আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন

বিতর্কমুক্ত থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ

কাজী সোহাগ

শেষের পাতা ২৪ অক্টোবর ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪৩

সব ধরনের বিতর্ক এড়িয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করাটাই এখন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তাদের মতে, অতীতে সহযোগী সংগঠনগুলোর অনেক নেতা নানা ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে। দলের পাশাপাশি তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। পরে দলের সভাপতি বাধ্য হয়ে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছেন। কে কোন পদে আছে সেদিকে না তাকিয়ে বিতর্কিতদের চিহ্নিত করে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। দল ক্ষমতায় থাকলেও অনেকে এখন কারাগারে। অনেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে নিজেদের সম্পদের হিসাব দিচ্ছেন। আবার অনেকে খুঁইয়েছেন দলের পদ-পদবি।
সম্মেলনের ১১ মাস পর সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেয়েছে আওয়ামী লীগের ৫ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগ ও মহিলা শ্রমিক লীগের কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কমিটিগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন করেন। এসব কমিটিতে যাচাই-বাছাই করে বিতর্কিতদের বাদ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এবারের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটির সদস্যদের নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটির কাছে আমাদের প্রত্যাশা তারা দলের আদর্শিক রাজনীতির অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে কাজ করবে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের বিতর্কিত কাজ থেকে তারা বিরত থাকবে। এদিকে কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটিতে কিছু বিতর্কিত নেতা পদ-পদবি পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সংগঠনগুলোর বিভিন্ন স্তর থেকে দলের সভাপতি ও দলীয় অফিসে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সহযোগী সংগঠনগুলোর ঘোষিত কমিটির বিষয়ে যেকোনো অভিযোগ-আপত্তি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আইনি কাঠামোর মধ্যে সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন। কমিটির কোনো বিষয়ে অভিযোগ কিংবা আপত্তি থাকলে প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের কাঠামোর আওতায়। অভিযোগ থাকলে নেতা-কর্মীরা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ সংক্রান্ত  ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দিতে পারে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করবে। তিনি বলেন, দলের সভাপতি শেখ হাসিনা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ঘোষিত কমিটির বিষয়ে যেকোনো অভিযোগ-আপত্তি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আইনি কাঠামোর মধ্যে সুরাহার নির্দেশনা নিয়েছেন। এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে পর্যায়ক্রমে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে প্রায় দীর্ঘ ১১ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেলো এই সংগঠনগুলো। দীর্ঘদিন পর সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার উদ্যোগে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দলটির শীর্ষ নেতারা। গত বছর ৬টি সংগঠনের সম্মেলন হলেও কেবল যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার বাকি থাকলো।  আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত বছর সম্মেলনে সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দকে এবং উম্মে কুলসুম স্মৃতিকে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক লীগের দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বরাবর প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিলে ১১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন পায়। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি শরীফ আশরাফ আলী, মাহাবুব-উল আলম (শাস্তি), শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আশা লতা বৈদ্য, এসএম আকবর আলী চৌধুরী, হোসনে আরা, মিয়া আবদুল ওয়াদুদ, আবদুল লতিফ তারিন, মোস্তফা কামাল চৌধুরী, ডা. নজরুল ইসলাম, ডিএম জয়নুল আবেদীন, এমএ মালেক, আবুল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন সুইটসহ ১৬ জন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু, অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়া, একেএম আজম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান বিপ্লব, ড. হাবিবুর রহমান, সৈয়দ সাগিরুজ্জামান শাকীক, নূরে আলম সিদ্দিকী হক, অধ্যাপক মো. নাজমুল হক পানু ও মো. হিজবুল বাহার রানা। গত নভেম্বরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে নির্মল রঞ্জন গুহ সভাপতি ও একেএম আফজালুর রহমান বাবু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলো। এর মধ্যে তিনটি পদ ফাঁকা রাখা হয়েছে। মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলনে সভাপতি সাইদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় শেখ আজগর লস্করকে। মহিলা শ্রমিক লীগের সম্মেলনে নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন সুরাইয়া আক্তার, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কাজী রহিমা আক্তার সাথী। ৩৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কার্যকরী সভাপতি রয়েছেন শামসুন নাহার, সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ১১ জন। সম্মেলনের ১১ মাস পর দু’টি পদ ফাঁকা রেখে ৩৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয় শ্রমিক লীগ। গত বছর নভেম্বরে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে ফজলুল হক মন্টুকে সভাপতি এবং কেএম আযম খসরুকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

মাস্ক

জেনেও ভুল করছে মানুষ

২৫ নভেম্বর ২০২০

পৌর ও ইউনিয়ন নির্বাচন

সবার টার্গেট দলীয় প্রতীক

২৫ নভেম্বর ২০২০

মোংলা পোর্টে কন্টেইনার ভেঙে চুরি

গোয়েন্দা জালে সিন্ডিকেট সদস্যরা

২৪ নভেম্বর ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status