রিসেট

‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে ঐতিহাসিক রায়, দুই ধর্মের মানুষের বিয়েতে হস্তক্ষেপ নয়

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার), ২০২০ Archive 2018Source:
দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, তারা যেই ধর্মেরই হোক না কেন, স্বেচ্ছায় নিজেদের সঙ্গী বেছে নিতে পারবে। সঙ্গী বেছে নেওয়ার জন্য তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়, এমনই জানাল ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এক মুসলিম যুবক এক হিন্দু তরুণীকে বলপূর্বক অপহরণ করেছে বলে দায়ের করা এফআইআর খারিজ করে এমনটা জানিয়েছে হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে আদালত এও জানিয়েছে, বিয়ের জন্য ধর্ম পরিবর্তন বরদাস্ত নয়, এমন আইন মোটেও ভাল নয়। দুই ধর্মের মানুষের বিয়েতে হস্তক্ষেপ করতে নারাজ হাইকোর্ট।

আদালতের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ 'লাভ জিহাদ' রুখতে কড়া আইন আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত ১১ নভেম্বর সালামত আনসারি ও প্রিয়াঙ্কা খারওয়ার (আলিয়া) নামের যুগল এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন, তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর খারিজ করার আবেদনে। সেই মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, প্রিয়াঙ্কা-সালামতকে হিন্দু-মুসলিম হিসেবে দেখে না আদালত। বরং দুজন প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখে যারা নিজেদের ইচ্ছায় সুখে থাকার জন্য একে অপরকে বেছে নিয়েছে। স্বেচ্ছায় জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার সাংবিধানিক। ব্যক্তি স্বাধীনতার অধীনে কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করতে পারে না আদালত। ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এ এমনটাই বর্ণিত রয়েছে।

হাইকোর্টের মতে, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ শুধু আইন বিরুদ্ধই নয়, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের জন্যও উদ্বেগের। কোনভাবেই দুজন ভিন্ন ধর্মের মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া যায় না। এই বলে আদালত দুজনের বিরুদ্ধে এফআইআর খারিজ করে দেয়। বিচারপতি পঙ্কজ নাকভি এবং বিবেক আগরওয়ালের বেঞ্চ এই রায় দেয়।