‘হাজী’ পরিবারের বিস্ময়কর উত্থান

মোহাম্মদ ওমর ফারুক

প্রথম পাতা ২৯ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:০৪

পিতার দুই সংসারের দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান তিনি। অভাব-অনটনে বেড়ে ওঠা। অর্থভাবে লেখাপড়া করতে পারেননি। কিশোর বয়সেই নামতে হয় উপার্জনে। পুরান ঢাকার বাদামতলী ঘাট। যেখানে আসতো সিমেন্ট বোঝাই জাহাজ। হাজারো শ্রমিকের ভিড়ে নেমে পড়লেন তিনিও। এক সময় শুরু করেন সিমেন্টের বস্তার ব্যবসা।
সময়ের ব্যবধানে তিনি এখন একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের কর্ণধার। তিনি হচ্ছেন ঢাকা-৭ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম। তার বাবা চান মিয়া ছিলেন মুদি দোকানি। পুরান ঢাকার চকবাজারের দেবীদাস ঘাট লেনে ছোট্ট একটি মুদি দোকান দিয়ে চলতো তাদের সংসার। অভাবের সংসারে ছেলেমেয়েদের তেমন পড়াশুনা করাতে পারেননি তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা থেকে জানা যায়, নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন হাজী সেলিম। চকবাজার ও বাদামতলী এলাকার পুরনো বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাজী সেলিমের শুরুটা ছিল অভাব-অনটনের। তবে শুরু থেকেই নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা গুণ ছিল তার। বছর ত্রিশেক আগে বাদামতলী ঘাটের প্রভাবশালী রতন মহাজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এরপরই বাদামতলী ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নেন হাজী সেলিম। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। অন্যায় আর অনিয়মের পথ ধরেই তার উত্থান।

১৯৯৪ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হন হাজী সেলিম। একই সঙ্গে অবিভক্ত ঢাকা সিটির ৬৫ ও ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার (কাউন্সিলর) নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে একটি ওয়ার্ড ছেড়ে দিলে তার স্ত্রী গুলশান আরা সেলিম ঢাকা সিটি করপোরেশনে সরাসরি ভোটে সর্বপ্রথম মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার হাজী সেলিম জাতীয় নির্বাচনে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিজ দল বিএনপি তাকে মনোনয়ন না দেয়ায়, দল ছেড়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয় এবং তিনি এমপি নির্বাচিত হন। কাউন্সিলর থেকে এমপি হওয়ার পরই আরো বেশি আধিপত্য বাড়তে থাকে পুরান ঢাকায়। যদিও ওয়ার্ড কমিশনার থাকার সময়  থেকেই রাজধানীর লালবাগ, চকবাজারসহ পুরান ঢাকা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন হাজী সেলিম। এদিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ঢাকায় আওয়ামী লীগের অন্যতম  প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকেন তিনি। পুরান ঢাকার রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার শুরু হয়। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ দখলসহ নানা অভিযোগ উঠতে থাকে এ  নেতার বিরুদ্ধে।  কিন্তু ২০০১ সালে নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর কাছে হেরে যান আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী। পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের বাইরে চলে যান তিনি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন হাজী সেলিম সব সময়ই ছিলেন সুবিধাবাদী। তিনি রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা ব্যবহার করে আধিপত্য বিস্তার করেন। বিএনপি  ও  তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে প্রায় ১২০টি মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। খুন, খুনের চেষ্টা, নির্যাতন, চুরি এবং দুর্নীতি ও অবৈধ আয়ের কারণে এসব মামলা করা হয়। নিজের বিভিন্ন অপরাধে সবসময় সহায়তা পেয়েছেন সহধর্মিণী গুলশান আরার। ২০০৮ সালের এপ্রিলে ২৭ কোটি টাকা জ্ঞাতবহির্ভূত সম্পদ অর্জনের জন্য ১৩ বছরের জেল হয় সেলিমের। আর সেই সম্পদ নিজের কাছে রাখার জন্য তিন বছরের জেল হয় তার স্ত্রী গুলশান আরার। ফলে ২০০৮ সালে হাজী সেলিম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।  ফলে সেই সময়ে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলেও মামলার কারণে নির্বাচন কমিশন তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে। ২০০৮ সালের ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। এসময়  মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সঙ্গে নানা বিষয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন হাজী সেলিম।  পরে নিজের অবস্থান জানান দিতেই ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু এবারও দলের সিদ্ধান্ত যায় মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের পক্ষে। কিন্তু দলের নির্দেশ না মেনে  বিদ্রোহী  প্রার্থী হন হাজী সেলিম। মহিউদ্দিনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন তিনি, যা বিএনপিবিহীন ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিব্রত করে।  শুধু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সেই সময়ে ‘স্বতন্ত্র এমপি জোট’ নামে একটি স্বতন্ত্র এমপিদের দিয়ে তিনি একটি জোটও গঠন করেন। এরপর তিনি হারান ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদটি। পরে ২০১৮ সালে আবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান এই সংসদ সদস্য। পরে  ঢাকা-৭ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীকে হারান তিনি। সর্বশেষ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিম পুত্র ইরফান সেলিমকে ‘ওয়ার্ড কাউন্সিলর’ পদে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।  সেখানেও ছেলেকে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ বানিয়ে নির্বাচন করিয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিজে এমপি হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে এবং  ভোটারদের ভয়ভীতি  দেখিয়ে  ছেলেকে বিজয়ী করেছেন হাজী সেলিম।

