বান্ধবীর সহযোগিতায় তরুণীকে ধর্ষণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

অনলাইন ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ২:০০

চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানাধীন সুপারিওয়ালাপাড়ায় বান্ধবীর সহযোগীতায় তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক ছাত্রলীগ নেতা চান্দু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ভোরে নগরীর পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) এএএম হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সুপারিওয়ালাপাড়ায় তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক চান্দু মিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত অন্য তিনজন হলো- ধর্ষিতার বান্ধবী নুরী আক্তার (২০) ও তার স্বামী মো. অন্তর (২২) এবং চান্দু মিয়ার বন্ধু রাজিব হোসেন (২০)। তারা ধর্ষক চান্দু মিয়ার সহযোগী। চান্দু মিয়া ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ডবলমুরিং থানার এসআই নুরুল ইসলাম জানান, চান্দু মিয়া ক্ষমতাসীন রাজনীতির দলের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্নভাবে সে এলাকায় ক্ষমতাশালী।
তার চার তলা বাড়িতে ভাড়া থাকেন নুরী আক্তার ও তার স্বামী। নুরী আক্তার বিভিন্ন সময় চান্দুকে তরুণী জোগান দিয়ে আসছিল। সে নিজেও অসামাজিক কাজে লিপ্ত। এরই ধারাবাহিকতায় ওই তরুণীকে চান্দু মিয়ার হাতে তুলে দেন নূরী।

আনুমানিক ২০ বছর বয়সের ওই তরুণী সপ্তাহ খানেক আগে ফেনী থেকে নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় ফুফুর বাসায় বেড়াতে আসেন। তার ফুফাতো বোনের বান্ধবী নুরী আক্তার। সেই সুবাদে নুরীর সঙ্গেও ওই তরুণীর বন্ধুত্বপূর্ণ স¤পর্ক হয়। রোববার সন্ধ্যায় নুরী আক্তার ওই তরুণীকে তার বাসায় বেড়াতে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে নুরী কৌশলে ওই তরুণীকে চান্দুর বাসায় পৌঁছে দেয়।

এরপর বাসার ভেতরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে পাহারায় ছিল নুরী আক্তার। চান্দু মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর নুরী ওই তরুণীকে তার ফুফুর বাসায় পৌঁছে দেয়। কিন্তু বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে তরুণীকে বাসার লোকজন জিজ্ঞাসা করলে তিনি সবকিছু খুলে বলেন।

তখন তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নেয়া হয়। সেখান থেকে ডবলমুরিং থানায় খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুরী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর নুরীর কাছে মোবাইল নিতে এসে গ্রেপ্তার হন স্বামী অন্তর। চার দিন আগে তাদের বিয়ে হয়।

তবে অন্তর ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানে না বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে। নুরী আক্তার বন্দর থানার তিন নম্বর ফকিরহাট কাশিম মাঝির বাড়ির মৃত মো. বশিরের মেয়ে। এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান এসআই নুরুল ইসলাম।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Dr. Md Abdur Rahman

২০২০-০৯-২৯ ২০:২১:১৮

Please, just behead them !!!

Kamal hossain

২০২০-০৯-২৯ ০৭:১৫:৪৩

ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা উচিত

আসিফ করিম

২০২০-০৯-২৯ ০৭:১৩:৫০

ছাত্রলীগকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা সময়ের দাবি।

Ab-Jalil

২০২০-০৯-২৯ ১৯:২৯:১৮

মুন্সি চোর না ! চোর মুন্সি সাজে , ছাত্রলীগ খারাপ না . খারাপ লোক ছাত্রলীগে এসেছে।

HASAN SK

২০২০-০৯-২৯ ০৫:০১:১১

এরা কি কখনও মানুষ হবে না ? যে কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে ছাত্রলীগ জরিত , মনে হচ্চে দেশের সব খারাপ কাজ গুলোর টেন্ডার হাতে নিয়েছে ছাত্রলীগ।

NARUTTAM KUMAR BISHW

২০২০-০৯-২৯ ১৭:৪০:৩৪

দেখে মনে হয় ছাত্রলীগকে ধর্ষণের সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা যেন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ছিল। অবাধে এইসব অনাচার-ব্যাভিচার করে যাচ্ছে। পত্রিকায় চোখ রাখতেই ধর্ষণ আর তার সাথে ছাত্রলীগ শব্দটি অসহ্য ধরে গেছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি। নইলে সামনে ধর্ষণের বিস্ফোরন ঘটতে চলেছে। সময় এসেছে ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরার।

আবুল কাসেম

২০২০-০৯-২৯ ০২:৫৬:৩০

শিক্ষা শান্তি প্রগতি ছাত্র লীগের মূলনীতি প্রতিষ্ঠা কালীন সময়ে ছিলো। এই গৌরবদীপ্ত স্লোগানে কতো যে রাজপথ কাঁপিয়েছি, ছাত্রলীগের বর্তমান অবস্থাদৃষ্টে সেই সব স্মৃতি এখন আক্ষেপে পরিনত হয়েছে। এখন যেনো ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বানিজ্য আর খুন খারাবি তাদের মূলনীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে । যারা নিজেদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থে ঐতিহ্যবাহি ছাত্রলীগকে ব্যাবহার করতে গিয়ে আজ এভাবে ন্যাক্কারজনক অবস্থায় এনে দাঁড় করেছেন ইতিহাসের কাঠগড়ায় একদিন তাদের দাঁড়াতে হবে। ছাত্রলীগকে সেই গৌরবের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমতঃ শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে তাদেরকে বহিষ্কার সহ আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে । দ্বিতীয়তঃ ছাত্রলীগকে অস্ত্রমুক্ত করতে হবে। যার কাছে দেশি বিদেশি কোনো অস্ত্র পাওয়া যাবে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। তৃতীয়তঃ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দখলে থাকা অবৈধ রুম ও সিট বা বেড বাতিল করতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্তানি বন্ধ করতে হবে। চতুর্থতঃ ছাত্রলীগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং আশ্রয়, প্রশ্রয়, অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার গুন্ডামিতে ঠেলে দেয়া যাবেনা। পঞ্চমতঃ ছাত্রলীগকে শুধুমাত্র সমাজসেবা ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করাতে হবে। ষষ্ঠতঃ সম্ভব হলে কিছু দিনের জন্য ছাত্রলীগের কার্যক্রম বন্ধ রাখা যেতে পারে। সপ্তমতঃ দেশের সকল ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করাও যেতে পারে।

মোঃ জহিরুল ইসলাম

২০২০-০৯-২৯ ০১:৫৫:২৯

এখানেও ছাত্রলীগ।

মুহাম্মাদ মশিউর রহমা

২০২০-০৯-২৯ ০১:২৮:৫৫

ছাত্রলীগ এমন একটি সংগঠনে পরিনত হয়েছে যার পেশা হয়ে দাড়িয়েছে "নারী ধর্ষণ " বাংলার মানুষ এক ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

অনশনে রায়হানের মা

‘আমার ছেলে কবরে, খুনি কেন বাইরে’

২৫ অক্টোবর ২০২০

ওয়ালটনের নতুন মডেলের ল্যাপটপ উদ্বোধন করলেন আইসিটি সচিব

২৪ অক্টোবর ২০২০

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেছেন, ‘মেইড ইন ...



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত