মামুনুলকে প্রতিহতে হাটহাজারীতে সড়কে ছাত্রলীগ, অগ্নিসংযোগ

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

অনলাইন (১ মাস আগে) নভেম্বর ২৭, ২০২০, শুক্রবার, ২:৪৭ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আল আমিন সংস্থার তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে অংশ নিতে অবস্থানরত হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হককে প্রতিহত করতে সড়কে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার দুপুরে মামুনুলকে প্রতিহত করতে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ করেন তারা।
বিকেলে নগর ছাত্রলীগের কর্মীদের নগরীর অক্সিজেন মোড়ে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে হাটহাজারী সড়কের বড়দীঘির পাড় এলাকায় ও হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা ফতেয়াবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ১নং গেইট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়ার কথা রয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচির পূর্বে জুমার নামাজের আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ১নং গেইট হাটহাজারী মহাসড়ক এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে ও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে মুহূর্তে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মীরা সেখানে ‘রাজাকার যেখানে প্রতিরোধ সেখানে, মামুনুল হক যেখানে প্রতিরোধ সেখানে’, ‘মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘বীর চট্টলার মাটিতে মামুনুল হকের ঠাঁই নাই’, ‘তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি’, ‘আমাদের ধমনীতে শহীদের রক্ত’, ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিচ্ছেন।
র‌্যাব-৭ হাটহাজারী ক্যাম্প এর অধিনায়ক মেজর মুশফিকুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, চট্টগ্রাম হাটহাজারী মুখী মহাসড়ক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধে খবর পেয়ে তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। হাটহাজারীতে এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত আছে।
সেখানে আমাদের লোকজন আছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম প্রস্তুতি আছে। দ্ইুদিন যাবত মাহফিল হচ্ছে। আশা করি পরিস্থিতি ভালো থাকবে।
মামুনুল হক গতকাল হাটহাজারীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে আজ (শুক্রবার) সকাল সাড়ে আটটায় মাদ্রাসায় উপস্থিত হন। জুমার নামাজের পর বিশ্রাম নিয়ে বাদ এশা হাটহাজারী পাবর্তী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনদিনের তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের সমাপনী দিনে তিনি প্রধান বক্তার হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বলে জানান আল আমিন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আহসান উল্লাহ মাস্টার।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মুহাম্মদ

২০২০-১১-২৭ ০৮:০৭:০২

শাইখুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক সাহেব জিন্দাবাদ ।

আবুল কাসেম

২০২০-১১-২৭ ০৭:১৬:১৩

ইসলামী আইনের উৎস ৪ টি। ১.আল্লাহর কুরআন ২.রাসুলুল্লাহর স. হাদিস ৩.ইজমা ৪.কিয়াস। কুরআন ও হাদিসের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। আর ইজমা শব্দের অর্থ সর্বসম্মত মত ও কিয়াস শব্দের অর্থ অনুমান করা। কুরআন ও হাদিসে যে বিষয়ের সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা বুঝতে পারা যায়না সে সব বিষয়ে শরিয়ত বিশারদগণ গবেষণা করে থাকেন এবং তাঁদের মতামতকে তখন আইন হিসেবে গণ্য করা হয়। রাসুলের স. যুগে ক্যামরা ছিলোনা এবং কেউ ছবিও তোলার প্রয়োজনবোধ করেননি। বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রয়োজনে নাগরিকদের ছবি তোলা অপরিহার্য। এটা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। হজ্জে যেতেও ছবির প্রয়োজন অস্বীকার করা যায়না। তাই শরিয়ত বিশারদগণ এবিষয়ে ইজমা ও কিয়াসের ভিত্তিতে রায় নির্ধারণ করেছেন, জননিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য কারণে ছবি তোলা যাবে। তবে কুরআন ও হাদিসের ভাষ্যমতে মাটি, কাঠ ও পাথর দিয়ে মানুষ বা অন্য কোনো জীব বা প্রাণীর ভাস্কর্য বা মূর্তি তৈরি করা সর্বসম্মতভাবে হারাম।

Shamsul Hoque

২০২০-১১-২৭ ০৬:১০:৩১

জনাব আবুল কাশেম, জরুরী প্রয়োজনে ছবি উঠানো যায় এমন হাদিস থাকলে দেন। না থাকলে কেন ছবি উঠান? যখন যেভাবে সুবিধা সেভাবে অবস্থান নেয়া কি শরীয়ত সম্মত?

