কারাগারে ২২ শতাংশই মাদক মামলায় বন্দি

আল-আমিন

শেষের পাতা ২৫ অক্টোবর ২০২০, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

দেশের ৬৮টি কারাগারে প্রায় ৮৭ হাজার বন্দি রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ২২ শতাংশই মাদক মামলার বন্দি। পুলিশের হাতে মাদক নিয়ে ধরা এবং   মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তাদের ঠাঁই হয়েছে কারাগারে। এরমধ্যে অনেকের আদালত থেকে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। কারাগারের মধ্যে থাকা কয়েদি ও হাজতিদের নিয়ে সব সময় বেকায়দায় থাকেন কারা কর্তৃপক্ষ এবং কারারক্ষীরা। এসব বন্দির আচরণ সব সময় স্বাভাবিক থাকে না। মাদকের নেশা যখন উঠে তখন তারা কারাগারের মধ্যে লঙ্কাকাণ্ড ঘটায়।
প্রায় সবার সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
কারারক্ষীদের সঙ্গে ঝগড়া করে। অন্য বন্দিকে কারণে-অকারণে পেটায়। খাবার নষ্ট করে। সময়-অসময় উচ্ছৃঙ্খল থাকে। এই বন্দিদের সর্বক্ষণ কারারক্ষীরা নজরে রাখেন যাতে তারা কারাগারের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে। এদের মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসার জন্য কারাগারের মধ্যে আলাদা চিকিৎসক আছেন। তবে তা সংখ্যায় অপ্রতুল। এই ঘাটতি রোধে শিগগিরই মাদকসেবীদের নিরাময়ের জন্য আলাদা চিকিৎসক ও যথাযথ কাউন্সেলিং করার উদ্যোগ নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত কারা উপ-মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন মানবজমিনকে জানান, কারাগারের মধ্যে ২২ শতাংশই বন্দিই মাদক মামলার আসামি। তাদের ওপর বিশেষ খেয়াল রাখা হয়। কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কারাগারগুলোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন করে যুক্ত হচ্ছে মাদক মামলার আসামি। তারা কারাগারে আসার পরও মাদক সেবনের চাহিদা থাকে। এজন্য তারা আদালতে হাজিরা দেয়ার সময় তাদের স্বজন বা বন্ধুদের কাছ থেকে শরীরের কোমরে করে এমন কী পায়ুপথেও মাদক নিয়ে আসে কারাগারের মধ্যে। তাদের কারাগারে প্রবেশের সময় শরীর তল্লাশি করার পর কারাগারে ঢোকানো হয়।
সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের ৬৮টি কারাগারে মাদক কেনাবেচা নিষিদ্ধ। এমনকি কারাগারের মধ্যে প্রকাশ্যে ধূমপান করার ব্যাপারেও বিধিনিষেধ রয়েছে। যারা মাদক মামলার আসামি তারা যাতে কোনোভাবে কারাগারের মধ্যে মাদক সেবন করতে না পারে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখে কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারে মাদকের আসামি বরাবরই বেশি থাকে। গত দুই বছর ধরে মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের কারণে কারাগারে মাদক মামলার আসামির সংখ্যা বেড়েছে।
সূত্র জানায়, এই মাদক বন্দিদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় তেমন উদ্যোগ নেই কারাগারে। ফলে জামিনে বেরিয়েও নেশার টান ছাড়তে না পারায় প্রতিনিয়ত মাদকের আগুনে পুড়ছে তাদের পরিবারগুলো। কোনো কোনো পরিবার একেবারে পথে বসে গেছে। সর্বনাশা মাদক তাদের সব শেষ করে দিয়েছে। মাদকাসক্তদের জন্য কারাগারে সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহ করে দেয়া হয়। তবে তাদের চিকিৎসা দেয়া অনেক ঝুঁকির ব্যাপার বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানান। মাদকাসক্ত এসব বন্দির নেশার জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। যারা নেশায় বুঁদ হয়ে গেছে তাদের জন্য আলাদা ভাবে চিকিৎসার জন্য নিরাময় কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে।  
সূত্র জানায়, কারাগারের মধ্যে যে মাদকাসক্তদের জন্য হাসপাতালে নির্ধারিত বেড আছে, সেখানে তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়ে থাকে। প্রয়োজনে তাদের বাইরের হাসপাতালেও চিকিৎসা দেয়া হয়। আগে কারাগারে থাকা নেশাগ্রস্ত হাজতি ও কয়েদিদের সংশ্লিষ্ট জেলা ও বিভাগীয় শহরের সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হতো। এখন থেকে কারাগারের নিজস্ব মাদক নিরাময় কেন্দ্রে তাদের চিকিৎসা দেয়া হবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০২০-১০-২৫ ১৭:০৭:০৩

এদেরে কোন জনশূন্য দ্বিপে ছেড়ে দিলে কারাগারে ২২ শতাংশ খালি করা যাবে।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

নূরজাহানের আকুতি

লন্ডনে বড় হওয়া ছালেমার ভাগ্য বিড়ম্বনা

৩১ জুলাই ২০২১

কাল থেকে খুলছে রপ্তানিমুখী সকল শিল্প ও কল-কারখানা

৩১ জুলাই ২০২১

আগামী ১লা আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী সকল শিল্প ও কারখানা চালুর অনুমতি দিয়েছে সরকার। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ ...

নিয়মনীতিহীন আইপি টিভি’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

৩১ জুলাই ২০২১

নিয়মনীতিহীন আইপি টিভি’র বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী ...

একদিনে ১৯৪ নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

৩০ জুলাই ২০২১

 করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই ডেঙ্গু রোগী বেড়েই চলছে। নতুন রোগী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। ...



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



লকডাউনের এক সপ্তাহ

সড়কে বেড়েছে মানুষ ও যানবাহন

DMCA.com Protection Status