হাজী সেলিমপুত্র ইরফানকাণ্ড

আল্লাহর মাইর, দুনিয়ার বাইর

শামীমুল হক

মত-মতান্তর ২৭ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৪

এমনটা হওয়ার কথাই ছিল। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই। ভাবনারও কিছু নেই। কথায় বলে, আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর। পাপের বোঝা যখন ভারি হয় তখন নেমে আসে গজব। সে গজবে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। হাজী সেলিমপুত্র কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের বেলায়ও এমনটা ঘটেছে। এটাই নিয়তি।
আর তার এ পরিণতি দেখে আমজনতা মহাখুশি।

দু’দিন ধরে দেশের সর্বত্র একই আলোচনা। ইরফান সেলিম ইস্যু। নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ তো উসিলা মাত্র। এ ঘটনা তরজমা করলে কি দেখা যায়? ইরফান সেলিমের গাড়ি লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফের মোটর সাইকেলকে ধাক্কা দেয়। নিজে অপরাধ করে। এর জন্য ইরফান সরি বলার কথা। তা না করে গাড়ি থেকে নেমে শুরু করলেন মারধর। নিজে তো মেরেছেন-ই সাথে বডিগার্ডও। নিজের পরিচয় দিয়েও রক্ষা পাননি ওয়াসিফ।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ রক্তাক্ত। অঝোর ধারায় কাঁদছেন। বলছেন, আমি নিজেকে রক্ষার কিছু কৌশল জানি। তাই বেঁচে গেছি। না হয় ওরা আমাকে মেরে ফেলত। আমার স্ত্রীর গায়েও হাত দিয়েছে ওরা। তার এ কান্না শুধু যে তার, তা নয়। এ কান্না বাংলাদেশের। ওয়াসিফ নিজেও কেঁদেছেন। গোটা দেশকে কাঁদিয়েছেন।

হাজী সেলিম পুত্র ইরফান সেদিন সংসদ সদস্য স্টিকার লাগানো গাড়ি নিয়ে বের হন। এ গাড়িই মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। একজন সংসদ সদস্যের গাড়ি কি অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারেন? না, পারেন না। তাহলে এখানে প্রমাণিত সংসদ সদস্যের গাড়ি নিয়ে সেখানে সব আকাম করতেন কাউন্সিলর ইরফান সেলিম। তাদের অত্যাচার, জুলুমের খবর এখন মানুষের মুখে মুখে। লালবাগে মানুষ জোরে শ্বাস নিতে পারতো না। দখল বাণিজ্যে কত মানুষ যে নিঃস্ব হয়েছে এর ইয়াত্তা নেই। হাজারো মানুষের হৃদয় ভেঙ্গেছে হাজী পরিবার। তাদের অব্যক্ত কান্না কেউ শুনেনি। কিন্তু উপর ওয়ালা একজন আছেন। তিনি ঠিকই শুনেছেন।

ইসলামপুরের এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, ইসলামপুরে যখন মানুষের জায়গা দখল করে গুলশান আরা সিটি বানায় তখন সেখানকার মালিকদের জোর করে উচ্ছেদ করে। তাদের কান্নায় তখন আকাশ কেঁপে উঠেছিল। কিন্তু ইরফানদের মন ভেজাতে পারেনি। জমি হারা পরিবারগুলোর চোখ দিয়ে পানি নয়, রক্ত ঝরেছিল সেদিন। কেউ এগিয়ে আসেনি তাদের পক্ষে।

ইরফানের আলাদা জগতের হদিস পেয়েছে র‍্যাব। ইরফান আন্ডারগ্রাউন্ডে কি করতেন জাতির সামনেও এখন পরিষ্কার। এই টর্চাল সেলে কত মানুষের রক্তের দাগ লেগে আছে ইরফানই জানে। কত মানুষের হাহাকার, আর্তনাদ চার দেয়ালে আবদ্ধ হয়ে আছে কে জানে? একজন লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ না হয়ে অন্য কেউ হলে হয়তো সেদিনই তার জীবনের শেষ দিন হতো। ইরফান নামক যমের হাতে প্রাণ দিতে হতো। এরপর এমনটা করতে পারায় উল্লাস করতো। পার্টি হতো। আর এ পার্টির আড়ালে চাপা পড়তো সব।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মাহবুবুর রহমান শিশির

২০২০-১০-৩১ ০১:১১:৫০

সিনহা খুন হলে টনক নড়ে। ওয়াসিফ আক্রান্ত হলে টনক নড়ে। অ্যাদ্দিন তো আমজনতার উপর দিয়েই যাচ্ছিল। যাক, তাও ভালো যে টনকবাবু নড়েছেন! এখন শেষ দেখবার অপেক্ষায়...

