আল জাজিরার রিপোর্ট

মানবাধিকার লঙ্ঘন করেও সফল চীন, রাশিয়া; ব্যর্থ সৌদি আরব

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ১৪ অক্টোবর ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:৩৭

নিজেদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের (ইউএনএইচসিআর) সদস্য নির্বাচিত হয়েছে রাশিয়া, চীন ও কিউবা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকারের পক্ষগুলো। অন্যদিকে এমন চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার ভোটে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে ইউএনএইচসিআরে আগামী তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ওই তিনটি দেশ। তাদের সদস্যপদ কার্যকর হবে ১লা জানুয়ারি থেকে। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলছে, জাতিসংঘ নির্বাপত্তা পরিষদের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে রাশিয়া ও চীন। এই পরিষদে চতুর্থ সদস্যপদ পেতে লড়াই করে পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, নেপাল, সৌদি আরব ও চীন।
নির্বাচনে পাকিস্তান পেয়েছেন ১৬৯ ভোট। উজবেকিস্তান পেয়েছে ১৬৪ ভোট, নেপাল ১৫০, চীন ১৩৯ এবং সৌদি আরব মাত্র ৯০ ভোট।   মঙ্গলবার ৪৭ জাতির এই পরিষদে ১৫টি সদস্যদেশ নির্বাচিত হয়। চীন এবং সৌদি আরবকে বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতনকারী দুটি দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। নিউ ইয়র্কভিত্তিক এই সংগঠনটি সিরিয়ায় অসংখ্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবাধিকার নিয়ে মারাত্মক প্রশ্নবিদ্ধ বেশ কয়েকটি দেশকে নির্বাচিত করা হয়েছে ইউএনএইচসিআরে। এ জন্য ইউএনএইচসিআরের বর্তমান কাঠামোতে সংস্কার গুরুত্বর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন তারা। ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেনের আন্তর্জাজিত আইন বিষয়ক প্রফেসর কেভিন জন হেলার বলেছেন, এটা অবশ্যই দুঃখজনক যে, মানবাধিকার ভয়াবহভাবে লঙ্ঘনের রেকর্ড আছে এমন দেশগুলোকে কাউন্সিলে নির্বাচিত করা হয়েছে। এটা হলো জাতিসংঘের লেজেগোবরে করে ফেলার মতো ব্যুরোক্রেসি।
ওদিকে মঙ্গলবার নির্বাচনে সৌদি আরবের নির্বাচিত হওয়ার ব্যর্থতা এমনই ইঙ্গিত দেয় যে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সুনাম কতখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে রিয়াদের মানবাধিকারের রেকর্ড নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন সমালোচকরা। কয়েক বছরে কর্তৃপক্ষ শত শত রাজনৈতিক বিরোধীকে আটক করেছে। আটক করেছে এক ডজনেরও বেশি নারী অধিকারকর্মীকে। অব্যাহতভাবে গণহারে জেলবন্দিদের মৃত্যুদন্ড দেয়া হচ্ছে। সৌদি আরবে এখনও নিষিদ্ধ জনবিক্ষোভ, রাজনৈতিক দল ও লেবার ইউনিয়ন।
২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি আরবের কনস্যুলেটের ভিতরে ওয়াশিংটন পোস্টের কলামনিস্ট সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করেছেন জাতিসংঘের বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, খেয়ালখুশিমতো মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। তিনি বলেছেন, জামাল খাসোগিকে হত্যায় সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

বিবিসির প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে চীনের নতুন কৌশল

৩ ডিসেম্বর ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status