বাসে সিরিজ আগুন

উদ্বেগের বৃহস্পতিবার, জনমনে নানা প্রশ্ন

কাজল ঘোষ

মত-মতান্তর ১৩ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

ছবিঃ জীবন আহমেদ
হঠাৎ কি হলো? করোনা নিয়ে শুরুটা ছিল ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ। খালি মৃত্যু। খালি সংক্রমণ। দিনের মধ্যাহ্নে সকলের অপেক্ষা আজকের পরিস্থিতি কি? স্বাস্থ্য বুলেটিন কি বলছে? মৃত্যু কি বেড়েছে? এমন খবরে কাগজের পাতা ভারি থাকত প্রতিদিনই। এ সময় ঘুরেফিরে কিছু শব্দও মাথায় ঢুকেছে। লকডাউন। আইসোলেশন। হোম কোয়ারেন্টিন।
কোভিড ১৯। ফার্স্ট ওয়েব। সেকেন্ড ওয়েব।
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহটা এ পরিস্থিতি থেকে বিশ্ব কিছুটা হলেও মোড় ঘুরেছে। আমেরিকার নির্বাচন বিশ্বজুড়ে কোভিড থেকে কিছুটা হলেও চোখ ফেরাতে পেরেছে। ট্রাম্প আর বাইডেন আলোচনার ঝড় ওঠেছে। চারপাশে অন্তত মৃত্যু আর সংক্রমণের আওয়াজ কিছুটা হলেও কমেছে। এ নিয়ে টানটান উত্তেজনায় নির্ঘূম রাত কাটিয়েছে দুনিয়ার ছয়শো কোটি মানুষ। মাঝখানে প্যারিস কান্ড উত্তাপ ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল বিলম্বের দোলাচলে বেশ কদিন যাবার পর হঠাৎ আবার কি হলো?
সব ছাপিয়ে সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার কেটেছে উদ্বেগে। হঠাৎ এক অজানা আতঙ্ক চেপে বসেছে নগরবাসীর মধ্যে। সকলের প্রশ্ন ঘুরেফিরে কি হলো হঠাৎ? বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই খবর আসতে থাকে বিভিন্নস্থানে বাসে আগুন দেয়ার। একটি দুটি বাসে আগুন লেগেছে বিক্ষিপ্তভাবে তা নয়। রাজধানীর ৯টি স্থানে বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। এবং সকল খবরাখবর যা বলছে, তাতে একটি চক্র কাছাকাছি সময়ে কাজটি করেছে।
পুরো ঘটনাক্রম নিয়ে পুলিশ গৎ বাধা কথাই বলেছে, নাশকতা করেছে দুর্বৃত্তরা। বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্যই এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেভাবে একইরকম কথা আগেও বহুবার শুনেছে মানুষ। কিন্তু সাধারণ মানুষ এ ধরণের কথায় বিশ্বাসী নয় বরাবরের মতোই। দিনের আলোতে এতগুলো বাসে আগুন দেয়া হলো এর নেপথ্যে কি?
নগরজুড়ে অফিস ফেরত মানুষের নানা প্রশ্ন এ ঘটনা নিয়ে। যারা আগুন দিয়েছে, এরা কারা? কিসের আলামত? এখনতো বলতে গেলে রাজনৈতিক কোন সঙ্কট নেই? চলছে করোনার সঙ্কট। চলছে বাজার মূল্যের ঊর্ধগতি। চলছে চাকরিহীনতার সংস্কৃতি। বাড়ছে বেকারত্ব। তাহলে এই আগুন কিসের অশনি সঙ্কেত।
রাজধানীর বহুস্থানে তো সিসিটিভি রয়েছে। তাহলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কি সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখেছে, একসঙ্গে বাসে সিরিজ আগুন দেয়ার পেছনে কারা যুক্ত? কাউকে কি গ্রেপ্তার করা হয়েছে? সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোথায় যাচ্ছে? সবকিছু কেমন যেন ধোঁয়াশা। সহসাই এ সকল প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি? জনমনে নানা প্রশ্ন। সাধারণ মানুষ একটু শান্তি চায়, স্বস্থিতে বাস করতে চায়। আর তা নিশ্চিতের দায়িত্ব তো শেষপর্যন্ত রাষ্ট্রের।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

ভেসেল

২০২০-১১-১৩ ০৪:৫৫:১০

বর্তমানে এই ধরনের নাশকতা চালানোর সক্ষমতা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা অথবা পার্শ্ববর্তী দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়া আর কারও পক্ষে করা সম্ভব নয় । তবে প্রশ্ন হচ্ছে কেন ? উত্তর টা একটু কঠিন । হয়তো পার্শ্ববর্তী দেশ চীনের সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে সরকার কে সতর্ক করছে । অথবা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য একটি অ্যান্টি হাসিনা আবহ তৈরির যে প্রচেষ্টা ভারতে চলছে তার অংশ হিসাবে এই নাশকতা । আর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নাশকতা চালানোর কোন গ্রাউন্ড বাংলাদেশে এখন আর নেই বিধায় সন্দেহের তীর মোটামুটি ভারতের দিকেই তাক করা যায় । হিন্দু নির্যাতনের কিছু ঘটনা হয়তো ঘটানো হবে । যেন মোদি তার সাম্প্রদায়িক বিভেদ পশ্চিমবঙ্গে বজায় রেখে নির্বাচনে জয়ী হতে পারে ।

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

‘মানুষ ফ্রি ইলেকশন চায়’

২৪ জানুয়ারি ২০২১

নেতা আর জনতা

১৯ জানুয়ারি ২০২১

বিপথগামী তরুণ সমাজ

হাতের মুঠোয় গোপনীয়তার ব্রাকেটে বন্দী স্মার্টফোনই?

১৫ জানুয়ারি ২০২১

বাঙালনামা

১৫ জানুয়ারি ২০২১

শ্রদ্ধা নিবেদন

সাংবিধানিক চেতনার বার্তাবাহক: মিজানুর রহমান খান

১৩ জানুয়ারি ২০২১



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status