ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

নোয়াখালীতে অস্ত্রের মুখে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী ও চাটখিল প্রতিনিধি

প্রথম পাতা ২২ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০০

এবার নোয়াখালীতে দুই সন্তানের সামনে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে যুবলীগ নেতা মজিবুর রহমান শরীফকে। ঘটনাটি ঘটেছে চাটখিল উপজেলার নয়াখলা ইউনিয়নের নয়াখলা গ্রামে। গতকাল ভোর ৫টায়  যুবলীগ নেতা মজিবুর রহমান শরীফ প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষিতা থানায় হাজির হয়ে শরীফকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্থানীয় ইয়াছিন হাজীর বাজার থেকে দুপুরে মজিবুর রহমান শরীফকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, একই বাড়ির শরীফ ভোর ৫টার দিকে ওই প্রবাসীর দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে তার ২ শিশু সন্তানের সামনে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে তাকে ও তার সন্তানদের হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
জানা যায়, নয়াখলা গ্রামের রফিক উল্যার ছেলে মজিবুর রহমান শরীফ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী। তার রয়েছে ক্যাডার বাহিনী। চাটখিল থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, শরীফের বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র, ছিনতাইসহ ৭টি মামলা রয়েছে। পুলিশ ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
চাটখিল ৮ নং নয়াখলা ইউনিয়ন (পশ্চিম) যুবলীগের সভাপতি এই শরীফ। থানায় ধর্ষিতার দায়ের করা মামলা থেকে জানা যায়, গতকাল বুধবার ভোর ৫টায় সন্ত্রাসী শরিফ প্রবাসী নুর আলমের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। ঘরের ভেতরে প্রবাসীর স্ত্রীর শয়ন কক্ষে গিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে। পরে বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার ২ শিশু সন্তান জেগে থাকলেও তাদের সামনেই ধর্ষণ করে। এ সময় শরিফ বাহিনীর কয়েকজন সশস্ত্র ক্যাডার ঘরের চারপাশে পাহারা দিচ্ছিল। তাদের ভয়ে বাড়ির লোকজন কেউ এগিয়ে আসেনি। শরিফের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, টেন্ডারবাজিসহ অনেক মামলা থাকলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাকে এতোদিন গ্রেপ্তার করেনি। ইতিপূর্বে বক্তারপুর গ্রামের হাজী বাড়িতে পুলিশ পরিচয়ে এক ঘরে ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণ করে এ শরিফ। তার বিরুদ্ধে তখন থানায় ধর্ষণের অভিযোগ হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার পক্ষ নিয়ে চাটখিলে মানববন্ধন করে। এর পরই ওই ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। নয়াখলা ইউনিয়নসহ চাটখিল দক্ষিণাঞ্চলে শরিফ ও তার বাহিনীর সদস্যদের কাছে জিম্মি এলাকাবাসী। শরিফের নেতৃত্বে ফরহাদ ও হৃদয়ের নেতৃত্বে কয়েকটি কিশোর গ্যাং রয়েছে। চাটখিল থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া মানবজমিনকে জানান, ধর্ষিতার অভিযোগের ভিত্তিতে শরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শরিফের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২০-১০-২২ ০৭:৩৮:৫৪

