ইসরাইলের মন্ত্রী তাজাচি’র দাবি- ইরানি বিজ্ঞানী হত্যাকারী সম্পর্কে জানে না ইসরাইল

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) নভেম্বর ২৯, ২০২০, রোববার, ১২:৩২ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাকরিজাদেহকে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্রপ্রধানরা। এই হত্যার জন্য ইরান দায়ী করছে ইসরাইলকে। এর জবাব দিয়েছেন ইসরাইলের বসতি স্থাপন বিষয়ক মন্ত্রী তাজাচি হানেগবি। তিনি বলেছেন, ফাকরিজাদেহকে কে বা কারা হত্যা করেছে এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো ক্লু নেই। তার ভাষায়, কে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো ক্লু নেই। এ ঘটনায় আমি দায়ী বলে মুখ বন্ধ রাখবো, ব্যাপারটা তা নয়। আসলেই এর কোনো ক্লু নেই আমার কাছে। তিনি ইসরাইলের এন১২ টিভির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর খুব ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতি এই মন্ত্রী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলে আবসার্ড এলাকায় নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে ফাকরিজাদেহকে। প্রথমে তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে পরে তিনি মারা যান। তাকে শহীদ হিসিবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে এ নিয়ে কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি কোনো পক্ষই। তবে কেউ কেউ আঙ্গুল তুলেছেন ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শেষ দিনগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে বলে তাদের অভিযোগ। এ হত্যার পর ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী হোসেইনি খামেনি বলেছেন, হামলাকারীদের কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এবং যারা তাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছে তাদেরও পরিণতি এক হবে। অন্যদিকে এই হত্যার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, আরো একবার জিয়নবাদী শাসকগোষ্ঠী তাদের শয়তানি হাত রক্তে রঞ্জিত করেছে। এ ছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফও ইসরাইলকে দায়ী করেছেন।
এই হত্যাকে ক্রিমিনাল কর্মকান্ড বলে আখ্যায়িত করেছেন ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে যে নীতি অনুসরণ করে, এটা তার বিরুদ্ধ। বিবৃতিতে সব পক্ষকে শান্ত থাকার এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, সময় এখন এক অনিশ্চয়তায়। তএ সময়ে সব পক্ষকে শান্ত থেকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করা উচিত।
কাতারের পররপাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এই হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন। এ জন্য তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফকে ফোন করেছেন। তিনি ফোনকলে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে যখন উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন এই হত্যাকান্ড তাকে আরো উস্কে দেবে।
অন্যদিকে উত্তেজনা এড়িয়ে সংযত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে। জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেছেন, আমরা সব পক্ষকেই আহ্বান জানাই এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না যাতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে যেকোনো হত্যাকান্ড ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের নিন্দা জানাই আমরা।
মোহসেন ফাকরিজাদেহ হত্যাকান্ডে ইসরাইল জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মেকদাদ। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে বলে তার মত। ফাকরিজাদেহকে হত্যার নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এই হত্যাকে হায়েনার কান্ড বলে আখ্যায়িত করেছে। ঘাতকদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে এতে মন্তব্য করা হয়। তবে শনিবার তারা একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে সব পক্ষকেই সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করতে এবং সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে হামলাকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তুর্কি পার্লামেন্টের স্পিকার। সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। ভেনিজুয়েলা এই হামলাকে সন্ত্রাসীদের কাজ বলে আখ্যায়িত করেছে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

মানুষ ভয়ঙ্কর!

২৬ জানুয়ারি ২০২১



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



বিবিসির প্রতিবেদন

জাকারবার্গের বাইডেন সমস্যা

DMCA.com Protection Status