আমরা ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নই: মামুনুল হক

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) নভেম্বর ২৯, ২০২০, রোববার, ৩:১১ পূর্বাহ্ন

হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম-মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, আমাদের বক্তব্য মূর্তি-ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে, কোনোভাবেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান নেতা ও স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুসলিম নেতা হিসেবে পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা করি। তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি। কোনোভাবেই এমন একজন প্রয়াত মরহুম জাতীয় নেতার বিরুদ্ধাচারণ করি না, করা সমীচীনও মনে করি না।
আজ দুপুরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমার বাবা উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ও বাংলাদেশের একজন জাতীয় নেতা মরহুম শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক। যিনি চারদলীয় জোটের শীর্ষ চার নেতার অন্যতম একজন ছিলেন। তার দেয়া আদর্শিক পাঁচ দফার সঙ্গে একমত হয়েই ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই করেছিল। স্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চালানোই আমার ব্রত। কোনো ষড়যন্ত্র অথবা গোপন আঁতাতের মাধ্যমে দেশ, রাষ্ট্র কিংবা সরকারবিরোধী কোনো কর্মসূচি আমাদের নেই।


তিনি আরো বলেন, অতীতে বিভিন্ন জোটবদ্ধ রাজনীতিতে ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে আমাদের সংগঠন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ব্যক্তিতভাবে আমি কোনো রাজনৈতিক জোটে যুক্ত নই। একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমি ব্যক্তি মামুনুল হককে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এজন্য জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অমূলক ও কল্পিত অভিযোগ আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি এই ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমি আশা করব অনভিপ্রেত সব অপতৎপরতা বন্ধ হবে। একই সঙ্গে শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক ও সৈয়দ ফজলুল করিম পীর সাহেব চরমোনাইয়ের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও বিষোদগারে ব্যাপারে প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

নজরুল ইসলাম নাহিদ

২০২০-১১-৩০ ০০:৪৩:০৩

ভাস্কর্য (Sculpture) ও মূর্তি বা প্রতিমা (Fetish) কী এক? ভাস্কর্য হচ্ছে ভালবাসা ,শ্রদ্ধা ও শৈল্পিক অনুভুতিতে তৈরী কাঠ,পাথর,প্রস্তরে খোদাই , ক্লিংকার, মাটি নির্মিত চিহ্নস্বরূপ । মানুষ বিশেষ ও গুণি ব্যক্তিদের ভাস্কর্য তৈরী করে থাকে। এছাড়াও শৈল্পিক ভাবনায় ও ভাস্কর্য তৈরী করা হয় । ভাস্কর্যের উদাহরণ যেমন: তুরস্কের কামাল আতাতুর্কের ভাস্কর্য, মহাকবি ফেরদৌসীর ভাস্কর্য প্রভৃতি। আর, মূর্তি হচ্ছে পূজনীয়, যাদুকরি বিশ্বাস করে নির্মিত কাঠ,মাটি ও পাথর নির্মিত বস্তু। অনেকে মনে করে মূর্তি কেবল জীব রূপ হয়ে থাকে কিন্তু আসলে পূজনীয় কোন কিছু যাতে ম্যাজিকেল বিশ্বাস জড়িত তাই মূর্তি। যেমন: যিশুর মূর্তি, দেব-দেবী , বিভিন্ন প্রাণীর মূর্তি ‌ ও কাবা শরীফ প্রভৃতি। ভাস্কর্যের ইতিহাস; ভাস্কর্য প্রথম তৈরি হয় ইউরোপে । এরপর মধ্য এশিয়া ও গ্রিসে ভাস্কর্যে্য নিদর্শন দেখা যায় । নিদর্শন গুলো থেকে যায় বিভিন্ন শিল্পিরা ধর্মীয় অনেক মূর্তিকে শৈল্পিক ছোঁয়া দিয়েছেন সৌন্দর্য বর্ধনে আর এই ভাস্কর্যের সাথে মূর্তি বা প্রতিমার সংঘর্ষ ও মুসলিমদের সংঘর্ষ এখান থেকেই শুরু। মূর্তির ইতিহাস: আফ্রিকায় সর্ব প্রথম মূর্তি তৈরী করা হয়। তার প্রাকৃতিক বিভিন্ন শক্তিতে বিশ্বাস করতো যার মনুষ্য দেখা ত্রিমাত্রিক কোন চিহ্ন বা রূপ তৈরী করে ধর্মীয় উপাসনা করতেন। এরপর মধ্য এশিয়া ও ভারতে মূর্তির নিদর্শন পাওয়া যায়। উপসংহারে বলা যায় ধর্মীয় উপাসনার বা যাদুকরি কোন কিছুর পূজনীয় ত্রিমাত্রিক মনুষ্য দান রূপ হচ্ছে প্রতিমা বা মূর্তি আর শৈল্পিক ভাবনায়, গুণীদের স্বরণে বা শ্রদ্ধায় তৈরী হয় ভাস্কর্য। ভাস্কর্য আর মূর্তিকে গুলিয়ে ফেললো মামুনুল হক। এদেশের মানুষের অজ্ঞতাকে অস্ত্র বানিয়ে যারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায় তাদের স্বমূলসহ উৎপাটন করা হবে। এটা পাকিস্তান নয়! এটা বাংলাদেশ!

