নির্যাতিতার জবানবন্দি

হাতে-পায়ে ধরলেও মন গলেনি ধর্ষকদের

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

প্রথম পাতা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১৬

স্বামীর কাছ থেকে ছিনতাই করে ধর্ষিতা বধূকে নিয়ে গিয়েছিল ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় ওই বধূ সম্ভ্রম রক্ষায় তাদের হাতে-পায়ে ধরে আকুতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু মন গলেনি ধর্ষকদের। জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে একের পর এক ধর্ষণ করে। ধর্ষিতা বধূ রোববার সিলেটের আদালতে জবানবন্দিকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন। আলোচিত এ মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মানবজমিনের কাছে এই তথ্য জানিয়েছেন। ধর্ষিতা বধূ জানান, তাদের বিয়ে বেশিদিন হয়নি। কয়েক মাস হবে।
এরই মধ্যে স্বামীকে নিয়ে তিনি শুক্রবার বেড়াতে যান এমসি কলেজে। বিকালেই তারা এমসির ক্যাম্পাসে গিয়ে ঢুকেন। সেখানে স্বামীকে নিয়ে ক্যাম্পাসের নানা জায়গায় ঘুরেন। তারা ক্যাম্পাস ঘুরে সন্ধ্যার পর পেছন দিক দিয়ে এমসি কলেজ থেকে বের হন। এমন সময় ক্যাম্পাসের পেছনের এলাকায় ধর্ষকরা অবস্থান নিয়েছিলো। তারা তাদের দেখতে পেয়ে ঘিরে ধরে। এক পর্যায়ে তারা অস্ত্রের মুখে স্বর্ণের চেইন, টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। যাওয়ার সময় এক ধর্ষক বলে উঠে- ‘দেখ মেয়েটি তো সুন্দর’। এ কথা বলার পর অন্যরাও তার দিকে ফিরে তাকায়। এরপর তারা ঘুরে এসে জাপটে ধরে বধূটিকে। এতে প্রতিবাদ করেন সঙ্গে থাকা স্বামী। ধর্ষকরা এ সময় তার স্বামীকে মারধর শুরু করে বধূকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময়ও চিৎকার করছিলেন তিনি। ধর্ষকরা তাকে যখন ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো তখন পিছু পিছু যান স্বামী। তিনি গিয়ে এমসি কলেজের হোস্টেলে ঢুকেন। ধর্ষকরা তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে স্বামী গিয়ে তাদের বাধা দেন। ছাত্রাবাসের ভেতরেই তার স্বামীকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তাকে বেঁধে ফেলে। ওই বধূ জানান, স্বামীকে বেঁধে তারা তার ওপর নির্যাতন করে। এ সময় তিনি সম্ভ্রম রক্ষার্থে তাদের হাতে-পায়ে ধরেন। কিন্তু এতে মন গলেনি ধর্ষকদের। এ সময় চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। দু’তলা থেকে কয়েকজন যুবক নিচে নামতে চাইছিলো। এ সময় তাদের ধমক দিয়ে আটকে দেয়া হয়। পরে পুলিশ গেলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বাবলাকে নিয়ে শাহপরান থানার ওসি ধর্ষিতা বধূ ও তার স্বামীকে এমসির ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে সেখানে আরো কয়েকজন ছাত্রনেতা যান। উদ্ধারের পর ওই বধূকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ডাক্তারদের বিশেষ টিমের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসা শেষে গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, শাহপরান থানার ওসি ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য তাকে সিলেটের আদালতে নিয়ে আসেন। মহানগর তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নীলার আদালতে নির্যাতিত ওই বধূ জবানবন্দি দেন। প্রায় ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দি থেকে নির্যাতিত ওই মহিলাকে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আদালতে নির্যাতিতা নারী তার ওপর চলা নির্যাতনের মর্মান্তিক ঘটনা জানিয়েছেন। এদিকে শুক্রবার ঘটনার খবর পেয়ে এমসির ছাত্রাবাসে ছুটে গিয়েছিলেন সাবেক এক ছাত্রনেতা। তিনি গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তারা গিয়ে নির্যাতিত ওই বধূ ও তার স্বামীকে ছাত্রাবাসে পেয়েছেন। এ সময় সেখানে পুলিশও ছিল। তাদের মুখে বর্ণনা শুনে কারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে এ তথ্য উদ্‌ঘাটনে সবাই সোচ্চার হন। তাৎক্ষণিক ধর্ষিতা ও স্বামীর মুখে বর্ণনা শুনে তারা ধর্ষকদের পরিচয় বের করেন। এ সময় ফেসবুক আইডি থেকে তাদের ছবি বের করা হয়। পরে ধর্ষিতা ও তার স্বামী ওই ধর্ষকদের শনাক্ত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ ওই বধূকে উদ্ধার করে সিএনজি অটোরিকশাতে বসিয়ে রাখে। তাৎক্ষণিক শাহপরান থানার ওসিসহ সাবেক ছাত্রনেতারা হোস্টেলে যান। গিয়ে অভিযান চালান। ওই সময় কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সবাই ছাত্রাবাস ছেড়ে পালিয়ে যায়। ওই সময় নির্যাতিত বধূর স্বামী পুলিশকে জানিয়েছিলেন- তারা সদ্য বিবাহিত। তারা বিয়ে করলেও পারিবারিক ভাবে এখনো তাদের বিয়ে মেনে নেয়া হয়নি। এ কারণে তারা আলাদা বসবাস করছেন। স্বামী সৌদি আরবে বসবাস করতেন। ওখানে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিলো। এরপর দেশে আসার পর তাদের বিয়ে হয়। নির্যাতিতার স্বামীর বাড়ি সিলেট শহরতলীর শিববাড়ি এলাকায় ও স্ত্রীর বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় বলে পুলিশ জানায়।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মো: শরীফুল ইসলাম

২০২০-০৯-২৮ ১৪:৩২:৫১

ধর্ষনের শাস্তি সংসদে পাশ করে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক হোক। তার শাস্তি জনসম্মুখে করাসহ প্রত্যেক টেলিভিশনে প্রচার করা হলে অচিরেই ধর্ষনের ঘটনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে আসবে।

shiblik

২০২০-০৯-২৮ ১৪:০২:০৬

"Time is Running Out". (Common editorial Observer, Morning News, March 13, 1971, East Pakistan) "The Time is Up: Raped Nation". (Suggested editorial, Sept 29, 2020, Bangladesh)

Tofazzel Hossain

২০২০-০৯-২৮ ১৩:৩৭:৩৯

Copied from Mr Eniet and support নারীবাদি বসন্তের সেই কোকিলরা কই , তারা এখন নিচুপ কেন ?

Asha

২০২০-০৯-২৮ ১৩:৩৬:৫১

a shob dhorshok der fashi na diye lingo kete deya hok. jeno tara shara jibon ei oporadher shasti vog kore. ki bolen apnara?...

syed harun

২০২০-০৯-২৮ ১৩:০৩:১৪

Prime minister se o nari,Education minister seo nari,your mother se o nari,your sister se o nari,your devi seo nari, your durga,kali, sarotsoti tara o nari. ato akuti por jar samvrom neli seo nari, Bolto toder ke bolte pari.........................chi chi chi..............

Reza

২০২০-০৯-২৮ ১১:৫৩:৩৬

বিকৃত মস্তিস্কের এইসব নর পশুদের জণ্ম রাস্তা-ঘাটে বা নর্দমায়,ঠিক কুকুরের স্বভাব যেমন এদের স্বভাব এমন!আরো একটা তথ্য আমাদের জানা উচিত ,সেটা হল এদেশে ধর্ষণের বিচার হয় না।

Reza

২০২০-০৯-২৮ ১১:৫২:৪৭

বিকৃত মস্তিস্কের এইসব নর পশুদের জণ্ম রাস্তা-ঘাটে বা নর্দমায়,ঠিক কুকুরের স্বভাব যেমন এদের স্বভাব এমন!আরো একটা তথ্য আমাদের জানা উচিত ,সেটা হল এদেশে ধর্ষণের বিচার হয় না।

সাইদ

২০২০-০৯-২৮ ১১:৪৮:২৮

ধর্ষক ছাত্রলীগ এর বিচার হবে না

মোঃ নেফাউর রহমান

২০২০-০৯-২৭ ২২:০৩:১৭

ছাত্রলীগ বলে তো একটা কথা। ওরা (ধর্ষক) আওয়ামী পরিবারের কৃতি সন্তান এবং দেশের এবং দলের কান্ডারী এরাই। এরা না থাকলে আওয়ামীলীগ দল অচল। তাই এদের কোন বিচার হবেনা।

jjj

২০২০-০৯-২৮ ১০:৩১:১৯

There Father and mother should be arest

Faruque Ahmed

২০২০-০৯-২৮ ১০:০১:৫০

Their parents should be arrested. Why didn't they teach their son.

এনায়েত

২০২০-০৯-২৭ ২০:৫১:২৬

নারীবাদি বসন্তের সেই কোকিলরা কই , তারা এখন নিচুপ কেন ? তাদের কণ্ঠস্বরে কি ক্যান্সার হয়েছে না কি। ও না, তারা ঘুুমিয়ে আছে । তাদের ঘুমের ঘোর এখনো কাটেনি । ঘুম থেকে জাগ্রত হলে তখন কিছু শুনাবে আর কি।

এনায়েত

২০২০-০৯-২৭ ২০:৩৮:২৯

যে কোন প্রচার মাধ্যে ধর্ষণ শব্দটা ব্যবহার না করে অন্য কোন শব্দ ব্যবহার করা যায় কিনা ভাবতে হবে। ধর্ষণ নামক এই শব্দটি সমাজে এমন ভাবে প্রচার হয়েগেছে যে , লজ্জায় মাথা হেড হয়ে যাচ্ছে। টেলিভিশে খবর শুনতে বসলে পাশে সন্তানাদি আছে কি না দেখতে হয়। করণ সন্তানাদির সামনে এসব খবর শুতে লজ্জা পাই। দেশের অবস্থা এমন খারাপ পর্যায় চলে গেছে এঅবস্থা ফিরানো খুবেই কঠিন।

