রায়হান খুনের কারণ অজানা নানা রহস্য

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

প্রথম পাতা ২০ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪০

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কেন খুন হয়েছেন রায়হান- এ প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র ইন্সপেক্টর মুহিদুল ইসলামও এ প্রশ্নে নীরব। এখনো সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তবে- ফাঁড়িতে নির্যাতনের বিষয়টি ইতিমধ্যে পরিষ্কার হয়েছে। প্রধান সন্দেহভাজন ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এস আই আকবর ভূঁইয়ার খোঁজ মিলছে না। একমাত্র এস আই আকবরই বলতে পারবে কেন খুন করা হয়েছে রায়হানকে। তাকে লাগালে না পাওয়ার কারণে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পিবিআই সূত্র। অন্যদিকে- পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে কেন নির্যাতন করে খুন করা হলো সেই প্রশ্নের উত্তরও জানা নেই মা সালমা বেগমের।
তার সন্দেহ- এই খুনের পেছনে বিশাল কালো পাহাড় রয়েছে। এ কারণে খুনের ঘটনা নিয়ে নানা টালবাহানা করছে পুলিশ। পুলিশে নাটকীয়তায় নানা রহস্য দেখা দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে- টাকার জন্যই তার ছেলেকে খুন করা হয়নি বলে মনে করেন তিনি। জানান- ‘আমরা তো টাকা দিয়ে পাঠিয়েছিলাম। টাকার জন্য হলে তো তারা টাকা নিয়ে রায়হানকে ফেরত দিয়ে দিতো।’ ১১ই অক্টোবর রাতে সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় পুলিশ। খুনের এ ঘটনাটি নিয়ে প্রথমে পুলিশ নাটক করে। তারা খুনের ঘটনাটিকে ‘গণপিটুনির’ ঘটনা বলে প্রচার করে। তবে- ঊর্ধ্বতনদের তদন্তের ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে- ঘটনার দিন রাতে সুস্থ অবস্থায় রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশ নিয়ে এসেছিলো। এবং ভোরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি এএসআই আশেক এলাহীসহ তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। আর বরখাস্ত হওয়ার দিন থেকেই এস আই আকবর ভূঁইয়া পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- আকবর যেহেতু পুলিশ কর্মকর্তা এ কারণে সে তার মোবাইল ফোন পর্যন্ত সঙ্গে রাখেনি। কারো সঙ্গে সে যোগাযোগ করছে না। দেশের অভ্যন্তরে তার অবস্থানের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি। এ কারণে আকবর পুলিশের নাগালের বাইরে রয়েছে। আর তাকে গ্রেপ্তার না করলে আলোচিত এ ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি। সিলেটের যুবক রায়হান হত্যার ঘটনায় এখনো মামলার এজাহারভুক্ত কোনো আসামি নেই। পুলিশও কাউকে গ্রেপ্তার করছে না। এ কারণে এখনো বলা যাচ্ছে না কারা হবে এই মামলার আসামি। তবে- ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত সংস্থা পিবিআই কাজ করে যাচ্ছে। রায়হানকে আটক করা হয়েছিলো সিলেটের কাস্টঘর থেকে। কাস্টঘরের সুইপার কলোনির দুই সদস্যের বক্তব্য এরইমধ্যে পিবিআই গ্রহণ করেছে। পিবিআইয়ের কাছে সুইপাররা জানিয়েছেন- ধরে নেয়ার কিছুক্ষণ আগে রায়হান দৌড়ে সুইপার কলোনিতে ঢুকেছিলো। আর পুলিশ সেখান থেকে সুস্থ অবস্থায় ধরে নিয়ে যায়। তবে- পুলিশের হাতে আটকের সময়ও রায়হান বলেছে- সে চোর কিংবা ডাকাত না। তাকে অযথা আটক করা হচ্ছে। কাস্টঘরের সুইপাররা জানিয়েছেন- পুলিশ এ সময় মারমুখী আচরণ করার কারণে তারা ভয়ে কোনো কথা বলেননি। এ সময় পুলিশ এক সুইপারকেও চড়-থাপ্পড় মেরেছিলো। এ কারণে সুইপাররা রায়হান আটকের সময় কোনো কথা বলেননি। পিবিআইয়ের তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- রায়হান হত্যার ঘটনায় বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশের অন্তত ৬ জন সদস্যকে পিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এ ছাড়া পিবিআই কর্মকর্তারা মামলার তদন্তের জন্য সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেছেন। তবে- এ পর্যন্ত পাওয়া কোনো সাক্ষীই বলতে পারেননি কেন নির্যাতন করা হয়েছিলো রায়হানকে।
আদালতে ৩ পুলিশের সাক্ষ্য গ্রহণ: সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনের ফলে রায়হান আহমদ নিহতের ঘটনায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩ পুলিশ সদস্য। সাক্ষ্য দেয়া পুলিশ সদস্যরা বরখাস্ত কিংবা প্রত্যাহারের তালিকায় নেই। তারা ঘটনার সময় ফাঁড়ির বাইরে দায়িত্বে ছিলেন। সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর আদালতে বিচারক মো. জিহাদুুর রহমানের আদালতে পুলিশ কনস্টেবল দেলোয়ার, সাইদুর ও শামীম এ সাক্ষ্য প্রদান করেন। এই তিনজনই সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে কর্মরত রয়েছেন। রায়হানকে নির্যাতনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এই তিন কনস্টেবল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম ৩ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের তথ্য নিশ্চিত করলেও তারা আদালতে কি বলেছেন এবং কারো নাম বলেছেন কী না এ ব্যাপারে কিছু জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তবে- আদালত থেকে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন- এক সপ্তাহ সময় দেন। সব বলবো। এখনো বলার মতো কিছু হয়নি।’ এস আই আকবর গ্রেপ্তারে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা: প্রধান অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ধরিয়ে দিলে বা গ্রেপ্তার করতে পারলে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গোলাপগঞ্জের বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সামাদ খান। তিনি তার ঘোষণায় বলেন- বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করেছে রায়হান আহমদ। তার নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত এস আই আকবরকে ৭২ ঘণ্টার ভেতরে যে ধরিয়ে দিতে পারবেন অথবা প্রশাসনের যে আকবরকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন তাকে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

জামাল

২০২০-১০-১৯ ১৬:৩৭:৩৪

পুলিশ দিয়ে পুলিশের বিচার কি করে হয়।ফাড়িতে কি কোন আর পুলিশ ছিল না নিযা'তনের সময় সব কটাকে ডিম থেরাপি দিলে সব বের হবে

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

শনাক্ত সাড়ে চার লাখ ছাড়ালো

মৃত্যু ঝুঁকিতেও হেঁয়ালিপনা

২৫ নভেম্বর ২০২০

বাইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন

তার পরিচয় তাদের পররাষ্ট্রনীতি

২৪ নভেম্বর ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status