মামলা জট

ঢাকায় ২,৪৭,৩৮০ ফৌজদারি মামলা ঝুলছে

রাশিম মোল্লা

এক্সক্লুসিভ ২৪ অক্টোবর ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৬

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) গত ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ ৬৩ হাজার ২৭২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচ বছরের অধিক পুরাতন মামলার সংখ্যা ১৫ হাজার ৫২১টি। বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮০টি। সিএমএম আদালতের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এপ্রিল, মে ও জুন এই তিন মাসে সিএমএম কোর্টে নতুন মামলা হিসেবে যোগ হয়েছে ১০ হাজার ৮৩২টি মামলা। পাঁচ বছরের অধিক পুরাতন মামলা রয়েছে ১৬ হাজার ৫৮টি। এ ছাড়া, জুলাই মাসে ৭ হাজার ২১৭, আগস্টে ৯ হাজার ১৪৯ এবং সেপ্টেম্বরে ১২ হাজার ৩৪টি মামলা বিচারের জন্য যোগ হয়েছে।
এতো সংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকার মূলে করোনাকালীন সময়ে প্রায় পাঁচ মাস আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকা অন্যতম কারণ। এ ছাড়া, স্বল্প বিচারক, এজলাসের অপ্রতুলতা, সময়মতো সাক্ষী না দেয়া, যথাসময়ে চার্জশিট না পাওয়াসহ নানা কারণে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
মামলা জট থেকে বের হয়ে আসার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিকতা। এ ব্যাপারে কথা হয় সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে যেসব মামলাগুলো অনেক পুরাতন, কয়েকটা শুনানি করা গেলে নিষ্পত্তি করা সম্ভব, প্রথমে এসব মামলাগুলোর তালিকা করতে হবে। এরপর দ্রুততম সময়ে শুনানি করে নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নিলে মামলা জট অনেকাংশে কমে যাবে। আদালতের প্রতি আস্থা জন্মাবে বিচারপ্রার্থীদের। মামলা জট প্রসঙ্গে কথা হয় সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমি বহুকাল ধরে বলে আসছি মামলা জট কমানোর জন্য আইনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করতে হবে। এরপর কমিশন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে সমাধানের উপায় বের করবে। শুধু বিচারক নিয়োগ করে এর সমাধান হবে না। কেননা চাইলেও রাতারাতি অধিক সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দেয়া যায় না। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তাই আমি মনে করি, কমিশন গঠন করে অল্প বিচারক দিয়েও মামলা জট অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরের পর বছর যায়। কিন্তু তাদের মামলা শেষ হয় না। বিচার শেষ হওয়ার আগে অনেক আসামি মারাও যান। এক সময় তারা হতাশ হয়ে রায়ের আশা ছেড়ে দেন। বিরক্ত হয়ে মামলার খবরও নেন না তারা। সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইনজীবীর সঙ্গে। তবে এমন ঘটনা শুধু সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গেই ঘটে তা কিন্তু না। আইনজীবীর নিজের মামলাতেও এমন ঘটনা ঘটে। কয়েক যুগ পার হলেও মামলা শেষ হয় না। ঢাকা জজ কোর্টে স্বয়ং আইনজীবীর মামলাও ১৯ বছরেও শেষ হয়নি। কবে মামলাটি শেষ হবে? সঠিকভাবে বলতে পারে না বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট শ্রেষ্ঠ আহমেদ রতন। তিনি বলেন, ক্লায়েন্টরা মনে করেন আইনজীবীরা ইচ্ছা করেই মামলা শেষ করে না। অথচ তারা বুঝতে চায় না আইনজীবীর মামলাও বছরের পর বছর লেগে যায়। কিন্তু মামলা শেষ হয় না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর ও দায়রা জজ আদালতে ১৭ বছর ধরে বিচারাধীন রয়েছে রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থানায় নূরুল ইসলাম হত্যা মামলা। গত কয়েক মাস আগে এই মামলার এক আসামি মৃত্যুবরণ করেছে। ইতিমধ্যে এই মামলার বেশ কয়েকজন আসামি মারা গেছেন। আসামি পক্ষ ও আইনজীবী জানান, ২০০২ সালের ৩০শে ডিসেম্বর মো. মিন্টু কামরাঙ্গীরচর থানায় আপন চাচা ও ফুপুদের নামে মিথ্যা মামলা ঠুকে দেন। মামলার আসামি করা হয় চাচা মো. জালাল উদ্দিন, ফুপা শাহজালাল, চাচা দেলোয়ার হোসেন (হাশেম), চাচী নাছিমা বেগম ও ফুপু কাওসারী বেগমকে। এই মামলার আইনজীবী এ.এন.এম আবেদ রাজা মানবজমিনকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা শুনানির জন্য বার বার সময় আবেদন করেন। ফলে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর ধরে মামলাটি চলছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তুতি না নেয়ার কারণে মামলাটি দীর্ঘসূত্রিতার ঘটনা ঘটছে। আশা করি মিথ্যা মামলায় আদালতের রায়ে শাহজালাল (৮০), কাওসারী খাতুন (৬০) ও নাসিমা বেগমসহ (৫২) মামলার সব আসামি বেকসুর খালাস পাবেন। কারণ, বাদী পক্ষ এই মামলা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, যাকে হত্যা করা হয়েছে বলে বাদী মামলা করেছে, প্রকৃতপক্ষে তাকে কেউ হত্যা করেনি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তিনি আসলে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অপরদিকে, ৪র্থ মহানগর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের অ্যাসিস্টেন্ট পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান চৌধুরী বলেন, পুলিশ প্রথমে এই মামলাটি মিথ্যা মামলা হিসেবে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে। পরে বাদীর না রাজির আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি পুনঃতদন্তে গেলে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট প্রদান করে। মামলা বিলম্বের কারণ হিসেবে বাদীর অসহযোগিতা ও যথাসময়ে সাক্ষী না আসাসহ বেশকিছু যৌক্তিক কারণকে তিনি দায়ী করেন। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, বাদী মামলা করেন ২০০২ সালের ৩০শে ডিসেম্বর। কিন্তু জবানবন্দি দেন ২০০৬ সালের ১৭ই আগস্ট। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসক সাক্ষী দেন ২০১৫ সালে। খুব শিগগিরই মামলাটির রায় হবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

নাসির

২০২০-১০-২৩ ১২:০৭:৫৫

বিচার করতে না পারলে ছাটাই করে ভাল সৎ বিচারক নিয়গ দিন। নিয়ম অনুজায়ী বিচার কপ্রতে ন পারলে কঠর শাস্তি দেন।মামলা জট কমে যাবে।

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

মাস্ক ছাড়াই চলছে সবকিছু

২৮ নভেম্বর ২০২০

নারায়ণগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, শঙ্কায় মা

২৩ নভেম্বর ২০২০

নারায়ণগঞ্জে ঘরের ভেতর জমে থাকা গ্যাস থেকে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। এরমধ্যে হাসপাতালে ...

নয় দফা দাবি সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ কর্মকর্তাদের

২২ নভেম্বর ২০২০

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসহ নানা বৈষম্য দীর্ঘদিনের। এসব বৈষম্য নিরসনে বারবার দাবি জানানো হলেও ...



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status