আনিস উল হক

২০২০-১১-২৯ ১১:৩৪:৩১

একমাত্র আল্লাহ কে ছাড়া অন্য কোন ইলাহ কে স্রষ্টা মানা যাবেনা স্রষ্টা মেনে তাদের উপাসনা করা যাবে না।অন্য ইলাহ কারা ছিল? লাত মানাত উজ্জা হূবাল। লাত মানাত দের সাকার বিশ্বাস করে তাদের মূর্তি বানিয়ে সেই মূর্তির উপাসনা করা হোত।মহান আল্লাহ নিরাকার। তিনি নিজে জন্ম নেননি কাউকে জন্মও দেননি।ক্ষুধা তৃষ্ণা ক্লান্তি তাঁকে স্পর্শ করে না।মহাবিশ্বের তিনি একক অধিপতি।তিনি যেহেতু নিজকে নিরাকার বলে ঘোষণা দিয়েছেন তাই তাঁকে মূর্তিতে সাকার করে তোলা মহাপাপ।যা তিনি ক্ষমা করবেন না।অর্থাৎ স্রষ্টারূপে কোন মূর্তি বানানো পাপ ও ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ।কিন্তু স্রষ্টা মানা ভিন্ন কোনো ভাষ্কর্য বানানো নিষিদ্ধ হবে কেন?আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের <মিসেস এম রহমান > কবিতা থেকে উদ্ধৃত করে বলতে হয় < হাদিস কোরআন ফেকা ল'য়ে যারা করিছে বেবসাদারী,মানে না'ক তারা কোরানের বাণী - সমান নর ও নারী ! শাস্ত্র ছাঁকিয়া নিজেদের যত সুবিধা বাছাই ক'রে-->

Banglar Manush

২০২০-১১-২৯ ২১:৪৬:১১

Abul Kashem will become an AL minister next time.

A ,R ,Sarker

২০২০-১১-২৯ ০৮:২৩:৩১

Olpo bidda voyankori jemon khokon.

আবুল কাসেম

২০২০-১১-২৯ ০৬:৩৬:৪৪

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং স্থপতি। এ বিষয়ে যদি কেউ দ্বিমত পোষণ করে তাহলে তার সাথে কোনো আপোষ নেই এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর মোহনীয় ব্যক্তিত্ব ও নির্ভীক নেতৃত্বের আবেগ সেই কিশোর বয়স থেকে এখনো আমাদের রক্তে-মাংসে মিশে একাকার হয়ে আছে। যেদিন থেকে বঙ্গবন্ধুর কথা শুনেছি এবং তাঁর পরিচয় জেনেছি, সেদিন থেকেই তাঁর নেতৃত্বের প্রতি মোহাসক্ত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। আর জেনেছি যে, তিনি ছিলেন একজন খাঁটি ও সাচ্চা ঈমানদার মুসলমান। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সর্বশ্রেণির মানুষের সঙ্গে পুরোপুরি সাড়া দিয়েছিলেন তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত রেডিও পাকিস্তানের ছয়টি বেতার কেন্দ্রের কর্মীরা। ৪ মার্চ প্রতিষ্ঠানের নাম ‘রেডিও পাকিস্তান’ বর্জন করে ঘোষণা করা হলো ‘ঢাকা বেতার কেন্দ্র’। প্রচার শুরু হলো অসহযোগ আন্দোলনভিত্তিক সমগ্র অনুষ্ঠানমালা। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও খুলনা কেন্দ্র এই পদক্ষেপ অনুসরণ করে। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। কিন্তু পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞার ফলে তা সম্ভব হয়নি। তাই বেতারের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেতারের সকল সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়ে বেতার কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান। এতে পাকিস্তান সরকারের টনক নড়ে এবং পরদিন, অর্থাৎ ৮ মার্চ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও খুলনা বেতার কেন্দ্র থেকে একযোগে প্রচারিত হলো। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৩২ নম্বর রোডের বাসভবনে ঢাকা কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালককে সঙ্গে নিয়ে তাঁর ভাষণ শুনেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি ৮ মার্চ তারিখে আমি আমার নিজ কানে শুনেছি। আমাদের ঘরের সামনের উঠানে পেয়ারা গাছের নিচে আমার বড় ভাই পাটি বিছিয়ে দিয়ে বাড়ির সকলের জন্য ভাষণটি রেডিওতে শোনার আয়োজন করেছিলেন। উপস্থিত সকলে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতেছিলেন। তিনি তাঁর ভাষণের শেষ পর্যায়ে এসে যখন বললেন, "মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্।" এই ইনশাল্লাহ শব্দটি শোনার সাথে সাথে আমার বড়ো ভাই বলে উঠলেন, "ইনশাল্লাহ্ বলিয়াছেন। আল্লাহর রহমতে বিজয় আমাদের হইবে।" এই একটি মাত্র 'ইনশাল্লাহ্' শব্দের গভীরতা, গুরুত্ব ও প্রভাব মুহূর্তেই কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের হৃদয় জয় করে নিয়েছিলো। আজকে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, তাঁর ভাস্কর্য নির্মাণ করা নিয়ে বিতর্ক চলছে। জল অর্থ যেমন পানি, তেমনি ভাস্কর্য অর্থও যে মূর্তি জ্ঞানপাপীরা সেটা বুঝতে চায়না। নাস্তিকেরা চায় সবাই নাস্তিক হয়ে যাক। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, "মোনাফিকরা চায় তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও যাতে তোমাদের ও তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য না থাকে। অতএব তাদের মধ্য থেকে কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা তওবা এবং আল্লাহর পথে হিজরত না করে। এরপর যদি তারা বিমুখ হয় এবং কাফেরদের সথে সহযোগিতা অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর।" সূরা আন নিসা, আয়াত:৮৯। বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নির্ভীক ও খাঁটি মুসলমানের ভাস্কর্যের নামে মূর্তি তৈরি করা কতোটা যুক্তিযুক্ত হবে, তা বিবেচনা করার অবকাশ আছে। ইসলাম ধর্মে তো বিনা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ছবি তোলাও জায়েজ নেই। সকল মুসলমানেরই এটা অজানা থাকার কথা নয় যে, রাসুল স. ছবি তোলা, মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ করার ব্যপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। আমরা কি চাইবোনা যে, আমাদের প্রাণপ্রিয় বঙ্গবন্ধু জান্নাতে সুখে শান্তিতে থাকুন। ইসলামের ইতিহাসে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের এমনকি সাধারণ কোনো লোকেরও ভাস্কর্য বা মূর্তির সন্ধান পাওয়া যায়না। নাস্তিকরা বিশ্বাস করুক বা না করুক, তারা তওবা না করে যদি কাফের অবস্থায় মৃত্যু বরন করে তাহলে তারা জাহান্নামে পতিত হবে, এতে কোনো রকম সন্দেহ নেই। সবচেয়ে বড়ো কথা হলো, আমরা মুসলমানরা আমাদের মাসলা মাসায়েল আলেমদের নিকট থেকেই জানতে হবে। কোনো স্যাকুলার চিন্তার ধারক বাহক বা কোনো নাস্তিকের এ অধিকার নেই, তিনি একজন খাঁটি মুসলমানের ভাস্কর্যের নামে মূর্তি তৈরি করার ব্যপারে আন্দোলন করবেন এবং করাবেন। পরিশেষে, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা, যাঁর সাথে আমাদের আত্মার বন্ধন তাঁর ও তাঁর পরিবার বর্গের সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর ভক্তদের কারোই উচিত নয় যে, কোনো অযাচিত কর্মকাণ্ডের কারণে কবরে তাঁর ও তাঁর পরিবার বর্গের শান্তি ব্যহত করা। যাইহোক, ভাস্কর্য থেকেই শিরকের উৎপত্তি হয়েছে হযরত নূহ আ. এর সময়ে। ঐ সমাজে আল্লাহভীরু ও সম্মানিত পাঁচজন লোক ছিলেন। তাঁদের মৃত্যুর পরে ভক্তরা তাঁদের স্মৃতি স্মরনীয় করে রাখতে তাঁদের ভাস্কর্য নির্মাণ করলো। পরবর্তীতে মানুষ তাঁদের প্রতি এতোটাই আসক্ত হয়ে পড়ে যে, আবেগে-ভক্তিতে তাঁদের ভাস্কর্যে মাথা নত করে দেয়। এভাবেই শিরকের উৎপত্তি ও প্রচলন শুরু হয়। তবে মহান ব্যক্তিদেরকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁদের জীবন ও কর্মের চর্চা বেশি জরুরি। আর ইসলামী বড়ো বড়ো স্থাপত্যের নামকরণও তাঁদের নামে করা উচিত। এভাবে তাঁদের স্মৃতি মনের মধ্যে চিরস্মরণীয় এবং বরণীয় করে রাখা যায়। ভাস্কর্য নির্মাণ করলেই কাউকে বরণীয় করে রাখা যায় না ; যদি তাঁর কীর্তিময় মহান জীবন, কর্ম ও শিক্ষাকে অন্তরে ধারণ করা না যায়। হিটলারের ভাস্কর্য এবং ফেরাউনের মমি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সমাদৃত হতে পারেননি। অপরদিকে হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খুলাফায়ে রাশেদার চার খলিফা রা. চার মাজহাবের চার ইমাম, ইমাম গাজ্জালী ও বড়ো পীর আব্দুল কাদির রহমতুল্লাহি আলাইহিহুমদের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়নি এবং তাঁদের ভাস্কর্যের কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও তাঁরা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হিসেবে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসনে চির ভাস্বর হয়ে আছেন। সর্বোপরি কথা হলো, ইসলামে কোনো জোরজবরদস্তি ও বাড়াবাড়ি নেই। কারো মনে যদি এধারণার উদয় হয় যে, ভাস্কর্য তৈরি করে স্বাধীনতার মহান স্থপতিকে চিরকাল স্মরণীয় ও বরণীয় করে রাখা হবে তাহলে তিনি তা করতে পারেন। এতে কারো আপত্তি থাকলে সতর্ক করে দেয়া যেতে পারে। তবে আপত্তি উত্থাপন যেনো বাড়াবাড়ির পর্যায়ে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখা বাঞ্ছনীয় একারণে যে, আপত্তি উত্থাপনে চরম হলে বিবাদ-বিসম্বাদের সম্ভাবনা রয়েছে। যাঁরা ভাস্কর্য নির্মাণ করা সঠিক মনে করেন না তাঁরা তাঁদের মতের পক্ষে থাকতে পারেন। যেহেতু ইসলামে কোনো বাড়াবাড়ি নেই তাই বিবাদে জড়ানো কোনো অবস্থাতেই ঠিক হবে না মনে হয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, "দ্বীনের ব্যপারে কোনো জোর জবরদস্তি নেই। সত্য মিথ্যা থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ বাতিল মতাদর্শকে অস্বীকার করে আল্লাহর (দেয়া জীবনাদর্শের) উপর ঈমান আনে, সে যেনো এর মাধ্যমে এমন এক শক্তিশালী রশি ধরলো যা কোনো দিনই ছিঁড়ে যাবার নয়। আল্লাহ তায়ালা সবকিছুই শোনেন এবং জানেন।" সূরা আল বাক্কারা। আয়াত-২৫৬। এখন যার যার অবস্থা আল্লাহ তায়ালার উপর ছেড়ে দেয়াই উত্তম। কারণ আল্লাহ তায়ালা মহান ও চূড়ান্ত সুবিচারক।