আজাদ

২০২০-১০-৩০ ০৬:০০:৫৩

হাজী সেলিম এবং ইরফানের মত চোর,ডাকাত,খুনি নারায়ণগঞ্জ সহ সারা দেশেই আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেন নিচ্ছে না ।

Mahfuzur Rahman

২০২০-১০-২৭ ১১:৪৭:৪৯

ছেলের জন্যে সেলিম হাজিও সমভাবেই দায়ী । এদের ফাঁসি হওয়া উচিত।

Akm Mahinul Haque

২০২০-১০-২৭ ২১:৪৫:৪২

The title 'Haji' means one who has fulfilled the obligation of performing Hajj - one of the five pillars in Islamic faith. if someone possesses this title, how can he commits so many crimes holding this noble title? Not only him - his "Black sheep" son also keeps committing many despicable crimes possessing his proud father's identity. So instead of calling 'Haji' Selim, let's call him 'Criminal' Selim or 'Zalem Selim or 'Janwar' Selim.

Mamyn

২০২০-১০-২৭ ০৮:৪১:১৪

এখন কাদবে কেন? নির্বাচনে ভাল দালালি করেছে, তখন মনে ছিল না এ রকম হবে?

Md Hasan Mamun

২০২০-১০-২৭ ১৮:৪৯:২০

Please Don't worry, don't be upset. Nothing will be happen to Mr. Irfan. He will take rest & get relaxed for a few days in VIP room Of BSMMU (PG) Hospital or BIRDEM Hosipital. This is the existing culture of our SONAR BANGLA. Example: Mr. Samrat. Mr. Amin Huda. Mr. Hall Mark, Mr. DESTINI & many others.

Md. Anower Hossain

২০২০-১০-২৭ ১৮:০৮:৫৩

জাতি কবে পরিত্রাণ পাবে ? হে আল্লাহ তোমার রহমতের অপেক্ষায় সারা দেশবাসী

fastboy

২০২০-১০-২৭ ১৮:০৮:৪৩

এমন ঘটনা সারা দেশে হচ্ছে কিন্তু সব মিডিয়া আসে না কেউ বলতে পারেনা, অত্যাচার ও জুলুমবাজদের শেষ পরিণতি এমনটাই হয় ।দেশের আনাচে কানাচে এসব এখন নিত্যনৈমিত্যিক ঘটনা। সেনা অফিসাররা আক্রান্ত হলেই ব্যবস্থা আর সাধারণ মানুষ হলে এসব অমানুষিক নির্যাতন জায়েজ হয়ে যায়।যত গর্জে, তত বর্ষে না, কথাই তো বলে। আজকের সময়টা ইরফানের জন্য যদিও একটু যন্ত্রণাদায়ক, ওটা ক্রমেই ঠিক হয়ে যাবে। অলরেডি, কোয়ারাইন্টেন এ পর্দার আড়ালে ? ইরফানের ড্রাইভার রিমান্ডে অথচ যার কাছে অস্ত্র, মদ, ইয়াবা পাওয়া গেছে, যে অরিজিন ক্রিমিনাল তাকে কোয়ারাইন্টিনে পাঠানো হয়েছে ? হয়তো এখন অপেক্ষা করছে কেবিনের জন্য ? বাংলার সম্রাট, সে একবছর কেবিনে ? অপরাধীকে ধরা হয় অপরাধের জন্য এবং সাজা হয় বা কষ্ট দেওয়া হয় অপরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কিন্তু এ দেশে তার ব্যতিক্রম।