গত ১৯ অক্টোবর দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় একটি চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, বাগেরহাটে মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে একটি ধর্ষণ মামলার বিচার কাজ শেষ করা হয়েছে। যা কিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্ভবত এটাই প্রথম দ্রুত গতির বিচার কাজ। আবার চার্জ গঠনের মাত্র ১ সপ্তাহের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে আসামি ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ধর্ষণের মামলার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এমন যুগান্তকারী রায় প্রত্যাশা করা নিশ্চয়ই অনুচিত হবেনা। আরো কঠোর শাস্তির পাশাপাশি সমাজের মধ্যে উন্নত নৈতিকতার মূল্যবোধ সৃষ্টির জন্যও ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধুমাত্র শাস্তির বিধান করেই অপরাধ যে থামানো যায়না, মৃত্যু দণ্ডের আইন করার পরেও ধর্ষণ কর্ম সংঘটিত হওয়াই তার প্রমাণ বহন করে। তাই উন্নত নৈতিকতা শিক্ষার প্রশ্নটা সামনে আসছে। আর সে শিক্ষাটা সৃষ্টিকর্তা মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহর নাজিল করা মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকেই গ্রহণ করতে হবে। সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, "আমি মানুষ ও জ্বিন জাতিকে আমার ইবাদত ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি।" সূরা আয যারিয়াত। আয়াত-৫৬। অথচ মানুষ আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে দিয়ে শয়তানের পথ অনুসরণ করতে করতে পাপের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে এবং ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সূরা ইয়াসিনে আল্লাহ বলেন, "হে বনী আদম আমি কি তোমাদের এই মর্মে নির্দেশ দেইনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করোনা, কেননা সে হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। এবং আমি একথাও বলেছি, তোমরা শুধুমাত্র আমারই ইবাদত করো, আর এটাই হচ্ছে সিরাতুল মুস্তাকিমের বা সহজ সরল পথ।" সূরা ইয়াসিন। আয়াত-৬০-৬১। আল্লাহর ইবাদতের কাজে মানুষকে তিনি পরষ্পর পরষ্পরের সাথে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে আদেশ করেছেন। তিনি বলেন, "প্রত্যেকের জন্য ইবাদতের একটা দিক নির্দিষ্ট থাকে, যেদিকে সে মুখ করে দাঁড়ায়। অতএব তোমরা কল্যানের দিকে অগ্রসর হওয়ার কাজে একজন অপরজনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করো। তোমরা যেখানেই থাকোনা কেনো তিনি তোমাদের এক জায়গায় এনে হাজির করবেন। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।" সূরা আল বাক্কারা। আয়াত-১৪৮। অপরাধী ও পাপী মানুষদেরকে ক্ষমার দিকে আহ্বান করে ক্ষমাশীল দয়াময় আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়ার কাজে এবং সেই জান্নাত পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করো, যার প্রশস্ততা আকাশ ও পৃথিবীর সমান। আর এই বিশাল জান্নাত প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে তাদের জন্য যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে।" সূরা আলে ইমরান। আয়াত-১৩৩। এখানে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার জন্য এবং সাথে সাথে বেহেশত লাভ করার জন্যও পরষ্পর পরষ্পরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে আদেশ করা হয়েছে। আর যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে তারাই এই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আমরা মুসলমানরা আজ এমন একটা পরিবেশ-পরিস্থতির মুখে এসে দাঁড়িয়েছি, আল্লাহর ভয় আমাদের মন থেকে উঠে গেছে এবং তার দরবারে জবাব দীহি করার বিশ্বাসটুকুও যেনো আমরা হারিয়ে ফেলেছি। নেক কাজের বা সৎ কাজের প্রতিযোগিতা তো আমরা করছি-ই না বরং আমরা যেনো অসৎ ও পাপের কাজেই বেশি প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছি এবং অগ্রসর হয়ে যাচ্ছি । না হয় ধর্ষণের মতো এতো বড়ো একটা গুনাহের কাজ কিছুতেই থামছেনা কেনো ! মামলার পর মামলা, ধরপাকড় এবং মৃত্যু দণ্ডের আইন পাশ হওয়ার পরেও ধর্ষণ থামছেনা। ধর্ষকামীরা তাদের ন্যাক্কারজনক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। আজকের এই পরিস্থিতি আল্লাহর দরবারে জবাব দীহি করার বিশ্বাসকে মানুষের মন মগজে বদ্ধমূল করে দেওয়ার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরো প্রকটভাবে তুলে ধরেছে। আল্লাহকে ভয় করার শিক্ষা পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকে এবং হাদিস থেকে অর্জন করতে হবে। সমাজে চালু করতে হবে সৎ, ভালো ও নেক কাজের আদেশ এবং পাপ, অসৎ ও অন্যায় কাজের নিষেধের প্রচারণা। ছোটো-বড়ো, ধনী-গরীব, উঁচু-নিচু সকল শ্রেণি পেশার মানুষ এ কাজে অংশ নিতে পারেন । আমাদের সমাজ সত্যিকার অর্থে পাপ মুক্ত করতে হলে এ মহৎ কাজটা আমাদেরকে অবশ্যই করতে হবে বৈকি ! সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজের নিষেধের আদেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরাই দুনিয়ার সর্বোত্তম জাতি। সমগ্র মানব জাতির কল্যানের জন্যই তোমাদের বের করে আনা হয়েছে। তোমরা দুনিয়ার মানুষদের সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে। আর তোমরা নিজেরা আল্লাহর উপর পুরোপুরি ঈমান আনবে। আহলে কিতাবরা যদি ঈমান আনতো তাহলে তাদের জন্য কতোইনা ভালো হতো। তবে তাদের অধিকাংশ লোক সত্য ত্যাগী হলেও কিছু ঈমানদার লোকও রয়েছে।" সূরা আলে ইমরান। আয়াত-১১০। সৎ কাজের আদেশ দিতে ও অসৎ কাজের নিষেধ করতে সমাজে একটি শক্তিশালী দলের অস্তিত্ব থাকা অপরিহার্য। আল্লাহর আদেশ হলো, "তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল অবশ্যই থাকা উচিত যারা মানুষদেরকে কল্যানের দিকে আহ্বান জানবে, ন্যায় ও সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ, অন্যায় ও পাপের কাজ থেকে বিরত রাখবে। এরাই হচ্ছে সফলকাম।" সূরা আলে ইমরান। আয়াত-১০৪। প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি কাজ কর্ম করার সময় আল্লাহর দরবারে জবাব দীহি করার দৃঢ় বিশ্বাস, কেউ না দেখলেও আলেমুল গায়েব আল্লাহ তায়ালা আমার কাজ কর্ম দেখছেন এবং আল্লাহর ভয়ের তীব্র অনুভূতির প্রাবল্য আমাদেরকে সকল প্রকার অপরাধ, অসৎ, অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে। আর যারা ইতোমধ্যে শয়তানের খপ্পরে পড়ে পাপ পঙ্কিলতায় জড়িয়ে পড়েছি অনতিবিলম্বে তওবা করে সৎ পথে ফিরে আসা উচিত। আল্লাহ বলেন, "তারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে কিংবা নিজেরা নিজেদের উপর জুলুম করে ফেলে তখন সাথে সাথেই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। কেননা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া এমন আর কে আছে যে তাদের গুনাহ মাফ করে দিতে পারে ? এরা জেনে বুঝে নিজেদের গুনাহের উপর অটল হয়ে বসে থাকেনা। এই লোকগুলো তাদের মালিকের পক্ষ থেকে প্রতিদান হিসেবে পাবে ক্ষমা এবং এমন এক জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে বইতে থাকবে ঝর্ণাধারা। সেখানে নেককার লোকেরা অনন্তকাল ধরে অবস্থান করবে। সৎ কর্মশীল লোকদের জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে কতোইনা সুন্দর প্রতিদিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে !" সূরা আলে ইমরান। আয়াত-১৩৫-১৩৬। তবে গুনাহের কাজের উপর যারা অটল থাকে এবং তওবা করতে গড়িমসি করে তাদেরকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আল্লাহ তায়ালার নিকট শুধু তাদের তওবাই গ্রহণযোগ্য হবে বা কবুল হবে, যারা ভুলবশত গুনাহের কাজ করে ফেলে, অতঃপর খেয়াল হওয়া মাত্রই কালবিলম্ব না করে দ্রুত গতিতে তওবা করে। এরাই হচ্ছে সেসব লোক যাদের উপর আল্লাহ তায়ালা দয়াপরবশ হয়ে থাকেন। আর আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন সর্ববিষয়ে জ্ঞানী ও কুশলি। অন্যদিকে তাদের জন্য তওবার কোনো অবকাশ নেই যারা শুধু গুনাহের কাজ করেই যাচ্ছে। এভাবেই গুনাহের কাজ করতে করতে একদিন তাদের কারো দুয়ারে যখন মৃত্যু এসে হাজির হয়, তখন সে বলে আমি এখন তওবা করলাম। বস্তুত তাদের জন্য তওবা নয় যারা অবিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যু বরন করেছে। এরা হচ্ছে সেসব লোক যাদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক আজাব নির্দিষ্ট করে রেখেছি।" সূরা আন নিসা। আয়াত-১৭-১৮। সুতরাং আমরা যারা প্রবৃত্তির তাড়নায় গুনাহের কাজ করে ফেলেছি মৃত্যু আসার আগেই অনতিবিলম্বে আমাদেরকে তওবা করে সৎ পথে ফিরে আসা আবশ্যক এবং গুরুত্বপূর্ণও বটে। অন্যথায় ধরা পড়লে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ অথবা মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত হতে হবে। আর আখেরাতে অপেক্ষা করছে ভয়ংকর আজাব। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ঈমান নিয়ে বাঁচার ও ঈমান নিয়েই মৃত্যু বরন করার তৌফিক দান করুন।

আবুল কাসেম

২০২০-১০-২২ ০৬:৪১:৩৪

সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, "আমি মানুষ ও জ্বিন জাতিকে আমার ইবাদত ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি।" সূরা আয যারিয়াত। আয়াত-৫৬। অথচ মানুষ আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে দিয়ে শয়তানের পথ অনুসরণ করতে করতে পাপের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে এবং ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সূরা ইয়াসিনে আল্লাহ বলেন, "হে বনী আদম আমি কি তোমাদের এই মর্মে নির্দেশ দেইনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করোনা, কেননা সে হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। এবং আমি একথাও বলেছি, তোমরা শুধুমাত্র আমারই ইবাদত করো, আর এটাই হচ্ছে সিরাতুল মুস্তাকিমের বা সহজ সরল পথ।" সূরা ইয়াসিন। আয়াত-৬০-৬১। আল্লাহর ইবাদতের কাজে মানুষকে তিনি পরষ্পর পরষ্পরের সাথে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে আদেশ করেছেন। তিনি বলেন, "প্রত্যেকের জন্য ইবাদতের একটা দিক নির্দিষ্ট থাকে, যেদিকে সে মুখ করে দাঁড়ায়। অতএব তোমরা কল্যানের দিকে অগ্রসর হওয়ার কাজে একজন অপরজনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করো। তোমরা যেখানেই থাকোনা কেনো তিনি তোমাদের এক জায়গায় এনে হাজির করবেন। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।" সূরা আল বাক্কারা। আয়াত-১৪৮। অপরাধী ও পাপী মানুষদেরকে ক্ষমার দিকে আহ্বান করে ক্ষমাশীল দয়াময় আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়ার কাজে এবং সেই জান্নাত পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করো, যার প্রশস্ততা আকাশ ও পৃথিবীর সমান। আর এই বিশাল জান্নাত প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে তাদের জন্য যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে।" সূরা আলে ইমরান। আয়াত-১৩৩। এখানে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার জন্য এবং সাথে সাথে বেহেশত লাভ করার জন্যও পরষ্পর পরষ্পরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে আদেশ করা হয়েছে। আর যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে তারাই এই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আমরা মুসলমানরা আজ এমন একটা পরিবেশ-পরিস্থতির মুখে এসে দাঁড়িয়েছি, আল্লাহর ভয় আমাদের মন থেকে উঠে গেছে এবং তার দরবারে জবাব দীহি করার বিশ্বাসটুকুও যেনো আমরা হারিয়ে ফেলেছি। নেক কাজের বা সৎ কাজের প্রতিযোগিতা তো আমরা করছি-ই না বরং আমরা যেনো অসৎ ও পাপের কাজেই বেশি প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছি এবং অগ্রসর হয়ে যাচ্ছি । না হয় ধর্ষণের মতো এতো বড়ো একটা গুনাহের কাজ কিছুতেই থামছেনা কেনো ! মামলার পর মামলা, ধরপাকড় এবং মৃত্যু দণ্ডের আইন পাশ হওয়ার পরেও ধর্ষণ থামছেনা। ধর্ষকামীরা তাদের ন্যাক্কারজনক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। আজকের এই পরিস্থিতি আল্লাহর দরবারে জবাব দীহি করার বিশ্বাসকে মানুষের মন মগজে বদ্ধমূল করে দেওয়ার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরো প্রকটভাবে তুলে ধরেছে। আল্লাহকে ভয় করার শিক্ষা পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকে এবং হাদিস থেকে অর্জন করতে হবে। সমাজে চালু করতে হবে সৎ, ভালো ও নেক কাজের আদেশ এবং পাপ, অসৎ ও অন্যায় কাজের নিষেধের প্রচারণা। ছোটো-বড়ো, ধনী-গরীব, উঁচু-নিচু সকল শ্রেণি পেশার মানুষ এ কাজে অংশ নিতে পারেন । আমাদের সমাজ সত্যিকার অর্থে পাপ মুক্ত করতে হলে এ মহৎ কাজটা আমাদেরকে অবশ্যই করতে হবে বৈকি ! সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজের নিষেধের আদেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরাই দুনিয়ার সর্বোত্তম জাতি। সমগ্র মানব জাতির কল্যানের জন্যই তোমাদের বের করে আনা হয়েছে। তোমরা দুনিয়ার মানুষদের সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে। আর তোমরা নিজেরা আল্লাহর উপর পুরোপুরি ঈমান আনবে। আহলে কিতাবরা যদি ঈমান আনতো তাহলে তাদের জন্য কতোইনা ভালো হতো। তবে তাদের অধিকাংশ লোক সত্য ত্যাগী হলেও কিছু ঈমানদার লোকও রয়েছে।" সূরা আলে ইমরান। আয়াত-১১০। সৎ কাজের আদেশ দিতে ও অসৎ কাজের নিষেধ করতে সমাজে একটি শক্তিশালী দলের অস্তিত্ব থাকা অপরিহার্য। আল্লাহর আদেশ হলো, "তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল অবশ্যই থাকা উচিত যারা মানুষদেরকে কল্যানের দিকে আহ্বান জানবে, ন্যায় ও সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ, অন্যায় ও পাপের কাজ থেকে বিরত রাখবে। এরাই হচ্ছে সফলকাম।" সূরা আলে ইমরান। আয়াত-১০৪। প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি কাজ কর্ম করার সময় আল্লাহর দরবারে জবাব দীহি করার দৃঢ় বিশ্বাস, কেউ না দেখলেও আলেমুল গায়েব আল্লাহ তায়ালা আমার কাজ কর্ম দেখছেন এবং আল্লাহর ভয়ের তীব্র অনুভূতির প্রাবল্য আমাদেরকে সকল প্রকার অপরাধ, অসৎ, অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে। আর যারা ইতোমধ্যে শয়তানের খপ্পরে পড়ে পাপ পঙ্কিলতায় জড়িয়ে পড়েছি অনতিবিলম্বে তওবা করে সৎ পথে ফিরে আসা উচিত। আল্লাহ বলেন, "তারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে কিংবা নিজেরা নিজেদের উপর জুলুম করে ফেলে তখন সাথে সাথেই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। কেননা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া এমন আর কে আছে যে তাদের গুনাহ মাফ করে দিতে পারে ? এরা জেনে বুঝে নিজেদের গুনাহের উপর অটল হয়ে বসে থাকেনা। এই লোকগুলো তাদের মালিকের পক্ষ থেকে প্রতিদান হিসেবে পাবে ক্ষমা এবং এমন এক জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে বইতে থাকবে ঝর্ণাধারা। সেখানে নেককার লোকেরা অনন্তকাল ধরে অবস্থান করবে। সৎ কর্মশীল লোকদের জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে কতোইনা সুন্দর প্রতিদিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে !" সূরা আলে ইমরান। আয়াত-১৩৫-১৩৬। তবে গুনাহের কাজের উপর যারা অটল থাকে এবং তওবা করতে গড়িমসি করে তাদেরকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আল্লাহ তায়ালার নিকট শুধু তাদের তওবাই গ্রহণযোগ্য হবে বা কবুল হবে, যারা ভুলবশত গুনাহের কাজ করে ফেলে, অতঃপর খেয়াল হওয়া মাত্রই কালবিলম্ব না করে দ্রুত গতিতে তওবা করে। এরাই হচ্ছে সেসব লোক যাদের উপর আল্লাহ তায়ালা দয়াপরবশ হয়ে থাকেন। আর আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন সর্ববিষয়ে জ্ঞানী ও কুশলি। অন্যদিকে তাদের জন্য তওবার কোনো অবকাশ নেই যারা শুধু গুনাহের কাজ করেই যাচ্ছে। এভাবেই গুনাহের কাজ করতে করতে একদিন তাদের কারো দুয়ারে যখন মৃত্যু এসে হাজির হয়, তখন সে বলে আমি এখন তওবা করলাম। বস্তুত তাদের জন্য তওবা নয় যারা অবিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যু বরন করেছে। এরা হচ্ছে সেসব লোক যাদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক আজাব নির্দিষ্ট করে রেখেছি।" সূরা আন নিসা। আয়াত-১৭-১৮। সুতরাং আমরা যারা প্রবৃত্তির তাড়নায় গুনাহের কাজ করে ফেলেছি মৃত্যু আসার আগেই অনতিবিলম্বে আমাদেরকে তওবা করে সৎ পথে ফিরে আসা আবশ্যক এবং গুরুত্বপূর্ণও বটে।

habib

২০২০-১০-২২ ০৯:৩৯:৩০

সাবাশ, সাবাশ, সাবাশ বাংলাদেশ। এরাই হলো ছাত্রলীগ

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

এমসি হোস্টেলে ধর্ষণ, ৮ ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

সরাসরি জড়িত ৬ সহযোগিতায় ২

৪ ডিসেম্বর ২০২০

বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিবৃতি, জিএম কাদের বললেন বিপক্ষে বলার কিছু নেই

সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের লঙ্ঘন

৪ ডিসেম্বর ২০২০

করোনায় আরো ৩৫ জনের মৃত্যু

৪ ডিসেম্বর ২০২০

করোনায় মৃত্যুর তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ...

অ্যামনেস্টির বিরোধিতা

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের যাত্রা শুরু

৪ ডিসেম্বর ২০২০

স্বাস্থ্যবিধি ছুটিতে!

৩ ডিসেম্বর ২০২০

অনুমতি ছাড়া ঢাকায় সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ

৩ ডিসেম্বর ২০২০

আগে অনুমতি না দিলে রাজধানীতে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করা যাবে না। যেকোনো ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও ...

সরাসরি ভ্যাকসিন কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

৩ ডিসেম্বর ২০২০

রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি অনুসরণ করে করোনা ভ্যাকসিন কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গতকাল ...

কোটি কোটি টিকা সরবরাহে প্রস্তুত চীন

৩ ডিসেম্বর ২০২০

শুধু কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায়। অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের কোটি কোটি টিকা সরবরাহে প্রস্তুত ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি

ওয়াজে লাউড স্পিকারে দুর্ভোগ হলে ব্যবস্থা

স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

কক্সবাজার-কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

সুজনের গোলটেবিল বৈঠক

বিবেক হারিয়েছে নির্বাচন কমিশন

DMCA.com Protection Status