আবু সাঈদ

২০২০-০৯-২৭ ২০:১৯:২৮

হাতে পায়ে ধরে এদের মন গলানো সম্ভব নয় কারণ এদের মন থাকলেইতো গলবে।

shamsul

২০২০-০৯-২৮ ০৭:৫৩:১০

While approximate 7 billion people around the world are fighting tooth and Neal against Corona and still struggling to invent a vaccine, our army of development flagship are in a spree of raping, killing, plundering and all sorts of crime one can imagine. I wonder do crimes of these sorts go unpunished any where in the globe? As if we are living in the medieval era and our daughters, mothers, wives are prey to the bastard Mongols.

Muhammad Hasanuzzama

২০২০-০৯-২৭ ১৭:১৬:০৫

অন্য ইস্যু না আসা পর্যন্তই, অতঃপর মহাকালের অনন্তে হারিয়ে যাবে নববধুর ধর্ষণ ঘটনা।

Md Yousuf Ali Mia

২০২০-০৯-২৮ ০৪:৪০:৪০

We lost everything.

Rashed

২০২০-০৯-২৭ ১৩:৪৫:১৩

Eder k fashi na dile desh distroy hoia have.

Jesmin Anowara

২০২০-০৯-২৮ ০১:২৪:৩৭

The principal of M C college should be arrested. He avoided his responsibility as principal, he is just a wrathless

ch.md.nasir uddin

২০২০-০৯-২৭ ১২:১২:০৩

কি আর মতামত দিবো!! বিচার কি হবে!!?? এরা তো ছাত্রলীগ করে!! এদের একমাত্র শাস্তি অপরাধের তাদের পরিবারের সামনে ক্রসফায়ার করে দেয়া।

শুভ্র প্রকাশ হালদার

২০২০-০৯-২৭ ১১:২১:২৪

বাংলাদেশের ইতিহাসে জঘন্যতম ধর্ষণের ঘটনা। করোনার ছুটি চলাকালীন সময়ে ছাত্রাবাস সন্ত্রাসীদের দখলে। কলেজ কর্তৃপক্ষ কি করেছেন?? কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় কি জানতেন না ছাত্রাবাসে সন্ত্রাসী কিছু ধর্ষক এবং সন্ত্রাসী ছাত্র ছুটি কালীন সময়ে অবস্থান করছে?? সবাই সব কিছু জানতেন।যদি কলেজ কর্তৃপক্ষ বলেন জানেন না তাহলে ধরে নিতে হবে কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। সিলেটের রাজনীতিবিদরা কি করেছেন? আপনাদের সামনে এত বড় বখাটেদের জন্ম হলো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ক্ষমতার রাজনীতি করবেন আর বখাটেদের দমন করার ক্ষমতা নাই? খুবই দুঃখজনক ঘটনা। একটি মাস্টার্স কোর্স চালানো স্বনামধন্য কলেজের ছাত্রাবাসে ধর্ষণ!! ভাবা যায়? ধর্ষকদের পাশাপাশি কলেজ কর্তৃপক্ষের বিচার হওয়া উচিত। ধর্ষকদের পাশাপাশি এই সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করা রাজনৈতিক নেতাদের বিচার হওয়া উচিত। যে মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছে সে আমাদেরই বোন অথবা আমাদেরই মেয়ে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানাবো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে এত বড় নরপিচাশদের কোন স্থানে থাকা উচিত নয়। ধর্ষকরুপী এই সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারে চলাফেরা করে। এই সন্ত্রাসীদের যারা রাজনৈতিক ব্যানার লাগানোর সুযোগ দিয়েছে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

ক্ষমতার দাপট

২৭ অক্টোবর ২০২০

আক্রান্ত ছাড়ালো ৪ লাখ

২৭ অক্টোবর ২০২০

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হচ্ছে। সংক্রমণ শুরুর ২৩৩ দিনের মাথায় করোনা ...

মানুষকে মাস্ক পরাবে কে?

২৬ অক্টোবর ২০২০

নো মাস্ক নো সার্ভিস

২৬ অক্টোবর ২০২০

মাস্ক না পরলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সেবা মিলবে না। এমনই নির্দেশনা দিয়েছে ...

পহেলা নভেম্বর থেকে সবার জন্য খুলছে ওমরাহ’র দরজা

২৬ অক্টোবর ২০২০

আগামী ১লা নভেম্বর থেকে ওমরাহ পালন করতে পারবেন বিশ্বের সকল দেশের মুসল্লিরা। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা ...

অনশন ভাঙালেন মেয়র আরিফ

রায়হানের মায়ের কান্না

২৬ অক্টোবর ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত