজেকশনের মাধ্যমে হতে পারে, ইনজেকশন যদি শেয়ার করে বা রক্ত দেয়ার মাধ্যমে হতে পারে। তিন নম্বর হচ্ছে, মায়ের থেকে সন্তানের হতে পারে। মা যদি এইচআইভি পজেটিভ হয়, তখন এটি হতে পারে, তাও এর সম্ভাবনা খুব কম। ১০০ ভাগের এক ভাগও নয়, দশমিক পাঁচ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে। এই দশমিক পাঁচ শতাংশের মধ্যে পড়ে গেলে সন্তানও এইচআইভি পজেটিভ হতে পারে। যৌন কার্যক্রমের মধ্যে নারী, পুরুষ, সমকামীদের মধ্যে ছড়িয়ে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ার হার বেশি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ বিশ্ব এইডস পালন করা হচ্ছে।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি এবং আনুশকার করুণ মৃত্যু

পর্নোগ্রাফি যখন যৌন শিক্ষার মূল উৎস

২৮ জানুয়ারি ২০২১

১০ কোটি ছাড়ালো করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা

২৮ জানুয়ারি ২০২১

বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়ালো। রয়টার্স ট্যালির হিসাব অনুযায়ী বুধবার এই মাইলফলক ছুঁয়েছে ...

করোনার শতভাগ কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কারের দাবি মার্কিন কোম্পানির

২৮ জানুয়ারি ২০২১

করোনাভাইরাসের শতভাগ কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি রেজেনারন ফার্মাসিউটিক্যালস। বর্তমানে বৃটেনে এই ওষুধটির ...

টিআইবি’র ক্ষোভ

দুদকের ভুল তদন্তে নির্দোষ ব্যক্তির সাজা

২৮ জানুয়ারি ২০২১

ভোটারদের ইভিএম ভোগান্তি

২৮ জানুয়ারি ২০২১

৪০তম বিসিএসের ফল প্রকাশ

২৮ জানুয়ারি ২০২১

৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। গতকাল সন্ধ্যায় পিএসসি’র ...

ঢাবি স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের জরিপ

৮৪ শতাংশ লোক টিকা নিতে আগ্রহী, তবে...

২৭ জানুয়ারি ২০২১

বিনামূল্যে দেয়া হলে ৮৪ শতাংশ মানুষ টিকা নিতে আগ্রহী। কিন্তু বেশির ভাগ লোকই টিকাদান কর্মসূচি ...

স্মরণসভায় বক্তারা

মিজানুর রহমান খান সাংবাদিকতায় অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন

২৭ জানুয়ারি ২০২১

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ভ্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা

২৭ জানুয়ারি ২০২১

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে নাগরিকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভ্রমণ সতর্কতা বিষয়ক এক ...



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি এবং আনুশকার করুণ মৃত্যু

পর্নোগ্রাফি যখন যৌন শিক্ষার মূল উৎস

১০ বছরে শিক্ষার্থী বেড়েছে তিনগুণ

যুক্তরাষ্ট্রে পড়ছে ৮৮০০ বাংলাদেশি

ঢাকা-দিল্লি কন্স্যুলার ডায়ালগ

যেসব ইস্যু আলোচনায় থাকছে

DMCA.com Protection Status