সুশাসনের জন্য ৫ প্রস্তাব

জাফরুল্লাহ চৌধুরী

এক্সক্লুসিভ ২৯ নভেম্বর ২০২০, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

রাতে ভোট ডাকাতির দেশ হিসেবে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ পরিচিত। নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার জন্য ঘৃণা প্রকাশ এবং নীরব প্রতিবাদে সরকারি ও বিরোধী দলের সমর্থকরা নির্বাচন পরিহার করেছেন। উন্নয়নের বিপরীতে চরম দুর্নীতি, খুনখারাবি, যৌন নিপীড়ন ও কিশোর গ্যাংস্টারের দ্রুত বিকাশ ঘটছে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ কুমিল্লা জেলায় গত ২০ বছরে অজ্ঞাত পরিচয় ২৬০০ জনের লাশ পাওয়া গেছে। মাত্রাতিরিক্ত সড়ক দুর্ঘটনা, মাদকাসক্তি বৃদ্ধি ও বিনা বিচারে হত্যা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। একটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য সরকারি কার্যালয়ে দুই বছর যাতায়াত করতে হয়। গাড়ির ফিটনেসের জন্য দীর্ঘ হয়রানি সুনিশ্চিত ও সর্বজনবিদিত। দৃষ্টি সরানোর জন্য জঙ্গি আবিষ্কার ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের হয়রানি সরকারি শৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে লোকমুখে প্রচারিত ও চিহ্নিত।
এই অবস্থার বিপরীতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সুষ্ঠু নির্বাচনে সকল নাগরিকের বসবাসযোগ্য মানবিক গণতান্ত্রিক জনকল্যাণকর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সহজে কার্যকর সম্ভব নিম্নলিখিত ৫ প্রস্তাবের দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সুশীল সমাজ, রাজনীতিবিদ ও জনগণের সুবিবেচনা প্রসূত আলোচনা ও সমর্থন কাম্য।

