ঐতিহাসিক সফরে ইসরাইলে আমিরাতের প্রতিনিধিদল, ভিসাহীন যাতায়াতের চুক্তি

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) অক্টোবর ২১, ২০২০, বুধবার, ৬:২১ পূর্বাহ্ন

প্রথমবারের মতো ইসরাইলে পা দিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি দল। এটিই কোনো আরব রাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের প্রথম ইসরাইল যাত্রা। দুই দেশের মধ্যে হয়েছে ভিসাহীন যাতায়াতের চুক্তিও। আরব প্রতিনিধি দলের এ সফরকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু ঐতিহাসিক সফর বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক যতই মধুর হচ্ছে ততই ক্ষোভ বাড়ছে ফিলিস্তিনের। অঞ্চলটির দাবি, এই সফরের মাধ্যমে আরব আমিরাত কার্যত ইসরায়েলের আধিপত্যবাদ এবং দখলদারির মানসিকতাকে স্বীকৃতি দিল। ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে ঝামেলা বহু দশকের। দীর্ঘদিন ফিলিস্তিনের ঝামেলাকে নিজেদের ঝামেলা মনে করেছে আরব বিশ্ব।
তবে এখন তারা নিজেদের মতো করে আগাতে চাইছে। এ জন্য প্রথমেই ঝেরে ফেলতে হয়েছে ফিলিস্তিনকে। ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাহরাইন ও আরব আমিরাতের মতো আরব রাষ্ট্রগুলো। চুক্তির পর দুই দেশের মধ্যে স¤পর্ক এগিয়ে নিতে বেশ কিছু পদক্ষেপও নিতে দেখা গেছে। তার সর্বশেষ মঙ্গলবার আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদের ইসরাইল সফর। সফরে ছিলেন, আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী ও অর্থপ্রতিমন্ত্রী। সেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে একাধিক চুক্তি সই করেছেন তারা। আমিরাতের এই সফরে রয়েছেন মার্কিন কূটনীতিকরাও। যুক্তরাষ্ট্র এ সফরকে স্বাগত জানিয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে যেসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তারমধ্যে রয়েছে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও বিমান পরিবহণ। সব মিলিয়ে ৫টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরমধ্যে সবথেকে আলোচিত হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে ভিসাহীন যাতায়াতে চুক্তি। ইসরাইলের সঙ্গে তুরস্ক, জর্ডান ও মিশরের মতো ইসলামিক রাষ্ট্রের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রয়েছে। তবে তারাও দেশটিতে ভিসা ছাড়া প্রবেশাধিকার পায়নি। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য এটিও উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে কূটনীতিকদের মধ্যে এটি বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২০-১০-২১ ০৭:০৯:১৬

