সিলেটে ধর্ষণের ঘটনাই প্রমাণ করে দেশে কেউ নিরাপদ নয়- মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার

সিলেটের এমসি কলেজে তরুণী ধর্ষণের ঘটনাই প্রমাণ করে এই দেশে কেউই নিরাপদ নয়। এ মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই ঘটনা নতুন নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ধর্ষণের ঘটনা এমনভাবে ঘটছে যে, আমরা অতীতে কখনো এমনটা দেখিনি। সবচাইতে লজ্জার ব্যাপার আওয়ামী লীগের মতো একটা পুরনো দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। যাদের একটা অতীত ঐতিহ্য আছে। এই সংগঠনের নেতারাই এই সমস্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরি পালন করেছে।
এটা ছাত্রলীগের চরিত্রগত একটা ব্যাপার আছে। আপনারা দেখবেন যতো ধরনের অপকর্ম ১৯৭২ সাল থেকে শুরু হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই সব ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগের দুষ্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি। গতকাল গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।  
মির্জা ফখরুল বলেন, স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ সমস্ত ঘটনাই প্রমাণ করে এই দেশে কারো নিরাপত্তা নেই। এই দেশে যতো ধরনের নৈরাজ্য চলছে সেটা আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করেছে। আমাদের অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, আামাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর হতে চললো। কিন্তু আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই এই ধরনের নৈরাজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। আজকে খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারের সঙ্গে মিলে এই ধরনের অপরাধগুলো করছে। এই যে কক্সবাজারে এতো পুলিশ সদস্যের বদলি প্রমাণ করে ওইখানে যে সকল ক্রসফায়ারগুলো হয়েছে এগুলো সবই পরিকল্পিতভাবে হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ একটা দিক দিয়ে সফল হয়েছে যে তারা এই দেশের সকল মানুষের মনে একটা ত্রাস, ভীতি তৈরি করতে পেরেছে। ভয় সৃষ্টি করতে পেরেছে। আজকে সমাজের প্রত্যেকটা স্তরে নিরাপত্তার অভাব বোধ করা হচ্ছে। এক সময় যারা উচ্চ কণ্ঠে কথা বলতেন তাদের দাবিয়ে দেয়া হয়েছে। তারাও এখন কথা বলছেন না। আমি যে আপনাদের সামনে কথা বলছি এটাও বিপজ্জনক। আমি যে ফোনে কথা বলি এটা ২৪ ঘণ্টাই রেকর্ড হয়। পরে এটা প্রিন্ট করা হয়। এই কল রেকর্ডিংয়ের প্রিন্টের কপিও আমি দেখেছি।    
মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা যখন শূন্যের কোঠায়, তখন জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে, বিএনপি’র ধ্বংসের একটি সুপরিকল্পিত মিথ্যাচার চলছে। এই মিথ্যাচার দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র। একটি গণতান্ত্রিক, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের যে স্বপ্ন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ দেখেছিল, যে চেতনা ধারণ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করেছিলো তাকে নস্যাৎ করার একটা অপচেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, কয়েকটি ইলেক্ট্রনিক চ্যানেলে সরকারের নির্দেশে সম্পূর্ণ বিকৃত, বিকারগ্রস্ত মানসিকতায় তথা কথিত নাটক নামে পরিবেশন তারই একটি অংশ। আওয়ামী লীগ বল পূর্বক ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ইতিহাস বিকৃত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা জনগণের সামনে স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম নিয়ে মিথ্যা ও ভুল তথ্য পরিবেশন করছে।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মৌলভীবাজারে সেচ পাম্প ক্রয়ে ৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতি

২৭ অক্টোবর ২০২০

যে রাষ্ট্র প্রজার নাগরিকের নয়

২৭ অক্টোবর ২০২০

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদের স্মৃতি আমাদের মন থেকে কি কিছুটা (কিংবা অনেকটা) ফিকে হয়ে গেছে? ...

মহানবীর (দ.) ব্যঙ্গচিত্র ও বাকস্বাধীনতা

২৭ অক্টোবর ২০২০

বছর পঁচিশ আগে ইংল্যান্ডের ফুটবল দলের ম্যানেজার ছিলেন গ্লেন হডল। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় প্রতিবন্ধী ...

ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাকে আরবের শপিংমলে ভিন্ন চিত্র

২৭ অক্টোবর ২০২০

আরব দেশগুলোর শপিংমলগুলোতে এক ভিন্ন চিত্র। যেসব শপিংমলে থরে থরে সাজানো থাকতো ফ্রান্সের নানা ...

গ্রেপ্তার ২১, পালিয়েছে দুই মালিক

আশুলিয়ায় মিনি ক্যাসিনো

২৬ অক্টোবর ২০২০

টার্গেট সুইং স্টেট

২৬ অক্টোবর ২০২০

বিজয়া দশমী আজ

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

২৬ অক্টোবর ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



করোনার ধাক্কায় চিড়েচ্যাপ্টা বিমান সংস্থাগুলো

ফ্লাইটে একজন মাত্র যাত্রী!

গ্রেপ্তার ২১, পালিয়েছে দুই মালিক

আশুলিয়ায় মিনি ক্যাসিনো

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন

বিতর্কমুক্ত থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