Md. Anower Hossain

২০২০-১০-২৭ ১৮:০৭:২২

জাতি কবে পরিত্রাণ পাবে ? হে আল্লাহ তোমার রহমতের অপেক্ষায় সারা দেশবাসী

Khokon

২০২০-১০-২৭ ০৪:২৭:০০

যত গর্জে, তত বর্ষে না, কথাই তো বলে। আজকের সময়টা ইরফানের জন্য যদিও একটু যন্ত্রণাদায়ক, ওটা ক্রমেই ঠিক হয়ে যাবে। অলরেডি, কোয়ারাইন্টেন এ পর্দার আড়ালে ? ইরফানের ড্রাইভার রিমান্ডে অথচ যার কাছে অস্ত্র, মদ, ইয়াবা পাওয়া গেছে, যে অরিজিন ক্রিমিনাল তাকে কোয়ারাইন্টিনে পাঠানো হয়েছে ? হয়তো এখন অপেক্ষা করছে কেবিনের জন্য ? বাংলার সম্রাট, সে একবছর কেবিনে ? অপরাধীকে ধরা হয় অপরাধের জন্য এবং সাজা হয় বা কষ্ট দেওয়া হয় অপরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কিন্তু এ দেশে তার ব্যতিক্রম। Corona virus চলাকালীন আর ক'জন সাধারণ ক্রিমিনালকে কোয়ারাইন্টিনে পাঠানো হয়েছে, একসেপ্ট ইরফান ? আজ সমাজে একজন নিম্ন শ্রেণীর পদমর্যাদা সম্পন্ন লোক উচ্চ ক্লাসের অফিসারকে হত্যা করে, সাধারণ পাবলিক অথবা দলীয় কর্মীরা সমাজের শাসকদের গায়ে হাত তোলে, যা বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে ? এদেশে বিচার নেই, বলেই তো একজন জাতির পিতাকে নির্মম ভাবে জীবন দিতে হয়েছিলো !! আজ ক্ষমতা একক ভাবে দখল করা হচ্ছে ? বাপ, ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী, গোষ্ঠীকে দেওয়া হচ্ছে ! আজ যদি দলীয় সাপোর্ট তুলে নেওয়া হয়, এই সন্ত্রাস বাহিনী ( সেলিম,তার শিশু পুত্র) থেকে, দেখা যাবে কতটি ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ায় তারা ? আজকে টাকার জোরে পাপুল এমপি হয়, স্ত্রী সিলেকশনে, সেলিম আবার হাজী সেলিম হয়, তার নাবালক শিশু পুত্র সন্ত্রাসী কমিশনার হয়, অবাক পৃথিবী !! ইতিহাস কাউকে ছার দেয়নি দেবেও না। আজ গুটি কয়েক সন্ত্রাসীর হাতে ২০ কোটি মানুষ বন্দী ! সরকার কিন্তু এদের বাদ দিয়েও দেশ চালাতে পারেন কিন্তু তা না, এক শ্রেণীর লোক কালো টাকার জন্য ওদের সেবা ছাড়ছে না ? আজ যদি ইরফানকে ঠিকই চার্জ করা হয়, তাহলে আসল রূপ কথা বেড়িয়ে আসবে ।

মোতাহার

২০২০-১০-২৭ ১৭:২৩:৫২

They plan, Allah also plan, Allah is the best planner. এর চেয়েও অনেক বড় জালিম এখন বাংলাদেশে আছে, সেতো তাদের কাছে চুনোপুটির চেয়েও ছোট। আর মিডিয়াও আজ সেই জালিমদের সহায়।

ABDULLAH

২০২০-১০-২৭ ১৭:০১:১২

PLS, PLS ,PLS, OH ALLAH SAVE US SAVE COUNTRY,

Deluar Choudhury

২০২০-১০-২৭ ১৬:৫৭:২১

এক্ষুনি দুর্নীতির আশ্রয়দাতা এম পি হাজী সেলিমকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।

Yousuf Ali

২০২০-১০-২৭ ১৫:৩৪:৩৩

Why press did not public in the past? why all the institutions are sleeping and wake up upon incident only???