প্রথম প্রস্তাব: সবার জন্য গণতন্ত্রের সুফল
মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন শাসন ব্যবস্থাপনায়- কেন্দ্রিকতা নয়, ঢাকা নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় শাসন নয়, স্থানীয় জনগণ নির্বাচিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন-
(ক) i. ক্রমে মাফিয়া রাষ্ট্রের পথে অগ্রসরমান বাংলাদেশের মূল সমস্যা কেন্দ্রিকতা এবং বিচার ও আইনশৃঙ্খলা বিভাগসহ জনসেবামূলক সকল বিভাগে অপরিসীম দুর্নীতি ও জবাবদিহিতা হীনতা। ১৮০ মিলিয়ন (১৮ কোটি) জনগণের দেশকে একটি শহর থেকে নিয়ন্ত্রণ পাগলামির নামান্তর মাত্র। কেন্দ্রিকতা দুর্নীতি ও দুর্ভোগ উভয় বাড়ায়। কেন্দ্রিকতা সুশাসনের চরম প্রতিবন্ধকও বটে। এই অবসানের নিমিত্তে বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন করে সমগ্র বাংলাদেশকে ১৭টি প্রদেশ/ স্টেটে বিভক্ত করে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় জনসাধারণের গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে ভোটে নির্বাচিত ১০০ জন সদস্যের প্রদেশ-স্টেট বিশিষ্ট সংসদ সৃষ্টি হবে সুশাসনের প্রথম পদক্ষেপ।
ট্রাস্টি, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র
সকল প্রদেশ/ স্টেট সংসদে ন্যূনতম ২৫% নারী নির্বাচিত হবার ব্যবস্থা গ্রহণ হবে যৌক্তিক পদক্ষেপ। একই সঙ্গে ‘না’ ভোট দেয়ার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ‘না’ ভোট নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে।
প্রত্যেক প্রদেশ/ স্টেটে কেন্দ্রীয় সরকার একজন গভর্নর নিযুক্ত করবেন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সেনা ও পুলিশপ্রধান, সচিব, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, পেশাজীবী, শ্রমিক নেতা, সাংবাদিক, বয়োবৃদ্ধরা জনীতিবিদ এবং মহিলা নেত্রীরা গভর্নর পদে নিযুক্তি পাবেন। প্রত্যেক প্রদেশ/ স্টেটে ১০ জনের অনধিক মন্ত্রিসভা থাকবে। এক-তৃতীয়াংশ মন্ত্রী হবেন নারী সংসদ থেকে। মন্ত্রিসভায় টেকনিকেল ক্যাটেগরিতে অতিরিক্ত মন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ সুবিধা থাকা বাঞ্ছনীয় হবে।
কেবল মাত্র কেন্দ্র এবং প্রদেশ/ স্টেটে নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে। অন্য সব স্থানীয় সরকার (উপজেলা, ইউনিয়ন ও শিক্ষাবোর্ড প্রভৃতির) নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার নিষিদ্ধ হলে জনসেবায় আগ্রহী অধিক সংখ্যক ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। থানা পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের জীবনের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন, শিল্প, গণপরিবহন, বয়োবৃদ্ধ সেবা প্রদেশ/স্টেটের নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বে থাকবে।
iii. প্রদেশ/স্টেটের সকল সরকারি কর্মচারী, চিকিৎসক, শিক্ষক, পুলিশ ও অন্যান্য সব বিভাগের কর্মচারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ, উন্নতি ও শাস্তির বিধান নিয়ন্ত্রিত হবে প্রাদেশিক/স্টেট পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্যদের জীবনপঞ্জী জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে নিয়োগের পূর্বে প্রকাশ করা হবে। তাদের নিয়োগ সংসদ দ্বারা চূড়ান্ত করা হবে।
প্রদেশ/স্টেটের ৬০% চাকরি সংশ্লিষ্ট প্রদেশের স্থায়ী অধিবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে। বাকি ৪০% চাকরিতে অন্য প্রদেশ/স্টেটের যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচিত হবেন। প্রদেশ/স্টেটের কর্মচারীদের পরিবার সমেত সংশ্লিষ্ট প্রদেশ/স্টেটের কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে। তাদের ছেলে- মেয়েদের স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে হবে। সকল সরকারি চাকরিজীবীদের অবশ্যই অধূমপায়ী ও পানসেবনে বিরত থাকতে হবে।
কোনো সরকারি কর্মচারী, প্রকৌশলী চিকিৎসক কোনরূপ প্রাইভেট প্র্যাকটিস, কনসালটিং ব্যবসা বা কোচিং বাণিজ্যে যুক্ত হবেন না। এরূপ ব্যবসায়ে যুক্ত থাকলে ন্যূনতম শাস্তি হবে ৫ বছর সশ্রম কারাদ-। দুর্নীতি ও নারী নিপীড়নে জড়িত হলে তাৎক্ষণিক ভাবে তদন্ত সাপেক্ষে বরখাস্ত হবেন এবং সকল অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে।
কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বয়োবৃদ্ধ চিকিৎসক ও শিক্ষকগণ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বসে বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত I nstitutional Practice বা শিক্ষকতা করতে পারবেন।
রা. প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং আইনের প্রতিশ্রদ্ধাশীল শিক্ষিত অধূমপায়ী ও পানসেবনে বিরত এবং সকল প্রকার মাদকাসক্তি মুক্ত কনসটেবলদের প্রমোশনের জন্য বিভাগীয় বিশেষত সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ পর্যন্ত সকল পদের ৫০% নির্দিষ্ট থাকবে। প্রাইমারি স্কুলের সহশিক্ষকগণ পর্যায়ক্রমে সহ-প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হবেন। বহিরাগত কেউ সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পাবেন না। কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হলে সংগে সংগে বরখাস্ত হবেন।
v.সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অর্পিত হবে প্রাদেশিক/ স্টেট সরকারের উপর। প্রদেশ/স্টেটের সকল রাস্তার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং দ্রুত গাড়ির ফিটনেস দেয়া এবং ড্রাইভিং পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স প্রদানের দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের।
গাড়ির ফিটনেস দেয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রত্যেক উপজেলায় একাধিক প্রাইভেট গ্যারেজকে দায়িত্ব দেয়া হলে হয়রানি কমবে। ফিটনেস ফি’র একটা অংশ প্রাদেশিক সরকার পাবেন। গণপরিবহনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে। শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণ কমানোর লক্ষ্যে সপ্তাহে একদিন পুলিশের যানবাহন, এম্বুলেন্স ও গণপরিবহন ব্যতিরেকে অন্য সকল প্রাইভেট ও সরকারি গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে।
ছাত্র ও বয়োবৃদ্ধরা ঙ্গ মূল্যে গণপরিবহন ব্যবহারের সুবিধা পাবেন মাসিক টিকিটে। গণপরিবহনের তৈল, জ্বালানি ও মবিলে কোনো প্রকার ভ্যাট (VAT) ধার্য হবে না। প্রয়োজনে গণপরিবহনকে হ্রাসকৃত দরে জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হবে।
vi. সরকারি নীতি সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনা ও জনগণের জীবনযাত্রায় বিঘœ সৃষ্টি না করে মিটিং মিছিল করার অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এ কারণে কাউকে জেল-জুলুম ও অন্য কোনো হয়রানি করা হলে তা দ-নীয় অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও কিশোর অপরাধের কারণ চিহ্নিত করে মৃত্যুদ-ের ফাঁসির পরিবর্তে ন্যূনতম ১০ বছর এবং সর্বোচ্চ ৪০ বছর মেয়াদি সশ্রম কারাদ-ের বিধান করে দেশের সর্বত্র সকল নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মৃত্যুদ-ের পরিবর্তে ইনজেকশন দিয়ে ধর্ষককে নপুংষক বানানোর বিষয়টি আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় মেয়েদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং প্রতিরোধ বিষয়ে পথনাটকের মাধ্যমে প্রচার করা হবে। রাতের গণপরিবহনে সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে নারী নিপীড়ন প্রতিহত করার জন্য। গভর্নর, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিচারপতি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ তিনজন পুলিশ প্রহরা দেয়া হবে। ট্রাফিক পুলিশের পরিবর্তে ট্রাফিক ওয়ার্ডেন প্রথা প্রবর্তন করা হবে যৌক্তিক সড়ক শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে। উদ্বৃত্ত পুলিশদের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে নিয়োগ করা সম্ভব হবে।
(খ) কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব
