মোংলা পোর্টে কন্টেইনার ভেঙে চুরি

গোয়েন্দা জালে সিন্ডিকেট সদস্যরা

শুভ্র দেব

শেষের পাতা ২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

আমদানি করা কাপড় মোংলা পোর্টের কন্টেইনার থেকে চুরি করে বিক্রি করে দেয় এমন একটি চক্র ধরা পড়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) জালে। এই চক্রের পাঁচজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কন্টেইনার থেকে কাপড় চুরি করে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতো। আর যারা আমদানি করতো তাদেরকে বিদেশে টাকা পাচার করছে বলে ভয়ভীতি দেখাতো। পোর্টের অসাধু কর্মকর্তা/কর্মচারী, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও লেবার সর্দারকে নিয়ে তারা একটি বড় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। ডিবি সূত্র জানিয়েছে, এক ব্যবসায়ী চায়না থেকে তিন লাখ ৩০ হাজার গজ কাপড় আমদানি করেছিলেন। কিন্তু সেই কাপড়গুলো পোর্ট থেকে খালাসের আগে বাজারে বিক্রি হচ্ছিলো। ব্যবসায়ীর আমদানি করা কাপড়ের স্যাম্পলের সঙ্গে বাজারের ওই কাপড়ের মিল হওয়াতে তার সন্দেহ হয়।
তিনি বুঝতে পারেন পোর্ট থেকে কাপড়গুলো অসৎ উপায়ে বাইরে চলে এসেছে। পরে তিনি ১০ই সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় এই বিষয়ে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে ডিবির লালবাগ ডিভিশনের কোতোয়ালি টিম। তদন্তের একপর্যায়ে ওই দিনই ইসলামপুরের একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯৫ হাজার গজ চোরাই থান কাপড় উদ্ধারসহ শামসুল আরেফিন ও মো. মনির হোসেন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের পুরো সিন্ডেকেটকে শনাক্ত করা হয়। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে মোংলা পোর্টের কিছু অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তা, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, অসাধু কাপড় ব্যবসায়ী এবং খুচরা বিক্রেতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার শামসুল আরেফিন ও মনির হোসেনের তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ই নভেম্বর চট্টগ্রামের টেরিবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের দিন রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত রোববার মোংলা থানা এলাকা থেকে এই সিন্ডিকেটের আরো দুই সদস্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অরুণ ও লেবার সরদার সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত দু’জনকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ মানবজমিনকে বলেন, মোংলা পোর্টের কন্টেইনার ভেঙে চায়না থেকে আমদানিকৃত কাপড় একটি চক্র সারা দেশে বিক্রি করে দিয়েছিল। এই চক্রে পোর্টের অসাধু কর্মকর্তা/কর্মচারীসহ বেশকিছু সিএন্ডএফ এজেন্ট জড়িত। সিএন্ডএফ এজেন্টের হাত ধরে কাপড় চলে যায় চট্টগ্রামের টেরি বাজারে। সেখান থেকে ঢাকার ইসলামপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ আরো কিছু স্থানে কাপড়গুলো বিক্রি হয়। আমরা এই চক্রে জড়িত পাঁচজনকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছি। তিনি বলেন, চক্রটি বেশ বড় এবং শক্তিশালী। যারা কাপড় আমদানি করেন তাদেরকে উল্টো চক্রের সদস্যরা নানা রকম ভয়ভীতি দেখায়। তারা আমদানিকারককে মানিলন্ডারিং করছে বলে অভিযোগ করে। বলে আমদানিকারক বিদেশে টাকা পাঠিয়ে কোনো পণ্য আনেনি।
