উত্তর কোরিয়ায় করোনা কড়াকড়ি

২ জনকে হত্যা, সমুদ্রে মাছ ধরা নিষিদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রকে উস্কানি না দেয়ার নির্দেশ

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (২ মাস আগে) নভেম্বর ২৮, ২০২০, শনিবার, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

করোনা ভাইরাসের কারণে প্রচণ্ড কড়াকড়ি আরোপ করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। এরই মধ্যে তিনি কমপক্ষে দু’জন ব্যক্তিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদেরকে হত্যাও করা হয়েছে। সমুদ্রে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছেন। রাজধানী পিয়ংইয়ংকে লকডাউন করে দিয়েছেন। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এসব তথ্য দিয়েছেন আইনপ্রণেতাদের। এখানেই শেষ নয়, কিম জং উনের সরকার বিদেশে অবস্থানকারী সব কূটনীতিককে সংযত হয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে প্ররোচিত করতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। এর কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট আসছেন জো বাইডেন।
তিনি উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে কি মনোভাব নেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন উত্তর কোরিয়া। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস  (এনআইএস) দক্ষিণ কোরিয়ার আইন প্রণেতাদেরকে এসব বিষয়ে প্রাইভেট ব্রিফিং করেছেন। বার্তা সংস্থা এপি’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন এমপিআর নিউজ। এতে বলা হয়, এনআইএস’কে উদ্ধৃত করে হা তায়ে-কিউং নামে এক আইন প্রণেতা বলেছেন, করোনা মহামারি এবং এর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতিতে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত কিম জং উন। এক্ষেত্রে তিনি অসঙ্গতিপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ওই আইনপ্রণেতা আরও বলেছেন, তাদেরকে এনআইএস আরো বলেছেন, গত মাসে মুদ্রা বিনিময় হারের পতন হওয়ার জন্য দায়ী সাব্যস্ত করে উচ্চ পর্যায়ের একজন মানি এক্সচেঞ্জারকে হত্যা করেছে উত্তর কোরিয়া। এ ছাড়া সরকারি বিধিনিষেধ আছে এমন পণ্য বিদেশ থেকে দেশে নেয়ার কারণে একজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি সরকারি আইন লঙ্ঘন করেছেন। তবে হত্যাকান্ডের শিকার ওই দুই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয় নি। এনআইএস আরো বলেছে, উত্তর কোরিয়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ভয়াবহ সব পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি সমুদ্রে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। সমুদ্রের পানি থেকে লবণ উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়ার পুরো সমুদ্রসীমায় এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কিনা তা নিশ্চিত করে জানা যায় নি। এমনকি এসব নির্দেশ এখনও কার্যকর কিনা তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সম্প্রতি তারা পিয়ংইয়ং এবং উত্তর জাগাং প্রদেশকে করোনার কারণে লকডাউন দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশ থেকে অনুমোদনহীন পণ্য এবং মুদ্রা এনেছিলেন যেসব এলাকায়, সেসব এলাকায়ও কড়া লকডাউন দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া করোনা টিকা নিয়ে কাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার যে কোম্পানি এই কাজ করছে, তাদের কমপক্ষে একটি হ্যাক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় উত্তর কোরিয়া।
এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া বলে আসছে যে, তাদের দেশে একজনও মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। তাদের এমন দাবিকে বাইরের বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন না। তবে উত্তর কোরিয়ার দাবি, তারা করোনা ভাইরাসকে দূরে রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের জটিল সব সমস্যা বিদ্যমান। এ অবস্থায় সেখানে করোনা সংক্রমণ ঘটলে তা ভয়াবহ এক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে দেশটিকে। তাই মহামারির ফলে তারা চীনের সঙ্গে সমস্ত সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে জানুয়ারিতে। এখানে উল্লেখ করার বিষয় হলো, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক অংশীদার ও সাহায্য বিষয়ক সুবিধাভোগী। এর ফলে করোনা সংক্রমণ উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির ওপর এক মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

NARUTTAM KUMAR BISHW

২০২০-১১-২৮ ১৬:৩৮:৫০

কথায় কথায় মানব হত্যা কোন সমাধান বয়ে আনতে পারে না। আইন কঠিন হওয়া ভাল। তাই বলে কোন মায়ের বুক খালি করে আইন প্রয়োগ করা তা যেকোন দেশের জন্য অমঙ্গল ডেকে আনতে পারে ভবিষ্যতে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে নি।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

মার্কিন সাংবাদিকের তথ্যবোমা

ট্রাম্পকে ৪০ বছর ধরে নিজেদের মতো গড়ে তুলেছেন পুতিন, কেজিবি

২৮ জানুয়ারি ২০২১



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status