আল জাজিরার প্রতিবেদন

জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারে প্রস্তুত থাই সরকার, তবে...

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২২ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৪৫

কোন সহিংসতা না হলে ‘শিগগিরই’ রাজধানী ব্যাংকক থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সেনাপ্রধান প্রায়ুত চান-ওচা। তিনি বলেছেন, জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত। যেসব বিষয় নিয়ে আপত্তি তোলা হচ্ছে তা সংসদের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।  বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
উল্লেখ, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং থাই রাজার ক্ষমতা সংস্কারের দাবিতে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় বিক্ষোভ করছে বিরোধীরা। জরুরি অবস্থা জারি করা হলেও তা উপেক্ষা করে রাজপথে নামছেন যুবক, যুবতীরা। এ অবস্থায় ব্যাংককের জনজীবন একরকম অচল হয়ে পড়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে প্রায়ুত চান ওচা বলেন, আমি প্রথমেই উত্তেজনা প্রশমনের কাজ করবো।
বর্তমানে আমি ব্যাংকক থেকে কঠোর জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে আর কোনো সহিংসতা না হলে সেই প্রক্রিয়া আরো ত্বরান্বিত হবে। তিনি আরো বলেন, পিচ্ছিল ঢালের প্রান্তসীমা থেকে আমাদেরকে অবশ্যই পিছু ফিরে আসতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে সহজেই এক বিশৃংখল অবস্থায় চলে যেতে পারে পরিস্থিতি।
জুলাই থেকে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে বিক্ষোভকারীরা। তা গত এক সপ্তাহে উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ সপ্তাহের শুরুতে তাতে যোগ দিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। বিশেষ করে সরকারের জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই আন্দোলন থাইল্যান্ডের শাসনযন্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কারণ, সেখানে রাজার বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলেন না। রাজা বা রাজপরিবারকে কটাক্ষ করে কেউ কিছু বললে তার বিরুদ্ধে ১৫ বছর পর্যন্ত জেল দেয়ার বিধান রয়েছে। এর মধ্যেই রাজার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী তার পদত্যাগ দাবিতে গভর্নমেন্ট হাউজের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ সহ জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার দাবি করে। দমনপীড়ন চালানোর সময় যেসব নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দাবি করে। বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৫৪ বছর বয়সী টু বলেছেন, তার (প্রধানমন্ত্রী) এমন বক্তব্যই যথেষ্ট নয়। তাকে পদত্যাগ করতে হবে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ২০১৪ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন প্রায়ুত। তারপর গত বছর নির্বাচনে কারসাজি করেছেন তিনি ক্ষমতায় থাকার জন্য। তবে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুতের দাবি, ওই নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ ছিল। ওদিকে সর্বশেষ ভাষণে তিনি যা বলেছেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ও অধিকারকর্মী সোম (২০)। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করবেন না। কারণ, তিনি এ জন্য শর্ত আরোপ করেছেন। তাই বিক্ষোভকারীদের উচিত তাদের দাবি অব্যাহত রাখা।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

ম্যারাডোনার শেষ কথা

‘মে সিয়েন্তো মাল’

২৬ নভেম্বর ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status