বিমানবন্দর, সমুদ্র ও নৌবন্দর, রেলপথ, আন্তঃসংযোগকারী জনপথ, সকল জলপথ ও নদী, উন্নত পরিবেশসৃষ্টি, বৈদেশিক বাণিজ্য, দেশরক্ষা ও সামরিক বাহিনী, আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট (ঠঅঞ) ওপররাষ্ট্র নীতিনির্ধারণ, কেন্দ্রীয় বাজেট তৈরি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, কেন্দ্রীয় অনুদানের অডিট, স্টেট গভর্নর নিয়োগ এবং চূড়ান্ত (Tertiary) স্বাস্থ্যসেবা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষামান নিশ্চিত করণ এবং উচ্চমানের গবেষণা কেন্দ্রীয় সরকারের মূল দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
স্বাধীন নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের নিশ্চয়তা দান হবে কেন্দ্রীয় সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কেন্দ্রীয় সরকারের রাজধানী হবে ঢাকা। চট্টগ্রাম শহর ও বন্দর কেন্দ্রীয় সরকারে সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে। সকল প্রদেশ/স্টেটে একটি হাইকোর্ট থাকবে, তবে সুপ্রিম কোর্ট অবস্থিত হবে কেন্দ্রীয় রাজধানী ঢাকায়। দ্রুত সুষ্ঠু বিচারের জন্য সুপ্রিমকোর্টে কয়েকটি স্থায়ী বেঞ্চ সৃষ্টির বিষয় চিন্তা করা প্রয়োজন যথা (১) কোম্পানির বিবাদ সংক্রান্ত, আয়কর ও অন্যান্য শুল্ক বিষয়ক সমস্যা, (২) ফৌজদারি বিষয়ক (৩) নারীদের অধিকার, জনগণের অধিকার ও সুবিধা (চঁনষরপ ওহঃবৎবংঃ) এবং সিভিল মামলা বিষয়ক (৪) নির্বাচনও সরকারি কর্মকর্তাদের অধিকার ও অনৈতিক কার্যকলাপ (৫) সরকারি ও বেসরকারি সকল দুর্নীতি বিষয়ক।
সরকারি ও বেসরকারি দুর্নীতি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টে সিনিয়র বিচারপতির সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া বাঞ্ছনীয়। প্রতি বছর সকল রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মচারী, বিচারপতিদের এবং ব্যবসায়ী ও কর্পোরেট পরিচালক ম্যানেজারদের সম্পদের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে জনসাধারণের অবলোকন ও মতামতের নিমিত্তে। সকলের ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন জনসাধারণের অবলোকনের জন্য উন্মুক্ত করা হলে দুর্নীতি দমন সহজ হবে।
দ্বিতীয় প্রস্তাব: সবার জন্য সাশ্রয়ী ব্যয়ে স্বাস্থ্য
মাত্র ১০ (দশ) কোটি টাকা বিনিয়োগে ইউনিয়নের সকল জনসাধারণকে সর্বাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা দেয়া সম্ভব।
(ক) ১৯৯৪ সালে বিআইডিএসের গবেষণায় ড. হোসেন জিল্লুর দেখিয়ে ছিলেন যে, বাংলাদেশের দরিদ্রতা নির্মূল না হওয়ার অন্যতম কারণ ভুল চিকিৎসা, অপচিকিৎসা ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা। সর্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ছাড়া দরিদ্রতা ও দুর্ভোগের অবসান হবে না।
প্রদেশের রাজধানী ও বড় শহরের সকল নাগরিকের একজন জেনারেল প্রাকটিশনার চিকিৎসকের (এচ) সঙ্গে নিবন্ধিত করে তাদের চেম্বারে পরামর্শ ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সুবিধা ও প্রয়োজনে হাসপাতালে প্রেরণ (জবভবৎ) ব্যবস্থা প্রবর্তন আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ভিত্তি যা প্রদেশ/ স্টেট থেকে কেন্দ্রীয় রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। মূল পরিবর্তন আনতে হবে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে (UHFWC)। প্রস্তাবিত প্রদেশ/স্টেটে গড়ে ৩০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আছে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র প্রায় এক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং প্রায় সকল সেন্টারে দোতলা বিল্ডিং আছে। একটি ইউনিয়নের লোকসংখ্যা পঁচিশ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার। লোক সংখ্যা আগামী ১৫ বছরে ৭০ (সত্তর) হাজারে উপনীত হবে।
