বাইক্কাবিল ও কিছু কথা...

ক্যাপ্টেন (মার্চেন্ট মেরিন) দেওয়ান জি আহমদ

মত-মতান্তর ২৮ অক্টোবর ২০২০, বুধবার

প্রথমেই মানবজমিনকে ধন্যবাদ জানাই অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদটি ছাপিয়েছেন এই জন্য। দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মানবজমিন সব সময়েই কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করে। বাইক্কা বিল শুধু আমাদের শ্রীমঙ্গল অথবা বৃহত্তর সিলেট নয়, এটি সারা বাংলাদেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ মাছ, দেশীয় ও অতিথী পাখির আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত অভয়াশ্রম। আমেরিকার এ আই ডির অর্থায়নে একশত হেক্টরের এই প্রজেক্টটিতে আমাদের দেশের বিলুপ্তপ্রায় মিঠা পানির মাছের বংশ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অতি সুস্বাদু ‘গনিয়া মাছ’ যা বাংলাদেশ থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল তা এই অভয়ারণ্যের বদৌলতে আমাদের নদী, বিল ও হাওরগুলোতে এখন প্রচুর পাওয়া যাচ্ছে। প্রজেক্টের শুরু থেকেই কিছু অসাধু লোক মাছ, পাখি বেআইনিভাবে মেরে ফেলছে, কেউবা এর জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাইক্কাবিল সুষ্ঠু ভাবে সংরক্ষণের জন্য ‘বড় গাঙ্গিনা পানি ব্যবস্থাপনা সমিতি’ একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় বিভিন্ন পেশার লোক নিয়ে গঠিত হয়। এতে সদস্যদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি পরিচালনা কমিটি নির্বাচন করা হয়।
সভাপতি, সচিব সহ পরিচালনা কমিটি নিঃস্বার্থভাবে অতি পরিশ্রম করে বাইক্কাবিলটি সংরক্ষনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাইক্কাবিলের উত্তর ও পূর্বদিকে খালের মতো স্রোতহীন একটি নদী যা বিলকে সুরক্ষা দিয়ে আছে তা বর্ষায় বাইক্কাবিলের সাথে একাকার হয়ে যায়। এটিই বড় গাঙ্গিনা নামে পরিচিত। এ খালটি এক সময় চিতলমাছের উৎকৃষ্ট প্রজনন ক্ষেত্র ছিল। শত শত বড় বড় চিতলমাছ যখন খেলা করত তা ছিল উপভোগ করার মত এক দৃশ্য। এই গাঙ্গিনার পাড় দিয়েই চলে গেছে একটি রাস্তা যা বরুণা গ্রামের ঘাটের বাজার হয়ে দশ কিলোমিটার দূরে ঢাকা- মৌলভীবাজার মহাসড়কের কালাপুর নামক স্থানে মিলিত হয়েছে। বর্তমানে পুরো রাস্তাটিই পাকা। এতে বাইক্কাবিল দর্শনার্থীদের সংখ্যা অনেকগুণ বেড়ে গেছে। আশেপাশে কোন দোকানাদি না থাকায় বিশেষ করে কোন খাবারের দোকান না থাকায় তা কিছু দুষ্টু লোকের অশুভ নজরে পড়েছে। সে থেকেই আলী ইমাম নামের এক লোক তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে বাইক্কাবিলের অবজারভেশন টাওয়ারে যাওয়ার রাস্তার মুখে ভ্রমণকারীদের সিএনজি বা অন্যকোন মোটরযান পার্ক করার জায়গাটির বেআইনি দখল নেয়ার চেষ্টা। এই স্থানটি হাবিবপুর মৌজায় ১০১ ও ৪৪৫ নম্বর দাগে বাংলাদেশ সরকারের খাস মালিকানাধীন ১নম্বর এস এ খতিয়ানের বড় গাঙ্গিনা নামক খালের ১৩.