শামলাপুর চেকপোস্ট থেকে বন্দরবাজার ফাঁড়ি

প্রদীপ-আকবর একই সুতোয় গাঁথা

শামীমুল হক

মত-মতান্তর ১৬ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৭

টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদকে গুলি করে হত্যার রেশ এখনও মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি।  শিহরে উঠা এ ঘটনা গোটা দেশকে কাঁপিয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাস। শামলাপুর চেকপোস্টে দায়িত্বরত এসআইও গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। পুলিশের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে থাকেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু একি? প্রদীপের ঘটনাও মনে দাগ কাটতেই সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ির এসআই আকবরের ঘটনা। ফাঁড়িতেই নির্মম নির্যাতন করে তরতাজা যুবক রায়হানকে  হত্যা। আবারও শিরোনাম হয় পুলিশ।
হত্যাকারীর তালিকায় যুক্ত হয় পুলিশের নাম।
সিলেটে এ নিয়ে চলছে আন্দোলন। বিক্ষোভ। বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনে খুন হওয়া যুবক রায়হানের শিশুসন্তান বড় হয়ে জানবে তার বাবাকে হত্যা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশেরই ক’জন সদস্য। তার বিধবা স্ত্রী আজীবন এ ক্ষত বয়ে বেড়াবেন। বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে প্রায় রাতেই কান্নার শব্দ ভেসে আসতো। আশপাশের বাসিন্দারা এ কান্নার আওয়াজ পেলেও ভয়ে কেউ ওদিকে ফিরেও তাকাতেন না। কারণ পুলিশ বলে কথা। কিছু বললে পাছে তাকেও এমন নির্যাতনের মুখে পড়তে হয় কি না।
যতটুকু জানা গেছে, মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য তার ওপর নির্মম অত্যাচার চালায় পুলিশের এসআই আকবর। নখ খুঁচিয়ে তুলে ফেলা হয়। আর পুলিশের বর্বর নির্যাতনে জীবিত যুবক লাশ হয়ে ফেরেন বাড়িতে।
প্রশ্ন জাগে, এসব পুলিশের মন কি দিয়ে গড়া। এদের মধ্যে কি মনুষ্যত্ববোধ আছে? এরা কি পুলিশ হওয়ার যোগ্যতা রাখে? তাহলে ওদের নিয়োগ কীভাবে হয়েছিল? সবচেয়ে বড় কথা- এই ফাঁড়িতে কি হচ্ছে- তা কি সিলেটের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা জানতেন না। ওই ফাঁড়িতে কি তাদের নজরদারি ছিল না? অথচ থানা, ফাঁড়ি সর্বত্রই ঊর্ধ্বতনদের নজরদারি থাকার কথা। এটা না করে থাকলে তারাও এর দায় এড়াতে পারেন না।
কক্সবাজার শামলাপুর চেকপোস্টে যখন মেজর সিনহাকে বিনা কারণে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর ওসি, এসপি মিলে এ হত্যাকে ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ চেষ্টা চালান। সিলেটের রায়হানের বেলায়ও ধামাচাপা দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয়। পরে আসল ঘটনা জানাজানি হলে অভিযুক্ত এসআই আকবর পালিয়ে যায়। এখনও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনা ধামাচাপা দেয়া এবং তার পালিয়ে যাওয়ায় প্রমাণ করে সে অপরাধী। কিন্তু প্রশ্ন হলো- ঘটনার ছয়দিন পরও তাকে ধরা গেল না কেন? কিংবা তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হলো কেন?
এভাবে একের পর এক অকান্ডে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা কি বাড়ছে? মোটেও না। তাহলে যারা পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা ধরে টানছে তাদের কঠিন বিচার হওয়া উচিত। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে কোনো পুলিশ যাতে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত হতে না পারে সেজন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং পুলিশ বাহিনীর স্বার্থেই- এটা করতে হবে। কজন পুলিশের জন্য গোটা বাহিনীকে কেন বদনাম বয়ে বেড়াতে হবে?

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মাহবুবুর রহমান শিশির

২০২০-১০-১৭ ১৮:৪৩:৫৯

বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে প্রায় রাতেই কান্নার শব্দ ভেসে আসতো... সাংবাদিক ভাইদের কানে যেত না? ওঁরা তো রাত-দিন মিলিয়ে অনেকখানি সময় থানা-ফাঁড়ি কভার করে থাকেন। রায়হান ছেলেটা খুন হয়ে সবার কান পরিষ্কার করে দিয়েছে।

ওমর ফারুক

২০২০-১০-১৬ ০০:৪২:২৩

জেলার উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা অবশ্যই জানতের বন্দর ফাঁড়ির আকবরের কার্যকলাপ। তিনি মাশোহারা পেয়ে চুপ থাকতেন বলেই আকবর, প্রদীপ রা সুযোগ পায় জনগনকে নির্যাতন করতে। দুদকের উচিত স্বপ্রনোদিত হয়ে প্রত্যেক ফাঁড়ি, থানা, জেলার ইনচার্জদের সম্পদের খোজ নেয়া ও তাদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া। সরকার বেতন বাড়িয়ে দিয়েছে তারপরও তাদের অর্থ লোভ যায়নি। কিছু কিছু পুলিশ সদস্যের ব্যবহারে মনে হয় তারা রাজা আমরা জনগন তাদের প্রজা। উদাহরনে বলা যায় কুমিল্লা কোর্টের পুলিশ সদস্যরা। তারা নিজেদেরকে যে কিভাবে তারা নিজেরাও বলতে পারেনা। আইজি নিজে এসবের খোজ নেয়া উচিত। তিনি তো মনে হচ্ছে এখন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। যতদিন সরকার এগুলো দমন না করবে ততদিন অপরাধ দমবেনা।

Zaman

২০২০-১০-১৫ ২৩:২০:৪৬

প্রদীপ ও আকবর তারা তো আফ্রিার জঙ্গলে জন্ম হয়ে মানুষরুপী বড় হয়ে বা ভারত-পাকিস্থান থেকে আসে নাই, যদি আসে থাকে তাহলে ভিন্ন কথা। আর তাদের জন্ম যদি এই বাংলার মাটিতে হয়ে থাকে তাহলে প্রশ্ন প্রদীপ ও আকবরের কাছে নয়। প্রশ্ন তাদের কাছে যারা বলেন আমরা দেশের ও দেশের জনগনের জান মালের নিরাপত্তার দায়িত্বভার গ্রহন করেছেন প্রশ্ন তাদের নিকট। প্রদীপ ও আকবর শুধু নহে তাদের মত ঐ রকম জঘন্ন কাজ করছে বা এখনও করে যাচ্ছে তারাতো একদিনে তৈরী হন নাই। তাদের প্রথম অপরাধ থেকেই যারা অবগত ছিলেন কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি না দিয়ে তাদের নিকট থেকে সুযোগ গ্রহন করেছেন তাই তারা এত বর জঘন্ন অপরাধ করছে। প্রদীপ, আকবরদের শাস্তির পাশাপাশি তাদের প্রশ্রয়দাতাদেরও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে অন্যথায় অপরাধ দমন কোন দিনই সম্ভব হবে না।

মোঃ জিলন

২০২০-১০-১৬ ১২:০২:৫৫

আমরা শুধু কোন ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আমাদের দেশের সাংবাদিক ভাইও বোনরা নিউজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। প্রত্যেক থানার এস.আই. ওসি ওনাদের সব গুলো থানার নজর রাখা উচিত বলে মনে করি। ঢাকা রাতে চেক পোষ্টে যে পরিমান মানুষ কে হয়রানী করে। আল্লাহ মালুম। এস.আই এদের কোন দোষ নাই। সব গুলো থানার ওসিদের প্রতি মাসে 4-5 লাখ টাকা দিতে হয় এস.আই দের ওরা কি করবে এজন্যই তো এস.আই রা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এই কারনে সিলেটের রায়হানের মৃত্যু শুধু টাকার জন্য।

Taleb

২০২০-১০-১৫ ২২:৪০:২৬

প্রদীপ রা হচ্ছে বাংলাদেশের রাজা!! আমরা সাধারণ জনগণ হচ্ছি ব্রেক ফেল হওয়া চলন্ত গাড়ির অসহায় যাত্রী।

Md. Harun al-Rashid

২০২০-১০-১৬ ১১:১৭:১৪

পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা বা ক্ষেত্র বিশেষে নিপীড়ক হয়ে উঠার কারন জানা না গেলে কেবল দুু' একটি আপ্ত বাক্য বা অতীতে কোন মহৎ কর্ম বা ত্যাগের মহিমা বিবৃত হলে সুফল বয়ে আনবে না-বরং ব্যর্থতার খতিয়ান দীর্ঘতর হবে। অপরাধ দমন ও শান্তি প্রতিষ্ঠা এক নিরন্তর প্রক্রিয়া। রাজনীতি নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব হতে পারলেই পুলিশ দেশের মানুষের শ্রদ্ধা ও আস্হা লাভ করবে।

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

ম্যারাডোনা ও বাংলাদেশ

২৬ নভেম্বর ২০২০

এমন মৃত্যু মানা যায় না

১৬ নভেম্বর ২০২০

ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ

১৫ নভেম্বর ২০২০

বাসে সিরিজ আগুন

উদ্বেগের বৃহস্পতিবার, জনমনে নানা প্রশ্ন

১৩ নভেম্বর ২০২০



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status