চার থানায় প্রাইভেট বাহিনী

আল-আমিন

প্রথম পাতা ২৮ অক্টোবর ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৩১

পুরান ঢাকায় নিজেকে মুকুটহীন সম্রাট ভাবতেন ইরফান। তার বেপরোয়া জীবনের সঙ্গী ছিল ৪ থানায় অন্তত ৪০ জনের নিজস্ব বাহিনী। খোরপোষ দিয়ে ওই প্রাইভেট বাহিনী লালন করতেন। প্রত্যেক থানায় একজন করে ওই প্রাইভেট বাহিনীর নিয়ন্ত্রক ছিল। যাদের হাতে ছিল ওয়াকিটকি। সে ওয়াকিটকি দিয়ে পুরো পুরান ঢাকার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন ইরফান। এই প্রাইভেট বাহিনীর অত্যাচারে গোটা এলাকার ছিল মানুষ অতিষ্ঠ।
কিন্তু, এমপি’র পুত্র বলে কথা। কেউ মুখ খুলে কথা বলতে পারতো না।
চকবাজার, লালবাগ, সূত্রাপুর, ও কোতোয়ালিতে ছিল এ বাহিনীর বিচরণ ক্ষেত্র। দিন-রাত এ বাহিনীর সদস্যরা গোটা পুরান ঢাকা চষে বেড়াতো।  ইরফানের দখল সাম্রাজ্য রক্ষা করা, সদর ঘাটের কুলির চক্র নিয়ন্ত্রণ করা, বেসরকরি প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করা ছিল বাহিনীর অন্যতম কাজ। দিন শেষ তারা সবাই জড়ো হতো ইরফানের আসর ঘর মদিনা আশিক টাওয়ারে। এ সময় তিনি প্রাইভেট বাহিনীর সদস্যদের কাছে দিনের কাজের খতিয়ানের হিসাব নিতেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার গতকাল মানবজমিনকে জানান, সমাজে যে যতই প্রভাবশালী হোক আইন সবার জন্য সমান। অপকর্ম করে কেউ পার পাবে না। যদি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এছাড়াও গতকাল র‌্যাব’র এক ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানান, ‘ইরফানের মামলার তদন্তের দায়িত্বভার যদি তাদের (র‌্যাব) দেয়া হয় তাহলে তারা তা তদন্ত করবে। তবে ইরফানের অপকর্মের তথ্যানুসন্ধানের জন্য র‌্যাব’র গোয়েন্দারা কাজ করছেন। ইরফানের গ্যাং চক্রকে ধরার জন্য তারা বিভিন্নস্থানে অভিযান চালাচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকার প্রায় ১০০ টি অবৈধ জুতা এবং বিভিন্ন পণ্যের অবৈধ কারখানা স্থাপন এবং সেগুলোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতো এ প্রাইভেট বাহিনী। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালালে সেই কারখানা তারা পুনরায় স্থাপন করতো। অবৈধ কারখানার মালিককে আবার নতুন করে অবৈধ কারখানা স্থাপনে সুযোগ করে দিত।
সূত্র জানায়, ইরফানের বাসা থেকে যে ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে সেই ওয়াকিটকি কেন মোবাইলের যুগে ব্যবহার করা হতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন প্রশ্নের উত্তরে ইরফান জানিয়েছেন যে,  তিনি যখন কথা বলেন তখন তার মোবাইল ট্র্যাকিং করা হয় বলে সন্দেহ মনে করতেন। তাই তার সব কর্মকাণ্ডকে গোপন করার জন্য তিনি সেই ওয়াকিটকি ব্যবহার করতেন। আর তার বাসা থেকে যে হাড় উদ্ধার করা হয়েছে তা তিনি টর্চারের সময় ধরে আনা ব্যক্তিকে ওই হাড় দিয়ে ভয় দেখাতেন। তাকেও এই হাড়-হাড্ডিতে পরিণত করার হুমকি দিতেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কোতোয়ালি এলাকায় তার প্রাইভেট বাহিনীর প্রধান ছিল সাব্বির। তার অধীনে সুমন, আজিজ ও রহিম ছাড়াও ১০ জনের একটি দল  ছিল। সূত্রাপুর এলাকায় আবিরের নেতৃত্বে ছিল প্রাইভেট বাহিনী। তার অধীনে ছিল শফিক, শহীদ ও বারীসহ ১০ জন। তারা এলাকায় বাইক পার্টি বলে পরিচিত।
এছাড়াও চকবাজারে মামুন স্টালিনের অধীনে ছিল আরেকটি প্রাইভেট বাহিনী। যার অধীনে ছিল নেওয়াজ, সাজু ও শাহ করিমসহ অন্যরা। এবং লালবাগ এলাকায় কানা দ্বীপ প্রাইভেট বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতো। দ্বীপের অধীনে ছিল মইনুল, মিজানসহ ১০ জন। সূত্র জানায়, দিনের চেয়ে তারা রাতে ওই এলাকা চষে বেড়াতো।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

শহিদুল

২০২০-১০-২৮ ১৬:৫২:০৮

আইন বাহিনি জনগনকে গান্ডু ভাবে নাকি?

