দীর্ঘদিন পদোন্নতি না দেয়ায় পিটিআই ইন্সট্রাক্টরদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে

স্টাফ রিপোর্টার

এক্সক্লুসিভ ২১ অক্টোবর ২০২০, বুধবার

দীর্ঘদিন পদোন্নতি না দেয়ায় পিটিআই ইন্সট্রাক্টরদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। একই পদে ২৫ থেকে ২৬ বছর তারা চাকরি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ ৩৩টি সহকারী সুপারের পদ খালি রয়েছে বর্তমানে। বাংলাদেশ পিটিআই কর্মকর্তা সমিতি সূত্র জানায়, প্রচলিত নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী দীর্ঘ ২৬ বছর পদোন্নতিবঞ্চিত পিটিআই ইন্সট্রাক্টরগণ। এ পদগুলোতে পদায়ন করা খুবই স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত বিষয়। কিন্তু ৬৬টি সহকারী সুপারের জিও জারিসহ সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও নবসৃষ্ট সহকারী সুপারের পদসহ ১০১টি শূন্য পদের মধ্যে ৬৮ জনকে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অজ্ঞাত কারণে বাকি ৩৩টি পদে পদায়ন করা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, নিয়োগ বিধিবহির্ভূত ২০০৫ সালে প্রজেক্ট থেকে রাজস্ব খাতে আত্মীকৃত এবং ২০১২ সালে নিয়মিতকরণ করা হয় যারা মূলত ১৭ বছরের জুনিয়র তাদের জন্য পদ সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা আদৌ বিধিসম্মত নয়।
পদগুলোতে পদায়ন না করায় একদিকে পিটিআই ইন্সট্রাক্টরগণের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে অন্যদিকে সরকারের এ সাফল্যটি দৃশ্যমান হচ্ছে না। যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয় বলে কর্মকর্তারা মনে করেন। পিটিআইতে ২য় সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদ সৃষ্টি হওয়ার ফলে দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত পিটিআই ইন্সট্রাক্টরদের মধ্যে একটি প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সহকারী সুপারের শূন্য পদে দ্রুত পদায়ন হলে ইন্সট্রাক্টরগণ নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রেরণা পাবেন যা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে তথা বর্তমান সরকারের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। তাদের প্রত্যাশা সিনিয়র সচিব এবং মহাপরিচালক দ্রুততম সময়ের মধ্যে পিটিআই ইন্সট্রাক্টরগণকে পদোন্নতি প্রদান করে দীর্ঘ দিনের হতাশা থেকে মুক্তি প্রদান করবেন। বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দীর্ঘ মেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষক তৈরির কাজটি করে থাকে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)। দীর্ঘ পথচলায় পিটিআই কর্মকর্তাগণের প্রাপ্তি যেমন রয়েছে তেমনি না পাওয়ার বেদনাও কম নয়। উচ্চতর পদের স্বল্পতার কারণে দীর্ঘদিন পদোন্নতিবঞ্চিত থাকা পিটিআই ইন্সট্রাক্টরদের প্রধান একটি সমস্যা। এমনকি কোনো কোনো পিটিআই ইন্সট্রাক্টরকে সমগ্র চাকরি জীবনে কোনো প্রকার পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যেতে হয়, যা খুবই দুঃখজনক। এক সময় প্রতিটি পিটিআইতে ইন্সট্রাক্টর সংখ্যা ছিল ১০ জন। প্রশিক্ষণের পরিধি ও প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরবর্তীতে সে সংখ্যা করা হয় ১২ জন এবং বর্তমানে প্রতিটি পিটিআইতে ইন্সট্রাক্টর সংখ্যা ১৭ জন। বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনের তাগিদে পিটিআইতে ইন্সট্রাক্টর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলেও উচ্চতর পদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়নি। ফলে পিটিআইতে ইন্সট্রাক্টরদের পদোন্নতির সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হতে থাকে। এ জন্য পিটিআই ইন্সট্রাক্টরদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল পিটিআইতে সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদের সংখ্যা বাড়ানো। পিটিআই ইন্সট্রাক্টরগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব দীর্ঘদিনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সম্প্রতি বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার দেশের ৬৬টি পিটিআইতে ২য় সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদ সৃজন করে। যা প্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। দীর্ঘ প্রায় ১ যুগেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর সিনিয়র সচিব এবং বাংলাদেশ পিটিআই কর্মকর্তা সমিতির আন্তরিক প্রচেষ্টায় পিটিআইসমূহে ২য় সহকারী সুপারিনটেনডেন্টের যে পদ সৃষ্টি হয়েছে তা বর্তমান সরকারের একটি সাফল্য বা অর্জন। গত ৩০শে সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরগণ পিটিআই’র সরকারি সুপারিনটেনডেন্ট/সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সমমর্যাদা দাবি করে পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট/ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতি প্রদানের জন্য সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট ৬ জনকে বিবাদী করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার নম্বর ৯৮৩৬/২০১৮। এ মামলায় আদালত পিটিআই’র সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট/সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারগণ কর্তৃক ইউআরসি পরিদর্শন কার্যক্রম রহিত করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করেন। এ বিষয়ে অধিদপ্তর আদালতের নির্দেশনা অনুসারে মাঠ পর্যায়ে একটি পত্র প্রেরণ করে। ওই মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. তাজুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন,  বাকি যে শূন্য পদগুলো আছে তা দ্রুতই পূরণ করা হবে। পদোন্নতি নীতিমালা অনুসারে। আগের যে বিধি রয়েছে, তা সংশোধন করে শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

reza

২০২০-১০-২২ ০৫:২১:৫৯

দ্বন্দ্ব দ্বন্দের জন্ম দেয়। সরকারী প্রতিষ্ঠান কারো বাবার পোইত্রিক সম্পত্তি নয়। সময়ের দাবী বিবেচনা করে সকলের ছাড় দেয়া উচিত। সরকারী বিধি অণুসরণ করে মতামত ব্যক্ত করা উচিত।

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

নারায়ণগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, শঙ্কায় মা

২৩ নভেম্বর ২০২০

নারায়ণগঞ্জে ঘরের ভেতর জমে থাকা গ্যাস থেকে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। এরমধ্যে হাসপাতালে ...

নয় দফা দাবি সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ কর্মকর্তাদের

২২ নভেম্বর ২০২০

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসহ নানা বৈষম্য দীর্ঘদিনের। এসব বৈষম্য নিরসনে বারবার দাবি জানানো হলেও ...



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status