তিন সন্তান ও স্ত্রীর হাতে খুন

সম্পত্তিই ছিল লাল মিয়ার কাল!

স্টাফ রিপোর্টার

এক্সক্লুসিভ ২০ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার

রাজধানীর হাজারীবাগ দক্ষিণ বসিলা ব্রিজের পাশে তাদের নিজেদের বাড়ি। সেখানে লাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি তিন তলা বাড়ির দোতলায় থাকতেন। এই বাড়ির আশেপাশে আরো কয়েকটি বাড়ি ও ফ্ল্যাট আছে তার। মোটাদাগে সম্পদশালী। এইসব সম্পদ আর বাড়ি ভাড়া আদায় নিয়ে নিয়মিত জোরজবস্তি হতো বাবা ও সন্তানদের সঙ্গে। এসবে প্রশ্রয় দিতেন তার স্ত্রীও। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, বাড়িতে তিন ছেলে আর স্ত্রী নিয়ে থাকতেন তিনি। মাস ছয়েক আগে এসব বিষয় নিয়ে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আলাদা হয়ে যান লাল মিয়া।
ফলে স্ত্রী-সন্তানরা তিন তলার বাড়িটিতে শেষ তলায় থাকতেন। তিনি থাকতেন দ্বিতীয় তলায়। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার তিন ছেলে একই বাড়িতে আলাদা থাকতেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী আরজুদা বেগমকে তালাক দেন লাল মিয়া। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী আরজুদাও একই বাড়িতে থাকতেন। ফলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরো জটিল হতে থাকে। কিন্তু সন্তানরা বাড়ি ভাড়া বা ফ্ল্যাট দখল করে তাকে কোণঠাসা করে রাখছিলেন বেশ কয়েকদিন ধরে। এসবের জের ধরে তিন সন্তান মিলে ছুরি দিয়ে তাদের বাবা লাল মিয়াকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটে। নিহত লাল মিয়ার ছোট ভাই শহর আলী সাতজনকে আসামি করে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে আসামি করা হয়, তিন ছেলে ও তাদের স্ত্রী এবং লাল মিয়ার স্ত্রীকে। এদের মধ্যে লামিয়া নামে এক গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শহর আলী এই প্রতিবেদককে জানান, দক্ষিণ বসিলা ব্রিজের পাশে তাদের নিজেদের বাড়ি। লাল মিয়া তিনতলা বাড়ির ২য় তলায় স্ত্রী আরজুদা বেগমকে নিয়ে থাকতেন। আর তিন ছেলে জহিরুল ইসলাম, সাজ্জাদুল ও মিলন ওই বাড়ির অন্য ফ্ল্যাটে থাকেন। ৭-৮ মাস আগে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে তালাক দেন লাল মিয়া। প্রায়ই স্ত্রী ও ছেলেদের সঙ্গে লাল মিয়ার ঝগড়া হতো। ঘটনার দিন দুপুরেও ঝগড়া বাধলে তিন ছেলে লাল মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এ সময় তাদের মা দরজায় দাঁড়িয়ে পাহারা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে লাল মিয়াকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে লাল মিয়া বোনের অংশের একটি ফ্ল্যাট কিনে নেন। এ নিয়ে আরজুদা বেগমের সঙ্গে তার ঝগড়া লেগেই থাকতো। ঘটনার দিন লাল মিয়া আরজুদাকে বলেন, তিনি আরেকটি বিয়ে করে অন্য ফ্ল্যাটে থাকবেন। এবং তারা যেন তাদের মতো করে থাকেন। এমন কথা বলার পরই ক্ষেপে যান আরজুদা বেগম। পরে উপস্থিত সন্তানরা লাল মিয়ার গলায় গামছা পেঁচিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়। পরে বুকে ছুরিকাঘাত করে। অভিযোগ রয়েছে, এমন সময় লাল মিয়ার স্ত্রী আরজুদা বেগম দরজায় পাহারা দিচ্ছিলেন, এই ফাঁকে নিরাপদে তিন সন্তান মিলে হত্যা করে তাদের বাবাকে। ঘটনার পর থেকে আরজুদা ও তার তিন ছেলে পলাতক রয়েছেন।
এলাকাবাসী বলছেন, তিন ছেলে মায়ের পক্ষেই ছিলেন। মায়ের পক্ষ হয়ে বাবাকে নানাভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছিলেন তারা। শুধু তাই নয়, বাড়ি ভাড়া নিজেদের কব্জায় নিতে লাল মিয়ার সঙ্গে সন্তানদের বিভেদ ছিল কয়েক বছর ধরে। ওই বাড়ি ছাড়াও আশেপাশে বাড়ি আছে লাল মিয়ার। সে বাড়িগুলো থেকে ছেলেরা জোরপূর্বক ভাড়া তুলতেন, কিন্তু বাবাকে দিতেন না। লাল মিয়ার ছোট ভাই শহর আলী অভিযোগ করেন, লাল মিয়ার বাড়ির পাশে তার ও তার বড় ভাই আবুল বাসারের বাড়ি। কিছুদিন ধরে স্ত্রী ও সন্তানেরা লাল মিয়ার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেয়ার পাঁয়তারা করছিলেন। ঘটনার দিন তিনটার পর এসব নিয়ে ছেলেদের সঙ্গে লাল মিয়ার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে গোঙানির শব্দে তিনি ছুটে গিয়ে লাল মিয়াকে দোতলায় রক্তাক্ত ও গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় পান। তার পেটে, বুকে ও পিঠে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। হাজারীবাগ-ধানমণ্ডি অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহীল কাফি বলেন, লাল মিয়া আরেকটি বিয়ে করবেন বলে ভাবছিলেন। তাই তিনি বাড়ির পাশেই একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। ওই ফ্ল্যাটের দখল নিতে তার সন্তানরা মরিয়া হয়ে ওঠেন। স্ত্রী ও সন্তানরা গ্রেপ্তার হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সম্পত্তির দখল নিতেই লাল মিয়াকে শ্বাসরোধের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তার স্ত্রী ও সন্তানেরা। এদিকে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, লাল মিয়ার ছোট ভাই শহর আলী বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তাদের মধ্যে লাল মিয়ার পুত্রবধূ লামিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

বিদ্যালয়ে টিকার অগ্রাধিকার চায় সংসদীয় কমিটি

৪ ডিসেম্বর ২০২০

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদেরকে করোনার  টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ...



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status