অধ্যক্ষ-হোস্টেল সুপার কি দায় এড়াতে পারেন?

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে

প্রথম পাতা ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৭

মার্চ মাস থেকেই বন্ধ সিলেটের এমসির ছাত্রাবাস। করোনার কারণে এখনো বন্ধ সেটি। কিন্তু ক্যাম্পাস নীরব থাকলেও সরব ছিল ছাত্রাবাস। কলেজ অধ্যক্ষ কিংবা হল সুপার কেউই খবর রাখতেন না হোস্টেলের। হোস্টেলে কী হচ্ছে, কারা বসবাস করছে সেদিকে খেয়াল ছিল না কারো। বরং ছাত্রলীগের কর্মীদের উপর ভরসার কারণেই এমসির হোস্টেলের দিকে ফিরে তাকায়নি কর্তৃপক্ষ। এ কারণে টিলাগড় কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের একটি অংশ সকল ঘটনায় দায় চাপিয়েছে অধ্যক্ষ ও হল সুপারের ওপর। তারা দাবি করেছেন- অধ্যক্ষ ও হল সুপারের মদদের কারণেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর, শাহ রনি সহ অন্যরা।
এ কারনে তারা অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ ও হল সুপার জামাল উদ্দিনের পদত্যাগও দাবি করেছে। এই পদত্যাগের দাবিতে তারা কলেজ ফটকেই সমাবেশ করেছে। ছাত্রাবাসের দায়িত্বরত সুপার হচ্ছেন, কলেজের সহকারী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন- করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি তার বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে রয়েছেন। করোনার কারণে হল বন্ধ। এ কারণে তার কোনো কাজ নেই। তিনি বাড়ি চলে যান। ঘটনার দিনও তিনি নিজ বাড়িতেই ছিলেন। খবর পেয়ে পরদিন শনিবার সকালে ছুটে আসেন এমসি কলেজে। এদিকে- হল সুপার হোস্টেলে দায়িত্বরত না থাকলেও হোস্টেলে ছাত্র ছিলো। কলেজ অধ্যক্ষ সালেহ উদ্দিন নিজেও স্বীকার করেছেন- হল বন্ধ করার পর কিছু সংখ্যক ছাত্র তার কাছে এসেছিলো। তারা শহরে টিউশনি করে। এ কারণে তারা থাকতে চেয়েছিলো। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের বসবাস করতে দেয়া হয়েছে। সংখ্যায় ছাত্র হবে ১৫-২০ জন। কিন্তু ঘটনার পর হলে গিয়ে দেখা গেছে ৭০-৮০ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন হলে বসবাস করছিলো। এতে করে সরব ছিলো হলের সব ক’টি ব্লক। খোলা ছিলো বিভিন্ন কক্ষ। গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনার পর হলে থাকা ছাত্ররা দুপুরের মধ্যেই হল ছাড়ে। এ সময় তাদের বইপত্র নিয়ে বের হতে দেখা যায়। প্রশ্ন করা হলে তারা জানায়- হলে বই ছিলো নিতে এসেছি। একজন শিক্ষার্থী জানায়- ঘটনাস্থল নতুন হোস্টেলের তিন তলায় কিছু ছাত্র ছিলো। তারা বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হলেই থেকেছিলো। ঘটনার সময় তারা হলেই ছিলো। নিচে নামতে চেয়েছিলো। কিন্তু ছাত্রলীগ কর্মীদের হুমকির কারণে তারা নামতে পারেনি। কলেজ অধ্যক্ষ শুক্রবারের ঘটনায় শনিবার দুপুরের মধ্যে বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসকে নতুন করে বন্ধের ঘোষণা দেন। এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। মানবজমিনের কাছে অধ্যক্ষ স্বীকার করেছেন- ‘কিছু ছাত্র ছিলো। তাদের বের করে দেয়া হয়েছে। এখন হলকে সিলগালা করে দেয়া হবে।’ হলের ভেতরেই শিক্ষক বাংলো দখলে ছিলো ছাত্রলীগের ভয়ঙ্কর নেতা সাইফুরের। শিক্ষক বাংলোতে সে বসবাস করতো। ওই বাংলো থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বাংলোতে সাইফুরের বসবাস সম্পর্কে কিছুই জানেন না হোস্টেল সুপার। পাল্টা বলেন-‘ ওখানে তো কেউ থাকার কথা না।’ এমসি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন- এমসি কলেজের হোস্টেল পুড়িয়ে দেয়ার পর ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় পুরো ছাত্রাবাস। এরপর থেকে হলের নিয়ন্ত্রক ছিলো সাইফুর ও শাহ রনি। তাদের কাছে অসহায় ছিলেন হোস্টেল সুপার। ছাত্রলীগ যা বলতো হোস্টেল সুপারও তাই করতেন। ফলে কলেজ অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের পরোক্ষ মদদেই ছাত্রাবাসে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা। শুধু ছাত্রাবাস নয়, ক্যাম্পাসেও ছিলো তাদের আধিপত্য। এমসির ক্যাম্পাস মনোরম পরিবেশের ক্যাম্পাস। বিকেল হলেই অনেকেই বেড়াতে যান এই ক্যাম্পাসে। প্রতি নিয়ত ক্যাম্পাসের নির্জন এলাকায় ছিনতাইয়ে ঘটনা ঘটে। এমনকি মহিলাদের শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটে। আর এসব ঘটনা ঘটাতো সাইফুর ও শাহ রনির নেতৃত্বে। এসব ঘটনা কলেজ কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও কখনোই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। এমসির ক্যাম্পাসে ভয়ঙ্কর ছাত্রলীগ নেতা ছিলো সাইফুর ও শাহ রনি। টিলাগড়ের রনজিত গ্রুপের নেতা হওয়ার কারণে তারা ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার করতো। ক্যাম্পাসের নানা কাজে তাদের ভাগ ছিলো। সাইফুর ও রনির যন্ত্রনায় অতিষ্ট ছিলো ছাত্রলীগের আজাদ গ্রুপের কর্মীরা। সাইফুর ও রনির অপকর্মের প্রতিবাদ করার কারনে বার বার ক্যাম্পাসে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা হয়েছে। হুসেন আহমদ নামের এমসি কলেজের এক ছাত্রলীগ নেতা জানিয়েছেন- ‘ভাই কী বলবো। এমসি কলেজে ওরাই ছাত্রলীগ। আমরা কিছু না। তাদের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক রয়েছে।’- এমসি কলেজ ও ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের হোস্টেল দখল, আধিপত্য বিস্তার কোনো কিছুতেই দায় এড়াতে পারেন না অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপার। তাদের দায়িত্বের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। তবে- দায়িত্ব না জেনেশুনেই ভুল সেটি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন- এমসি হোস্টেল পুড়িয়ে দেওয়ার সময়ও এই কলেজের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন, কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ। এরপরও তিনি ছাত্রলীগ থেকে কলেজ ও হোস্টেলকে রক্ষা করতে কার্যকর উদ্যোগ নেননি। আর তার দুর্বল প্রশাসনিক নেতৃত্বের কারনে শতবর্ষী এমসি কলেজে এবার কলঙ্কের কালিমা লেপন করা হলো। এদিকে- বিতর্ক দেখা দিয়েছে গণধর্ষণের ঘটনার পর এমসি কলেজের গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়েও। ওই কমিটিতে হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিনসহ আরেক হোস্টেল সুপারকে রাখা হয়েছে। যেখানে হোস্টেল সুপারদের গাফিলতির অভিযোগ সেখানে তাদেরকেই আবার তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে তদন্ত কমিটি নিয়ে আশাবাদী হতে পারছেন সাবেক শিক্ষার্থী সহ সুধীজনেরা।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

