বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল পাষণ্ড ছেলে

হাটহজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

অনলাইন ১৭ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ৫:১৮

ষাটোর্ধ্ব আকলিমা বেগম দীর্ঘ দুই যুগ পূর্বে স্বামী সংসার ফেলে অন্য এক সংসার নিয়ে পালিয়ে যায়। আকলিমা বেগমের ওই স্বামীর সংসারে আবুল কালাম (৪৭) ও রুবি আকতার নামে দুটি সন্তান রয়েছে। মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সন্তানগুলোকে বড় করে তোলেন তিনি। বছর কয়েক আগে কন্যার বিয়ে হয়ে যায়। চলাফেরার নির্ভর করে তার ওপর। আকলিমা বেগমের নামে নিজস্ব প্লট থাকা সত্ত্বেও মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি। প্লটে রয়েছে সুন্দর একটি সেসিপাকা ঘর। যদিও ঘর তৈরিতে রয়েছে আকলিমা বেগমের কন্টিবিউশন।
কিন্তু ঠাঁই হয়েছে একটি জরাজীর্ণ রান্নার ঘরের এক কোণে। দীর্ঘ কয়েক বছর এভাবেই জীবনযাপন করছে। কিন্তু তার সেই খতিয়ান ভুক্ত জায়গায় সেমিপাকা ঘর তৈরি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে তার ছেলে। এতেই আকলিমা বেগম সন্তুষ্টি হয়ে জীবন পার করছে জরাজীর্ণ রান্নাঘরে। হঠাৎ সন্তানের সাথে সকালে মায়ের ঝগড়া, ক্ষিপ্ত হয়ে সেই আশ্রয়স্থল রান্নার ঘর থেকেও বের করে দেয় আদরের সন্তান আবুল কালাম ও তার স্ত্রী। অসহায় বৃদ্ধা অশ্রুসিক্ত নয়নে হাজির হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে।

এমন হৃদয় বিদারক ঘটনাটি চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার আদর্শগ্রামের দক্ষিণ পাহাড়ের মাছুম ফকিরের বাড়িতে ঘটে। অসহায় আকলিমা বেগমের অভিযোগ শুনে মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন। ঘটনাস্থলে সত্যতা পেয়ে আকলিমা বেগমের সেই ঘরে তুলে দিয়েছেন। আনন্দে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় বৃদ্ধা মহিলাটির মুখে হাসি ফুঁটেছে হারানো ঘর ফিরে পেয়ে।
বৃদ্ধা ওই মহিলাটি বলেন, আমি অসহায় দরিদ্র। আমার নিজস্ব জায়গা আছে, ছেলে মেয়ে থাকার পরেও জরাজীর্ণ রান্নার ঘরের এক কোণে আমার বসবাস প্রায় ৬/৭ বছর ধরে। তারপরেও আমি সন্তুষ্টি ছিলাম। শনিবার সকালে ছেলের সাথে ঝগড়া হওয়াতে সেই রান্নার ঘর থেকেও বের করে দেয়। আমার জিনিসপত্র সব বাইরে ফেলে দেয়। আমি নিরুপায় হয়ে ইউএনও স্যারের কাছে ছুটে গেলে তিনি আমার ঘরে আমাকে তুলে দেন। আমি অনেক খুশি।  

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার মানবজমিন কে জানান, গর্ভধারিণী বৃদ্ধা মাকে নিজের ঘর থেকে বের করে দেয়ার দুঃখজনক কথাগুলো শুনে দ্রুত ওই এলাকায় গিয়ে বৃদ্ধা মহিলাটিকে তার ঘরে তুলে দেই।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Faruque Ahmed

২০২০-১০-১৮ ০৯:১৯:০৯

Vai, Abul kashem , apnar dirgho comments er sathe purno sohomot janaschi. শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের শুরু থেকে এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য।

