আইফেল টাওয়ারের নিচে ২ মুসলিম নারীকে ছুরিকাঘাত

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৪ অক্টোবর ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৩৯

ফাইল ফটো
ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারের নিচে এক জাতিবিদ্বেষী হামলায় একাধিকবার ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন দুই মুসলিম নারী। রোববার এ হামলা হয়। এ ঘটনায় দুই শ্বেতাঙ্গ নারীকে হত্যাচেষ্টার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার সময় তাদের চিৎকার করে ‘নোংরা আরব’ বলতে শোনা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিটি প্রসিকিউটরের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে দ্য মেট্রো।

খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহের শুক্রবার প্যারিসে এক সন্ত্রাসী হামলায় এক শিক্ষকের শিরশ্ছেদ করে এক মুসলমান যুবক। ওই শিক্ষক এক ক্লাসে তার শিক্ষার্থীদের মহানবী মোহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র দেখিয়েছিলেন ও এ নিয়ে একাডেমিক আলোচনা করেছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করে ওই হামলাকারী। ওই ঘটনার দুই দিনের মধ্যে সন্দেহভাজন জাতিবিদ্বেষী হামলার শিকার হলেন দুই মুসলিম।

ফ্রান্সে মুসলিম অধিবাসীর সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি।
তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি দেশটির সরকার মসজিদ ও মুসলিম সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এতে সেখানে ইসলামভীতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রের বরাত দিয়ে মেট্রো জানায়, হামলার ভুক্তভোগীরা আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক। তাদের নাম যথাক্রমে কেনজা (৪৯) ও তার চেয়ে কয়েক বছরের ছোট আমেল। তাদের মধ্যে কেনজাকে ছয় বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। হামলায় তার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে আমেলের হাতে সার্জারি করতে হয়েছে।

হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনা নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হামলার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে রোববার রাতে হওয়া ওই হামলার সময়ে ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ ও চিৎকার শোনা গেছে। তবে হামলার দুই দিন পর মঙ্গলবার অবধি ঘটনাটি নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি প্যারিস পুলিশ। অবশেষে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ১৮ই অক্টোবর রাত ৮টার দিকে একটি জরুরি কল পাওয়ার পর ছুরিকাঘাতের শিকার হওয়া দুই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন বুধবার প্যারিস প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানায়, হামলাটি ঘিরে একটি হত্যাচেষ্টার তদন্ত শুরু হয়েছে।

হামলার শিকার হওয়া কেনজা বলেন, আমরা পুরো পরিবার, পাঁচ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও চার জন শিশু মিলে বাইরে হাঁটতে গিয়েছিলাম। আইফেল টাওয়ারের এক জায়গায় একটি ছোট ও কিছুটা অন্ধকার পার্ক রয়েছে। আমরা সেখানে যাই। হাঁটার এক পর্যায়ে দুটি কুকুর আমাদের দিকে আসছিল। এতে শিশুরা ভয় পেয়ে যায়। আমার চাচাতো বোন কুকুরগুলোর মালিক, দুই নারীকে অনুরোধ করেছিল যে, সম্ভব হলে তারা যেন কুকুরগুলোকে তাদের সঙ্গে রাখে। কারণ, এতে শিশুরা ভয় পাচ্ছে।

কেনজা আরো জানান, কিন্তু ওই দুই নারী তাদের অনুরোধ শোনেননি। এতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় ও এক পর্যায়ে তাদের বিভিন্ন বর্ণবাদী ভাষায় অপমান করে ওই দুই নারী। আর তারপর তাদের একজন ছুরি বের করে কেনজা ও আমেলকে ছুরিকাঘাত করে। কেনজা বলেন, তাদের একজন আমাকে মাথায়, পাঁজরে ও হাতে আঘাত করে। এরপর আমার বোনের ওপর হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এ সময় হামলাকারীদের ‘নোংরা আরব’ ও ‘নিজ দেশে ফিরে যাও’ বলতে শোনা গেছে। এছাড়া, অন্যদের মুখে ‘জরুরি সেবায় ফোন দিন, তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে’ ও ‘ছেড়ে দাও, দানব!’ বলতেও শোনা গেছে।
পুলিশ আসা পর্যন্ত দুইজন স্থানীয় দোকানদার একজন হামলাকারীকে পরাস্ত করে আটকে রাখে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

jahid

২০২০-১০-২৬ ১২:০৭:৪৩

France President mentally deranged person.

M Jayed Akan

২০২০-১০-২৫ ০৬:৪৬:৪৪

মানবজমিন দেশের খবরে তো খুব সন্ত্রাসী ভাব নিয়া প্রচার চলে আমেরিকা, ফ্রান্সের বেলায় তেল মারা কেন?? মহানবী সাঃ কে অপমান করলে তার প্রতিবাদে হয় সন্ত্রাসী আর খ্রিস্টানরা হামলা করলে হয় জাতিগত হামলা,,,

Md Ashraful Alam

২০২০-১০-২৫ ০৫:৩৪:৩৪

কুয়েত ইতিমধ্যেই ফরাসী পণ্য বর্জন করেছে। তুরষ্ক ম্যাক্রন কে মানসিক রুগী বলে আখ্যায়িত করেছে। কিন্তু কথা বলে ত' লাভ নেই। বিশ্বের অন্ততঃ ১০টা মুসলিম রাষ্ট্রও যদি ফরাসী পণ্য বর্জন করে, তবেই ফরসী সরকারের টনক নড়বে। আর এটা চাইলেই সম্ভব। কেবল দরকার আন্তরিকতার।

Khan

২০২০-১০-২৪ ১৯:৫৯:২৫

কার্টুন প্রচার করে সারা জাহানের মুসলিমদের অপমান আর উস্কানি দিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধ্যে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দেওয়ার জন্যে এখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে বিশসবাসী চাপ দিচ্ছে না কেন?

নুর

২০২০-১০-২৪ ০৩:৫৪:৫৬

ম্যাক্রন একজন অসুস্থ বিকারগ্রস্ত উন্মাদ নির্বোধ গন্ডোমূর্খের মতো কথা বলছেন। বিশ্বের জ্ঞান বিজ্ঞানে অর্থে ঐশর্য্যে সর্ব ক্ষেত্রে উচ্চাসনে অসিন ফ্রান্সের মত একটি উন্নত রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান থাকার কোন যোগ্যতাই তার আর অবশিষ্ট নেই। মানব সুলভ সাধারণ জ্ঞান টুকুর‌ও তার ঘাটতি আছে। তার বাকপন্ডিতদের বাকস্বাধীনতার খুব মূল্য কিন্তু অপরের ধর্মীয় স্বাধীনতা বলেও যে একটা প্রচলিত সব্ধ আছে তাও ওনার বা ওনার বাকপন্ডিতদের জানা নেই। অন্যান্যের পবিত্র ধর্ম নিয়ে তামাশা করতেও বাধেনা।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

দ্য হিলের রিপোর্ট

‘ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসছে করোনার টিকা’

২৫ নভেম্বর ২০২০

দৃপ্তকণ্ঠে বাইডেনের উচ্চারণ

যুক্তরাষ্ট্র আবার বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে, পিছপা হবে না

২৫ নভেম্বর ২০২০

পক্ষ-বিপক্ষের বিক্ষোভ

ব্যাংককে ক্রাউন প্রপার্টি ব্যুরোতে ৬০০০ পুলিশ মোতায়েন

২৪ নভেম্বর ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status