রায়হান হত্যার ভিসেরা ও ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হস্তান্তর

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে

বাংলারজমিন ৩০ নভেম্বর ২০২০, সোমবার

 পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান উদ্দিনের প্রথম ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও ভিসেরা প্রতিবেদন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দু’টি প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়েছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. শামসুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিআইডি (চট্টগ্রাম) কর্তৃক প্রেরিত ভিসেরা প্রতিবেদনে দেখা যায়- মৃত্যুর পূর্বে রায়হানের শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সুতরাং অতিরিক্ত আঘাতের ফলে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত ১৭ই নভেম্বর মূল অভিযুক্ত সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ির সাবেক এস আই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে সাতদিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক আবুল কাশেমের আদালতে তাকে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আওলাদ হোসেন। শুনানি শেষে বিচারক সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সকালে খাসিয়াদের সহযোগিতায় বরখাস্ত এস আই আকবর হোসেনকে কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিদের হাতে তুলে দেয় ভারতীয় খাসিয়ারা।
খবর পেয়ে পোশাকে-সাদা পোশাকে পুলিশ ঘটনাস্থল ডোনা সীমান্ত এলাকায় পৌঁছলে জনতা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আকবরকে সিলেটে আনা হলে সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ। গত ১১ই অক্টোবর ভোর রাতে রায়হানকে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করা হয়। পরে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়। ‘রায়হান ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন’ পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হলেও নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ ছিল পুলিশ ধরে নিয়ে ফাঁড়িতে নির্যাতন করে তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত দল ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর সত্যতা পায়। এতে জড়িত থাকায় ইনচার্জ আকবরসহ চার পুলিশকে বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন- বন্দরবাজার ফাঁড়ির কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস। প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেন। ঘটনার পর অন্য ছয়জন পুলিশ হেফাজতে থাকলেও আকবর পলাতক ছিলেন।

আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

দিনাজপুরের ৩টি পৌরসভায় আওয়ামী বিএনপি সমানে-সমান

১৬ জানুয়ারি ২০২১

উত্তরের সীমান্ত জেলা দিনাজপুরের ৩টি পৌরসভায় একটি আওয়ামী লীগ, একটি বিএনপি ও একটি আওয়ামী লীগ ...

দিরাই হাসপাতালে সন্তান প্রসব হলেই মায়েদের প্রণোদনা

১৭ জানুয়ারি ২০২১

‘হাসপাতালে সন্তান প্রসব করালে মায়েরা প্রণোদনা পাবেন’- স্লোগানকে সামনে রেখে ইউএনএফপিএ-এর অর্থায়নে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে উপজেলা ...

লালমোহনে তুচ্ছ ঘটনায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের

১৭ জানুয়ারি ২০২১

লালমোহনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আহত হয় ছেলে শাহে ...

শিক্ষার্থীদের পাশে নয়াবাড়ি প্রবাসী ফাউন্ডেশন

১৭ জানুয়ারি ২০২১

ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ভর্তি ফরম ...

কেরানীগঞ্জে তিতাস গ্যাসের শুদ্ধি অভিযান

২ শতাধিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন

১৭ জানুয়ারি ২০২১

ঢাকার কেরানীগঞ্জে গ্যাসের বকেয়া বিল উত্তোলন ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে তিতাস গ্যাসের উদ্যোগে শুদ্ধি অভিযান ...

মতলবে ডিশ ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ৫ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

১৭ জানুয়ারি ২০২১

১৪ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ৫ লক্ষাধিক জনবসতির মতলব উত্তর উপজেলার ডিশ ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের ...

সখীপুরে কলেজ শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

১৭ জানুয়ারি ২০২১

টাঙ্গাইলের সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান এম ওয়াজেদ আলীর উপর হামলা ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত



ভাড়া না পেয়ে ৫ দিন অবরুদ্ধ

তালাবদ্ধ অবস্থায় শিশুর মৃত্যু

DMCA.com Protection Status