T. U. Khan

২০২০-১০-২৮ ০৩:৩১:৩৭

" সমাজে যে যতই প্রভাবশালী হোক আইন সবার জন্য সমান। অপকর্ম করে কেউ পার পাবে না। যদি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে"। This is the political statement.

kaiuam

২০২০-১০-২৮ ১৩:১৪:১০

এতোদিন চলল কীভাবে? নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তার সাথে লেগেছে বলে এখন বড়ো গলায় বলা হচ্ছে কেউ পার পাবে না। কি চমৎকার কৌশল!

Md. Harun al-Rashid

২০২০-১০-২৮ ১১:১৪:৩২

এইসব কুকর্ম স্হানীয় থানা পুলিশের নজরে না থেকে পারে না। হয়তো রাঘব বোয়াল ভেবে না দেখার ভান করতো নয়তো রাজনৈতিক আনুকূল্যের আশায় আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে উৎসাহ দিতো। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা যাদের দায়িত্ব তারা অন্ধ হলে এমন ভয়ংকর ইরফান তৈরী হতেই থাকবে।

Mohammad Ali Jinnah

২০২০-১০-২৮ ০৯:৪১:২১

সাংবাদিক সাহেবরা এখন এত তথ্য জানেন, এত দিন তারা কি করেছেন !!! পুলিশ আর সাংবাদিক একই জিনিস ।

milon

২০২০-১০-২৮ ০৯:২২:১০

drama এতোদিন চলল কীভাবে? নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তার সাথে লেগেছে বলে এখন বড়ো গলায় বলা হচ্ছে কেউ পার পাবে না। কি চমৎকার কৌশল!

এ কে এম মহীউদ্দীন

২০২০-১০-২৮ ০৮:৩৮:৩২

এতোদিন চলল কীভাবে? নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তার সাথে লেগেছে বলে এখন বড়ো গলায় বলা হচ্ছে কেউ পার পাবে না। কি চমৎকার কৌশল!

Kazi

২০২০-১০-২৭ ১৯:২৯:২৫

Parallel government. In 4 upozilla.

Md. Emdadul Haque Ba

২০২০-১০-২৮ ০৫:০৪:১৩

আল্লাহপাকের মাইর দুনিয়ার বাইর=এতদিন কিভাবে ওরা এই জুলুম আত্যাচার চালিয়ে টিকেছিল ? আমাদের সুযোগ্য আইন শৃংখলা বাহিনী কি তা জানতে পারেনি কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে ? This is the rules of the Almighty Alllahpak. Thanks to Lt. Wasif Khan and RAB

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

পর্যবেক্ষণ

রোহিঙ্গা ইস্যু: আঞ্চলিক পরাশক্তির খেলা

৩০ নভেম্বর ২০২০

সুজনের গোলটেবিল বৈঠক

বিবেক হারিয়েছে নির্বাচন কমিশন

৩০ নভেম্বর ২০২০

এমপি ছাড়া এক জনপদ

৩০ নভেম্বর ২০২০

সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

৩০ নভেম্বর ২০২০

করোনায় মৃত্যু ৬৬০০ ছাড়ালো

৩০ নভেম্বর ২০২০

দেশে করোনায় মৃত্যু ৬ হাজার ৬০০ ছাড়ালো। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরো ২৯ ...

চীন বলেছে ফেক নিউজ

৩০ নভেম্বর ২০২০

করোনাভাইরাসের উৎপত্তির জন্য কয়েকজন চীনা বিজ্ঞানীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ, ভারতসহ আরো কয়েকটি দেশকে দায়ী করার ...

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বললো, একেবারে অনুমাননির্ভর

চীনা বিজ্ঞানীদের দাবি করোনা ছড়িয়েছে ভারত, বাংলাদেশ বা অন্য দেশ থেকে

২৯ নভেম্বর ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status