ইজরাইল রাষ্ট্রটি প্রকৃতপক্ষে ফিলিস্তিনের ভূমি দখলকারী একটি অবৈধ রাষ্ট্র। ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী আর্থার জেমস বালাফর ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর ইউরোপ থেকে বিপুল সংখ্যক ইহুদি ফিলিস্তিনে এসে বসবাস শুরু করে। এরপর আমেরিকাও ইহুদিদের মদদ দিতে থাকে এবং ক্রমান্বয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক অস্ত্র সস্র দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এমনকি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মুসলিম দেশ গুলোর বিরুদ্ধে তাদেরকে শক্তিশালী করা হয়। তারাও সন্ত্রাসী কায়দায় জোর পূর্বক ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে থাকে এবং মুসলমানদের প্রথম কিবলা পবিত্র মসজিদে আল আকসা জবরদখল করে। প্রতিবাদে বহু ফিলিস্তিনি মুসলিমকে হত্যা করেছে এবং ঘর বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদিদের এমন সাঁড়াশি ভূমিকার জন্য মধ্যপ্রাচ্য সহ সকল মুসলিমদেশগুলো ইজরাইল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে বিরত থাকে। অধুনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইজরাইলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। যা এ দুটি দেশের নৈতিক অধপতনের সাক্ষ্য বহন করে। তাদের এমন ন্যাক্কার জনক ভূমিকায় মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ইহুদিদের সাথে বন্ধুত্বের বিষয়ে আমাদের প্রভু মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন মজিদে যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রাসঙ্গিক কারণে তার মধ্য থেকে কয়েকখানা আয়াত এখানে উল্লেখ করা হলো। সূরা আলে ইমরানের ২৮ নম্বর আয়াতঃ "ঈমানদার লোকেরা কখনো ঈমানদারদের বদলে অবিশ্বাসী কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু বানাবে না। যদি তোমাদের কেউ তা করে তবে আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্কই থাকবেনা। হ্যাঁ তাদের কাছ থেকে কোনো আশংকা থাকলে তোমারা নিজেদের বাঁচানোর প্রয়োজন হলে তা ভিন্ন কথা। আল্লাহ তায়ালা তো বরং নিজের ব্যাপারেই তোমাদের ভয় দেখাচ্ছেন বেশি। কারণ তোমাদের আল্লাহর কাছেই ফিরে আসতে হবে।" সূরা আলে ইমরানের ১১৮ নম্বর আয়াতঃ "হে ঈমানদার লোকেরা তোমারা কখনো নিজেদের দলভুক্ত লোক ছাড়া অন্য কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করোনা। কারন এরা তোমাদের অনিষ্ট সাধনের কোনো পথই অনুসরণ করতে দ্বিধা করবেনা। তারা তো তোমাদের ক্ষতিই কামনা করে। তাদের প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ তাদের মুখ থেকেই প্রকাশ পাচ্ছে। অবশ্য তাদের অন্তরের লুকানো হিংসা ও বিদ্বেষ বাইরের অবস্থার চাইতেও মারাত্মক। আমি সব ধরনের নিদর্শন তোমাদের খোলাখুলি বলে দিচ্ছি। তোমাদের যদি সত্যিই জ্ঞান বুদ্ধি থাকে তাহলে তোমারা সতর্ক হতে পারবে।" এরপর সূরা আন নিসার ৮৯ নম্বর আয়াতে এরশাদ হচ্ছেঃ তারা তো এটাই কামনা করে যে, তাদের মতো তোমারাও কুফরি করো। যেনো তোমারাও তাদের মতো হয়ে যেতে পারো। কাজেই তুমি তাদের মধ্য থেকে কাউকে নিজের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না।" এরপর সূরা আন নিসার ১৩৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ যারা দুনিয়ার লাভের জন্য ঈমানদারদের বদলে অবিশ্বাসী কাফেরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে তারা কি এর দ্বারা এদের কাছ থেকে কোনো রকম মান সম্মানের প্রত্যাশা করে ? অথচ মান সম্মান তো আল্লাহ তায়ালার জন্যই নির্দিষ্ট।" সূরা আন নিসার ১৪৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ আরো বলেনঃ "হে ঈমানদার বান্দারা তোমারা ঈমানদার লোকদের বাদ দিয়ে কাফেরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তোমারা আল্লাহ তায়ালার কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ তুলে দিতে চাও কি ?" সূরা আল মায়েদার ৫১ নম্বর আয়াতখানাও প্রণিধানযোগ্য। বলা হচ্ছেঃ "হে ঈমানদার লোকেরা তোমারা ইহুদি খৃষ্টানদের নিজেদের বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। এরা নিজেরা একে অপরের বন্ধু, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি এদের কাউকে বন্ধু বানিয়ে নেয় তাহলে সে তাদেরই দলভুক্ত হয়ে যাবে। আর আল্লাহ তায়ালা কখনো জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত নসিব করেননা।" এখানে সূরা আল মায়েদার ৮১ ও ৮২ নম্বর আয়াতও উল্লেখ করা যায়ঃ তারা যদি সত্যিই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি এবং রাসূলের প্রতি নাজিল করা কিতাবের উপর যথাযথ ঈমান আনতো, তাহলে এরা কাফেরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতো না। কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষই হচ্ছে গোনাহগার। অবশ্যই তোমারা দেখতে পাবে ঈমানদারদের সঙ্গে শত্রুতা করতে ইহুদি ও মুশরিকরা বেশি কঠোর।" মুসলমানদের ব্যপারে আল্লাহ তায়ালার এসকল যুগান্তকারী নির্দেশনা যারা দুনিয়ার লাভের মোহে অমান্য করবে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে লাঞ্ছনা গঞ্জনা ছাড়া আর কিইবা থাকতে পারে ।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

আল জাজিরার প্রতিবেদন

উইঘুর মুসলিমদের ওপর নিষ্ঠুরতার আরও ভয়াল বর্ণনা

৪ ডিসেম্বর ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার মন্তব্য

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় হুমকি চীন

৪ ডিসেম্বর ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status