করোনা: ফ্রান্সে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, ম্যাক্রনের সতর্কতা

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৪ অক্টোবর ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৫৩

কমপক্ষে আগামী বছরের মধ্যভাগ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ফ্রান্সকে লড়াই করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। সেখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এমন সতর্কতা দিয়েছেন। এখানে উল্লেখ্য, শুক্রবার একদিনে ফ্রান্সে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। মারা গেছেন ২৯৮ জন। অন্যদিকে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে রাশিয়া, পোল্যান্ড, ইতালি ও সুইজারল্যান্ডে। এ অবস্থায় ইউরোপে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইকে সঙ্কটজনক মুহূর্ত বলে আখ্যায়িত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত করতে এবং সুরক্ষিত রাখতে সেখানে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। গত ১০ দিন ধরে ইউরোপে একদিনের চেয়ে অন্যদিন দ্বিগুন পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।
ইউরোপে এখন পর্যন্ত মোট ৭৮ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন কমপক্ষে ২ লাখ ৪৭ হাজার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী কয়েকটি মাস হবে আরো কঠিন সময়। এ সময়ে কয়েকটি দেশ ভয়াবহতার পথে যেতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মারা গেছেন কমপক্ষে ১১ লাখ মানুষ।
শুক্রবার প্যারিসের একটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। এ সময় তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা তাকে বলেছেন, আগামী গ্রীষ্মের আগে পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের উপস্থিত থাকবে। তবে ফ্যান্স আবার পূর্ণাঙ্গ অথবা আংশিক লকডাউনে যাবে কিনা সে বিষয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে ফ্রান্সে রাত্রীকালিন কারফিউ দেশের দুই তৃতীয়াংশে বাড়ানো হয়েছে শুক্রবার রাত থেকে। এই নির্দেশ বহাল থাকবে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত। এর আওতায় পড়বেন ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Jesmin Anowara

২০২০-১০-২৫ ০৬:২৬:৫৬

O Allah show macron path of light of Quran or ruin him. he is a clear jalim

আবুল কাসেম

২০২০-১০-২৩ ২৩:০৯:২৫

সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের প্রেরিত রাসুলকে স. ব্যঙ্গ করা হলে প্রকারান্তরে সেটা আল্লাহর উপরেই পড়ে। করোনা বিপর্যয়ের মধ্যেও ফ্রান্স মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহা মানব, মানবতার মুক্তির দূত রহমাতুল্লিল আলামীন মুহাম্মদুর রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননা করার ধৃষ্টতা দেখিয়ে সভ্যতার দাবিদার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বিকৃত মস্তিষ্কের পরিচয় দিয়েছেন। ইমানুয়েল ম্যাক্রন রাজনীতিতে অভিষেকের আগে একজন সরকারি চাকরিজীবী ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার ছিলেন। তিনি প্যারিস নাঁতের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে পড়াশোনা করেন। কিন্তু তিনি উদার হতে পারেননি। তাঁর সংকীর্ণ মানসিকতার দরুন বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয় তিনি ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছেন। সৃষ্টি কর্তা মহান আল্লাহ তায়ালার শেষ নবীকে অপমান করে তিনি মূর্খতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি এতো বড়ো একজন অর্বাচীন ভাবতে অবাক লাগে। মুসলিম বিশ্ব তার কাছে বিজ্ঞতার প্রত্যাশা করেছিলো। কিন্তু তিনি মুসলিমদের হতাশ করেছেন। আরবসহ বিশ্ববাসী যখন বর্বরতা, মূর্খতা, নানাবিধ অনাচার, পাপাচার ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত হয়ে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়ে পড়েছিলো ঠিক তখনই মহান আল্লাহ তায়ালা বিশ্ববাসীর জন্য রহমত ও মুক্তির দূত হিসেবে রাসুল মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেন। ঐতিহাসিক পি কে হিট্টি সহ সকল ঐতিহাসিক একযোগে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যদি আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ স. কে মানব জাতির ত্রাণকর্তা করে না পাঠাতেন তাহলে পৃথিবীর বুক থেকে মানব জাতি চিরতরে ধ্বংস হয়ে যেতো। মহান আল্লাহ বলেন, "হে নবী আমি তো আপনাকে সৃষ্টিকুলের জন্য দয়ার্দ্র হৃদয় ও রহমতের দিলদরিয়া বানিয়ে পাঠিয়েছি।" সূরা আল আম্বিয়াঃ১০৭। আল্লাহ তায়ালা যেমন দয়ার সাগর তেমনই একজন দয়ার্দ্র হৃদয়ের ব্যক্তিকে মানব জাতির রাসুল করে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "হে মানুষ তোমাদের নিকট তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসুল এসেছে, তোমাদের কোনো রকম কষ্ট ভোগ তার কাছে দুঃসহ, সে তোমাদের একান্ত কল্যানকামী, ঈমানদারদের প্রতি সে হচ্ছে স্নেহপরায়ণ ও পরম দয়ালু।" সূরা আত্ তওবাঃ১২৮। মানবতার মহান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে আল্লাহ তায়ালা রাসুলকে স. প্রেরণ করে প্রকৃতপক্ষে মানবজাতিকে মূর্খতা ও বর্বরতার অন্ধকার থেকে উদ্ধার করেছেন এবং জ্ঞান বিজ্ঞানের আলো দিয়ে পৃথিবীকে উদ্ভাসিত করেছেন। মহান মেহেরবান আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই ঈমানদার বান্দাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন, তিনি তাদের মাঝ থেকে একজন ব্যক্তিকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের আয়াত সমুহ পড়ে শোনায় এবং তিনি তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করেন, তিনি তাদেরকে আল্লাহর কিতাব ও জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা দেন, অথচ এরা সবাই ইতোপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিলো।" সূরা আলে ইমরানঃ১৬৪। উক্ত আয়াতে কারিমায় বলা হয়েছে রাসুল স. জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে রাসুল স. বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ছিলেন। ইতিহাস একথার সাক্ষ্য দেয়, রাসুলের স. জন্মের পূর্বে পৃথিবীতে কোনো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতা তো থাক দূরের কথা সে সবের আবিষ্কারই হয়নি। মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাজিলের পর থেকেই চিকিৎসা বিজ্ঞান, জোতির্বিজ্ঞান, গণিত ও অ্যালজেবরা শাস্ত্র এবং রেডিও, টেলিভিশন, উড়োজাহাজ, বাস, ট্রেন, লঞ্চ, স্টিমার, টেলিফোন ও আজকের অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির আবিষ্কার হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার স্বীকৃত বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী, মহামানব ও মানবতার ত্রাণকর্তাকে যদি কোনো অপদার্থ-অমানুষ অপমান করে তাহলে তার পরিণতির কথা আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেন, "যে ব্যক্তি তার কাছে প্রকৃত সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর রাসুলের বিরুদ্ধাচারণ করবে এবং ঈমানদারদের পথ পরিহার করে অন্য কোনো পথের নিয়ম-নীতির অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেদিকেই ধাবিত করবো যেদিকে সে ধাবিত হচ্ছে এবং তাকে আমি জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেবো। আর সেটা কতোইনা নিকৃষ্ট আবাসস্থল।" সূরা আন নিসাঃ১১৫। জাহান্নামের আগুনের ভয়াবহ শাস্তির উল্লেখ করে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে সাবধান করে দিয়ে আরো বলেন, "এই অর্বাচীন লোকেরা কি একথা জানেনা, যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলের সাথে বিদ্রোহ করে তবে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে, আর সেটা হবে চরম লাঞ্ছনা।" সূরা আত্ তওবাঃ৬৩। তারা যে আল্লাহর লানতের শিকার সে কথাও তিনি বলছেন এভাবে, "যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলকে কষ্ট দেয় দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর অভিশাপ বর্ষণ করেন। আর কেয়ামতের দিন তিনি তাদের জন্য অপমানজনক আজব ঠিক করে রেখেছেন।" সূরা আল আহযাবঃ৫৭। শুধু আখেরাতেই নয় দুনিয়াতেও আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর অভিশাপ বর্ষণ করেন। সম্ভবত সেই অভিশাপের ফলশ্রুতিতেই আজকের বিশ্বের বড়ো বড়ো দাম্ভিকেরা অদেখা একটি ক্ষুদ্রতর অণুজীব করোনার ভয়ে কম্পমান। মানুষ যখন আল্লাহর ও রাসুলের স. পথ পরিহার করে পাপের সীমা ছাড়িয়ে যায় তখন আল্লাহ তায়ালা দয়াপরবশ হয়ে মানুষের সম্বিত ফিরিয়ে আনতে ও হেদায়েতের পথে ফিরে আসতে আজাবের চূড়ান্ত ফায়সালার আগে মাঝে মাঝে ছোটো ছোটো আকারে আজাব দিয়ে থাকেন। করোনা তেমনই একটি আসমানী আজাব। এরপরও যদি মানুষের হুঁশ ফিরে না আসে তাহলে অচিরেই চূড়ান্ত ধ্বংসের ফায়সালা অনিবার্য। আল্লাহ তায়ালার যুগান্তকারী ঘোষণাঃ "জাহান্নামের কঠিন আজাবের আগে অবশ্যই আমি তাদেরকে দুনিয়াতে ছোটো খাটো আজাবও আস্বাদন করাবো। হয়তোবা এতে করে তারা আমার দিকে ফিরে আসবে।" সূরা আস্ সাজদাঃ২১। মানুষ যতো প্রকারের বিপদ মুসিবতের সম্মুখীন হোকনা কেনো তা তাদেরই সংঘটিত পাপের শাস্তি। সেটাই আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর সকল মানুষকে বলেন এভাবে, "যে বিপদ আপদই তোমাদের উপর আসুক না কেনো তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই। তা সত্ত্বেও আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অনেক অপরাধ এমনিতেই ক্ষমা করে দেন।" সূরা আশ শূরাঃ৩০। আজকের পৃথিবীতে মানুষ যে পরিমাণ অনাচার-পাপাচারে ডুবে পড়েছে যদি তিনি সবগুলো পাপের শাস্তি দেয়ার মনস্থ করেন তাহলে নিমিষেই পৃথিবীতে এমন একটা ধ্বংসলীলা সংঘটিত হতো তাতে সকল প্রাণীই বিলীন হয়ে যেতো। যেহেতু আল্লাহ তায়ালা দয়ালু তাই তিনি মানুষের অনেক অপরাধ এমনিতেই দয়াপরবশ হয়ে মাফ করে দেন। এই কথাটা হৃদয়ঙ্গম করে মানুষের উচিত আল্লাহর পথে চলা। নাহলে চূড়ান্ত ফায়সালার কথা আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে ক্রমে ক্রমে আমি তাদেরকে এমন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবো, তারা টেরও পাবেনা। আমি তাদের জন্য অবকাশ দিয়ে রাখবো এবং আমার কৌশল অত্যন্ত শক্ত। তারা কখনো চিন্তা করে দেখেনা! তাদের সাথী মুহাম্মদ কোনো রকম পাগল নন। তিনি তো আজাব সম্পর্কে একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।" সূরা আল আ'রাফঃ১৮২-১৮৪। আল্লাহ তায়ালা রাসুল স. কে মানবজাতির জন্য সতর্ককারী রূপে পাঠিয়েছেন। অথচ মানুষ মূর্খতা বশত তাঁকে অপমান করছে। এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। সুতরাং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের উচিত তিনি এবং তাঁর জাতি আসন্ন ভয়াবহ আজাব সম্পর্কে সতর্ক হওয়া। যা করোনা ভাইরাস থেকেও বেশি ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করতে পারে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

পক্ষ-বিপক্ষের বিক্ষোভ

ব্যাংককে ক্রাউন প্রপার্টি ব্যুরোতে ৬০০০ পুলিশ মোতায়েন

২৪ নভেম্বর ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status