বিবিসির প্রতিবেদন

ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাকে আরবের শপিংমলে ভিন্ন চিত্র

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:১৮

আরব দেশগুলোর শপিংমলগুলোতে এক ভিন্ন চিত্র। যেসব থরে থরে সাজানো থাকতো ফ্রান্সের নানা পণ্য, তা এখন ফাঁকা। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে করা দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছেন। বলেছেন, ইসলামী উগ্রপন্থা থেকে তিনি দেশকে সুরক্ষিত করবেন। তার এমন মন্তব্যে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান তো তার মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলছে উত্তেজনা।
অন্যদিকে আরব অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশ ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে। ফলে রাতারাতি আরবের বিভিন্ন দেশের শপিংমল থেকে হাওয়া হয়ে গেছে ফরাসি পণ্য।
অনলাইন বিবিসি বলেছে- কুয়েত, জর্ডান ও কাতারের শপিংমল থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে ফরাসি পণ্য। বিক্ষোভ হয়েছে লিবিয়া, সিরিয়া ও গাজা উপত্যকায়। কয়েকদিন আগে মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেয়ার কারণে ইতিহাসের শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটির শিরñেদ করে চেচেন এক যুবক। এর নিন্দা জানাতে গিয়ে সন্ত্রাসের জন্য ইসলামপন্থি জঙ্গীদের দায়ী করেন ইমানুয়েল ম্যাক্রন। তিনি বলেন, শিক্ষক স্যামুুয়েল প্যাটিকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ ইসলামপন্থিরা আমাদের ভবিষ্যতকে নিয়ে নিতে চায়। তাই ফ্রান্সে ব্যঙ্গচিত্র পরিত্যাগ করা হবে না।
উল্লেখ্য, মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর কোনো ছবি আঁকা মুসলিমদের কাছে চরম অপরাধ হিসেবে বিবেচ্য। ইসলামিক রীতিতে মহানবী (স.) ও আল্লাহর ছবি আঁকা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু ফ্রান্সের জাতীয় পরিচয়ের মূলে রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা। তাই তাদের বক্তব্য, একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের অনুভূতিকে রক্ষা করতে গিয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতাক খর্ব করবে না ফ্রান্স। এতে তাদের ঐক্য বিনষ্ট হয়। রোববার ফরাসি মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলেন ইমানুয়েল ম্যাক্রন। তিনি বলেন, আমরা কখনোই (ব্যঙ্গচিত্র) পরিত্যাগ করবো না।
এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের কড়া সমালোচনা করেছেন তুরস্ক ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা। তাদের অভিযোগ, ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে সম্মান দেখাচ্ছেন না ম্যাক্রন। এর মাধ্যমে তারা ফ্রান্সে বসবাসকারী কয়েক লাখ মুসলিমকে একপেশে করে ফেলছেন। রোববার দ্বিতীয়বারের মতো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, ইসলাম ইস্যুতে দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এর একদিন আগেও তিনি একই রকম মন্তব্য করেন। জবাবে তুরস্কে নিয়োজিত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে দেশে তলব করে নেন ইমানুয়েল ম্যাক্রন। এরপর থেকে চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, বিবৃতি।
ওদিকে রোববার জর্ডান, কাতার ও কুয়েতের শপিংমলগুলোতে যেখানে ফরাসি পণ্য দিয়ে সুন্দর করে সাজানো থাকতো, তা দেখা গেছে খা খা করছে। চুলের প্রসাধনী এবং অন্য সব রকম প্রসাধনী উদাহরণ হিসেবে দেখা গেছে, তাক থেকে উধাও হয়ে গেছে। ফরাসি পণ্য অনেক বেশি আমদানি করে কুয়েত। সেখান থেকে এবার ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেয়া হয়েছে। সেখানকার ইউনিয়ন অব কনজুমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি বলেছে, মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স,)কে নিয়ে বার বার অবমাননা করার প্রতিবাদে তারা পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে। কিন্তু এর জবাব দিয়েছে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, পণ্য বর্জনের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছে। পণ্য বর্জনের এই ডাক ভিত্তিহীন। অবিলম্বে এই পণ্য বর্জন বন্ধ করা হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যেকোনো রকম আক্রমণ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, এসব ব্যবস্থা নিচ্ছে উগ্রপন্থি একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।
অন্যদিকে সৌদি আরব সহ আরবের অন্য দেশগুলোতে ফরাসি পণ্য বর্জনের একই রকম ডাক দেয়া হয়েছে অনলাইনে। অন্যদিকে লিবিয়া, গাজা উপত্যকা এবং সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মকবুল

২০২০-১০-২৬ ১৮:৪৫:০৫

বেশির ভাগ মুসলিম দেশের নেতারা তো গদি সামলাতে ব্যস্ত ; তাদের কোন say নেই I সাধারণ জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে I পণ্য বয়কট একটা উত্তম পন্থা I আল্লাহ আমদের ঈমান হেফাজত করুন I

Shobuj Chowdhury

২০২০-১০-২৬ ১৯:০৩:১৪

It's a pure business. If France keeps liberty of unlimited length, anybody else keeps the similar rights and asking to boycott is their rights. No complain, please.

ওবাইদুল ইসলাম

২০২০-১০-২৬ ১৮:১২:৪৭

ম্যাক্রো হোল এক ধুরন্ধর শয়তান । সে পরিকল্পনা করেই উগ্রপন্থি মুসলিমদের উস্কানি দিয়ে সন্ত্রাসী কাজ করিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য এই ধরনের নোংরা কাজ করছে । যারা জড়িত এরা সবাই ঘোর ইসলাম বিরোধী । এদের ফাঁদে পা না দেওয়াই উত্তম। যে হেতু বেশীরভাগ মুসলমান দেশগুলির বেশীরভাগ নেতাই ক্ষমতালোভি এবং গায়ের জোরেই ক্ষমতায় আছে সেই হেতু এই সব নেতারা সহজে ফ্রান্সে বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যাবে না । ফ্রান্সের পণ্য বর্জন করাই শ্রেয়।

মহিম

২০২০-১০-২৬ ০৫:০৭:০৮

ফ্রান্সের যেসব পণ্যে সয়লাব বাংলাদেশের বাজার: ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। উভয় দেশই নানা পণ্য আমদানি-রফতানি করে থাকে। তাই বাংলাদেশের বাজারে অসংখ্য ফরাসী পণ্য পাওয়া যায়। বিশেষ করে ফ্রান্স এদেশে রাসায়নিক, সুগন্ধি, প্রসাধনসামগ্রী, ফার্মাসিটিক্যালস ও কৃষিভিত্তিক পণ্য রফতানি করে। বাংলাদেশে ফরাসী ব্র‍্যান্ডের খুব জনপ্রিয় ৬টি পণ্য হলো লাফার্জ সিমেন্ট, টোটাল গ্যাস সিলিন্ডার, বিক রেজর, কসমেটিকস সৌন্দর্যবর্ধক প্রতিষ্ঠান গার্নিয়ার ও লরিয়েল এবং মেডিসিন প্রোডাক্ট সানোফি। জনপ্রিয় এই ৬টি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের পন্য আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ।

Muhammad Nazrul Isla

২০২০-১০-২৬ ১৭:১২:১৫

All muslim should boycott the French products.

Mustary

২০২০-১০-২৬ ০২:১৩:৩১

Allah save our Muslim and my opinion that from today we should give up Farsi all things.

লিখন খান

২০২০-১০-২৬ ১৪:০১:২৯

আমরা বাংলাদেশীরাও প্রতিবাদ হিসাবে ফ্রান্সে পন্য বর্জন করতে হবে। আমি ফ্রান্সের পন্য বর্জন করলাম, আপনারও ফ্রান্সের পন্য বর্জন করুন। কারণ মুসলিমদের জীবনের থেকেও অনেক বেশি প্রিয় নবী করিম (সঃ)। নবী করিম সঃ এর অপমান কোন মুসলিম সর্য্য করতে পারেনা।

uzzal Hossain

২০২০-১০-২৬ ১২:৪৩:৫৪

i fell that our arab & all Muslims Country will be take to the action about Kafer prime minister Maccron ,he is dirty crimal and also mental .I Request of all my Muslims Country Bangladesh ,Saudi Arab,Katar ,Quet,Iran,torosko,pakistan,malaysiam,Sudan & Other all country pls take to the action abuot the france.all materials,food & other tools remove from our Arab & Muslims Country.....

মোঃ জহিরুল ইসলাম

২০২০-১০-২৫ ২৩:৪১:৪৫

ইসলামে উগ্রবাদের স্থান নেই। পশ্চিমারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই এধরনের প্রচারনা চালায়।

z Ahmed

২০২০-১০-২৬ ১১:০১:২২

Yes, the Arabs did the best by boycotting French products. Freedom of speech does not mean hurting people, hurting peoples sentiment and philosophy of life.

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

গবেষণায় তথ্য

রক্তের গ্রুপ ‘ও’ হলে করোনার ঝুঁকি কম

২৮ নভেম্বর ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



ম্যারাডোনার শেষ কথা

‘মে সিয়েন্তো মাল’

DMCA.com Protection Status