NARUTTAM KUMAR BISHW

২০২০-০৯-৩০ ১২:৩১:১৬

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানতেন ছাত্রাবাসে যারা কি ধরনের লোক ছিল। তারপরও মুখ বুঝে ছিলেন। তাদের মুখ বুঝে থাকার শাস্তি আমরা কেন পাব। শুধু বহিষ্কার করলে তো হবে না, সাথে সাথে আর যাতে কোনদিন চাকুরী করে খেতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

এ কে এম মহীউদ্দীন

২০২০-০৯-২৯ ০৮:৪৬:২০

সরকারই তো সবাই অসহায় এই পরিবেশটা সৃষ্টি করেছে এদেশে। অধ্যক্ষ, সিখক, দারোয়ান সবার উচিৎ এসব চাকরি ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করা। আমাদের দেশে এখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা করাটাই সবচেয়ে নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশা।

Mizanur Rahman

২০২০-০৯-২৮ ১৭:২০:২১

Arrest the principal and hostel super and take them into remand.

Yusuf

২০২০-০৯-২৯ ০৩:৫৭:০৮

২০০৩ সালে আমি ৩য় ছাত্রাবাসের আবাশিক ছাত্র ছিলাম। ১ম ছাত্রাবাসের নিকট হসপিটালে এবং এর পাশে পানির পাম্প হাউসে রাতে কিছু বহিরাগত পতিতাদের নিয়ে আসত এবং হেরোইন খোরদের আনাগনা থাকত। বরতমান অধ্যক্ষ সালেহ আহমেদ ছিলেন ৩য় ছাত্রাবাসের হল সুপার এবং থাকতেন ৩য় ছাত্রাবাসে। সালেহ আহমেদ এর কাছে ছাত্ররা অনেকদিন কমপ্লেইন করেছে এই বেপারে কিন্তু উনি কোন কর্ণপাত করেননি, বহিরাগত দের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ হয়নি। একদিন রাতে আমি আর ২য় ছাত্রাবাসের মিজান ভাই হাতে নাতে ধরেফেলি পতিতা, ২ জন পুরুষ একটি রিকশা এবং রিকশাওালা । রাত মাত্র ১০/১১ টা হবে বেশি হলে, সাধারণত ওরা আরও দেরিতে আসে। আমরা ওদেরকে হোস্টেল থেকে বের হয়ে যেতে বললে ওরা যেতে অস্বীকার করে এবং আমাদের হুমকি ধামকি দেয়। আমাদের কথা কাটাকাটি শুনে আরও ছাত্ররা বেরিয়ে আসে এর মাঝে ছিলেন ৩য় ছাত্রাবাসের রুহেল ভাই ৫ম ছাত্রাবাসের রেজা ভাই। কয়েকজন সিনিয়র ছাত্র আমাকে এবং মিজান ভাইকে পাঠায় সালেহ আহমেদ এর বাসায় উনাকে নিয়ে আশার জন্য। বাসায় নক করার পর উনি বেরিয়ে আসতে অস্বীকার করেন এবং এত রাতে উনার বাসায় নক করার জন্য আমাদের ধমকা ধমকি করেন। এদিকে ছাত্ররা পরেছে বিপদে ওই পতিতা এবং বহিরাগত দের নিয়ে। এর মাঝে বহিরাগতরা পরিচয় দিচ্ছে ওরা টিলাগড় এলাকার মজিদ ডাকাতের দলের। মজিদ ডাকাত ছিল টিলাগড় এলাকার তখনকার কুখ্যাত হেরোইন আর অস্ত্র বেবসায়ি। আমি আর মিজার ভাই ফেরত এসে সবাইকে বললাম সার বলেছেন উনি বাসা থেকে বের হতে পারবেন না এবং আমাদের ধমকা ধমকি করেছেন। শুনে সবাই ক্ষেপে যায় এবং বেশ কয়েকজন মিলে সারের বাসায় আবার এসে গেটে ধাক্কা ধাক্কি করে এবং উনাকে বলে বাসা থেকে বের হতে এবং পুলিশ ফোন করতে। উনি আবার ছাত্রদের গালাগালি করেন এবং ছাত্ররা চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকে এবং উনার বাসার গেটে যোরে ধাক্কাধাক্কি করে। এত হইহুল্লর শুনে ৪র্থ অথবা ৫ম ছাত্রাবাসের হল সুপার বের হয়ে আসেন (সম্ভবত কিছু ছাত্র উনাদের কাছে যায় বিষয়টা জানানোর জন্য) উনারা এসে পুলিশ ফোন করেন, সাথে সাথে পুলিশ এসে বহিরাগতদের ধরে নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে পুলিশ সারদের কনফার্ম করে ওরা মজিদ দাকাতের দলের লোক। ছাত্ররা খুব বেশি রিস্ক নিয়ে ফেলেছে। রাতে শম্ভবত যতদূর মনে পরে কয়েকজন পুলিশ ছিল হোস্টেল পাহারা দেওার জন্য। পরদিন সকালে সালেহ আহমেদ প্রিন্সিপাল সারের সাথে মিটিং করেন আমাকে এবং আরও কয়েকজন কে কলেজ থেকে বহিষ্কার করার জন্য এবং অভিযোগ করেন রাতে উনার বাসার আমরা হামলা করে গেটে ধাক্কা ধাক্কি করেছি এবং উনাকে হুমকি দিয়েছি। প্রিন্সিপাল সার সিনিয়র ছাত্র এবং বাকি হল সুপার এর সাথে মীটিং এর পর আমাদের কলেজ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। এর পর হোস্টেল এর নিরাপত্তা কিছুটা উন্নত হয় এবং অসামাজিক কার্যকলাপ অনেকটা কমে আসে। পুলিশ প্রশাসন এবং তখনকার অধ্যক্ষ বেপারটি সিরিয়াসলি নেন; তখনকার হল সুপার সালেহ আহমেদ কোনদিন দায়িত্তের বেপারে সিরিয়াস ছিলেন না। উনি খুব কমি হোস্টেল এসে খোজ খবর নিতেন। বাকি হল সুপাররা কলেজে যাওয়ার সময় হোস্টেল এর রাস্তা দিয়ে হোস্টেল মেইন গেট হয়ে কলেজ যেতেন। কিন্তু সালেহ আহমেদ কখনই হোস্টেল এর রাস্তা দিয়ে বের হতেন না। উনার বাসার পাশের খাল পেরিয়ে বালুচর এর রাস্তায় গিয়ে কলেজে যেতেন। যেভাবে সম্ভব উনি চেষ্টা করতেন ছাত্রদের এড়িয়ে চলতে। কয়েকদিন আগে পত্রিকার মাধ্যমে যখন জানলাম উনি বরতমান অধ্যক্ষ, খুবি অবাক হলাম এরকম একজন দায়িত্ত গিয়ানহিন মানুষ কি করে এত বড় দায়িত্ব পেলেন। ইয়ুসুফ আখন্দ, লন্ডন, ৩য় ছাত্রাবাশ ২০০০-২০০৩, ১ম ছাত্রাবাশ ১৯৯৬-১৯৯৮

আবু বকর

২০২০-০৯-২৮ ১৪:৫৫:২২

হোস্টেল কে বা কারা পোড়ানো? কেন পোড়ানো? উল্লিখিত হচ্ছে না কেন? এখন অপকর্মের এত বিরাট লম্বা ফিরিস্তি দু'দিন আগেও কোথায় ছিল?

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

ক্ষমতার দাপট

২৭ অক্টোবর ২০২০

আক্রান্ত ছাড়ালো ৪ লাখ

২৭ অক্টোবর ২০২০

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হচ্ছে। সংক্রমণ শুরুর ২৩৩ দিনের মাথায় করোনা ...

মানুষকে মাস্ক পরাবে কে?

২৬ অক্টোবর ২০২০

নো মাস্ক নো সার্ভিস

২৬ অক্টোবর ২০২০

মাস্ক না পরলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সেবা মিলবে না। এমনই নির্দেশনা দিয়েছে ...

পহেলা নভেম্বর থেকে সবার জন্য খুলছে ওমরাহ’র দরজা

২৬ অক্টোবর ২০২০

আগামী ১লা নভেম্বর থেকে ওমরাহ পালন করতে পারবেন বিশ্বের সকল দেশের মুসল্লিরা। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা ...

অনশন ভাঙালেন মেয়র আরিফ

রায়হানের মায়ের কান্না

২৬ অক্টোবর ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত