মৃতের ৫৩ ভাগের বয়স ৬০’র বেশি

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

প্রথম পাতা ২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

দেশে করোনার দাপটে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মৃত্যুর সংখ্যা ৬ হাজার ৪শ’ ছাড়িয়েছে। শনাক্তের হারও বাড়ছে হু হু করে। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অর্ধেকের বেশি বয়স ৬০ বছরের উপরে। এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এই বয়সের হার ৫২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। করোনায় মোট মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সের রয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৩ জন। গতকাল পর্যন্ত দেশে মরণব্যাধি ভাইরাসটিতে মোট মারা গেছেন ৬ হাজার ৪১৬ জন। এর মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছরের বয়সের হার রয়েছে ২৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।
অর্থাৎ মোট মৃত্যুদের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮ জন রয়েছেন এই বয়সের। সংখ্যায় কম হলেও তরুণ ও  শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাও আছে। দেশে প্রথম করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্তের খবর প্রকাশ পায় গত ৮ই মার্চ। আর ১৮ই মার্চ প্রথম মৃত্যু হয়।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছে ৩১ জন। অর্থাৎ শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে ৫১ জন। শতকরা হিসেবে শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ। ২১ থেকে ৩০ বছরের রয়েছে ১৪৫ জন। যা শতকরা হিসেবে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে আছে ৩৩৯ জন। যা ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। ৪১ থেকে ৫০ বছরের রয়েছে ৭৭৯ জন। যা শতকরা হিসেবে ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের কোভিড-১৯ এর পাশাপাশি অন্য রোগ ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মৃত ব্যক্তির বয়স ও লৈঙ্গিক পরিচয় দিলেও মৃত্যুর কারণ, উপসর্গ বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করে না। সব তথ্য বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি।

রোগতত্ত্ব,  রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক এবং সংস্থাটির উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন মানবজমিনকে বলেন, যেকোনো সংক্রমণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তারাই বেশি মারা যান। অসংক্রামক ব্যাধিকে মৃত্যুর বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, দেশে ৫০ বছর পার হলেই নানা অসংক্রামক ব্যাধিতে ভুগতে থাকেন অনেকে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদরোগ ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ আছে, তারাই বেশি কোভিড রোগে মারা যাচ্ছেন। তাই ইউরোপ-আমেরিকায় ৭০ থেকে ৮০ বছর পার হলে যে ঝুঁকি, এখানে ৫০ পার হলেই সেই ঝুঁকি। তিনি বলেন, দেশে কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা দরকার।

এদিকে গত ৬ দিনের শনাক্তের হার বিশ্লেষণে দেখা যায়, হঠাৎ করে আবার করোনা শনাক্তের হার বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ২২শে নভেম্বর এই হার ছিল ১৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, ২১শে নভেম্বর ছিল ১৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, ২০শে নভেম্বর শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ১৯শে নভেম্বর  হার ছিল ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ১৮ই নভেম্বর ছিল ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ হাজার ৪১৬ জনে। নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪১৯ জন। মোট শনাক্ত ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৮৩ জন এবং এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৬১১ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ১১৭টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ২৪০টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৬ হাজার ৫৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৬ লাখ ৬৫ হাজার ১৩১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী। এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯৩০ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৪৮৬ জন নারী মারা গেছেন। একদিনে মারা যাওয়া ২৮ জনের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরের বেশি ২১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫ জন এবং ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২ জন মারা গেছেন। বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ জন, রাজশাহীতে ২ জন এবং সিলেটে ১ জন রয়েছেন। তারা সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন।

বিশ্বে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে চীনের উহানে গত ৩১শে ডিসেম্বর। মে মাসের দিকে চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, চীনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশের বয়স ৩০ থেকে ৬৯ বছরের মধ্যে। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ৮০ শতাংশের বয়স ছিল ৬০-এর উপরে। তাতে বলা হয়, ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ আছে, তাদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বয়স ৬৫ থেকে এর উপরে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০২০-১১-২৩ ১৬:২২:৩৩

এটা এখন বিশ্ব সমস্যা। কিন্তু অনেক দেশ এই সমস্যা মোকাবিলায় আপ্রাণ চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই সুযোগে সরকারী টাকা লুটপাট করছে। নিম্নমানসম্পন্ন জিনিস ও যন্ত্রপাতি কিনে উন্নতমানের চেয়ে ৭/৮ গুণ দাম দেখিয়ে এই লুটপাট চলছে।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

ভ্যাকসিন নিতে অনীহা কেন?

২৩ জানুয়ারি ২০২১

সত্য বলেছি, বহিষ্কার হলে সমস্যা নেই

২৩ জানুয়ারি ২০২১

 আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও তার ভাই মির্জা আবদুল কাদের রাজাকার পরিবারের সন্তান ...

একরাম চৌধুরীকে বহিষ্কার দাবিতে অনশন

২৩ জানুয়ারি ২০২১

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিবারকে রাজাকার পরিবার বলায় স্থানীয় ...

সানোফির সিংহভাগ শেয়ার অধিগ্রহণ করছে বেক্সিমকো ফার্মা

২২ জানুয়ারি ২০২১

দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (বেক্সিমকো ফার্মা) সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডের ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status