৫০ একরের অংশ। এর সাথেই লাগোয়া এস এ ও বি এস ১০২ দাগের ২৯ একরের একটি প্লট যা আলী ইমাম স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে খরিদ করে আবার বিভিন্ন লোকদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এ দাগে আলী ইমামের কোন জায়গা অবশিষ্ট নেই। স্থানীয় কিছু দুষ্টু প্রকৃতির লোকদের সহযোগিতায় আলী ইমাম এখানে একটি অস্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করতে চাইলে ‘বড় গাঙ্গিনা পানি ব্যবস্তাপনা সমিতির সভাপতি সহ কমিটির সদস্যরা শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নজরে আনলে তৎক্ষণাৎ তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে শ্রীমঙ্গল এ সি লেন্ড সাহেবকে পদক্ষেপ নিতে বলেন। এ সি লেন্ড সাহেব সরেজমিনে স্থানটি পরিদর্শন করে ই ইমামকে কাঠামো নির্মাণের উদ্দেশ্যে পুঁতে রাখা খুটিগুলো অনতিবিলম্বে উঠিয়ে নিতে বলেন। যদিও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রেখেছে কিন্তু খুঁটিগুলো আলী ইমাম উঠিয়ে নেয়নি ।
আলী ইমাম এ স্থানটি থেকে আরেকটু দক্ষিণে বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন ১ নম্বর খতিয়ানের এস এ ১০৪৯ দাগের ৪ চার একর খাস জমি দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে নিজের নামে করে নিয়েছে। তা জানতে পেরে মৌলভীবাজার জেলার ডি সি সাহেব জেলার সরকারি কৌশলী বিজ্ঞ আইনজীবী এডভোকেট আবুল কালাম জিলা সাহেবকে রেকর্ড সংশোধনের জন্য আলী ইমামের বিরুদ্ধে লেন্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করার অনুমতি দেন। সে মতে আলী ইমামের বিরুদ্ধে লেন্ড সার্ভে মামলা নং ৩২৫/২০১৬ রুজু হয়। আলী ইমাম মামলার প্রতি তোয়াক্কা না করে এ বছর ঐ খাস ভূমিতে পুকুর খনন করে। এখানে বড় গাঙ্গিনা পানি ব্যবস্থাপনা সমিতি কতৃক রোপনকৃত অসংখ্য ১২/১৪ বছর বয়সী হিজল গাছ কেটে ফেলে। এতে বাইক্কাবিলের সৌন্দর্য অনেকটা খর্ব হয়ে গিয়েছে। এটি আলী ইমামের একটি ফৌজদারি অপরাধ। শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাননীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তাৎক্ষণি ভাবে আলী ইমামের এহেন দস্যুতার বিরুদ্ধে নালিশ করা হলেও দুঃখজনক ভাবে ইউ এন ও সাহেব কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। এ ছাড়া আমি নিজেও মাননীয় জেলা প্রশাসক বরাবর ২০/২/২০২০ ইং তারিখে আলী ইমাম কতৃক সরকারি অতি গুরুত্বপূর্ণ খাস জমির রকম (প্রোফাইল) নষ্ট করে পুকুর খননের বিরুদ্ধে নালিশ করেছিলাম। দুঃখজনক ভাবে করোনা সমস্যা দেখা দিলে আর অগ্রসর হওয়া যায়নি । আলী ইমাম মূল্যবান শত শত গাছ কেটে ও খাস জমির রকম পরিবর্তন করে পুকুর খনন করে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। তাকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া দরকার। ইতি মধ্যে আলী ইমাম যাতে এই জায়গায় না যেতে পারে তার উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারি কৌশলী টি এস ৬২/২০২০ রুজু করলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা দেওয়ানি কোর্ট তার উপর কেন নিষেধাজ্ঞা জারি হবে না মর্মে আলী ইমামের উপর কারন দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন । আলী ইমাম ও তার স্থানীয় সাঙ্গপাঙ্গদের এখনই দমন না করলে আমাদের দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ এ অভয়ারণ্যের সমূহ ক্ষতি করে ফেলবে । এটা জনসাধারণের দাবি ।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আলী হোসেন

