গণতন্ত্রের দিন ফিরবে কি?

সাজেদুল হক

মত-মতান্তর ৯ নভেম্বর ২০২০, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

গণতন্ত্র মারা যাচ্ছে না, কিন্তু এখন এটি অনিশ্চিত মধ্যবয়সের সংকটে পড়েছে। বছর কয়েক আগে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড রাঞ্চিম্যান ‘কীভাবে গণতন্ত্রের বিনাশ হবে’ নামের বইতে এমনই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন। গত এক যুগ ধরে সারা দুনিয়াতেই গণতন্ত্রের জন্য সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। দেশে দেশে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদদের উত্থান হচ্ছিল। এরই প্রেক্ষিতে ট্রাম্প আমল, সামাজিক মাধ্যমের উত্থান, অর্থনৈতিক সংকট মিলিয়ে পশ্চিমা গণতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেন অধ্যাপক রাঞ্চিম্যান।

নানা গবেষণা, জরিপ হয়েছে। সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন গণতন্ত্র দিনকে দিন ভেঙ্গে পড়ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সদ্য সমাপ্ত মার্কিন নির্বাচন কি গণতন্ত্রের এই নিম্নমুখী যাত্রা থামাতে পারবে। ডনাল্ড ট্রাম্প নানা কথা বলছেন।
এখনো তিনি জো বাইডেনকে শুভেচ্ছা জানাননি। কিন্তু একটি বিষয় খোলাসা হয়ে গেছে, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো এতোটা শক্তিশালী যে ডনাল্ড ট্রাম্পের আসলে সেখানে তেমন একটা কিছু করারও নেই।  মিথ্যা বলছেন এমন নোট দিয়ে টিভি চ্যানেলগুলো যখন প্রেসিডেন্টের ভাষণ সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় তখন বুঝতে হয় গণতন্ত্র আসলে কাজ করছে।

এখন দেখার বিষয় ডনাল্ড ট্রাম্পের এ ভাগ্য বিপর্যয় অন্য পপুলিস্ট রাজনীতিবিদদের ওপর কোনো প্রভাব রাখে কি না। বিশেষত ইউরোপে ট্রাম্পের তরিকায় বিশ্বাসী অনেক রাজনীতিবিদের উত্থান হয়েছে। তাদের ঠেকাতে গিয়ে অনেক উদার রাজনীতিবিদকেও কট্টর কৌশল নিতে হচ্ছে। অভিবাসন বিরোধিতা ও ইসলাম ভীতি চড়াচ্ছেন অনেকেই। যে কারণে ভোটের গণতন্ত্র থাকলেও গণতন্ত্রের দর্শন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ইউরোপের অনেক দেশ। আবার তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে ভোটের গণতন্ত্রও নেই।

বাইডেনের জয় অথবা ট্রাম্পের পরাজয়ে গণতন্ত্রের শরীর ভালো হয়ে ওঠবে তা এখনই অবশ্য বলার জো নেই। তবে বিশ্বব্যাপী কিছু পরিবর্তন যে শুরু হবে তা বলাই যায়। ট্রাম্প যে ক্রমশ বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছিলেন সে নীতি খুব দ্রুতই বদলে যাবে।

গণতন্ত্রের পক্ষে রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিভক্ত সমাজে ঐক্যের কথা বলেছেন জো বাইডেন। আমেরিকায় গণতন্ত্রের এই বিজয় বৈশ্বিক গণতন্ত্রের সূচকে কোন পরিবর্তন আনে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০২০-১১-০৮ ২২:৩৫:২৩

The decision of American people is so appropriate that support they want to live with the world, not isolated. America First slogan of Trump was a Cheating by Trump isolated from world did great harm of America. People realized it.

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

মত মতান্তর

কাশিমপুর থেকে আজিমপুর

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পর্যালোচনা

'বীরত্বসূচক পদক' বাতিল করা যায় না

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পরামর্শক সেবা বা কনসালটেন্সি

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত



হাজী সেলিমপুত্র ইরফানকাণ্ড

আল্লাহর মাইর, দুনিয়ার বাইর

ড্রাইভার মালেকের বালাখানা

দরজা আছে, দরজা নেই

আইন পেশায় বিরল এক মানুষ ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক

অ্যাটর্নি জেনারেল পদে বেতন নেননি, লড়েছেন দু'নেত্রীর মামলা নিয়ে

DMCA.com Protection Status