আবুল কাসেম

২০২০-১০-১৭ ০৮:০৮:০৩

এখানে মতামত দিতে গিয়ে আমার লেখার মধ্যে ভুল বশত সূরা লোকমানের একটি আয়াত সূরা বনী ইসরাইলের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলটির জন্য দুঃখীত। ভুলটি এখানে সংশোধন করে দেয়া হয়েছে। এবং লেখাটি সংশোধিত রূপে পুনরায় দেয়া হয়েছে। পিতা-মাতার সাথে খারাপ ব্যাবহার করা কবিরা গুনাহ। দুনিয়াতে যতো পাপ কাজ ও অন্যায়-অপরাধ সংঘটিত হয় তার পেছনের কারণ একটাই। তা হলো মানুষের মনে আল্লাহর ভয়, পরকালে জবাবদীহি করার চিন্তা না থাকা এবং আল্লাহর দরবারে নিজেকে পাপের জন্য দায়ী হওয়ার কথা ভুলে থাকার জন্য। এসবের মূলে রয়েছে কুরআনের শিক্ষা ও নিয়মিত চর্চা না থাকা। কুরআন মজিদ চর্চা থাকলে নিশ্চয়ই আল্লাহর নির্দেশ চোখে পড়তো। আল্লাহ তায়ালা বলেন " তোমার প্রতিপালক আদেশ করছেন, তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করো না এবং তোমাদের পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো, তাদের একজন কিংবা উভয়ই যদি তোমার সামনে বার্ধক্যে পৌঁছে তাহলে তাদের সাথে বিরক্তিসূচক কথা বলো না এবং কখনো তাদের ধমক দিয়ো না। তাদের সাথে সম্মানজনক ও ভদ্রজনোচিত কথা বলো। অনুকম্পায় তুমি তাদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো এবং বলো, হে আমার প্রতিপালক তাদের প্রতি তেমন দয়া করো, যেমনিভাবে তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছে।" সূরা বনী ইসরাইল। আয়াত-২৩,২৪। মহামহিম ন্যায় বিচারক আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, "স্মরণ করো যখন লোকমান তার ছেলেকে নসিহত করতে গিয়ে বললো, হে আমার ছেলে আল্লাহ তায়ালার সাথে শরিক করো না । নিশ্চয়ই শিরক্ হচ্ছে বড়ো জুলুম। আমি মানুষকে তাদের পিতামাতার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি, যেনো তাদের সাথে তারা ভালো ব্যবহার করে, কেননা তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং দুই বছর ধরে সে বুকের দুধ পান করে তবে ছেড়েছে। তুমি আমার শোকর ও পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করো। তোমাদের সবাইকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। যদি তারা উভয়ে তোমাকে কোনো কিছুকে আমার সাথে শিরক করার জন্য পীড়াপীড়ি করে, যে ব্যপারে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তাহলে তুমি তাদের কথা মানাবেনা। তবে দুনিয়ার জীবনে তুমি অবশ্যই তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে। তুমি কথা তো তারই শোনবে যে আমার অভিমুখী হয়ে আছে। অতপর আমার দিকেই তোমাদের ফিরে আসতে হবে। তখন তোমাদের আমি বলে দেবো দুনিয়ার জীবনে তোমারা কি কি কাজ করতে। (লোকমান আরো বলল ) হে বালক, যদি তোমার কোনো আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা যদি কোনো শিলাস্তরের ভেতর কিংবা আসমানসমূহেও লুকিয়ে থাকে, অথবা তা যদি লুকিয়ে থাকে জমিনের ভেতরে, তাও (বিচার দিবসে) আল্লাহ তায়ালা এনে হাজির করবেন। আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই সূক্ষ্মদর্শী এবং সকল বিষয় সম্যক অবগত। সে আরো বললো, হে বৎস তুমি সালাত কায়েম করো, মানুষদের ভালো কাজের আদেশ দাও ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখো। তোমার উপর কোনো বিপদ মুসিবত এসে পড়লে ধৈর্য ধারণ করো। বিপদে ধৈর্য ধারণ করা নিস্বন্দেহে একটি সাহসীকতাপূর্ণ কাজ। কখনো অহংকার বশে