ফাকরিজদেহর স্ত্রী বললেন

শহীদ হতে চেয়েছিলেন মোহসেন, তার আকাঙ্খা পূরণ হয়েছে

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) নভেম্বর ২৯, ২০২০, রোববার, ১:২৮ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

ইরানে ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ নিহত শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাকরিজাদেহ-মাহাবাদি’র স্ত্রী স্বামী হারানোর শোকে কাতর। দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে তিন দিনের জাতীয় শোক। এ সময় স্বামীর লাশের পাশে দাঁড়িয়ে তার স্ত্রী বললেন, তিনি (মোহসেন) শহীদ হতে চেয়েছিলেন। তার সেই আকাঙ্খা পূরণ হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, মোহসেন ফাকরিজাদেহকে হত্যা করায় যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে তাতে তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে হাজারো মানুষ দাঁড়িয়ে যাবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো দেখানো হয় তার স্ত্রীকে (নাম প্রকাশ করা হয়নি)। রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রীয় একটি মসজিদে মোহসেনের লাশ রাখা হয় শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। ইরানের জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত ছিল এ সময় তার কফিন।
তবে তার মুখ ছিল খোলা। এ সময় তার পাশে দেখা যায় তার আত্মীয়-স্বজন, ইরানের ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাকে। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে ইরানের প্রধান বিচারপতি ইব্রাহিম রইসি। তিনি তার জানাজা পড়ান। শুক্রবার রাজধানী তেহরানের কাছেই এক অ্যামবুশে তাকে হত্যা করা হয়। এ জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে ইরানের শাসকগোষ্ঠী। এর বদলা নেয়ার কড়া হুমকি দিয়েছে ইরান। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবার উত্তেজনা আকাশচুম্বী। হামলার জন্য ইসরাইলকে ইরান দায়ী করলেও ইসরাইলের একজন মন্ত্রী বলেছেন, এ হত্যাকান্ড সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। কিন্তু ইরান যেভাবে ক্ষোভে ফুঁসছে তাতে যদি ইসরাইলের ওপর কোনো পাল্টা প্রতিশোধ নিয়েই বসে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা পাল্টে যেতে পারে। এ জন্যই জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কাতার, তুরস্ক সহ অনেক দেশ ও সংগঠন সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত ফাকরিজাদেহকে দেশের শীর্ষস্থানীয়, ব্যতিক্রমী পরমাণু ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিজ্ঞানী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন হামলাকারীদের অবশ্যই কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, যারা তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে। তবে তিনি এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেন নি। ওদিকে আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্ট্রেলিজেন্স এজেন্সির সাবেক প্রধান জন ব্রেনান এই হত্যাকা-কে একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং চরমমাত্রায় বেপরোয়া কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অধীনে সিআইএর প্রশাসক ছিলেন। তিনি বলেন, কে ফাকরিজাদেহকে হত্যা করেছে তা আমি জানি না। তবে এটা একটা অপরাধমুলক কাজ।
ওদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী ইউএসএস নিমিটজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। এ ছাড়া ওই অঞ্চলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সমরাস্ত্র। তবে ফাকরিজাদেহকে হত্যার আগেই পারস্য উপসাগরে নিমিটজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। উল্লেখ্য, এখন থেকে ১০ বছর আগে ইরানের তৎকালীন পরমাণু বিজ্ঞানী মাহিদ শাহরিয়ারিকে হত্যা করা হয়। এর বার্ষিকীতে হত্যা করা হলো মোহসেন ফাকরিজাদেহকে। দুটি হামলার জন্যই ইসরাইলকে দায়ী করে ইরান। ২০২১ সালে ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সেই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হোসেন দেহগান। তিনিও এই হামলার জন্য দায়ী করেছেন ইসরাইলকে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md.Shahid Talukder

২০২০-১১-৩০ ১০:০১:৪৩

So called Iranian security!!!!

samsulislam

২০২০-১১-২৯ ০৪:৫৬:২০

গুলি খাইয়া মরছে নাকি?তাহলে শহীদ।

Monir Uddin

২০২০-১১-২৯ ১৭:০৭:০৯

There are a lesson for lidership of muslim world.

Kazi

২০২০-১১-২৯ ০১:০০:২৬

Probably Trump did it

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

করোনার নতুন লক্ষণ!

২৭ জানুয়ারি ২০২১

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর শোক

আই অ্যাম ডিপলি সরি

২৭ জানুয়ারি ২০২১

বৃটেনে এক বাংলাদেশির ছলনা!

২৭ জানুয়ারি ২০২১



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status