আবুল কাসেম

২০২০-১০-২৭ ০২:২৭:০৩

'আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর'। 'আল্লাহর ধরা শেষ ধরা'। 'ধর্মের কল বাতাসে নড়ে'। ইত্যাদি, বহু অভিধায় অভিহিত করা যায় আমাদের কর্মকাণ্ডকে। কেউ ভালো ভালো কাজে অভ্যস্ত। আবার কেউ মন্দ কাজে আসক্ত। তবে নাস্তিকরা মানুক আর না মানুক সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা সত্য , তাঁর সৃষ্টি সত্য, মহাজাগতিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য ও ক্ষমতা সত্য। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই, তিনি একক, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন এবং স্বাশত-চিরঞ্জীব এক অবিনশ্বর সত্তা। সকল প্রকার উত্তম নাম ও গুণাবলির অধিকারী তিনি। তিনি ন্যায় বিচারক ও ইনসাফের উপর তাঁর ফায়সালা প্রতিষ্ঠিত। তিনি কারো প্রতি জুলুম করেননা। জুলুম করা তিনি নিজের জন্য হারাম করে দিয়েছেন এবং তাঁর বান্দাদেরকেও পরষ্পরের প্রতি জুলুম না করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। মানুষের মধ্যে কেউ তাঁর কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে এবং তাঁর আদেশ নিষেধ হুবহু পালন করতে সচেষ্ট হয়। আবার কেউ কেউ তাঁর কথা বিশ্বাস করলেও আবার শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে বিপদগামী হয়ে যায়। আর একদল মানুষ আছে আল্লাহ ও আল্লাহর কথা কিছুই বিশ্বাস করে না। পরকালের শাস্তি ও পুরষ্কার কিছুই এরা বিশ্বাস করে না। এরা নিরেট নাস্তিক। আল্লাহ ন্যায় বিচারক এবং বান্দার প্রতি মেহেরবান। যারা ইবলিসের প্ররোচনায় বিপদগামী হয়ে পাপ পঙ্কিলতা ও অন্যায় জুলুম অত্যাচারে মত্ত হয়ে পড়ে তখন আল্লাহ তায়ালা সাথে সাথে শাস্তি না দিয়ে তাঁর নিয়মানুসারে তাদেরকে সংশোধনের সুযোগ বা অবকাশ দিয়ে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আল্লাহ তায়ালা মানুষদের নাফরমানির জন্য যদি সাথে সাথেই তাদেরকে পাকড়াও করতেন তাহলে এ জমিনে বিচরণশীল কোনো প্রাণীকেই তিনি ছেড়ে দিতেননা। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এক বিশেষ সময় সীমা পর্যন্ত তাদের অবকাশ দেন। অতপর সেসময় তাদের সামনে এসে যখন হাজির হয় তখন তারা মুহূর্তকালও বিলম্ব করতে পারে না। তাকে তারা একটুখানি এগিয়েও আনতে পারে না।" সূরা আন নাহল। আয়াত -৬১। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে যে ঢিলা অবকাশ দেয়া হয় তারা যখন সে সুযোগের অপব্যবহার করে তখন তাদের উপর সেসুযোগ বুমেরাং হয়ে পড়ে। "কাফেররা যেনো এটা কখনো মনে না করে, আমি তাদেরকে যে ঢিল দিয়ে রেখেছি এটা তাদের জন্য কল্যানকর হবে, আসলে আমি তো তাদের অবকাশ দিচ্ছি যেনো তারা তাদের গুনাহের বোঝা আরো বাড়িয়ে নিতে পারে। আর তাদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাকারী পীড়াদায়ক আজাব।" সূরা আলে ইমরান। আয়াত-১৭৮। আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীল। তাই তিনি মানুষের মতো তাড়াহুড়ো করেননা। ভেবে দেখো, আল্লাহ তায়ালা যদি মানুষের জন্য তাদের অন্যায় কাজকর্মের শাস্তি দিতে গিয়ে অকল্যানকে তরান্বিত করতেন, মানুষ যেভাবে নিজেদের কল্যান তরান্বিত করতে চায়, তাহলে তাদের অবকাশ দেয়ার এ সুযোগ কবেই শেষ হয়ে যেতো। (কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাদের ঢিল দিয়ে রেখেছেন।) অতপর যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা করে না, আমি তাদের নাফরমানির জন্য তাদেরকে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতে দেই। মানুষকে যখন কোনো দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে বসে,শুয়ে, দাঁড়িয়ে সর্বাবস্থায় আমাকে ডাকে, অতপর আমি যখন তার দুঃখ- কষ্ট তার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাই তখন সে এমনই বেপরোয়া হয়ে চলতে শুরু করে, তাকে যে এক সময় দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করেছিলো, তা দূর করার জন্য মনে হয় সে আমাকে কখনো ডাকেইনি। এভাবে যারা বার বার সীমালঙ্গন করে তাদের কাজকর্ম শোভনীয় করে দেয়া হয়েছে। তোমাদের আগে অনেক কয়টি জনগোষ্ঠীকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি যখন তারা জুলুম করেছিলো, তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের রাসুলগণ এসেছিলো। কিন্তু তারা ঈমান আনলোনা। এভাবেই ধ্বংসের মাধ্যমে আমি নাফরমান জাতিকে তাদের জুলুমের প্রতিফল দিয়ে থাকি।" সূরা ইউনুস। আয়াত-১১-১৩। আল্লাহর উপদেশ অমান্য করে যারা গুনাহের কাজ করে তাদের ধ্বংস অনিবার্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আমি যখন কোনো জনপদকে ধ্বংস করতে চাই, তখন সেখানকার বিত্তশালী লোকদের আদেশ করি ভালো কাজের, কিন্তু সেখানে তারা গুনাহের কাজ করতে শুরু করে, অতপর সেখানে আমার আজাবের ফায়সালা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। পরিশেষে আমি তা সম্পূর্ণভাবে বিনাশ করে দেই। নুহের পর আমি কতো মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি। তোমার রব তার বান্দাদের গুনাহের খবর রাখতে ও তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য একাই যথেষ্ট। কোনো ব্যক্তি দুনিয়ার সুখ সম্ভোগ দ্রুত পেতে চাইলে আমি তাকে এখানে তার জন্য যতোটুকু দিতে চাই তা সত্তর দিয়ে দেই। পরিশেষে তার জন্য জাহান্নামই নির্ধারণ করে রাখি। যেখানে সে প্রবেশ করবে একান্ত নিন্দিত, অপমানিত ও বিতাড়িত অবস্থায়।" সূরা বনী ইসরাইল। আয়াত-১৬-১৮। আখেরাতে পীড়াদায়ক শাস্তির আগে দুনিয়াতেই আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সতর্ক করার জন্য বিপদ আপদ দিয়ে থাকেন। যাতে মানুষ ভালো জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পায় এবং শেষ পরিনামে জান্নাতের অধিকারী হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, "জাহান্নামের বড়ো আজাবের আগে আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়ার ছোটো খাটো আজাবও আস্বাদন করাবো, হয়তোবা এতে করে তারা আমার দিকে ফিরে আসবে।" সূরা আস সাজদা। আয়াত-২১। এসকল বিপদ আপদের পর মানুষের উচিত সংশোধন হয়ে যাওয়া। ভালো পথে ফিরে আসা। আল্লাহর দেয়া অবকাশকালীন সুযোগের সদ্ব্যাবহার করে সুপথগামী হলে এমনিতেই তিনি অনেক গুনাহ মাফ করে দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, "হে মানুষ , যে বিপদ আপদই তোমাদের উপর আসুকনা কেনো তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই। তা সত্বেও আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অনেক গুনাহ এমনিতেই মাফ করে দেন।" সূরা আশ শূরা। আয়াত-৩০। প্রকৃতপক্ষে প্রতিনিয়ত, প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে যতো গুনাহ আমরা করে থাকি, তা জেনে বুঝে অথবা মনের অজান্তেই হোকনা কেনো আল্লাহ তায়ালা যদি সাথে সাথে পাকড়াও করতেন তাহলে আমাদের ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে যেতো বহু আগেই। সুতরাং আল্লাহর নাফরমানী পথ পরিহার করে আল্লাহর আনুগত্যের পথে ফিরে আসার মধ্যেই আমাদের ইহকালের শান্তি ও পরকালের মুক্তি নিহিত। আল্লাহর মাইর আমাদের কারো কপালে না আসুক।

Mokbul

২০২০-১০-২৭ ০১:৪৩:৫২

জাতি কবে পরিত্রাণ পাবে ? হে আল্লাহ তোমার রহমতের অপেক্ষায় সারা দেশবাসী I

Abdul Mannan

২০২০-১০-২৭ ১৪:০২:০৪

অত্যাচার ও জুলুমবাজদের শেষ পরিণতি এমনটাই হয় ।

Md Mojid

২০২০-১০-২৬ ২৩:৫৫:০৬

এমন ঘটনা সারা দেশে হচ্ছে কিন্তু সব মিডিয়া আসে না কেউ বলতে পারেনা

Abul Kalam

২০২০-১০-২৭ ১২:৪৮:১৩

অত্যাচার ও জুলুমবাজদের শেষ পরিণতি এমনটাই হয় ।

Jahangir Alam

২০২০-১০-২৭ ১২:৪৪:০৪

দেশের আনাচে কানাচে এসব এখন নিত্যনৈমিত্যিক ঘটনা। সেনা অফিসাররা আক্রান্ত হলেই ব্যবস্থা আর সাধারণ মানুষ হলে এসব অমানুষিক নির্যাতন জায়েজ হয়ে যায়। কারণ যারা এসব বন্য কর্মকান্ড করার উতসাহ দিয়ে থাকেন তারা জানেন সেনা বাহিনী যদি বেকে বসে তাহলে খবর আছে।

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

ম্যারাডোনা ও বাংলাদেশ

২৬ নভেম্বর ২০২০

এমন মৃত্যু মানা যায় না

১৬ নভেম্বর ২০২০

ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ

১৫ নভেম্বর ২০২০

বাসে সিরিজ আগুন

উদ্বেগের বৃহস্পতিবার, জনমনে নানা প্রশ্ন

১৩ নভেম্বর ২০২০



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status