(খ) ৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চতুর্দিকে ৬ ফুট উঁচু নিরাপত্তা বেষ্টনী, গভীর নলকূপ ও ইলেকট্রিসিটি পুনর্নির্মাণ, চিকিৎসক, ডেন্টাল সার্জন, ফিজিওথেরাপিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মেট্রন, অপারেশন থিয়েটর নার্স ও সিনিয়র টেকনিশিয়ানদের জন্য ১০টি ৬০০-৭০০ বর্গফুটের পারিবারিক বাসস্থান, ২০টি ১৫০-২০০ বর্গফুটের একক বাসস্থান, ২০ জন নার্সিং ও মেডিকেল ছাত্রদের জন্য ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, ডাইনিং রুমের সুবিধাসহ ডরমিটরি এবং দাঁতের চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি বিভাগ, উন্নতমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্যাথলজি ল্যাবরেটরি, রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র, রেডিওলজি-আলট্রাসনোগ্রাফী বিভাগ ও দু’টি অপারেশন থিয়েটার সমন্বিত ৩০ শয্যার একটি হাসপাতাল ও বহির্বিভাগ নির্মাণে। হাসপাতালে ৫ শয্যার হেমোডায়ালাইসিস ও ৫ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা ব্যবস্থাও থাকবে।
(গ) বাকি ৪ (চার) কোটি টাকা ব্যয় হবে এম্বুলেন্স, জেনারেটর, ৩০০ গঅ এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাফী, ইসিজি, নেবুলাইজার, ডিফিব্রিলেটর, কার্ডিয়াক মনিটর ও কার্ডিয়াক স্টেথোসকোপ, সিরিঞ্জপাম্প, ভেনটিলেটর, এনাসথেসিয়া মেশিন, হেমোডায়ালাইসিস ইউনিট, বাইনোকুলার মাইক্রোসকোপ, বায়োকেমিস্ট্রি ইলেকট্রলাইট ও হেমোটোলজি এনালাইজার, অটোক্লেভ, স্টেরিলাইজার, কলোরিমিটার, বয়স্ক ও নবজাতকের এম্বুব্যাগ, পালস অক্সিমিটার, ফ্লোমিটার সমেত ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, আধুনিক হাসপাতাল শয্যা, অপারেশন টেবিল ও থিয়েটরের উজ্জ্বল বাতি, ট্রলি ও হুইল চেয়ার, একাধিক রিফ্রিজারেটর, ইনকুবেটর, রক্তের গ্যাস এনালাইজার, চক্ষু পরীক্ষার যন্ত্রপাতি স্নেল বক্স, অফথালমোসকোপ, স্লিট ল্যাম্পসহ বায়োমাইক্রোসকোপ, রেটিনোসকোপ ও অপারেটিং মাইক্রোসকোপ, এক্স-রে সুবিধা সমেত ডেন্টাল চেয়ার এবং ছোটখাটো অন্যান্য সরঞ্জামসমূহ এবং ফিজিওথেরাপির জন্য আলট্রা সাউন্ড, ইন্টার ফেরেনসিয়াল থেরাপি, ইনফ্রারেড রেডিয়েশন, ট্রাকসন ও এক্সসারসাইজ যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য ২০ ধরনের ছোটখাটো যন্ত্রপাতি ক্রয়ে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ল্যাবরোটরিতে ৫০ প্রকার পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। প্রায় সকল প্রকার গাইনি, জেনারেল সার্জারি অর্থোপেডিকস, কান ও গলার অপারেশন এবং চক্ষু বিভাগে টেরিজিয়াম, কলোজিয়ন, ডিসিআর, ডিসিটি ও ক্যাটারেক্ট অপারেশন সমূহের অতিরিক্ত ও মুসলমানী (Circumcision) ও অন্যান্য ছোট অপারেশন সমূহ করা যাবে।
স্বাস্থ্য সুবিধা জনগণের বাসস্থানের নিকট পৌঁছাবার লক্ষ্যে সকল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে (UHFWC) ক্রমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, ডেন্টিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, ফার্মাসিস্ট, নার্স, প্যারামেডিক ও টেকনিসিয়ানের সার্বক্ষনিক অবস্থান নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সম্ভব। আগামী দশ বছরে প্রত্যেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ন্যূনতম সার্বক্ষণিক ৬ (ছয়) জন চিকিৎসক, দু’জন করে ডেন্টিস্ট, ফার্মাসিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, ল্যাবরোটরি ও এক্সরে বিভাগে দু’জন করে টেকনিসিয়ান প্রয়োজন হবে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী চিকিৎসক হবেন উপজেলা কর্মকর্তা (UNO) পদমর্যাদার। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রে প্রতিবছর দু’জন নবীন ইন্টার্ন চিকিৎসক এক বছর অবস্থান করে ইটার্নশিপ ট্রেনিং নেবেন।
চিকিৎসকগণ হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তঃবিভাগে চিকিৎসাসেবা দেবেন। চিকিৎসকগণ পর্যায়ক্রমে কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, রক্ত পরিসঞ্চালন সহপ্যাথলজি, রেডিওলজি, সার্জারি, গাইনি, শিশু, এনাসথেসিয়া, চক্ষু ও নাক-কান-গলার ছয় মাসের সার্টিফিকেট কোর্স করার সুযোগ পাবেন। এই সার্টিফিকেট অর্জনের পর তারা জুনিয়র বিশেষজ্ঞ হিসেবে অতিরিক্ত ভাতা পাবেন। তারা মেডিকেল ও নার্সিং ছাত্রদের শিক্ষকতার জন্যও একটি ভাতা পাবেন। তারা নিকটবর্তী মেডিকেল কলেজের লেকচারার (প্রভাষক) পদবিও পাবেন। উভয় ভাতার পরিমাণ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকার কম হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। UHFWC এর সকল সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিনে ভাড়ায় বাসস্থান দেয়া হলে সেখানে অবস্থান আকর্ষণীয় হবে। মেডিকেল ছাত্ররা ইউনিয়ন সেন্টারে প্রতিবছর একমাস প্রশিক্ষণ নেবে। তাদের জন্য ডরমিটারির ব্যবস্থা থাকবে।
আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গোড়া পত্তন হবে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে। চিকিৎসকগণ নিয়মিত কমিউনিটি ক্লিনিক ও ফার্মেসি সমূহ পরিদর্শন করবেন এবং কঠিন রোগীদের চিকিৎসা দেবেন প্রয়োজনে তাদেরকে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে প্রেরণ (Refer) করবেন। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসকরা নিয়মিত স্কুল স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। চিকিৎসকগণ পরিবার পরিকল্পনা এবং পাবলিক হেলথ পরিদর্শক ও তাদের সহকারীদের কার্যক্রমও তদারকি করবেন, গ্রামের দাইদের প্রশিক্ষণ দেবেন এবং বাড়িতে নিরাপদে স্বাভাবিক প্রসব করানো তদারকি করবেন। বিঘœ প্রসবের প্রসূতিকে হাসপাতালে প্রেরণে (Refer) উৎসাহিত করবেন।
(ঘ) ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধ নীতি অনুসরণ করলে সকল ওষুধের মূল্য ১৫ দিনের মধ্যে ৫০% কমে অর্ধেকে নেমে আসবে। একই পদ্ধতি অনুসরণ করে সকল ল্যাবরেটরি চার্জ, ও CU চার্জ ও অপারেশন চার্জ অনেক কমে আসবে। এতে জনগণের স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক ব্যয় সাশ্রয় হবে। সামাজিক শ্রেণিভিত্তিক স্বাস্থ্যবীমা প্রচলনের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রকাশ্যে ধূমপান ও পান সেবন বন্ধ করলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উপর চাপ কমবে। বায়ু দূষণ কমবে ফলে অসংক্রামক রোগও কমবে।
iii. তৃতীয় প্রস্তাব: সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা
সকল অতি দরিদ্র ও দরিদ্র পরিবার এবং শ্রমিকদের স্বল্প মূল্যে নিয়মিত রেশনে চাল, ডাল, তেল ও চিনি প্রদান করা হবে যাতে পুষ্টিহীনতা দূরীভূত হয় এবং কর্মদক্ষতা (Productivity) বাড়ে।
সকল প্রকার খাদ্য, পিয়াজ, ডাল, রসুন ও অন্যান্য মসলায় স্বয়ংপূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে প্রতিবছর প্রত্যেক প্রদেশ/স্টেটে ন্যূন ৫০০০ (পাঁচ হাজার) কোটি টাকা কৃষকদের বিনাসুদে ঋণ দেয়া হবে বীজ, সার ও সেচের জন্য। এই বিনিয়োগ এনজিও কর্মীদের মাধ্যমে প্রদান করলে কৃষক সময়মতো পাবেন। টাকা পৌঁছানোর জন্য এনজিও পাবে ৩% এবং শস্য উৎপাদন ও বিক্রির পর টাকা কৃষক থেকে সংগ্রহ করে সরকারকে ফেরত দেয়ার জন্য পাবেন ৪%। কৃষকের পণ্যের ন্যায্য দর নিশ্চিত করে শহরে সরবরাহ করা হবে কিছু বাড়তি দরে। এতে কৃষক ও শহরবাসী উভয়ে লাভবান হবেন। মধ্যস্বত্বভোগী বিলোপ হবে। শীতের সময় বিকালে ও রাতে অবসর বিনোদনের জন্য পালাগান, শিক্ষামূলক নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে কৃষক পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য।
iv. চতুর্থ প্রস্তাব: সবার জন্য আধুনিক শিক্ষা
দশম শ্রেণি শিক্ষা পর্যন্ত অধ্যয়ন সকলের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। প্রাইমারি শিক্ষায় ৫টি শ্রেণি থাকবে। প্রাইমারি স্কুলে চারুকলা, শরীর চর্চা, খেলাধুলা ও গানবাজনার ব্যবস্থা থাকবে। প্রাইমারি স্কুলের পরীক্ষা নিজ নিজ স্কুলে হবে। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে প্রদেশ/ স্টেটভিত্তিক ‘বৃত্তি’(Scholarship) পরীক্ষা হবে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিত বয়োবৃদ্ধরা প্রাইমারি স্কুলে খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা এবং তদারকি করার সুযোগ পাবেন। প্রত্যেক প্রদেশ/ স্টেট নিজস্ব ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা,শহীদ জনসেবকদের তথ্য কারিকুলামেও যুক্ত হবে। স্থানীয় পর্যায়ে এই সকল টেক্সট বই প্রণীত, মুদ্রিত ও প্রকাশিত হবে। সকল প্রাইমারি স্কুলে তিনজন নারী শিক্ষক থাকবেন। প্রত্যেক প্রাইমারি স্কুলে ছাত্রীদের জন্য আলাদা পায়খানা প্রস্রাবখানা থাকবে, প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যও টয়লেট ব্যবস্থা রাখা হবে।