২০২০-১১-০১ ২২:৩৭:৩৩

ধন্যবাদের মতামতে ও ধন্যবাদ না দিতে পেরে আমি অধন্য রয়ে গেলাম ক্যাপ্টেন সাহেব। আপনার দেয়া অসম্পূর্ণ তথ্যের সম্পূর্ণতা দিয়ে কর্তৃপক্ষের সঠিক দৃষ্টিআকর্ষণ করছি বাইক্কা বিলের স্থায়ী অভায়শ্রম ঘোষণা হয় চাপড়া,মাগুরা,যদুরিয়া নিয়ে যার কো-ম্যানেজমেন্টে করছে স্থানীয় মোড়ল সংগঠন বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠন,যাকে আপনি পানি সংগঠন নামে উল্লেখ করেছেন, এবং উল্লিখিত সংগঠনের নামানুসারে যে বড় গাঙ্গিনা খালকে নদী বানিয়েছেন সেটা আদৌ সরকার ঘোষিত স্থায়ী অভয়াশ্রম নয় যার প্রমান সঠিকভাবে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। এবং এটা সরকার থেকে ভাসালীজ নেয়া ও সরকারি নিয়ম মেনে মৎস্য আহরনের একটি খালমাত্র যেখানে ৬/৭ বছর আগে সংগঠনের লোকজন মাছ আহরণ করতো কিন্তু দুঃখের বিষয় সংগঠনের "ম" ও"ল" আদ্যাক্ষরের দুই চাচাতো ভাই মিলে উক্ত খালে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে অধিক মাছ প্রাপ্তির লক্ষে সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে মাছ ধরেন যাহা তাৎক্ষণিক প্রজেক্ট নিয়োজিত মাজহারুল ইসলাম জাহাঙ্গীর সাহেবের নজরে আসে এবং তখন থেকেই উক্ত খালের মৎস আহরণ বন্ধ করা হয় কিন্তু এটা স্পষ্ট নয় যে উক্ত খালটি আজ অবধি সংগঠনের হাতে রয়েছে কি না আপনি সহ সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে চাপড়া,মাগুরা,যদুরিয়া স্থায়ী অভয়াশ্রমের মূল অংশ হলেও প্রতি বৎসর যদুরিয়া বিলকে লীজ দিতেন তথাকথিত সংগঠনের কতিপয় লোকজন, যেখানে গত বৎসর অর্থাৎ ৮/১১/২০১৯ তারিখে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরাবরে উক্ত সংগঠনের ইজার উদ্দিন ও শিপন মিয়া লিখিত অভিযোগ প্রদানের মাধ্যমে লীজ গ্রহীতা হাসিম মিয়ার যদুরিয়ায় নেট দিয়ে অবৈধ মাছ ধরার সমূহ উপকরণ শ্রীমঙ্গল থানার তৎকালীন এস আই সুমন বাবু ও সঙ্গীয় ফোর্স ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে জব্দ করে প্রকৃত অভিভাবক ও সফল সংগঠকের পরিচয় দিলেও কৌতহলি দেখা মিলেনি উক্ত সংগঠনের সভাপতি সম্পাদক সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে বসা লোকের, যাহা তৎকালীন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মহোদয়গনের অবগত আছে। বাইক্কা বিলে দর্শনার্থীদের আগমন হাইল হাওর পাশের জনসাধারণের জন্য হীতকর,যেমন আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়া, নেপাল, মালদ্বীপের সিংহভাগ রাজস্ব পর্যটক কেন্দ্রিক। এখানে পর্যটক আগমন অত্র এলাকার মৎসজীবি সম্প্রদায়ের জন্য আশির্বাদ স্বরূপ। স্বাধীনতার পর জনসংখ্যার বৃদ্ধি হলেও ভূমি বাড়েনি ইঞ্চি পরিমাণও, সেহেতু হাইল হাওরে কয়েকগুন বর্ধিত জনসংখ্যার মৎস্য আহরণ হাওরের জন্য হুমকি স্বরূপ : সুতরাং পর্যটন কেন্দ্রিক আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের উন্নয়নের অংশীদার বটে। আপনার উল্লিখিত এস এ ও বি এস ১০২ দাগের ২৯ একরের প্লট টি আলী ইমাম বিক্রি করার পর যদি পর্যটকদের সুবিধার্থে টি স্টল নির্মানের চেস্টা করেন তাহলে ক্রেতাগন বাধা দেবেন অবশ্যই। স্থানীয় লোকদের জীবনমানের উন্নয়ন ও টেকসই জলাভূমি ব্যবস্থাপনার জন্যই অভায়শ্রম প্রতিষ্ঠা -সেখানে দুষ্টুমির কোন সুযোগ নেই। এসিলেন্ড সাহেবের নির্দেশ মতো পর্যটন বান্ধব টি স্টলের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে ও শুকনো মৌসুমে সরকারি জরিপ কারক দ্বারা বিষয়টির সুন্দর সমাধানে আলী ইমাম ও স্থানীয় লোকজন অর্থাৎ পরিবেশ সুন্দর রেখে টি স্টল পরিচালনাকারী(সংগঠনের লোক) আশাবাদী, সুতরাং এহেন তথ্যহীন মতামত প্রদানে বিরত থাকার অনুরোধ করছি, বাইক্কা বিলের সৌন্দর্য্য রক্ষায় স্থানীয় লোকজন সদা তৎপর না হলে আজকে কেহই এই আলোচনা করতে পারতো না। ১০২ দাগ হইতে ১ মাইল দক্ষিণের ১০৪৯ দাগ নিয়ে এডভোকেট আবুল কালাম জিলার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মামলা ৩২৫/২০১৬ চলমান থাকা সত্বেও পুনরায় একটি নিষেধাজ্ঞা মামলা টি/এস ৬২/২০২০ রুজু করলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা দেওয়ানী কোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারী না করে আইনানুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ জারী করেন -এতে হা হুতাশের কোন অবকাশ নেই কারণ বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ তদন্ত পূর্বক রায় দিবেন। উল্লেখ্য ঃ সাঙ্গপাঙ্গ হিসাবে বারবার যাদেরকে উল্লেখ করে যাচ্ছেন তাহা অত্যান্ত নিন্দনীয়, কারন আপনার এই এলাকা সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা নেই যার দরুন কোন ব্যক্তির দেয়া তথ্যমতে আপনি এসব লিখতেছেন যেমনঃ সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠন কে বলছেন পানি ব্যবস্থাপনা সংগঠন, ইউ এস আই ডি কে বলছেন এ আই ডি তদ্রূপ ভাল লোকজন কে ও না জেনে দুষ্টু বলা সঠিক নয়। ধন্যবাদ।

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

অধরা সুখ

২ ডিসেম্বর ২০২০

বাংলাদেশে টিকা আসবে কবে?

১ ডিসেম্বর ২০২০

ম্যারাডোনা ও বাংলাদেশ

২৬ নভেম্বর ২০২০

এমন মৃত্যু মানা যায় না

১৬ নভেম্বর ২০২০



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status