দীর্ঘ হচ্ছে স্বাস্থ্যের টাকার কুমিরদের তালিকা

মারুফ কিবরিয়া

প্রথম পাতা ২৪ অক্টোবর ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৭

নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, ঠিকাদারি সিন্ডিকেটে জড়িয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির খবর বহুদিনের। গত কয়েক বছরে আবজাল হোসেন-মিঠুদের মতো টাকার কুমিরদের সম্পদ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে আরো কিছু তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর নাম। যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ। এতে অভিযুক্ত অন্তত ৭৫ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সূত্র জানায়, চিহ্নিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও নতুন নতুন নাম বেরিয়ে আসছে। এতে দীর্ঘ হচ্ছে অনুসন্ধানের তালিকা।
দুদক সূত্র জানায়, সম্প্রতি ৪৫ ব্যক্তির নাম জানা গেলেও এর মধ্যে যোগ হয়েছে আরো ৩০ জন। যারা নিয়োগ বাণিজ্য, কেনাকাটায় অনিয়ম, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট ও বদলি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।
সূত্র জানায়, এই ৭৫ ব্যক্তির প্রত্যেকেরই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সম্পদ রয়েছে। যা প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্‌ত জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যাদের নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাদের সম্পদের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে তালিকার বাইরে আরো কারো নাম পাওয়া গেলে তাদের বিষয়েও তদন্ত করা হবে। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে যোগসাজশে অবৈধ অর্থ অর্জন করেছেন। ইতিমধ্যে এসব বিষয়ে দুদক সুপারিশ করেছে। এগুলো নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
এদিকে গত এক মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মচারীকে দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৩ থেকে ১৫ই অক্টোবর তিনদিনে ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। সংস্থাটির একটি সূত্র জানায়, যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে তাদের স্ত্রী এমনকি নিকট আত্মীয়দেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
দুদক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে, তারা হচ্ছেন পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সহকারী প্রধান (পরিসংখ্যানবিদ) মীর রায়হান আলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ফারুক হাসান, প্রধান সহকারী আশরাফুল ইসলাম, সাজেদুল করিম, উচ্চমান সহকারী মো. তৈয়বুর রহমান, মো. সাইফুল ইসলাম, পরিচালক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী ফয়জুর রহমান, প্রধান সহকারী মাহফুজুল হক, স্টেনোটাইপিস্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর আজমল খান, পরিচালক ময়মনসিংহ কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আব্দুল কুদ্দুস, পরিচালক সিলেট কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আব্দুল কুদ্দুস, প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোছ আহমেদ, উচ্চমান সহকারী আমান আহমেদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নেছার আহমেদ চৌধুরী, পরিচালক খুলনা কার্যালয়ের ব্যক্তিগত সহকারী ফরিদ হোসেন, অফিস সহকারী মাসুম, প্রধান সহকারী আনোয়ার হোসেন, পরিচালক খুলনা কার্যালয়ের প্রধান সহকারী রাহাত খান, উচ্চমান সহকারী মো. জুয়েল, পরিচালক রংপুর কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমান, সহকারী স্টেনোগ্রাফার সাইফুল ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, পরিচালক রাজশাহী কার্যালয়ের প্রধান সহকারী হেলাল উদ্দিন ও মাসুদ খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, অধ্যাপক ডা. আব্দুর রশীদসহ ২৮ জন। এছাড়া অন্য একটি তালিকায় ৪৭ জনের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রোগ্রামার মো. রুহুল আমিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কবীর চৌধুরী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাজ্জাদ মুন্সী, হুমায়ুন চৌধুরী, জালাল উদ্দিন, প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএ) মো. শাহজাহান ফকির, আবু সোহেল, উচ্চমান সহকারী শফিকুল ইসলাম, এডুকেশন শাখার ক্যাশিয়ার মুজিবর রহমান ও খায়রুল আলম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হারুন অর রশীদ, অফিস সহকারী মো. হানিফ, মাসুদ করিম, আলাউদ্দিন, অফিস সহকারী এসসিডিসি মো. ইকবাল হোসেন, অফিস সহকারী (ইপিআই) মুজিবুল হক মুন্সী, তোফায়েল আহমেদ, অফিস সহকারী (ডব্লিউএইও শাখা) কামরুল ইসলাম, সহকারী (কমিউনিটি ক্লিনিক) আনোয়ার হোসেন, স্টেনোটাইপিস্ট সুনীল বাবু, স্টোর ম্যানেজার (ইপিআই) হেলাল তরফদার, ড্রাইভার মো. শাহজাহান ও আব্দুল মালেক (ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার), মুগদা জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাফি, রংপুর মেডিকেল কলেজের প্রধান সহকারী মো. ফজলুল হক, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক ইমদাদুল হক, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আলিমুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সচিব আনোয়ার হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদ মিয়া, খুলনা শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের  প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহমুদুজ্জামান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক সিদ্দিকী, শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের স্টোর কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টোর কিপার মো. রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. টিটু, স্টোর কিপার মো. সাফায়েত হোসেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ল্যাব সহকারী আব্দুল হালিম, ল্যাব সহকারী সুব্রত কুমার দাস, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ওবায়দুল, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সচিব জালাল মোল্লা, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হিসাবরক্ষক মো. মারুফ হোসেন, রাজশাহীর বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন, রাজশাহীর সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী মো. আনোয়ার হোসেন ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টোর কিপার মো. নাজিম উদ্দিন, অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার উপসহকারী পরিসংখ্যানবিদ মো. রাজিউদ্দিন, কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আকরাম মিয়া।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

শনাক্ত সাড়ে চার লাখ ছাড়ালো

মৃত্যু ঝুঁকিতেও হেঁয়ালিপনা

২৫ নভেম্বর ২০২০

বাইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন

তার পরিচয় তাদের পররাষ্ট্রনীতি

২৪ নভেম্বর ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status