ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হাইকোর্টের অভিমত

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৩৪

নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, কোনো সরকারি বা বেসরকারি ফোন কোম্পানি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ বা চাহিদাপত্র ছাড়া কোনো কল লিস্ট বা বার্তা সংগ্রহ বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে, ব্যবহারকারীর অজ্ঞাতেই তার কল লিস্ট বা বার্তা সংগ্রহ থামাতে হবে। একটি হত্যা মামলায় আইনি প্রশ্ন সুরাহা করতে গিয়ে হাইকোর্ট এ অভিমত দেন। বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস এবং বিচারপতি এএসএম আবদুল মোবিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। হাইকোর্টের অভিমতে বলা হয়েছে, নাগরিকদের মধ্যেকার ব্যক্তিগত অডিও/ভিডিও আলাপ আজকাল প্রায়ই ফাঁস করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন উদ্দেশে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আমাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের নথিপত্র এবং যে কোনো ধরনের যোগাযোগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।
এটি চাইলেই কোনো স্বার্থে লঙ্ঘন করা যায় না। নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) এবং ফোন কোমপানিগুলোরও বড় দায়িত্ব রয়েছে। তারা দেশের কোনো নাগরিক ও ব্যবহারকারীর তথ্য প্রদান করতে পারে না যদি না এটি সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন দ্বারা অনুমোদিত না হয়। তাই, কোনো তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যখন কোনো তদন্তের জন্য কোনো কল লিস্ট বা তথ্যের প্রয়োজন পড়বে তাকে অবশ্যই কোমপানির যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে। অনুরোধপত্রে তাকে তথ্য চাওয়ার কারণ এবং এই তথ্য তার তদন্তের জন্য কেন জরুরি তা উল্লেখ করতে হবে। শুধুমাত্র এমন পর্যায়েই ফোন কোমপানিগুলো কল লিস্ট বা তথ্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রদান করতে পারবে। এই প্রক্রিয়ার বিষয়ে ব্যবহারকারীকেও জানাতে হবে। নইলে প্রদানকৃত নথি তার সত্যতা হারাবে এবং যেই কর্মকর্তা এই নথি প্রদান করবেন তিনিও তার বৈধতা হারাবেন। একইসঙ্গে তাকে একজন নাগরিকের সংবিধানে ঘোষিত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করা হবে। বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য অগ্রগতি হচ্ছে এবং সর্বক্ষেত্রে এর ব্যবহার হচ্ছে। এজন্য এভিডেন্স অ্যাক্ট সংশোধনের পক্ষেও মত দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এই মামলার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মানবজমিনকে বলেন, এই রায়টি আইন অঙ্গনের যুগান্তকারী রায় হিসেবে বিবেচিত হবে। আমরা প্রত্যাশা করি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত সরকার আদালতের এই রায় বাস্তবায়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখবেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

masum

২০২০-০৯-৩০ ১৩:০৯:৩০

aita tik na

সুজা

২০২০-০৯-৩০ ০৮:৫৮:৩৭

সব আকাম করিয়ে এখন হাইকোর্ট বল্লো ব্যক্তিগত কথাবার্তা জনসম্মুক্ষে আনা যাবে না। তাহলে আগে যে গুলো ফাঁস হয়েছে তার দায়-দায়িত্ব হাইকোর্টের নিতে হবে। এখন ওসি প্রদীপকে রক্ষা ও আওয়ামীলীগের নেতার চরিত্র বেড়িয়ে আসছে তাদেরকে রক্ষা করতেই এমন আদেশ দেয়া হচ্ছে। আগেরগুলো যারা ফাস করেছে তাদের বিচার করে তারপর এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হায়রে সেলুকাস।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

ক্ষমতার দাপট

২৭ অক্টোবর ২০২০

আক্রান্ত ছাড়ালো ৪ লাখ

২৭ অক্টোবর ২০২০

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হচ্ছে। সংক্রমণ শুরুর ২৩৩ দিনের মাথায় করোনা ...

মানুষকে মাস্ক পরাবে কে?

২৬ অক্টোবর ২০২০

নো মাস্ক নো সার্ভিস

২৬ অক্টোবর ২০২০

মাস্ক না পরলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সেবা মিলবে না। এমনই নির্দেশনা দিয়েছে ...

পহেলা নভেম্বর থেকে সবার জন্য খুলছে ওমরাহ’র দরজা

২৬ অক্টোবর ২০২০

আগামী ১লা নভেম্বর থেকে ওমরাহ পালন করতে পারবেন বিশ্বের সকল দেশের মুসল্লিরা। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা ...

অনশন ভাঙালেন মেয়র আরিফ

রায়হানের মায়ের কান্না

২৬ অক্টোবর ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত