ছোট্ট রাসেল ছিল এই স্কুলে, যাকে বাঁচতে দেয়া হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ১৯ অক্টোবর ২০২০, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০৪

জাতির পিতার কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা আর যাতে না ঘটে সেজন্য সরকার শিশুদের জন্য একটি ভবিষ্যৎ রচনায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শেখ রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক সেটাই আমরা চাই। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন। এই স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেক ঘরে পৌঁছাবে এবং প্রতিটি শিশু লেখাপড়া শিখে আগামী দিনে এদেশের কর্ণধার হবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জাতির পিতার কনিষ্ঠপুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে রাসেলের জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের ১৮ই অক্টোবর রাসেলের জন্ম।
কিন্তু তার জীবন শেষ হয়ে যায়, একটি ফুল কুঁড়িতেই শেষ হয়ে যায়, ’৭৫-এর ১৫ই আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে তাকে নির্মমভাবে চিরবিদায় নিতে হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে তার (রাসেলের) বিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ রাসেলের ‘ম্যুরাল’ উন্মোচন করেন এবং ‘শহীদ শেখ রাসেল ভবন’ উদ্বোধন করেন। ভার্চ্যুয়াল এই অনুষ্ঠানে তিনি শহীদ শেখ রাসেলের ওপর নির্মিত এনিমেটেড ডকুমেন্টারি ‘বুবুর দেশ’-এর প্রদর্শনী এবং শেখ রাসেলের জীবনীর ওপর প্রকাশিত বই ‘শেখ রাসেল আমাদের আবেগ’ এবং ‘স্মৃতির পাতায় শেখ রাসেল’ শীর্ষক দু’টি বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করেন। শেখ রাসেল শিশু-কিশোর সংসদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে প্রচারিত ‘শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কার্যক্রম সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র অবলোকন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানটির সঙ্গে একাধারে প্রধানমন্ত্রীর গণভবন, শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণ এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংযুক্ত ছিল। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রান্তে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করেন। শেখ রাসেল অনলাইন দাবা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার এবং সংগঠনটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তিনি ল্যাপটপও বিতরণ করেন। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রকিবুর রহমান, মাহমুদুস সামাদ এমপি, কেএম শহীদুল্লাহসহ সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে তার (শেখ রাসেল) স্কুলের সব শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা যে উদ্যোগটা নিয়েছেন, সেখানে রাসেল আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী যুগ যুগ ধরে যারা পড়াশোনা করবে তারা এটুকু শিখবে, এইটুকু জানবে যে- একটি ছোট্ট শিশু ছিল এই স্কুলে, যে শিশুটিকে বাঁচতে দেয়া হয়নি। আমি শিশুদের জন্য বলবো- আমাদের শিশুরা দেশপ্রেমিক হবে, মানুষের মতো মানুষ হবে, মানুষের সেবা করবে এবং নিজেদেরকে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে। তিনি করোনাভাইরাসকালীন সতর্কতা হিসেবে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করা এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে স্কুল খুললেই সকলে আবার শ্রেণি কার্যক্রমে যথাযথভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদেরকে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি তাদের মধ্যকার সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং খেলাধুলার সুযোগ করে দেয়ারও আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি, করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ। এটা সত্যিই যেকোনো শিশুর জন্য কষ্টকর। কিন্তু, এমন অস্বাভাবিক অবস্থা থাকবে না। তবুও আমি তাদের বলবো, মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। ঘরে বসে লেখাপড়া করা এবং যারা আর্ট করতে পারে, খেলাধুলা করতে পারে- যে যেটুকু পারে, সেটা তাদের করতে হবে এবং নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখতে হবে। যখনই স্কুল খুলবে তখনই তারা (শিক্ষার্থীরা) যেন স্কুলে যেতে পারে এবং ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে সেদিকে বিশেষভাবে সবাইকে নজর রাখতে হবে। সরকারপ্রধান বলেন, বেশি লোক থাকলে আমি নিজেও সেখানে সবসময় মাস্ক পরে থাকি এবং সবাইকে আমি বলবো যেখানেই বেশি লোক সমাগম সেখানে সবাইকে মাস্ক পরে থাকতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা সবাইকে মেনে চলতে হবে, শরীরের প্রতি সকলেই যত্ন নেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা সকলেই পড়াশোনায় মনোযোগী হবে। আমার একটাই লক্ষ্য- বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে, এদেশের জন্য ৩০ লাখ শহীদ রক্ত দিয়েছে, দুই লাখ মা-বোন যে সম্ভ্রম দিয়েছে, সেকথা সব সময় আমাদের মনে রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, রোলার স্কেটিং ফেডারেশনকে তাদের চমৎকার ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসবের মধ্যদিয়ে মানুষ রাসেলকে জানতে পারবে, শিশুরাও জানতে পারবে। তার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য যে প্রকাশনা করা হয়েছে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, এদেশের শিশুদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা, দেশপ্রেমিক করা, দেশের সেবা করার মনভাব যাতে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে, তারা যেন সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠে, সেদিকে চিন্তা করেই এই সংগঠনটা তৈরি করা হয়েছিল। আজকে সারা বাংলাদেশব্যাপী এই সংগঠন, যে সংগঠনের অনেক ছেলেমেয়েই আজকে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে, অনেকে জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে, অনেকে রাজনীতিতে অবদান রেখে যাচ্ছে। তিনি শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, তারা প্রতিবছর মেধাবী এসএসসি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি খেলাধুলা, চিত্রকলা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ছেলেমেয়েদের মাঝে যে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে তা ভালোভাবে বিকশিত হবারও সুযোগ করে দিচ্ছে। তিনি শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। ‘রাসেল’ নামকরণটি তার মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার করা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতি রোমন্থনে বলেন, ‘আব্বা বার্ট্রান্ড রাসেলের খুব ভক্ত ছিলেন, রাসেলের বই পড়ে মাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। মা রাসেলের ফিলোসফি শুনে শুনে এত ভক্ত হয়ে যান যে, নিজের ছোট সন্তানের নাম রাসেল রাখলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবসময় বাবাকে হারানোর ভয়ে থাকতো রাসেল। আব্বা বাসায় থাকলে খেলাধুলার ফাঁকে একটু পর পর সে আব্বাকে দেখে যেত। বাবার আশেপাশে সে ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াতো। এভাবেই সে বড় হয়েছে। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর বাবাকে সে কাছে পেয়েছিল। তারপর তো সবই শেষ। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘রাসেলের স্বপ্ন ছিল সে সেনাবাহিনীর অফিসার হবে। গ্রামে গেলে বাচ্চাদের সে প্যারেড করাতো। রাসেলের ইচ্ছায় শিশুদের কাপড় দিতে হতো। ওর মনটা ছিল খুব উদার।
শেখ রাসেলের জন্মদিনে ১০০ ল্যাপটপ ও শিক্ষাবৃত্তি সাইফ পাওয়ারটেকের: এদিকে শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মদিনে ১০০ ল্যাপটপ ও ১ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন সংগঠনের উপদেষ্টা সাইফ পাওয়ারটেকের কর্ণধার তরফদার মো. রুহুল আমিন। করোনা মহামারির কারণে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, দিকনির্দেশক প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি আয়োজকদের ধন্যবাদ দেয়ার পাশাপাশি সংগঠন পরিচালনায় নানান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা তরফদার মো. রুহুল আমিন ছাড়াও তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের মহাসচিব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এবং সংগঠনের সভাপতি কেএম শহিদ উল্যা। অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা তরফদার মো. রুহুল আমিনকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Rasu

২০২০-১০-১৯ ০৯:৩০:৪৮

সৃষ্টিকর্তার কাছে ওই ছোট্ট প্রাণটির শান্তি কামনা করি। আর প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদনঃ ওই রকম হাজার ছোট্ট শিশুর প্রাণ ঝরে যাচ্ছে বিভিন্ন অবস্থাপনায় ; জীবন দুর্বিষহ হচ্ছে অসমতা ও পলিসির ফাদের কারণে। বিষয়টি একটু দেখবেন। সব প্রানের দাম একই।

Ahmed

২০২০-১০-১৯ ০৫:৫৫:৪৭

What the F she is taking, this POS and Khaled ruined this beautiful country

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

করোনার উপসর্গ

রোগীরা আসছেন সর্দি-কাশির চিকিৎসা নিতে

২ ডিসেম্বর ২০২০

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কত বছর- আপিল বিভাগ যা বলেছেন

২ ডিসেম্বর ২০২০

আমৃত্যু কারাদণ্ড নিয়ে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন সুপ্রিম ...

ভারত সীমান্তে ইয়াবা কারখানা

তৎপর বিজিবি তবুও থামছে না আমদানি

২ ডিসেম্বর ২০২০

স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

কক্সবাজার-কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

১ ডিসেম্বর ২০২০

তিন মাসে সর্বোচ্চ শনাক্ত

১ ডিসেম্বর ২০২০

দেশে করোনা শনাক্তের হার বেড়েছে। প্রায় তিন মাস পর গত ২৪ ঘণ্টায়  করোনা রোগী সর্বোচ্চ ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status