ধর্ষকের আত্মকথা

শামীমুল হক

মত-মতান্তর ১০ অক্টোবর ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০৪

ফাইল ফটো
আমি সন্ত্রাসী হতে চাই। আমি খুনি হতে চাই। আমি চাই অস্ত্র নিয়ে ঘুরতে। আমি চাই বাহিনী প্রধান হতে। আমি চাই চাঁদাবাজ হতে। আমি চাই সবার গুরু হতে। ওস্তাদ হতে। বড় ভাই হতে।
আমি চাই এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে নিতে। আমি চাই সবাই আমাকে ভয়ে সালাম দিক। আমি চাই আমার ভয়ে সবাই রাস্তা ছেড়ে দিক। আমি চাই এলকার সবাই আমাকে এক নামে চিনুক। কারণ আমি চাই লোকজন আমাকে ভয় পাক। ভয়ে জবুথবু হয়ে যাক। এরপরই মোক্ষম চালটি চালবো। আমাকে দেখে যখন সবাই ভয়ে কাঁপবে- তখনই আমি ধর্ষক হয়ে উঠবো। অমুকের বউ। অমুকের মেয়ে। সকল সুন্দরীর দরবারে হাজির হবো। প্রথমে সহজ-সরলভাবে বলব- আমি তোমাকে কাছে চাই। একান্তে চাই। কথা না শুনলে ধর্ষণ করবো। শুধু তাই নয়, আমার কাছের কিছু চেলা-চামুন্ডাকেও বলবো তোরাও ধর্ষণ কর। ওরা ধর্ষণ করবে।
    
এভাবে চলতে থাকবে। কেউ আমার ডরে ভয়ে কোনো কথা বলবে না। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এলাকায় ধর্ষণের বন্যা বইয়ে দেবো। শিশু থেকে শত বছরের বৃদ্ধা সবাইকে আমার খোরাক বানাব। রাস্তার পাগলি, প্রতিবন্ধীও আমার লালসার শিকার করব। এভাবেই আমাকে দেখে সবাই আড় চোখে তাকাবে। মনে মনে ধর্ষক, খুনি, সন্ত্রাসী বলবে। সামনে বলার সাহস থাকবে না কারো। এসব দেখে আমি তৃপ্তির হাসি হাসবো। আর এসবই করবো আমার নেতার জোরে। প্রথম প্রথম নেতার কাছে কিছু নালিশ যাবে। নেতা এগুলোকে পাত্তা দেবেন না। আমার কানে যখন যাবে অমুকে নেতাকে আমার বিরুদ্ধে বলেছে তখনই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বো। অমুককে শায়েস্তা করতে প্রথমে রাস্তায় অপমান করবো। এরপর তার ছেলেকে পেটাব। এরপর তার মেয়েকে ধর্ষণ করবো। ওই ব্যাটা একেবারে খামোশ হয়ে যাবে। জীবনে আর কোনোদিন আমার বিরুদ্ধে মুখ খুলবে না। আমি কি না পারি? এবার বিধবার দিকে দিকে নজর পড়েছে। তাকেও ধর্ষণ করব। শুধু তাই নয়, মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করবো। এবার আমার বাহাদুরি সমাজকে দেখাতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেবো।

এরপর আমি হয়ে উঠবো আরো ভয়ঙ্কর। পুলিশ প্রশাসনতো নেতার কাছের মানুষ। প্রথম প্রথম নেতা আমার দু’একটি ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছেন। এখন সেই পুলিশ আমার নাম শুনলেই একশ’ হাত দূরে থাকে। বাহ্ আমিই এই এলাকার জমিদার। সবাই আমার প্রজা। সবাই আমাকে খাজনা দিতে লাইন ধরে। নতুন বাড়ি-ঘর করবে? আগে আমাকে খাজনা দিতে হবে। মেয়ে বিয়ে দিতে হবে? তাতেও খাজনা এসে যায়। কেউ জমি কিনেছে তখনও খাজনা জমা পড়ে আমার তহবিলে। আর যায় কোথায়?

এভাবে আমি কখন যে টাকার মালিক হয়ে গেছি খেয়ালই করিনি। একা একা ভাবী আমি কি ছিলাম? টোকাই। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতাম। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতাম। আর আজ আমি আকাশ ছুঁয়েছি। আবার ভাবী আমিতো একসময় সিএনজিচালক ছিলাম। সারাদিন সিএনজি চালাতাম। কঠোর পরিশ্রম করতাম। নেতা আমাকে সোনার খনি হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। আজ আমি নেতার বিশ্বস্ত। নেতাও আমাকে ছাড়া চলতে পারেন না। এই নেতার কারণেই আজকের আমি। সমাজের মানুষ এই যে আমাকে ভয় পায়, আমাকে দেখলে রাস্তা ছেড়ে দেয় এটা কি একদিনে হয়েছে? না, এর জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে।

আজ আমাকে নিয়ে গোটা দেশে নিন্দার ঝড় বইছে। জেলায় জেলায় আন্দোলন হচ্ছে। রাজধানী কাঁপছে স্লোগানে স্লোগানে। শাহবাগ চত্বর আবারও জেগে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাকে নিয়ে উত্তাল করে তুলছে ক্যাম্পাস। ওরা কত বোকা! ওরা জানে না এসব করে আমাকে দমাতে পারবে না। আমি চলবো আমার গতিতে। কারণ আমারতো নেতা আছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

SJ

২০২০-১১-০৭ ১২:২৬:১৬

দর্শন বন্দের আইনগুলি বিশ্বের কোনো দেশেই তেমন কোনো কাজে দেয়নি। সমালোচনা ও আলোচনা বহু প্রকার। দর্শনের স্বীকার হওয়া মানুষগুলি ও তাদের পরিবারের কিছু কিছু ভুল ত্রুটি, চালচলন, নির্বুদ্ধিতা, অসাবধানতা, দুর্বল বিস্বাস এসব টুকিটাকি দর্শক কে সুযোগ করে দেয় অনায়াসে। যাহা অনুমান করা যায় না। এগুলি ভুক্তভুগীর দোষ নয় তবে ভুল। দর্শক মারাত্মক অপরাধী তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখাগেছে দর্শিতা দর্শকের পূর্ব পরিচিত থাকে, হোক শিশু, কিশোর অথবা বৃদ্ধা। দর্শনের আইন আছে থাকুক, বিচার হচ্ছে, হবে, হোক তবে সমাজ সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে প্রতিটা টিভি চ্যানেলে বাধ্যতামূলক অ্যাড এর মাধ্যমে। থিওরি গুলি মাথায় রেখে অ্যাড তৈরি করতে হবে। নাম্বার 1. মুসলিম ধর্ম প্রথায় যে সকল পুরুষদের মেয়েরা বিয়ে করতে পারবে না তাদের ব্যতীত ভিন্ন পুরুষদের সহিত অন্ধ বিস্বাস নিয়ে মেয়েরা একান্তে উঠাবসা করবে না। নাম্বার 2.শিশু, কিশোর ও বিবাহ পূর্ব পর্যন্ত মেয়েদের উন্মুক্ত চলাচল করতে ছেড়ে দিবে না। অন্যত্র সর্ব নারী সূর্য উদয় হইতে সূর্য অস্ত যাবার পূর্বে নিজ নিজ ঘরের বাইরে থাকবে না। কর্ম এই সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। উল্লেখ্য নারীর যে স্বাধীনতা নিয়ে আন্দোলন করা হয়, সেই স্বাধীনতাই নারীর জীবনে অধিকাংশেই কাল হয়ে দাঁড়ায়। যাহা সকলের দৃষ্টি চোখে দেখতে পায় না। নাম্বার 3. নারীদের ধর্মীয় রীতি নীতি অনুসরন করে চলাচল করতে হবে। নারীর মার্জিত পোশাক পরিধান করা সকল ধর্মের নির্দেশনায় লেখা আছে তবুও অনুসরণ করা হয় না। সংযত, সংযম, সতর্ক, সাবধান আপনাকে অনেকাংশে বিপদ মুক্ত রাখে। কথাটি মাথায় রাখুন। ভালো থাকবেন অধিকাংশে।।

মোঃ ফিরোজ খান

২০২০-১০-১৩ ০৪:১৩:১৭

ধর্ষকরা দেশের নরপিশাচ! -মোঃ ফিরোজ খান মনে হচ্ছে বাঙ্গালী জাতি আজ নির্বাক, নির্লজ্জ লজ্জিত,গোটা পৃথিবীর বুকে ক্রমশ:ঘনিয়ে আসছে স্বৈরমনোভাব, অশ্লীলতা নির্মমতায় চলছে ধর্ষণোৎসব। কেউ কি আছো ধর্ষনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে? শহর গঞ্জে পল্লীগ্রামে সুদূর কোনো দূরে? তাহলে ছুটে এসো ছুটে এসো ধর্ষন ঠেকাতে! মহা-প্রলয়কালে প্রতিবাদী হ‌য়ে জেগে ওঠা। জ্ঞানহীন নির্বোধ দুর্বল লোকেরা তামাশা দেখছে মনু্ষ্যত্বহীন নরপশুদের কাছে হেরে যাচ্ছে? পুরুষের পাপচর্চা কাজে উৎসাহ দিচ্ছে,ছি: কোথায় বাস করছো হে বাঙালি জাতি তোমরা? নিক্ষেপ কর তোমার বিবেকের দৃষ্টি,জেগে ওঠো ঐ ধর্ষিতার জননীর আহত অন্তরে,সুখ দাও দিবানিশি জ্বলছে মন মস্তিষ্কে হচ্ছে রক্ত ক্ষরণ অসভ্যতার অর্সজ্জ যন্তণার অনল শিখায় পুড়ে। কেনো তোমরা ঝাপিয়ে পড়ো ধর্ষনের লালসায়? বন্ধ করো তোমার রক্ত পিপাসুর খেলা? ওরা তো তোদের মা নয়তো আদরের বোন! একটুও লজ্জ্বা হয়না এই লালসার জন্য? আর নয় ধর্ষণ?এবার একটু শান্ত হয়ে যাও? আমরা বীরবিক্রম, বীর বাঙালি জাতির বংশধর আমাদের এই খাবার কাজ শোভা পায় না? আমরা ধর্ষণ মুক্ত একটি সুন্দর বাংলাদেশ চাই।

Md. Harun al-Rashid

২০২০-১০-১০ ১১:২১:৫৩

আহা! কোথায় কখন কিভাবে নেতার উপকার করছিল তার ফিরিস্তি না দিলে নেতা পক্ষে কেন থাকবে।তা ছাড়া অন্য নেতার ডেংগাড়ে বাহিনীকে কিভাবে সামাল দিতে তা বাদ গেল। সুতরাং দশে দশ দেয়া গেল না -তবে স্টার মার্ক স্যার।

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

ম্যারাডোনা ও বাংলাদেশ

২৬ নভেম্বর ২০২০

এমন মৃত্যু মানা যায় না

১৬ নভেম্বর ২০২০

ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ

১৫ নভেম্বর ২০২০

বাসে সিরিজ আগুন

উদ্বেগের বৃহস্পতিবার, জনমনে নানা প্রশ্ন

১৩ নভেম্বর ২০২০



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status