বিদেশে নাগরিকদের সতর্ক করে বিশেষ বার্তা ফ্রান্সের

আব্দুল মোমিত (রোমেল), ফ্রান্স থেকে

অনলাইন ২৮ অক্টোবর ২০২০, বুধবার, ৯:৫৬ | সর্বশেষ আপডেট: ৭:০২

সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ফ্রান্স। মঙ্গলবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ইরাক ও মৌরিতানিয়ায় বাস করা ফরাসি নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের মহানবীর (সা.) কার্টুনের বিরুদ্ধে যেকোনো বিক্ষোভ এবং সব ধরনের জমায়েত এড়িয়ে চলার নির্দেশও দিয়েছে দেশটি।

নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বিশেষত ভ্রমণের সময় এবং পর্যটক বা প্রবাসী সম্প্রদায়ের চলাচল বেশি এমন জায়গাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা মেনে চলতে বলা হল। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে চলছে ফ্রান্স ও ম্যাক্রোঁবিরোধী ব্যাপক প্রচারণা। ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাক রীতিমতো ভাইরাল। অনেক দেশেই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। মুখ খুলেছেন মুসলিম দেশের নেতারাও।


এর আগে গত বুধবার খুন হওয়া ফরাসি শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ম্যাক্রোঁ, ইসলাম ধর্ম ও বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন বন্ধ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এরপরই ফ্রান্সের মুসলিমরা ম্যাঁক্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, তাদের ধর্মকে দমন করা ও ইসলামফোবিয়াকে বৈধতা দিতে চেষ্টা করছেন তিনি।

ম্যাঁক্রোর এমন বিতর্কিত মন্তব্যের পরই তুরস্ক এবং পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা দরকার।

আরব বিশ্বও ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের ডাক দেয়। আর প্যারিস থেকে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। এদিকে গত রোববার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিস্যেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ফরাসি প্রেসিডেন্টকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। ইরাকে রাবা আল্লাহ নামে একটি দল এক বিবৃতিতে বলেছে, ফ্রান্সের কর্মকাণ্ডে বিশ্বের দেড়শ’ কোটি মুসলিম অপমানিত হয়েছে। দলটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের সদস্যরা প্রয়োজনে যেকোনও সময় যেকোনও জায়গায় প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে, গত শুক্রবার ফ্রান্সের কয়েকটি সরকারি ভবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আর চলতি মাসের শুরুর দিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ ইসলামকে সংকটাপন্ন ধর্ম বলে বর্ণনা করেছিলেন।

দেশটির এমন আচরণে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে মুসলিমদের মধ্যে। কুয়েত, কাতার, মিশর, আলজেরিয়া, জর্ডান, সৌদি আরব, তুরস্ক তো বটেই, ম্যাক্রোঁর সমালোচনা করেছে ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্যও।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২০-১০-২৭ ২৩:৪৯:৫০

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন আল্লাহকে ভয় পেলেননা। ভয় পেলেন মুসলমানদের। সতর্ক করলেন নিজের নাগরিকদের। কিন্তু তার ভয় করা উচিত ছিলো সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালাকে। যিনি আসমান ও জমিনের সার্বভৌমত্বের মালিক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আসমানসমূহ ও জমিনের সার্বভৌমত্ব এককভাবে আল্লাহ তায়ালার জন্য, আল্লাহ তায়ালাই সবকিছুর উপর একক ক্ষমতাবান। নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি এবং দিন-রাতের আবর্তনের মধ্যে জ্ঞানবান লোকদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। এই জ্ঞানবান লোক হচ্ছে তারা যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে এবং আসমানসমূহ ও জমিনের এই সৃষ্টি নৈপুণ্য সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে, আর স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বলে ওঠে, হে আমাদের 'রব' এই সৃষ্টি জগতের কোনো কিছুই তুমি অযথা অহেতুক সৃষ্টি করোনি, তোমার সত্তা অনেক পবিত্র, সুতরাং তুমি আমাদের জাহান্নামের কঠোর আজাব থেকে নিষ্কৃতি দাও।" সূরা আলে ইমরান, আয়াতঃ১৮৯-১৯১। সৃষ্টিকুলের মধ্যে আল্লাহর অগণিত নিদর্শন দেখার পরেও যদি আল্লাহকে কেউ চিনতে ব্যর্থ হয় তাহলে বুঝতে হবে সে বধির, অন্ধ এবং তার অন্তর মরা ভুমির মতো। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তাদের যখন বলা হয় আল্লাহ তায়ালা যা কিছু নাজিল করেছেন তা মেনে চলো তারা বলে আমরা তো শুধু সে পথেরই অনুসরণ করবো যে পথের উপর আমরা আমাদের বাপদাদাদের পেয়েছি। তাদের বাপদাদারা যদি কোনো জ্ঞান বুদ্ধির পরিচয় নাও দিয়ে থাকে কিংবা তারা যদি হেদায়েত নাও পেয়ে থাকে তবুও ? এভাবে যারা হেদায়েত অস্বীকার করে তাদের উদাহরণ হচ্ছে, এমন জন্তুর মতো, তার পালের আরেকটি জন্তু যখন ডাক দেয় তখন সে তার চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই শুনতে পায়না। মূলত এরা কানেও শোনেনা, কথাও বলতে পারেনা, চোখেও দেখেনা, হেদায়েতের কথাও বুঝেনা।" সূরা আল বাক্কারা। আায়াতঃ১৭০-১৭১। কুরআনের শুরুতেই আল্লাহ তায়ালা বলেন, "(কুফরির কারণে) আল্লাহ তায়ালা তাদের অন্তরের ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন, তাদের শ্রবণশক্তিকে বধির করে দিয়েছেন এবং তাদের দৃশ্যর ওপর পর্দা ফেলে দিয়েছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে পীড়াদায়ক আজাব।" সূরা আল বাক্কারা। আয়াত -৭। ম্যাক্রনের উচিত ছিলো তওবা করা। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। যার পরিনামফল আল্লাহ নিজেই বলে দিয়েছেন এভাবে, "যারা মুমিন নারী পুরুষের ওপর নিপীড়ন ও নির্যাতন করেছে এরপর তারা কখনো তওবা করেনি, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের পীড়াদায়ক কঠোর আজাব এবং তাদেরকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেয়া হবে।" সূরা আল বুরুজ। আয়াত-১০ আজকের পৃথিবীতে এমন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যা দেখে মনে হচ্ছে, এই সময়টা বর্তমান দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কার জীবন। একদিকে মক্কা নগরীর সীমা ছাড়িয়ে ইসলামের দাওয়াতের আওয়াজ ক্রমাগত বহির্বিশ্বের দিকে পৌঁছাতেছিলো অন্যদিকে ঈমানদারদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তার সাথে পাল্লা দিয়ে জুলুম নির্যাতনের মাত্রাও দিনকেদিন বেড়ে যেতে থাকে। আজ ইউরোপ ও আমেরিকায় ক্রমাগত বাড়ছে মুসলমানের সংখ্যা। আর মুসলিম বিদ্বেষীদের অন্তরজ্বলা তাদের মনে উন্মাদনার আগুন জ্বালাচ্ছে। ফলে তারা মুসলিম নিধনে, মুসলিমদের ঘরবাড়ি ছাড়া করতে এবং তাদের নারীদের ধর্ষণ করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে। চীন থেকে ইসরাইল, ইউরোপ থেকে আফ্রিকা সবখানে একই দৃশ্য। এর ভেতর একজন ওমরের প্রতিচ্ছবি একজন এরদোয়ান ব্যঘ্র হুংকার দিয়ে যাচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ মুসলমানদের বিজয় বেশি দূরে নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা হতোদ্যম হয়োনা, চিন্তিত হয়োনা, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।" সূরা আলে ইমরান। আয়াত-১৩৯। মুসলমানদের পর্বত সমান ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখাতে হবে। বিধর্মীদের কোনো প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে পাতা ফাঁদে পা দেয়া যাবেনা। এবং সত্যের ওপর অটল থাকতে হবে। আল্লাহ বলেন, "হে মুমিনরা, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের কাজে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করো, শত্রুর মোকাবিলায় সুদৃঢ় থাকো, একমাত্র আল্লাহকেই ভয় করো, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হতে পারবে।" সূরা আলে ইমরান। আয়াত-২০০। ইমানুয়েল ম্যাক্রন তাঁর নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। এতে তিনি যদি বুঝাতে চান মুসলমানরা তাদেরকে চোরাগোপ্তা আক্রমণ করবে। তাহলে তিনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। মুসলমানরা এমন কাপুরষ নয়। তাদের ঐতিহ্যের সাথেও এটা যায়না। তবে মুসলমানদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তকমা দেয়ার জন্য তারাই আত্মঘাতী কাজ করে থাকতে পারে। তাই মুসলমানদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং কিছুতেই আইনের বিরুদ্ধে কোনো রকম কিছু করা যাবে না। আইন সম্মতভাবে পণ্য বর্জন এবং কুটনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষা করে সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা করা যেতে পারে। মুসলিম দেশগুলোর সরকার এসব বিবেচনা করতে পারেন। আল্লাহর আজাবের ভয় করা আমাদের কর্তব্য।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



স্বাধীন নাগরিক নাও থাকতে পারেন ট্রাম্প

যেসব কারণে ট্রাম্পের বিচার করতে সকলের হাত-পা বাঁধা

DMCA.com Protection Status