কীভাবে কাপড় কন্টেইনার থেকে চুরি করা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন,  সিএন্ডএফ এজেন্টরা আমদানিকৃত কন্টেইনারের ভেতরে কি কি পণ্য থাকে সেটা তারা জানে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একত্রে মিলে সিএন্ডএফ এজেন্টরা পণ্য খালাসের জন্য দুটি গাড়ির পরিবর্তে পোর্টের ভেতরে চারটি গাড়ি প্রবেশ করায়। যে পণ্যগুলো কাস্টমস থেকে বৈধভাবে ক্লিয়ারেন্স পেয়েছে সেগুলো দুইটি গাড়িতে ওঠায়। ওই পণ্যের সঙ্গে অন্য কন্টেইনার যেগুলো কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পায় নাই এমন কন্টেইনারের তালা খুলে পণ্য বের করে অন্য দুই গাড়িতে করে সরিয়ে নেয়। এরপর এই চোরাই মালামাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলে যেতো বিভিন্ন জেলার বাজারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোংলা বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মোস্তফা কামাল মানবজমিনকে বলেন, কোন্‌ কন্টেইনারের কথা বলা হচ্ছে সেটি জানতে হবে। নির্দিষ্ট করে বললে বোঝা যাবে কখন কাপড়গুলো আসছে, কখন গেছে। যে চোর সেই বলতে পারবে কীভাবে চুরি করেছে। আমরাও বিষয়টি জানতে চাই। এই ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা তদন্ত করছেন। তদন্তের রিপোর্ট পেলে বিষয়টি জানা যাবে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই পোর্টে ঘটে। তবে এ বিষয়ে কাস্টমস কমিশনার ভালো বলতে পারবেন। কারণ মূল বিষয়টাই কাস্টমস দেখে। একটা কন্টেইনার আসার পর ত্রিশ দিনের ভেতরে খালাস করতে হয়। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে সমস্যা। কন্টেইনারের ভেতরে মালামাল ছিল কিনা সেটি তদন্ত সাপেক্ষ বলা যাবে। যদি সিন্ডিকেট ধরা পড়ে তবে তারাই বলতে পারবে কীভাবে নিলো, কারা জড়িত। কাপড় চুরি হয়ে গেলে আমদানিকারকদের কীভাবে ম্যানেজ করা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়টা কাস্টমস কীভাবে ম্যানেজড করে তাদের ব্যাপার। মূলত একজন আমদানিকারক যখন কিছু নিয়ে আসে তখন তারা তাদের পক্ষে সিএন্ডএফ নিয়োগ করে। কাস্টমস পণ্য যাচাই করে। তারপর এজেন্টরা সব কাগজপত্র ঠিক করে রাজস্ব দেয়। রাজস্ব দেয়ার পর কন্টেইনার থেকে ডেলিভারি দেয়া হয়। যখন কাস্টমস যাচাই করে তখন দেখা যায় সবকিছু ইনটেক। বাট কন্টেইনার খোলার পর দেখা যায় পণ্য নাই। এসব বিষয় তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। তিনি বলেন, মোংলা বন্দরে কোন্‌ অসাধু কর্মকর্তা জড়িত সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলুক। আমরা আগেই কাস্টমসকে চিঠি দিয়েছিলাম কোন্‌ কোন্‌ কর্মকর্তা জড়িত তাদের নাম প্রকাশ করার জন্য। তখন কাস্টমস থেকে আমাদের বলা হয়েছিল এটা বিচারাধীন।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

‘পাওয়ার আলীর’ বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

গৃহকর্মী থেকে শতকোটি টাকার মালিক

১৯ জানুয়ারি ২০২১

ব্যবসায়ীর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন পাঠশালা অবধি পড়াশোনা করা সৈয়দ মোহাম্মদ আলী। পরবর্তীতে ...

দেশে জনশুমারি অক্টোবরে

১৯ জানুয়ারি ২০২১

আগামী ২৫ থেকে ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত জনশুমারির মূল শুমারি অনুষ্ঠিত হবে। এই এক সপ্তাহে সারা ...

স্বামীর সহযোগিতায় গণধর্ষণ

১৯ জানুয়ারি ২০২১

সরকারি মালামাল ক্রয়ে অনিয়মের কড়া সমালোচনা

১৯ জানুয়ারি ২০২১

সরকারি কাজে মালামাল ক্রয়ে অনিয়মের কড়া সমালোচনা করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ...

ওয়াশিংটনগামী ফ্লাইটে কড়াকড়ি

বাইডেনের শপথ ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা

১৮ জানুয়ারি ২০২১

এমসি’র ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ

অভিযুক্ত ৮ ছাত্রলীগ কর্মীর বিচার শুরু

১৮ জানুয়ারি ২০২১



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status