তোমার গাল ফুলিয়ে রেখে লোকদের অবজ্ঞা করো না এবং জমিনে কখনো ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে চলাচল করো না, নিস্বন্দেহে আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক উদ্ধত অহংকারীকেই অপছন্দ করেন। তুমি মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো, তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, কেননা আওয়াজ সমূহের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রীতিকর আওয়াজ হচ্ছে গাধার আওয়াজ।" সূরা লোকমান। আয়াত-১৩-১৯। এছাড়া রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। এক দিন এক লোক রাসূলের স. কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল আমার মা বৃদ্ধা ও অসুস্থ। আমি তাঁকে আমার কাঁধে তুলে নিয়ে হজ্জ করিয়েছি। এতে কী আমি তাঁর হক আদায় করতে পেরেছি ? জবাবে রাসূল স. বললেন , তুমি যদি তোমার বুকের চামড়া দিয়ে জুতা তৈরি করে তোমার মা 'কে দাও তবুও সে তোমাকে শিশু কালে যে দুধ পান করিয়েছে তার এক ফোঁটার হকও আদায় হবে না। এই হলো একটি সুস্থ সমাজ ও পরিবার গঠনের জন্য কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা। এরকম বহু আদেশ, নিষেধ ও শিক্ষামূলক নসিহত কুরআন ও হাদিসে রয়েছে। একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও সহমর্মি এবং উন্নত নৈতিক ও মানবিক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য কুরআন ও হাদিসের কালজয়ী এসকল শিক্ষা শিশু বেলা থেকেই চালু থাকলে দুনিয়ার জীবনটাই হয়ে যেতে পারে বেহেশতের একখানা টুকরো। সুতরাং শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের শুরু থেকে এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। এখানে মতামত দিতে গিয়ে আমার লেখার মধ্যে ভুল বশত সূরা লোকমানের একটি আয়াত সূরা বনী ইসরাইলের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলটির জন্য দুঃখীত। ভুলটি এখানে সংশোধন করে দেয়া হয়েছে। পিতা-মাতার সাথে খারাপ ব্যাবহার করা কবিরা গুনাহ। দুনিয়াতে যতো পাপ কাজ ও অন্যায়-অপরাধ সংঘটিত হয় তার পেছনের কারণ একটাই। তা হলো মানুষের মনে আল্লাহর ভয়, পরকালে জবাবদীহি করার চিন্তা না থাকা এবং আল্লাহর দরবারে নিজেকে পাপের জন্য দায়ী হওয়ার কথা ভুলে থাকার জন্য। এসবের মূলে রয়েছে কুরআনের শিক্ষা ও নিয়মিত চর্চা না থাকা। কুরআন মজিদ চর্চা থাকলে নিশ্চয়ই আল্লাহর নির্দেশ চোখে পড়তো। আল্লাহ তায়ালা বলেন " তোমার প্রতিপালক আদেশ করছেন, তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করো না এবং তোমাদের পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো, তাদের একজন কিংবা উভয়ই যদি তোমার সামনে বার্ধক্যে পৌঁছে তাহলে তাদের সাথে বিরক্তিসূচক কথা বলো না এবং কখনো তাদের ধমক দিয়ো না। তাদের সাথে সম্মানজনক ও ভদ্রজনোচিত কথা বলো। অনুকম্পায় তুমি তাদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো এবং বলো, হে আমার প্রতিপালক তাদের প্রতি তেমন দয়া করো, যেমনিভাবে তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছে।" সূরা বনী ইসরাইল। আয়াত-২৩,২৪। মহামহিম ন্যায় বিচারক আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, "স্মরণ করো যখন লোকমান তার ছেলেকে নসিহত করতে গিয়ে বললো, হে আমার ছেলে আল্লাহ তায়ালার সাথে শরিক করো না । নিশ্চয়ই শিরক্ হচ্ছে বড়ো জুলুম। আমি মানুষকে