খুলনায় পুলিশ-পাটকল শ্রমিক সংঘর্ষ পুলিশসহ আহত ১৫

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে

শেষের পাতা ২০ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২১

বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর দাবিতে খুলনার আটরা শিল্পাঞ্চলের ইস্টার্ন গেটে মহাসড়ক অবরোধ করে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ। পুলিশ তাদের মহাসড়ক থেকে তুলে দেয়। এরপর শ্রমিকরা প্রতিরোধ করলে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইট-পাটকেল, লাঠিচার্জ ও টিয়ার সেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন পুলিশসহ ১৫/১৬ শ্রমিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে। গতকাল বেলা ১১টা থেকে ইস্টার্ন গেটে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ শুরু করে শ্রমিকরা।
১১ মিনিট পর পুলিশ এসে তাদের তুলে দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে ২ রাউন্ড শর্টগান ও ৭ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। আহত শ্রমিকদের মধ্যে সাতজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন-নাজমা খাতুন, খাদিজা বেগম, হাফিজা বেগম, সুমি রায়, শেফালী বালা, সুচিত্রা বিশ্বাস ও সাফিয়া।  
অবিলম্বে বন্ধ ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু, আধুনিকায়ন, অবসরপ্রাপ্ত, কর্মরত, বদলি, অস্থায়ী সব শ্রমিকের বকেয়া পাওনা এককালীন পরিশোধ করাসহ ১৪ দফা দাবিতে সকাল ১০টায় ইস্টার্ন জুট মিল গেটে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক নেতারা ও শ্রমিকরা একত্র হয়ে সমাবেশ করেন। পরে তারা খুলনা-যশোর হাইওয়ের আটরা শিল্পাঞ্চলের পথ অবরোধ করেন। এ সময় খুলনামুখী গাড়ি আটকা পড়ে এবং খুলনা থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো বিকল্প পথ ধরে চলাচল করে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। তারা পরে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ উঠিয়ে নেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু শ্রমিকরা তা মানতে রাজি হননি। পরে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ ও ধাওয়া দিয়ে তাদেরকে স্টার জুট মিলের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয় পুলিশ।
পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের নেতারা বলেন, বিজিএমসি’র দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে পাটকলে লোকসান হয়েছে। লুটপাটের জন্যই পাটকল ও পাটশিল্প আজ ধ্বংসের পথে। অথচ বিজিএমসি’র দুর্নীতি ও লুটপাটের ফলে সৃষ্ট লোকসানের দায় সাধারণ পাটকল শ্রমিকদের ওপর চাপাচ্ছে। দুর্নীতিবাজদের অন্যায় শাস্তির ফল ভোগ করছেন শ্রমিকেরা। অবিলম্বে পাটকল চালুর দাবি জানান তারা।
শ্রমিক নেতারা আরো জানান, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি পাটকল বন্ধ করে দেয়ায় অনেক শ্রমিকের জীবন চলছে পেশার বদল ঘটিয়ে মানবেতরভাবে। কর্মহারা এই শ্রমিকদের কেউ কেউ সহজ পেশা হিসাবে রিকশা চালাচ্ছেন। কেউবা ফল বিক্রেতা কিংবা নির্মাণ শ্রমিকের কাজেও নেমেছেন। আর এখনো কাজ জোগাড় করতে না পেরে বেকার জীবন পার করছেন অনেকে।
ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেয়া গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের সদস্য মুনীর চৌধুরী সোহেল বলেন, বিনা উস্কানিতে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে অনেক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, বিজিএমসি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি এবং ভ্রান্তনীতির কারণে পাটশিল্পে লোকসান হচ্ছে। লোকসানের এই দায় নিষ্ঠুরভাবে শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ খেলা বন্ধ করতে হবে। লুটপাটের এ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। ২৫টি পাটকল বন্ধ করা সরকারের সিদ্ধান্ত।
পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক এডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ অবরোধ শুরু করেন। পুলিশ সবাইকে সরিয়ে দেয়ার পর উত্তজনা সৃষ্টি হয়। এরপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপে নারী শ্রমিকসহ ১০/১৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে আহমেদ তাসনিম শ্যামলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এডিসি (উত্তর) সোনালী সেন বলেন, শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর হয়।  

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

মাস্ক

জেনেও ভুল করছে মানুষ

২৫ নভেম্বর ২০২০

পৌর ও ইউনিয়ন নির্বাচন

সবার টার্গেট দলীয় প্রতীক

২৫ নভেম্বর ২০২০

মোংলা পোর্টে কন্টেইনার ভেঙে চুরি

গোয়েন্দা জালে সিন্ডিকেট সদস্যরা

২৪ নভেম্বর ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status