ভিক্ষার থলি হাতে নতুন মুখ

তামান্না মোমিন খান

এক্সক্লুসিভ ১৭ অক্টোবর ২০২০, শনিবার

করোনার ছোবল পাল্টে দিয়েছে মানুষের জীবন। বাধ্য হয়ে অনেকেই নেমেছেন রাস্তায়। ভিক্ষার থলি নিয়ে হাত পাতছেন মানুষের কাছে। গায়ে বোরকা। নেকাব দিয়ে মুখ ঢাকা একজন বয়স্ক মহিলা ফার্মগেটের ফুটপাথে বসে আছেন। হাতে ওষুধের খালি পাতা। খালি পাতা দেখিয়ে বলছেন বাবা-মায়েরা কিছু সাহায্য দিয়ে যান ওষুধ কিনবো। তা না হলে আমি বাঁচবো না।
অনেকেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন, কেউ কেউ সাহায্য দিচ্ছেন আবার কেউ না দিয়ে চলে যাচ্ছেন। দেখেই বোঝা যাচ্ছে এর আগে তিনি কখনো এভাবে সাহায্য চাননি। কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই বলেন, মা কিছু সাহায্য দেন। আমি ভিক্ষুক না। ঠেকায় পড়ে হাত পাততে হচ্ছে। এক সপ্তাহ হয়ে গেছে ওষুধ নেই। আমার হাই প্রেসার। ওষুধ না খেলে মাথা ঘোরে আর কেমন কেমন করে। মনে হয় আমি যেন মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছি। গ্যাস্টিকের ওষুধ, ডায়াবেটিসের ওষুধ সব শেষ হয়ে গেছে। ওষুধ না খেলে আমি বাঁচব না। নাম কি আপনার? বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে কিছুই বলতে রাজি নন তিনি। শুধু বারবার একটি কথাই বলছিলেন আমি ভিক্ষুক না। আমি ভিক্ষুক না। বাড়িতে না জানিয়ে বের হইছি। আমার ছেলে কিছু জানে না। থাকি ছেলের সংসারে। ছেলের এই মাস থেকে চাকরি নেই। করোনার পর থেকে অর্ধেক বেতন পাইতো আর এই মাসে ছাঁটাই কইরা দিছে। ছেলে, ছেলের বউ নাতি-নাতনি আর আমাকে নিয়া পাঁচজনের সংসার। আমার স্বামী মারা গেছে পাঁচ বছর আগে। করোনার আগে আমাদের কোনো অভাব ছিল না। ছেলে ভালো বেতন পাইতো। আর আমি বাড়ি বাড়ি গিয়া আরবি পড়াতাম। আমার আরবি পড়ানোর টাকা দিয়া ওষুধের খরচ চালাতাম। করোনায় আরবি পড়া বাদ দিছে মানুষ। এখন আর কেউ শুরু করতেছে না। ছেলের চাকরি নাই। এই অবস্থায় ছেলের কাছে ওষুধের টাকা কীভাবে চাই? তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় বাহির হইছি। যদি কেউ চিনে ফেলে, আমার ছেলের মান-সম্মান কিছু থাকবে না। আমাকে আর কেউ কোনোদিন এইখানে দেখেনি। ফার্মগেটের ফুটপাথে দীর্ঘদিন বাদাম বিক্রি করে সজল। সজল বলেন, এর আগে কোনোদিন এই মহিলাকে এই এলাকায় দেখিনি। দেখে তো ভালো ঘরের মনে হয়। এদিকে শরীর স্বাস্থ্য ভালো। বয়স চল্লিশের কোঠায়। নাম জসিম। এক মাস ধরে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছেন। ইন্দিরা রোড, রাজাবাজার ও তেজগাঁও কলেজের সামনে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করেন। জসিম বলেন, আগে একটা টাইলস্‌ কারখানায় কাজ করতাম। করোনার শুরু হওয়ার দুই মাস পর চাকরি চলে যায়। এরপর বাড়ি গেছিলাম। বাড়িতেও খাওয়ার কষ্ট। বন্যায় কোনো কাজ পাইনি। বউ-বাচ্চা বাড়িতে আছে। এক মাস আগে ঢাকা এসেছি। অনেক কারখানায় ঘুরছি কেউ কাজ দেন না। এখন বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করতে নেমেছি। আর রাতে সিজান মার্কেটের সামনে ঘুমাই। করোনা আমার সব শেষ করে দিছে।


আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

বিদ্যালয়ে টিকার অগ্রাধিকার চায় সংসদীয় কমিটি

৪ ডিসেম্বর ২০২০

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদেরকে করোনার  টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ...



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status