তাদের পিতামাতার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি, যেনো তাদের সাথে তারা ভালো ব্যবহার করে, কেননা তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং দুই বছর ধরে সে বুকের দুধ পান করে তবে ছেড়েছে। তুমি আমার শোকর ও পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করো। তোমাদের সবাইকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। যদি তারা উভয়ে তোমাকে কোনো কিছুকে আমার সাথে শিরক করার জন্য পীড়াপীড়ি করে, যে ব্যপারে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তাহলে তুমি তাদের কথা মানাবেনা। তবে দুনিয়ার জীবনে তুমি অবশ্যই তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে। তুমি কথা তো তারই শোনবে যে আমার অভিমুখী হয়ে আছে। অতপর আমার দিকেই তোমাদের ফিরে আসতে হবে। তখন তোমাদের আমি বলে দেবো দুনিয়ার জীবনে তোমারা কি কি কাজ করতে। (লোকমান আরো বলল ) হে বালক, যদি তোমার কোনো আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা যদি কোনো শিলাস্তরের ভেতর কিংবা আসমানসমূহেও লুকিয়ে থাকে, অথবা তা যদি লুকিয়ে থাকে জমিনের ভেতরে, তাও (বিচার দিবসে) আল্লাহ তায়ালা এনে হাজির করবেন। আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই সূক্ষ্মদর্শী এবং সকল বিষয় সম্যক অবগত। সে আরো বললো, হে বৎস তুমি সালাত কায়েম করো, মানুষদের ভালো কাজের আদেশ দাও ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখো। তোমার উপর কোনো বিপদ মুসিবত এসে পড়লে ধৈর্য ধারণ করো। বিপদে ধৈর্য ধারণ করা নিস্বন্দেহে একটি সাহসীকতাপূর্ণ কাজ। কখনো অহংকার বশে তোমার গাল ফুলিয়ে রেখে লোকদের অবজ্ঞা করো না এবং জমিনে কখনো ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে চলাচল করো না, নিস্বন্দেহে আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক উদ্ধত অহংকারীকেই অপছন্দ করেন। তুমি মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো, তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, কেননা আওয়াজ সমূহের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রীতিকর আওয়াজ হচ্ছে গাধার আওয়াজ।" সূরা লোকমান। আয়াত-১৩-১৯। এছাড়া রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। এক দিন এক লোক রাসূলের স. কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল আমার মা বৃদ্ধা ও অসুস্থ। আমি তাঁকে আমার কাঁধে তুলে নিয়ে হজ্জ করিয়েছি। এতে কী আমি তাঁর হক আদায় করতে পেরেছি ? জবাবে রাসূল স. বললেন , তুমি যদি তোমার বুকের চামড়া দিয়ে জুতা তৈরি করে তোমার মা 'কে দাও তবুও সে তোমাকে শিশু কালে যে দুধ পান করিয়েছে তার এক ফোঁটার হকও আদায় হবে না। এই হলো একটি সুস্থ সমাজ ও পরিবার গঠনের জন্য কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা। এরকম বহু আদেশ, নিষেধ ও শিক্ষামূলক নসিহত কুরআন ও হাদিসে রয়েছে। একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও সহমর্মি এবং উন্নত নৈতিক ও মানবিক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য কুরআন ও হাদিসের কালজয়ী এসকল শিক্ষা শিশু বেলা থেকেই চালু থাকলে দুনিয়ার জীবনটাই হয়ে যেতে পারে বেহেশতের একখানা টুকরো। সুতরাং শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের শুরু থেকে এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য।