আবুল কাসেম

২০২০-১১-২৭ ০৪:০৬:২৭

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং স্থপতি। এ বিষয়ে যদি কেউ দ্বিমত পোষণ করে তাহলে তার সাথে কোনো আপোষ নেই এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর মোহনীয় ব্যক্তিত্ব ও নির্ভীক নেতৃত্বের আবেগ সেই কিশোর বয়স থেকে এখনো আমাদের রক্তে-মাংসে মিশে একাকার হয়ে আছে। যেদিন থেকে বঙ্গবন্ধুর কথা শুনেছি এবং তাঁর পরিচয় জেনেছি, সেদিন থেকেই তাঁর নেতৃত্বের প্রতি মোহাসক্ত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। আর জেনেছি যে, তিনি ছিলেন একজন খাঁটি ও সাচ্চা ঈমানদার মুসলমান। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সর্বশ্রেণির মানুষের সঙ্গে পুরোপুরি সাড়া দিয়েছিলেন তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত রেডিও পাকিস্তানের ছয়টি বেতার কেন্দ্রের কর্মীরা। ৪ মার্চ প্রতিষ্ঠানের নাম ‘রেডিও পাকিস্তান’ বর্জন করে ঘোষণা করা হলো ‘ঢাকা বেতার কেন্দ্র’। প্রচার শুরু হলো অসহযোগ আন্দোলনভিত্তিক সমগ্র অনুষ্ঠানমালা। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও খুলনা কেন্দ্র এই পদক্ষেপ অনুসরণ করে। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। কিন্তু পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞার ফলে তা সম্ভব হয়নি। তাই বেতারের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেতারের সকল সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়ে বেতার কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান। এতে পাকিস্তান সরকারের টনক নড়ে এবং পরদিন, অর্থাৎ ৮ মার্চ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও খুলনা বেতার কেন্দ্র থেকে একযোগে প্রচারিত হলো। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৩২ নম্বর রোডের বাসভবনে ঢাকা কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালককে সঙ্গে নিয়ে তাঁর ভাষণ শুনেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি ৮ মার্চ তারিখে আমি আমার নিজ কানে শুনেছি। আমাদের ঘরের সামনের উঠানে পেয়ারা গাছের নিচে আমার বড় ভাই পাটি বিছিয়ে দিয়ে বাড়ির সকলের জন্য ভাষণটি রেডিওতে শোনার আয়োজন করেছিলেন। উপস্থিত সকলে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতেছিলেন। তিনি তাঁর ভাষণের শেষ পর্যায়ে এসে যখন বললেন, "মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্।" এই ইনশাল্লাহ শব্দটি শোনার সাথে সাথে আমার বড়ো ভাই বলে উঠলেন, "ইনশাল্লাহ্ বলিয়াছেন। আল্লাহর রহমতে বিজয় আমাদের হইবে।" এই একটি মাত্র 'ইনশাল্লাহ্' শব্দের গভীরতা, গুরুত্ব ও প্রভাব মুহূর্তেই কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের হৃদয় জয় করে নিয়েছিলো। আজকে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, তাঁর ভাস্কর্য নির্মাণ করা নিয়ে বিতর্ক চলছে। জল অর্থ যেমন পানি, তেমনি ভাস্কর্য অর্থও যে মূর্তি জ্ঞানপাপীরা সেটা বুঝতে চায়না। নাস্তিকেরা চায় সবাই নাস্তিক হয়ে যাক। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, "মোনাফিকরা চায় তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও যাতে তোমাদের ও তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য না থাকে। অতএব তাদের মধ্য থেকে কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা তওবা এবং আল্লাহর পথে হিজরত না করে। এরপর যদি তারা বিমুখ হয় এবং কাফেরদের সথে সহযোগিতা অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর।" সূরা আন নিসা, আয়াত:৮৯। বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নির্ভীক ও খাঁটি মুসলমানের ভাস্কর্যের নামে মূর্তি তৈরি করা কতোটা যুক্তিযুক্ত হবে, তা বিবেচনা করার অবকাশ আছে। ইসলাম ধর্মে তো বিনা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ছবি তোলাও জায়েজ নেই। সকল মুসলমানেরই এটা অজানা থাকার কথা নয় যে, রাসুল স. ছবি তোলা, মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ করার ব্যপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। আমরা কি চাইবোনা যে, আমাদের প্রাণপ্রিয় বঙ্গবন্ধু জান্নাতে সুখে শান্তিতে থাকুন। ইসলামের ইতিহাসে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের এমনকি সাধারণ কোনো লোকেরও ভাস্কর্য বা মূর্তির সন্ধান পাওয়া যায়না। নাস্তিকরা বিশ্বাস করুক বা না করুক, তারা তওবা না করে যদি কাফের অবস্থায় মৃত্যু বরন করে তাহলে তারা জাহান্নামে পতিত হবে, এতে কোনো রকম সন্দেহ নেই। সবচেয়ে বড়ো কথা হলো, আমরা মুসলমানরা আমাদের মাসলা মাসায়েল আলেমদের নিকট থেকেই জানতে হবে। কোনো স্যাকুলার চিন্তার ধারক বাহক বা কোনো নাস্তিকের এ অধিকার নেই, তিনি একজন খাঁটি মুসলমানের ভাস্কর্যের নামে মূর্তি তৈরি করার ব্যপারে আন্দোলন করবেন এবং করাবেন। পরিশেষে, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা, যাঁর সাথে আমাদের আত্মার বন্ধন তাঁর ও তাঁর পরিবার বর্গের সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর ভক্তদের কারোই উচিত নয় যে, কোনো অযাচিত কর্মকাণ্ডের কারণে কবরে তাঁর ও তাঁর পরিবার বর্গের শান্তি ব্যহত করা।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

১৮ই মার্চ থেকে বইমেলা

২৫ জানুয়ারি ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status