বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া

অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে সাজা দিতে হবে

মরিয়ম চম্পা

প্রথম পাতা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১৬

সম্প্রতি খুন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের মাত্রা বেড়েছে। সর্বশেষ এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গণধর্ষণের ঘটনায় নিন্দার ঝড় বইছে সর্বত্র। বিশিষ্টজন ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে বিচার করা সম্ভব 
হলেই এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। তাদের মতে, অপরাধী কোন সংগঠনের সেটা দেখার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে তাদের মধ্যে একটি অপরাধী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা যেহেতু ক্ষমতায়। এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত এই সংগঠন। এই সংগঠনের ছত্রছায়ায় থেকে অপরাধ করাটা সহজ।
কারণ অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। তারা হয়তো বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে। সেই জায়গায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে শক্তভাবে মনিটরিং বা নজরদারির কাজটি করতে হবে।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, অপরাধীর পরিচয় সে একজন অপরাধী। সে যে কোনো সংগঠনের হোক না কেন। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ইতিমধ্যে অপরাধীদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে। এখন বিচার যেন তাড়াতাড়ি হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। এটা (বিচার) না ঝুলিয়ে রেখে ত্বরিত গতিতে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এবং সরকার পক্ষের আইনজীবীরা কালক্ষেপণ না করে তাড়াতাড়ি যেন মামলাটি শেষ করেন। আমাদের দেশে অসুবিধা হলো মামলা সহজে শেষ হতে চায় না। এ জন্য মামলার বাদীপক্ষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই মামলা করার পরের দিন তদন্ত শেষে সঙ্গে সঙ্গে চার্জশিট দিতে হবে। মামলা একবার শুরু হলে কোনোরকমের মুলতবি দেয়া যাবে না। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে সমাজে এ সমস্ত যে অপকর্ম হচ্ছে সেটা বন্ধ হবে। অন্যথায় অপরাধী পার পেয়ে গেলে অপরাধ চলতেই থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, একজন সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে মনে করি এগুলো একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। আমাদের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এবং এখানে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ডেভেলপ না করাই এর মূল কারণ। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান মানে হচ্ছে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দল চলবে। এবং এই প্রক্রিয়ায় যার ডেডিকেশন আছে যোগ্যতার ভিত্তিতে সেই স্থান দখল করবে। দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের এখানে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে তাতে যখন যে ক্ষমতায় আসে তার যে ছাত্র বা যুব সংগঠন তাদের একধরনের ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রতিফলন দেখা যায়।

তিনি বলেন, দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু হলে যিনি ভালো কাজ করবেন তাকে পুরস্কৃত করা এবং খারাপ কাজের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই একটি দেশের উন্নয়নও নির্ভর করে। সন্দেহ নেই এটা দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি। তবে আশার কথা হচ্ছে বর্তমান সরকার তার দলের লোকদেরও শাস্তি নিশ্চিত করছেন। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে তাদেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেছেন, যেহেতু তারা ক্ষমতাসীন। ফলে তারা মনে করে তাদের অবাধ স্বাধীনতা আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান কিছু করতে পারবে না। বা রাজনৈতিক প্রভাব দ্বারা তারা সব সময় স্বাধীন এবং মুক্ত থাকবে। তাদের কার্য তারা যেভাবে চায় সেভাবে এগিয়ে নেবে। মূল কথা হচ্ছে এখানে আইনের শাসন নেই। সে কারণে তারা সাহস পায়। আইনের শাসন থাকলে তারা সাহস পেতো না। দেশে এসিড নিক্ষেপের প্রবণতা কমে গেছে। কারণ, তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া এবং নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা ছিল। এখানে যেহেতু নেই তাই তারা সাহস পাচ্ছে এবং করে যাচ্ছে। মূল কথা আইনের শাসন নেই। এবং রাজনৈতিক ভরসায় তারা এটা করে থাকে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Motaher

২০২০-০৯-২৮ ১০:১৮:৫৬

The President should resign as he is responsible for the murder. He already earned enough money to survive for the rest of his life. Please hand it over to some honest person. If you claim to be honest, then why do you approve all the proposals without reviewing it. This can be done by. Robot.

shiblik

২০২০-০৯-২৮ ১৪:১৪:৪৫

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সময় তৈরি হয়েছিল নব্য-ছাত্রলীগ যাদের ৩০ টিরও বেশী টর্চার সেল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে । ছাত্র হত্যা-ধর্ষণ এর সংখাটা সিদ্দিক সাহেবের জানার কথা।

Md. Harun al-Rashid

২০২০-০৯-২৮ ০৯:২৭:৩৮

এই অপরাধীচক্রটি যাদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে এমন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে তাদের অভিযুক্ত করে কৈফিয়ত তলব করুন। কেবল মাত্র সমস্যা বিবৃত করে উদ্বেগ প্রকাশ করা একটা রীতি পালন হয় মাত্র। যথাস্হানে দলবদ্ধ ভাবে প্রতিবাদ ও প্রতিবিধানের জন্য ধর্না দেয়া, স্বাকরলিপি পেষ করা,আইন প্রয়োগের ব্যর্থতা বা অনিহার বিরুদ্ধে সুনিদৃষ্ট সংস্হাকে দায়িত্ব পরিপালনে ব্যর্থতার দায়ের জন্য ঊপযুক্ত স্হান লিখিত কৈফিয়ত চাওয়া, এসব সংগঠনের নিয়ন্ত্রকদের প্রতি তোষামদের পরিবর্তে বর্থ্যতার দায়ে তিরস্কার করা গেলে এমন অপরাধ কমতে বাধ্য। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবির পাশাপাশি নারী ও শিশুর প্রতি এমন অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন।

তপু

২০২০-০৯-২৭ ১২:৪৫:২৭

বিচারহীনতার সাথে দলীয় অপরাধীদের জন্য আছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা।ফরিদপুরে আমরা দেখেছি এক দণ্ডপ্রাপ্ত খুনী রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমায় জেল থেকে বের হয়ে আরেকটা খুন করেছে।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

ক্ষমতার দাপট

২৭ অক্টোবর ২০২০

আক্রান্ত ছাড়ালো ৪ লাখ

২৭ অক্টোবর ২০২০

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হচ্ছে। সংক্রমণ শুরুর ২৩৩ দিনের মাথায় করোনা ...

মানুষকে মাস্ক পরাবে কে?

২৬ অক্টোবর ২০২০

নো মাস্ক নো সার্ভিস

২৬ অক্টোবর ২০২০

মাস্ক না পরলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সেবা মিলবে না। এমনই নির্দেশনা দিয়েছে ...

পহেলা নভেম্বর থেকে সবার জন্য খুলছে ওমরাহ’র দরজা

২৬ অক্টোবর ২০২০

আগামী ১লা নভেম্বর থেকে ওমরাহ পালন করতে পারবেন বিশ্বের সকল দেশের মুসল্লিরা। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা ...

অনশন ভাঙালেন মেয়র আরিফ

রায়হানের মায়ের কান্না

২৬ অক্টোবর ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত