‘রায়ে জনগণ ও দেশবাসীর বিজয় হয়েছে’

স্টাফ রিপোর্টর

অনলাইন (২ মাস আগে) নভেম্বর ২৩, ২০২০, সোমবার, ৫:৪৪ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

আজকে আদালত একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে আমরা বিচার বিভাগে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। ২০০৮ সালে আমি ছাত্র থাকাকালীন তখনকার অবৈধ সরকার এই মামলা করে।  গত ১৩ বছর ধরে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা এতদিন আমরা বলে আসছি। সেই জায়গায় আমি বলব আজকে জনগণের বিজয় হয়েছে, দেশবাসীর বিজয় হয়েছে।

সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন খালাস পেয়ে এমন মন্তব্য করেন। ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইশরাক হোসেনকে খালাস দিয়ে রায় দিয়েছেন আদালত।

তিনি আরো বলেন, সরকার যে দিকেই বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রকে নিয়ে যাক না কেন, এখনো বিচার বিভাগে, রাষ্ট্রে, সৎ ন্যায়পরায়ণ লোকজন রয়েছেন। আজ যে বিচারক এ রায় দিয়েছেন, আমি মনে করি তিনি সৎ সাহস নিয়েই এ রায় দিয়েছেন।

এদিন সকাল ১০ টার দিকে ইশরাক হোসেন আদালতে উপস্থিত হন। এরপর দুপুর ২ টা ১০ মিনিটে আসামি ইশরাকের উপস্থিতিতে বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। রায় পড়া শেষে বিচারক দুপুর ২ টা ৩৫ মিনিট এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বলা হয়, আসামি ইশরাক হোসেনকে সম্পদের হিসাব জমা দেয়ার নোটিশটি যথাযথভাবে দেয়ার সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ।

দুদক সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতে রিট ও লিভ টু আপিল থাকার কারণে মামলার তদন্ত দীর্ঘদিন আটকে ছিল। আদালতে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর উপপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান। তাঁর সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দেয়।
দুদকের করা এই মামলায় ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে গত ২০ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করেন আদালত। দুদকের পক্ষ থেকে ছয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়। ২০১৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর ইশরাকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর বিএনপির নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই দুজনের বিরুদ্ধে সম্পদবিবরণী নোটিশ জারি করে দুদক। সম্পদের হিসাববিবরণী নির্দিষ্ট সময়ে জমা না দেওয়ায় ২০১০ সালের আগস্টে তাঁদের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন দুদকের ওই সময়ের সহকারী পরিচালক মো. শামছুল আলম। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাদেক হোসেন খোকার স্থাবর-অস্থাবর অনেক সম্পত্তি রয়েছে তাঁর ছেলে ইশরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেকের নামে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা। তাঁদের সম্পত্তির হিসাববিবরণী জমা দেওয়ার জন্য সাত দিন সময় দিয়ে দুদক নোটিশ দিলেও নির্ধারিত সময়ে তাঁরা তা দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্দিষ্ট তারিখে সম্পদের হিসাব জমা না দেওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২)(ক) ধারামতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় মামলা দুটি করা হয়।

২০১১ সালে দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার আগপর্যন্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে একাধিক মামলা করে দুদক। এ ছাড়া অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর খোকার ১৩ বছরের কারাদ- এবং ২ লাখ টাকা জরিমানার রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা দখলেও নেওয়া হয়। দুদকের ওই মামলায় খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও পরবর্তী সময়ে অভিযোগপত্র থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

বাণিজ্যমন্ত্রী-হাইকমিশনার সাক্ষাৎ

বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় পাকিস্তান

২৭ জানুয়ারি ২০২১

সিন্ডিকেট চক্র ডিবির কব্জায়

সরকারি তার-ট্রান্সফর্মার চুরি করে কারখানায় বিক্রি

২৭ জানুয়ারি ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status