প্রত্যেক ওয়ার্ডে প্রাইমারি স্কুলের পাশে একটি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র, পাঠাগার এবং বিনোদন ব্যবস্থা থাকবে। বয়স্ক ও বয়োবৃদ্ধরা বিকালে প্রাইমারি স্কুলের মাঠে খেলাধুলায় অংশ নিতে পারবেন।
সকল হাইস্কুলে ভোকেশনাল শিক্ষার ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়। ছেলেমেয়েদের লিঙ্গ সমতার জ্ঞান এবং অত্মরক্ষার শিক্ষাও দেয়া হবে।
প্রাইমারি স্কুলে বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শেখানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের, আরবি ভাষার হরফের সঙ্গে পরিচিত করানো হবে। কলেজ পর্যায়ে আরবি, ফরাসী, চাইনিজ, জাপানি, সোহলি, কোরিয়ান, স্পেনিশ প্রভৃতি একটিতে কথোপকথন শিক্ষা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে।
যুদ্ধংদেহী ভারতের আগ্রাসন এবং মিয়ানমারের অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে দেশকে রক্ষায় সহায়তার জন্য সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ৬ (ছয়) মাস সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। এই খরচ বহন করবে কেন্দ্রীয় সরকার।
সকল মাদ্রাসায় আরবি ভাষা ও ধর্মীয় শাস্ত্রের ব্যুৎপত্তির পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, অংক, বিজ্ঞান ও কম্পিউটার শিক্ষাদান করা বাঞ্ছনীয়। মাদ্রাসা শিক্ষায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের শিক্ষার সুযোগ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।
v.পঞ্চম প্রস্তাব : সবার জন্য কর্মসংস্থান
বাংলাদেশের অধিকাংশ কর্মসংস্থান কৃষি, শিল্প, গণপরিবহনে এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। শহরের ফুটপাথে দোকানদারি করে কয়েক লাখ পরিবার জীবিকা অর্জন করে। এছাড়াও পৃথিবীর শতাধিক দেশে প্রায় এক কোটি ত্রিশ লাখ বাংলাদেশের নাগরিক শ্রমে নিয়োজিত।
বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। সারা পৃথিবীতে বয়োবৃদ্ধের সংখ্যা ও বাড়ছে, বাংলাদেশে ১০% অনধিক, তবে উন্নত সমূহে ২৮% পৌঁছেছে। তাদের সেবা শুশ্রƒষার জন্য তরুণদের ছয় মাস সেবা প্রদান প্রশিক্ষণ দেয়া হলে শিক্ষিত বেকাররা কৃষি সমবায় ও বিদেশে বয়োবৃদ্ধদের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পাবে। স্বল্প শিক্ষিত বেকারদের কৃষি ও স্থানীয় শিল্পে কর্মসংস্থান হবে। তাদের বিদেশে কৃষিনির্ভর শিল্পে কর্মসংস্থান হবে উচ্চবেতনে। তবে স্পেনিশ ও আফ্রিকার অন্যতম ভাষা সোহেলিতে কথোপকথন শিখলে উচ্চ আয়ে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কৃষিতে কর্মসংস্থানের জন্য সহায়ক হবে।
বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক বিদেশে যা আয় করে ৪০ লাখ তরুণ শিক্ষিত বেকাররা বিদেশে বয়োবৃদ্ধদের সেবা দিয়ে সমপরিমাণ আয় করবে।
চালক ব্যতীত কেউ রিকশা, বেবিট্যাক্সি ও নৌকার মালিক হতে পারবে না। এ ক্ষেত্রেও মধ্যস্বত্বভোগী মালিকের বিলুপ্তি হবে জনকল্যাণকর রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য ও কর্তব্য।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আনিস উল হক

২০২০-১১-২৯ ২১:০৫:১৮

এ তো নিশিতে পাওয়া স্বপন ! দিবসে যা আর মিলে না।

Rafiqul Islam

২০২০-১১-২৯ ১৮:৩৭:২২

Thank you Sir, your proposal is constructive but who is going to Implement it.

Md Atikullah

২০২০-১১-২৯ ১৪:১৮:২৬

এ প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

পর্ব-৫৩

আমি জানি কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়

২৬ জানুয়ারি ২০২১

পর্ব-৫১

তারা এক নিষ্ঠুর গোলক ধাঁধায় আটকে থাকলো

২৪ জানুয়ারি ২০২১

ইসমোনাকের অভিনব উদ্ভাবন

‘ক’ বর্ণের শব্দের খোঁজে ২০ বছর

২৩ জানুয়ারি ২০২১



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status