আবুল কাসেম

২০২০-১০-১৭ ০৬:৫২:৫০

পিতা-মাতার সাথে খারাপ ব্যাবহার করা কবিরা গুনাহ। দুনিয়াতে যতো পাপ কাজ ও অন্যায়-অপরাধ সংঘটিত হয় তার পেছনের কারণ একটাই। তা হলো মানুষের মনে আল্লাহর ভয়, পরকালে জবাবদীহি করার চিন্তা না থাকা এবং আল্লাহর দরবারে নিজেকে পাপের জন্য দায়ী হওয়ার কথা ভুলে থাকার জন্য। এসবের মূলে রয়েছে কুরআনের শিক্ষা ও নিয়মিত চর্চা না থাকা। কুরআন মজিদ চর্চা থাকলে নিশ্চয়ই আল্লাহর নির্দেশ চোখে পড়তো। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "স্মরণ করো, যখন লোকমান তার ছেলেকে নসিহত করতে গিয়ে বললো, হে বৎস আল্লাহ তায়ালার সাথে শরিক করো না, নিশ্চয়ই শিরক্ হচ্ছে সবচেয়ে বড়ো জুলুম। তোমার প্রতিপালক আদেশ করছেন, তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করো না এবং তোমাদের পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো, তাদের একজন কিংবা উভয়ই যদি তোমার সামনে বার্ধক্যে পৌঁছে তাহলে তাদের সাথে বিরক্তিসূচক কথা বলো না এবং কখনো তাদের ধমক দিয়ো না। তাদের সাথে সম্মানজনক ও ভদ্রজনোচিত কথা বলো। অনুকম্পায় তুমি তাদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো এবং বলো, হে আমার প্রতিপালক তাদের প্রতি তেমন দয়া করো, যেমনিভাবে তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছে।" সূরা বনী ইসরাইল। আয়াত-২৩,২৪। মহামহিম ন্যায় বিচারক আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, "আমি মানুষকে তাদের পিতামাতার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি, যেনো তাদের সাথে তারা ভালো ব্যবহার করে, কেননা তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং দুই বছর ধরে সে বুকের দুধ পান করে তবে ছেড়েছে। তুমি আমার শোকর ও পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করো। তোমাদের সবাইকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। যদি তারা উভয়ে তোমাকে কোনো কিছুকে আমার সাথে শিরক করার জন্য পীড়াপীড়ি করে, যে ব্যপারে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তাহলে তুমি তাদের কথা মানাবেনা। তবে দুনিয়ার জীবনে তুমি অবশ্যই তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে। তুমি কথা তো তারই শোনবে যে আমার অভিমুখী হয়ে আছে। অতপর আমার দিকেই তোমাদের ফিরে আসতে হবে। তখন তোমাদের আমি বলে দেবো দুনিয়ার জীবনে তোমারা কি কি কাজ করতে। (লোকমান আরো বলল ) হে বালক, যদি তোমার কোনো আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা যদি কোনো শিলাস্তরের ভেতর কিংবা আসমানসমূহেও লুকিয়ে থাকে, অথবা তা যদি লুকিয়ে থাকে জমিনের ভেতরে, তাও (বিচার দিবসে) আল্লাহ তায়ালা এনে হাজির করবেন। আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই সূক্ষ্মদর্শী এবং সকল বিষয় সম্যক অবগত। সে আরো বললো, হে বৎস তুমি সালাত কায়েম করো, মানুষদের ভালো কাজের আদেশ দাও ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখো। তোমার উপর কোনো বিপদ মুসিবত এসে পড়লে ধৈর্য ধারণ করো। বিপদে ধৈর্য ধারণ করা নিস্বন্দেহে একটি সাহসীকতাপূর্ণ কাজ। কখনো অহংকার বশে তোমার গাল ফুলিয়ে রেখে লোকদের অবজ্ঞা করো না এবং জমিনে কখনো ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে চলাচল করো না, নিস্বন্দেহে আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক উদ্ধত অহংকারীকেই অপছন্দ করেন। তুমি মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো, তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, কেননা আওয়াজ সমূহের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রীতিকর আওয়াজ হচ্ছে গাধার আওয়াজ।" সূরা লোকমান। আয়াত-১৩-১৯। এছাড়া রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। এক দিন এক লোক রাসূলের স. কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল আমার মা বৃদ্ধা ও অসুস্থ। আমি তাঁকে আমার কাঁধে তুলে নিয়ে হজ্জ করিয়েছি। এতে কী আমি তাঁর হক আদায় করতে পেরেছি ? জবাবে রাসূল স. বললেন , তুমি যদি তোমার বুকের চামড়া দিয়ে জুতা তৈরি করে তোমার মা 'কে দাও তবুও সে তোমাকে শিশু কালে যে দুধ পান করিয়েছে তার এক ফোঁটার হকও আদায় হবে না। এই হলো একটি সুস্থ সমাজ ও পরিবার গঠনের জন্য কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা। এরকম বহু আদেশ, নিষেধ ও শিক্ষামূলক নসিহত কুরআন ও হাদিসে রয়েছে। একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও সহমর্মি এবং উন্নত নৈতিক ও মানবিক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য কুরআন ও হাদিসের কালজয়ী এসকল শিক্ষা শিশু বেলা থেকেই চালু থাকলে দুনিয়ার জীবনটাই হয়ে যেতে পারে বেহেশতের একখানা টুকরো। সুতরাং শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের শুরু থেকে এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

মৃত্যু ৫৭০০ ছাড়ালো

একদিনে করোনায় প্রাণ গেলো ২৪ জনের, শনাক্ত ১৫৪৫

২১ অক্টোবর ২০২০

ধামরাইয়ে গভীর রাতে মসজিদের সামনে থেকে নবজাতক উদ্ধার

২১ অক্টোবর ২০২০

ঢাকার ধামরাইয়ে কালামপুর বাজার জামে মসজিদের সামনে থেকে গভীর রাতে জীবিত ৭ দিন বয়সী এক ...



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



বসনিয়ার জঙ্গলে বাংলাদেশিদের মানবেতর জীবন

বেঁচে থাকা দায়, তবুও দেশে ফিরতে নারাজ

রায়হানের মাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এসআই আকবর অবশ্যই ধরা পড়বে