দখল করে বানিয়েছেন সাম্রাজ্য: স্থানীয়দের অভিযোগ, হাজী সেলিম কমিশনার থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ঘাট ও বাজার ইজারায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলেও জমি দখল শুরু করেন মূলত সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই। তার আসনের আওতাধীন  প্রতিটি ওয়ার্ডেই তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। সোয়ারিঘাট, চকবাজার এলাকার  প্রতিটি মার্কেট থেকে মাসোহারা আদায়ে রয়েছে হাজী সেলিমের পৃথক কয়েকটি গ্রুপ। ট্রাকে ও লরিতে পণ্য আনা-নেয়ার  ক্ষেত্রেও  দৈনিক ভিত্তিতে টাকা গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের। পুরান ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, ১৯৯৬ সালের পর লালবাগ ও চকবাজার এলাকার মধ্যে যেখানেই খালি জমি পেয়েছেন, সেখানেই হাত পড়েছে হাজী সেলিমের। এ নিয়ে মুখ খুলতেও সাহস পায়নি কেউ। অন্যের বাড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, নদী দখলসহ প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয় দখল করতেও ছাড়েন না তিনি। পুরান ঢাকার সদরঘাট, লালবাগসহ সরজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, পুরো এলাকা জিম্মি ওই এমপি’র কাছে। কেউ কথা বলে না তার ভয়ে। দু’একজন তাদের পরিচয় জানালেও অধিকাংশ ভুক্তভোগীই তাদের নাম  গোপন রাখছেন। অভিযোগ রয়েছে, চকবাজারের ছোটকাটারায় বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে হাজী সেলিমের ‘চান সরদার কোল্ড স্টোরেজ’। তবে বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেছেন কোল্ড স্টোরেজের জায়গাটি একাধিক মালিকের কাছ থেকে জোর করে দখল করে নিয়েছেন হাজী সেলিম।

ওই জমির মধ্যে সাত কাঠা জমির মালিক বলে দাবি করেন পুরান ঢাকার হাজী বদিউজ্জামান নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, জমির সকল প্রকার কাগজপত্র আমাদের নামে। এর পরও জায়গাটি জোর করে দখল করে নিয়েছেন হাজী সেলিম। বিভিন্ন সময় আমরা জমিটি উদ্ধারের চেষ্টা করলেও হুমকি-ধমকির কারণে শেষ পর্যন্ত পারিনি। স্থানীয় বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, পুরান ঢাকার জামিল স্টোরের পাঁচ কাঠা জমি, মদিনা আশিক টাওয়ার ও জাপান ইলেক্ট্রনিক্সের জায়গা দখল করেছেন হাজী সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, বুড়িগঙ্গার তীরে পাটুয়াটুলী-ওয়াইজঘাট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিব্বত হল তার দখলে। এখানে হলটির আশেপাশে আরো কয়েকজনের জমি দখলে নিয়েছেন তিনি। সেখানে গড়ে তুলেছেন গুলশানারা সিটি। অভিযোগ রয়েছে, নবাব পরিবারের কিছু সম্পত্তিও এখানে রয়েছে। যেখানে তিনি অর্ধেক টাকা দিয়েছেন আরো অর্ধেক টাকা এখনো দেননি। নবাব পরিবারের একজন সদস্য নামপ্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের জায়গাটি সাড়ে চার কোটি টাকা হাজী সেলিমের কাছে বিক্রি করি। কিন্তু হাজী সেলিম আমাদের দুই কোটি টাকা দিলেও তিনি আর আমাদের কোনো টাকা দেননি। তার বিরুদ্ধে শতাধিক বাড়ি মার্কেট দখল করার অভিযোগ রয়েছে।

নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি বেড়েছে শতগুণ: ২০১৪ সালের নির্বাচনী হলফ নামার তথ্য অনুযায়ী পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০১৮ সালে নির্বাচনী হলফনামায় হাজী মো. সেলিমের স্ত্রীর হাতে নগদ টাকা বেড়েছে ২০৪ গুণ। তখন তিনি দেখিয়েছেন তার স্ত্রীর হাতে নগদ ২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ৫৭০ টাকা রয়েছে। ২০১৩ সালে তার কাছে নগদ টাকা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু তার নিজের হাতে নগদ টাকার পরিমাণ কম দেখিয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী, অস্থাবর সম্পদের মধ্যে হাজী সেলিমের হাতে নগদ রয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫৮ টাকা। ২০১৩ সালে এই আসনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া হলফনামায় তার হাতে নগদ ছিল ৫ লাখ ২০ হাজার ৩১৬ টাকা। এই হিসেবে হাজী সেলিমের চেয়ে তার স্ত্রীর কাছে প্রায় ৭০ গুণ বেশি নগদ টাকা রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হাজী সেলিমের নামে জমা আছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৫ হাজার ১০৫ টাকা। আগে ছিল ৩৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪০৮ টাকা। এই খাতে এখন তার স্ত্রীর নামে জমা আছে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার ৮৫ টাকা। আগে তার নামে ছিল ১ কোটি ৬৪ হাজার ১৫ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার বাবদ হাজী সেলিমের নামে জমা আছে ৪৬ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে আছে ১৬ কোটি ৫৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আগে এই খাতে হাজী সেলিমের নামে ছিল ২৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে ছিল ১১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ২০১৩ সালে হাজী সেলিমের বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ছিল ৫০ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর নামে ছিল ১০ লাখ টাকা।

এবার স্ত্রীর নামে আগের পরিমাণ টাকা জমা আছে। কিন্তু হাজী সেলিমের সঞ্চয় নেই। হাজী সেলিম তখন হলফনামায় দেখিয়েছেন, তার আয়ের বড় উৎস ব্যবসা। তিনি মদিনা গ্রুপ, মদিনা সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মদিনা পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ব্যবসা বাবদ তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৪ টাকা। আগের বছরের তুলনায় তার বার্ষিক আয় ৪৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮৮ টাকা কম। এছাড়া বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান ও অন্যান্য ভাড়া বাবদ এবার বার্ষিক আয় ৬৬ লাখ ৯৭ হাজার ১০৫ টাকা। আগে ছিল ৫২ লাখ ৪১ হাজার ৪৮৮ টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, এই রাজনীতিবিদের নেই নিজস্ব কোনো জমি (কৃষি ও অকৃষি জমি) এবং বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট। হলফনামা অনুযায়ী তার রয়েছে দালান, যার আর্থিক মূল্য ১৮ কোটি ৪৭ লাখ ৯ হাজার ৬২৮ টাকা। একাদশের নির্বাচনী হলফনামায় এমন চিত্রের দেখা মিলেছে। হলফনামায় কৃষি জমির পরিমাণ ও অকৃষি জমির পরিমাণের ঘরে লেখা রয়েছে ‘প্রযোজ্য নহে’। একই সঙ্গে বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট সংখ্যার ঘরেও লেখা রয়েছে ‘প্রযোজ্য নহে’। তার স্ত্রীর কৃষি জমির পরিমাণ, অকৃষি জমির পরিমাণ এবং বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যার ঘরটি ফাঁকা। যদিও তার ঘনিষ্ঠরা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক বাড়ি রয়েছে হাজী সেলিমের।

এসব ব্যাপারে জানতে হাজী সেলিম এমপি’র সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) বেলাল হোসেন বলেন, এমপি মহোদয় বাসায় আছেন। টেলিফোনে কথা বলতে পারবেন না।

ওদিকে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় হাজী সেলিম পুত্র ইরফান সেলিমকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল আদালতে তার সাত দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়ার তার বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় পৃথক চারটি মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব। এসব মামলার তদন্তভার আজকালের মধ্যেই ডিবিতে স্থানান্তর করা হতে পারে বলে তদন্ত সূত্র জানিয়েছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

২০২০-১০-৩০ ০৮:৪৬:০৪

এসব দখলদারিত্ব এখন অন্য কোন নেতায় করবে ৷ এসব হাত বদলে জনগনের লাভ নাই ৷

Kazi

২০২০-১০-২৯ ১৫:০৬:৫৩

হাজি সেলিম পরিবারের উত্থান নয় পতন হয়েছে। পাপের ধনে লালিত সন্তানের চরিত্রে আছড় পড়েছে, অন্য ভাইদের বঞ্চিত করতে বাপের কাছ থেকে সব সম্পত্তি নিজ নামে লিখিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ পতনের লক্ষণ ।

Md. Harun al-Rashid

২০২০-১০-২৯ ১৫:৪৯:০৭

অসৎ পথে ও সন্ত্রাসি কায়দায় অর্জিত সম্পদ,যশ, প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা যতই বিস্ময়কর হোক তা মূল বিচারে ভয়ংকর।

ziaur Rahman

২০২০-১০-২৮ ২২:৪৫:১১

ওরা হাজি নামটা ব্যবহার না করা ভালো। হাজি অর্থ পবিত্র। এরা করে সন্ত্রাসী মানুষ খুন করে দুনিয়া অপকর্ম করে চাঁদাবাজ করে। মদ খায় আর নামের আগে লাগায় হাজি।

Abu Saimon

২০২০-১০-২৮ ২১:১১:২৭

এসব দখলদারিত্ব এখন অন্য কোন নেতায় করবে ৷ এসব হাত বদলে জনগনের লাভ নাই ৷

Liton

২০২০-১০-২৮ ২০:৩৯:৪১

মিটফোড এর ৫৩নং নলগোলা বিসিক মার্কেটের মসজিদের সামনে বিশাল যায়গা হাজী সেলিমের দখলে। যা একসময় নাসির উদ্দীন পিন্টু দখল করে অনেক দোকান ঘর বানিয়ে ছিলো। কমপক্ষে ৫০টি দোকান হবে। শত কোটি টাকার যায়গা।

আবুল কাসেম

২০২০-১০-২৮ ২০:২৫:২৪

আজ হাজী সেলিমনামা প্রকাশিত হয়েছে । দু'এক দিন বা দু'এক বছর ধরে নয় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তার উত্থানের সময় । এটা তো একেবারে অল্প সময় নয়। অনেক লম্বা সময় । সমাজেই শুধু নয় রাষ্ট্রের ভেতর তার প্রতিষ্ঠা পাওয়ার একটা লম্বা ইতিহাস । সেই রাষ্ট্র আবার যেনো তেনো রাষ্ট্র নয় । সাগরসম রক্তঢালা পিচ্ছিল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই রাষ্ট্রের ভিত্তি রচিত হয়েছে। এমন রাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের উত্থান ! আইন সভার সদস্য ! মুক্তি সংগ্রামের নৈতিক প্রতিজ্ঞা ভুলুন্ঠিত হয়েছে । দুর্বৃত্তায়ন মুক্তি সংগ্রামের ওয়াদা ছিলোনা । উচ্চ নৈতিকতার জায়গা থেকে রাষ্ট্রের বিচ্যুতি ঘটলে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের , দুর্ভাবনার ও অশনিসংকেতের ব্যাপার । রাষ্ট্রের সামনে দিয়েই হাজীদের উত্থান । দীর্ঘ ৩০ বছর ব্যাপী রাতারাতি নয় বরং ধীরে ধীরে এরা রাষ্ট্র , রাষ্ট্রের প্রশাসন , প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের এবং রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিবিদদের সামনে দিয়েই দখলদার হয়েছে । আমাদের দায়িত্বের অবহেলার দায় আমরা কার ওপর চাপাবো ? হাজীদের ওপর ? সবাই এখন হাজীনামা নিয়েই ঘাটাঘাটি করতে ব্যতিব্যস্ত । অন্তরালে কাদের সাঁয় ছিলো কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ছিলো কিনা সেটা হয়তো কোনো দিন কেনো আলোচনায় আসবেনা । থেকে যাবে দৃষ্টির আড়ালে । যদি এমনই চলতে থাকে তাহলে হাজীদের বা সেলিমদের অবৈধ পন্থায় উত্থান থামানো সম্ভব হবেনা। নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিজ্ঞা উচ্চ নৈতিকতার ব্যত্যয় কোথাও দেখলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে । আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল অবশ্যই থাকতে হবে যারা মানুষকে কল্যানের দিকে আহ্বান জানাবে, সত্য ও ন্যায় কাজের আদেশ দেবে আর অসত্য ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে । এরাই সফলতা লাভ করেছে ।" সূরা আলে ইমরান। আয়াত-১০৪। যারা মুসলমান সমাজ সংশোধনে তাদের দায়িত্ব সর্বাধিক । তারা নিজেরা যেমন নেক কাজ করবে তেমনি অন্যদেরকেও ভালো কাজ করতে আহ্বান জানাবে । জাতি হিসেবেও মুসলমানরা শ্রেষ্ঠ জাতি । মহান আল্লাহ বলেন , "তোমরাই দুনিয়ার সর্বোত্তম জাতি । মানবজাতির কল্যানের জন্যই তোমাদের উপস্থিত করা হয়েছে । তোমরা দুনিয়ার মানুষদের সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অন্যায় ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে। আর আল্লাহর ওপর পুরোপুরি ঈমান আনবে।" সূরা আলে ইমরান । আয়াত-১১০ কুরআন মজিদ একটি অতি উচ্চমানের অতি উন্নত নৈতিকতার গ্রন্থ । বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মূল কথার ভান্ডার। ইতিহাসের শিক্ষনীয় বিষয়য়বলি ও সতর্কতামূলক আলোচনার সম্ভার । অর্থনীতি ও রাজনীতির ব্যপক দিকনির্দেশনা এবং উচ্চমানের যুক্তিপূর্ণ উপদেশাবলির এক অপূর্ব আবেগ মেশানো অভিনব কিতাব মহাগ্রন্থ আল কুরআন । আলোচনার প্রতিটি বাঁকে বাঁকে ঘুরে ফিরে মানুষের কল্যান আর শেষ পরিনতিতে শাস্তির ও মুক্তির কথাই আলোচিত হয়েছে । মানুষের কল্যানের জন্যই এ মহা গ্রন্থের সকল উপদেশ এবং আদেশ ও নিষেধ আলোচনা করা হয়েছে । তাই কুরআনের বিষয়নস্তু মানুষ । কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে সেই কুরআনের শিক্ষা থেকে আমরা যোজন যোজন দূরত্বে অবস্থান করছি। আর সে জন্যই কখনো আমরা হাজী সেলিম বা কখনো কোনো অন্য নামে ন্যায় নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে হলেও বিত্ত বৈভবের অধিকারী হতে উদগ্রীব হয়ে পড়ি। আবার কখনো তাদের কাজের সহযোগী হয়ে লাভের ভাগিদার হবার চেষ্টা করি । এভাবেই নৈতিক অবক্ষয়ের সূচনা থেকে চূড়ান্ত ধ্বংসের পরিনতির দিকে আমাদের অজান্তেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি । দখলবাজি , চাঁদাবাজি , জুলুম , নির্যাতন এমনকি স্বার্থ সিদ্ধির মোহে খুন খারাবি করতেও দ্বিধা নেই । আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা উচ্চ নৈতিকতার উপদেশ দিয়েছেন এভাবে , "তোমরা একে অপরের অর্থ সম্পদ অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক আত্মসাত করো না । জেনে বুঝে অন্যের সম্পদ ভোগ দখল করার জন্য তার একাংশ বিচারকদের ঘুষ দিওনা ।" সূরা আল বাক্কারা। আয়াত-১৮৮ । "যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের মাল সম্পদ ভক্ষণ করে তারা যেনো আগুন দিয়েই তাদের পেট ভরাতে থাকে । অচিরেই এ লোক গুলো জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে থাকবে।" সূরা আন নিসা। আয়াত-১০। ঈমানদার মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তায়ালার উচ্চ নৈতিকতা সমৃদ্ধ হেদায়েত মূলক আদেশ এবং উপদেশ হচ্ছে, "হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা একজন আরেক জনের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। এবং কখনো একে অপরকে স্বার্থের বশবর্তী হয়ে হত্যা করো না। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি মেহেরবান। যে কেউ বাড়াবাড়ি ও জুলুম করতে গিয়ে এই হত্যার কাজ করে অচিরেই আমি তাকে আগুনে পুড়িয়ে জ্বালিয়ে দেবো। আল্লাহর পক্ষে এ কাজ একেবারেই সহজ। যদি তোমরা সে সমস্ত বড়ো বড়ো গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো যা থেকে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে তাহলে আমি তোমাদের ছোটোখাটো গুনাহ তোমাদের থেকে মুছে দেবো এবং অত্যন্ত সম্মানজনক স্থানে আমি তোমাদের প্রবেশ করাবো।" সূরা আন নিসা। আয়াত-২৯-৩১। কুরআনে বর্ণিত এসকল উচ্চ মানের নৈতিকতার শিক্ষা ব্যতিত একটি সমাজ অপরাধ, পাপ ও দুর্নীতি মুক্ত হতে পারে না। ইসলামী ব্যবস্থাপনায় কুরআনের পরেই হাদিসের স্থান । হাদিস কুরআনের ব্যাখ্যা। তাই কুরআনের মতোই হাদিসের বিষয়বস্তু। সমাজের এবং মানুষের অনিষ্ট সাধনের চিন্তায় যারা আসক্ত হয়ে পড়েছে তাদের সম্পর্কিত কয়েকটি হাদিস এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "প্রকৃত মুমিন সে ব্যক্তি যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।" সহীহ আল বুখারী-৬৪৮৪। "একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট, সে তার মুসলিম ভাইকে হেয় মনে করে। এক মুসলিমের রক্ত , সম্পদ, মান সম্মান অন্য মুসলিমের জন্য হারাম।" মুসলিম শরিফ-৬৪৩৫। "যে ব্যক্তি জমির সীমানা পাল্টাতে চেষ্টা করে তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ।" মুসনাদে আহমদ-৯৯৩। "যে ব্যক্তি কারো এক বিঘত জমি অন্যায় ভাবে দখল করে নেবে, কেয়ামতের দিন সাত তবক জমিন তার গলায় লটকিয়ে দেয়া হবে।" বুখারী, মুসলিম। করোনা ভাইরাস আমাদের পাপের ফসল। গুনাহের বোঝা অনেক বেশি ভারি হয়ে পড়েছে। সুতরাং সময় থাকতে আল্লাহর পথে ফিরে না আসলে চূড়ান্ত ফায়সালা হবে ধ্বংসের লীলাখেলা। আল্লাহর আহ্বান, "হে মানুষ সে দিনটি আসার আগেই তোমরা তোমাদের রব'র ডাকে সাড়া দাও। আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে যে দিনটির প্রতিরোধকারী কেউই নেই। সেদিন তোমাদের জন্য কোনো আশ্রয়স্থলও থাকবেনা। আর সেদিন তোমাদের পক্ষে অপরাধ অস্বীকার করাও সম্ভব হবে না।" সূরা আশ শূরা। আয়াত-৪৭।

জিলানী

২০২০-১০-২৮ ১৪:৪০:০১

ঘুরে থাকান পিছনে... আমরা চেয়েছিলাম ২২ পরিবার কে পরাজিত করে সাধারণ মানুষের বাংলা গড়তে...! কতদুর মা.. আর কতদুর...?

Nam Bhule Gechhi

২০২০-১০-২৯ ০১:১৭:৫৪

"বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে প্রায় ১২০টি মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে।" - However, AL government withdrew all those cases citing "politically motivated" cases and made him their MP. So, which party is more corrupt?

shishir

২০২০-১০-২৯ ০০:২৩:৩২

eisob likhe lav ki?

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বললো, একেবারে অনুমাননির্ভর

চীনা বিজ্ঞানীদের দাবি করোনা ছড়িয়েছে ভারত, বাংলাদেশ বা অন্য দেশ থেকে

২৯ নভেম্বর ২০২০

পরমাণু বিজ্ঞানী হত্যা

ইসরাইলকে দায়ী করেছে ইরান

২৯ নভেম্বর ২০২০

আরো ৩৬ জনের মৃত্যু

২৯ নভেম্বর ২০২০

দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ...

ভাস্কর্য নিয়ে অনাহূত বিতর্কের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে

২৯ নভেম্বর ২০২০

যারা ভাস্কর্য নিয়ে অনাহূত বিতর্ক সৃষ্টি করছে তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে মন্তব্য করেছেন ...

নিভে গেল আলো

২৮ নভেম্বর ২০২০

শেষবার একটু দেখা

২৮ নভেম্বর ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status