নেছার আহমেদ

২০২০-১১-২৯ ১৯:৩৬:১৩

@Khokon আমাদের সমস্যা হল যে, যার যে বিষয়ে কোন গিয়ান নেই তিনি সে বিষয়ে ডকটরেট সাজতে চায় ! এই যেমন আপনি। ইসলামের মৌলিক বিষয়ের ব্যাপারে নুন্নতম গিয়ান থাকলেও আপনি বুঝতেন যে প্রানীর মুর্তী/ভাষকর্য/ছবি ইত্যাদি অংকন করা বা তৈরী করা হারাম। আপনার ভাষকর্য যদি পছন্দ হয় সেটা আপনার ব্যাক্তিগত বিষয়, কিন্তু নাজেনে বুঝে মুর্খের মত ইসলামের বিষয়ে কথা বলে হাসির খোরাক যোগাবেনই কেবল !! আর একটি কথা না বল্যেই নয়, সেটা হল মানবজমিনে করা কমেন্টগুলো যাচাইবাছাই করে তবেই কেবল পাবলিশ করা হয়। তাহলে মানবজমিন কোন বিবেচনায় এধরনের কমেন্ট পাবলিশ করে ?? নাকি মানবজমিনের ষড়সেতেও ভূত ঢুকে পড়েছে ?? সাধু সাবধান !!

Bangladesh

২০২০-১১-২৯ ০৫:৩১:১১

Samsul tui razakar, khokon tui Awami dalal

Md azizur rahman

২০২০-১১-২৯ ০৫:১৭:১৬

Je somosto alem ugroo vassi kotha bolen taderke sadharon manus pochondo kore na

md abdul karim

২০২০-১১-২৯ ০৫:০৮:৪৩

সঠিক কথা বলছেন, হে প্রিয় নেতা

samsulislam

২০২০-১১-২৯ ০৪:৫৩:৩৩

তুই রাজাকার।

Khokon

২০২০-১১-২৯ ০৪:৪৩:৩২

আপনারা ধর্ম নিয়ে চর্চা করেন ঠিক আছে কিন্ত ধর্মের সাথে বঙ্গবুন্ধুর ভাস্কর্যের কি সম্পর্ক ? ভাস্কর্যকে তো কেউ আল্লাহ বলেন না বা তাকে বন্দনা করেন না ? তাহলে একটু হলেই যে, যেকোনো কাজের সাথেই যে আল্লাহকে শরীক করেন বা জড়ান বা ডেকে আনেন, এটাও কিন্তু ধর্ম বিরোধী ! আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, তিনি সৃষ্টি কর্তা, তার কোন শরীক নেই, তিনিই আমাদের ইহকাল পরকালের শক্তি, ক্ষমাশীল, এটা সবাই শিকার করে, কেউ তো অস্বীকার করে না, তাহলে আপনাদের এতো পীড়াপীড়ি কেন ? বাংলাদেশ কেন সৌদিয়ার সনদের চলবে ? ওখানে কি হয় জানেন ? ওখানে কি গণতন্ত্র আছে, কি বাকস্বাধীনতা আছে, ওখানে আপনারা জন্ম নিলে কি রাস্তায় সব করতে পারতেন ? ওখানে তো আজ ডিসকোটেকা আছে, জীবন উন্মুক্ত, কই কেউ তো কথা বলে না, কেন বলে না ? ইহুদীরা তো সৌদিয়ের সঙ্গে ব্যাবসা বাণিজ্য, উঠাবসা শুরু করে দিয়েছে, কেউ কি বা কাউকে কথা বলার অধিকার দিচ্ছে ? কিন্তু আজ যদি আমাদের দেশে হতো তাহলে আপনারা কি করতেন ? সে কথা বলতে চাই চাই না। কিন্তু শিকার করুন ওরা ও মানুষ ! ওরা ও স্রষ্টার সৃষ্টি। ওদের সঙ্গে আমাদের ও ওঠা বসা, ব্যাবসা বাণিজ্য করা দরকার। কিন্তু ঠিকই সব হবে যখন কিছুই থাকবে না ! তাই বলছি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না এবং সব কিছুকে ধর্মের মধ্যে মিশ্রিত করবেন না । যদি কিছু বলার থাকে সরকারের কাছে উপস্থাপন করেন ? আমরা মৌলবাদীর শাসন চাই না, যেখানে মানুষের অধিকার হরণ করে, গণতন্ত্রে নামে রাজতন্ত্র কায়েম করে এবং পর্দার আড়ালে একাধিক স্ত্রী নিয়ে আমোধ প্রমোদ করে ।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

বাণিজ্যমন্ত্রী-হাইকমিশনার সাক্ষাৎ

বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় পাকিস্তান

২৭ জানুয়ারি ২০২১

সিন্ডিকেট চক্র ডিবির কব্জায়

সরকারি তার-ট্রান্সফর্মার চুরি করে কারখানায় বিক্রি

২৭ জানুয়ারি ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status